সকাল সকাল ডেস্ক
লস এঞ্জেলস
কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে হতাশাজনক গোলশূন্য ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিল লামিন ইয়ামাল। আর মাঠে নেমেই কোচের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা।
আটলান্টায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে স্পেন। সেই জয়ের নায়ক ১৮ বছরের ইয়ামাল। ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল করে তিনি স্পেনকে এগিয়ে দেন এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। ডান প্রান্ত থেকে আসা নিচু ক্রসে পিছনের পোস্টে দৌড়ে এসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বিশ্বকাপে এটাই তাঁর প্রথম গোল।
ইয়ামালের গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন। পরে আরও তিনটি গোল করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে হারানো আত্মবিশ্বাসও ফিরে পায় লা রোহা।
তবে শুধু গোলের জন্য নয়, ইতিহাস গড়ার কারণেও আলোচনায় উঠে এসেছেন ইয়ামাল। ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অষ্টম কনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে গেলেন। একই সঙ্গে ছাপিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে। মেসি ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে। অর্থাৎ মেসির চেয়ে ১৪ দিন কম বয়সে বিশ্বকাপের গোলের খাতা খুললেন স্প্যানিশ তারকা।
পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার কম বয়সে বিশ্বকাপে নিজের দেশের হয়ে ম্যাচের প্রথম গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি। এর আগে এই নজির ছিল শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সে ওয়েলসের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন পেলে।
চোটের কারণে বার্সেলোনার মরসুমের শেষভাগে মাঠের বাইরে থাকতে হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ইয়ামাল। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠছেন তিনি। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাঁর গোল শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক সুপারস্টারের আগমনের বার্তাও দিয়ে গেল।
No Comment! Be the first one.