সকাল সকাল ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে আমেরিকার প্রস্তাবিত শুল্কনীতি। ভারত-সহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ধরে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতরের (ইউএসটিআর) অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দেশগুলি জোরপূর্বক শ্রম বা ‘ফোর্সড লেবার’-এ তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং মার্কিন শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কানাডা, ব্রিটেন, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার মতো কয়েকটি দেশের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে ভারত-সহ ৫৪টি দেশের আমদানির ক্ষেত্রে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিষয়টি নিয়ে জনমত গ্রহণ, শুনানি এবং পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলবে। সেই কারণে শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে একাধিক স্তরের আলোচনা বাকি রয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে এই সুপারিশ করা হয়েছে। ইউএসটিআরের দাবি, বহু দেশ তাদের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে পর্যাপ্ত কঠোরতা দেখাতে পারেনি। সেই কারণেই বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রস্তাব এমন সময় সামনে এসেছে যখন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির অধিকাংশ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই সমঝোতা তৈরি হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে মার্কিন অভিযোগ, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতির কার্যকর প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে রপ্তানিনির্ভর কয়েকটি খাত বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
No Comment! Be the first one.