সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা, ২১ জুন: বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত বহুচর্চিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ চালানোর পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রেজোলিউশন বুক’-এর একটি কপি উদ্ধার করেছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ নথির সন্ধান মেলে।
শনিবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান সিআইডি আধিকারিকরা। সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যও নথিবদ্ধ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই রেজোলিউশন বুকের কপি তাঁদের হাতে আসে।
এখন ওই নথিতে থাকা বিধায়কদের স্বাক্ষর খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশনে থাকা কিছু স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। তদন্তকারীদের মতে, মামলার সত্যতা নির্ধারণে এই নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং পরিষদীয় দলের অন্যান্য পদাধিকারীদের নাম অনুমোদনের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক রেজোলিউশন পাশ করা হয়। সেই রেজোলিউশনের একটি কপি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা থাকে এবং অন্য একটি কপি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সংরক্ষণে থাকে। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে ওই নথি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি হরিশ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটে থাকার কথা।
তদন্তের স্বার্থে এর আগে ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হলেও রেজোলিউশন বুকের হদিস মেলেনি। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের খবর। এরপর তদন্তের দিশা বদলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম অনুমোদনের জন্য যে রেজোলিউশন জমা পড়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগ, ওই নথিতে যাঁদের স্বাক্ষর রয়েছে, তাঁদের অনেকেই সই করার সময় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রেজোলিউশন বুক উদ্ধারের ফলে এবার সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পথে তদন্ত অনেকটাই এগোল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
No Comment! Be the first one.