সকাল সকাল ডেস্ক
লন্ডন,: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে সোমবার তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করবেন।
লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের সহকর্মীদের মতামত বিবেচনা করে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল লেবার পার্টি। স্টারমারের নেতৃত্বে দলটি দীর্ঘদিনের বিরোধী আসন থেকে সরকার গঠন করে। তাঁর সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরকারি পরিষেবার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার দাবি করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক নীতিগত ইউ-টার্ন, জনপ্রিয়তা হ্রাস, স্থানীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফল এবং নেতৃত্ব নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক স্টারমারের অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষ করে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থান এবং বহু সাংসদের প্রকাশ্য অসন্তোষ তাঁর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে।
লেবার পার্টি জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বর্তমানে উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
স্টারমারের বিদায়ের ফলে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর ব্রিটেন তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগোচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন ব্রিটিশ রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা এবং ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন।
No Comment! Be the first one.