কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ১৩২, আহত কমপক্ষে ৫৭০ জন
সকাল সকাল ডেস্ক বোগোটা: কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩২। এছাড়াও কমপক্ষে ৫৭০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার পশ্চিম কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৪। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের বিবৃতি অনুযায়ী, সোমবার কলম্বিয়ার রাজধানী বগোটার পশ্চিমে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার অন্দরে স্যান হোসে দে পামার এলাকায় প্রায় ১০৭ কিলোমিটার মাটির নীচে এই কম্পনের উৎস। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, পড়শি দেশ পানামা এবং ইকুয়েডরেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। যদিও সে দেশে খুব একটা ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ায় বড়বড় বহুতল ভেঙে পড়ে। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩২ এবং আহত হয়েছেন ৫৭০ জন।
শীঘ্রই ভারত সফরে আসবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: শীঘ্রই ভারত সফরে আসার কথা জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সোমবার সিংহদরবারে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে প্রথম একান্ত বৈঠকে এই কথা জানান তিনি। বৈঠকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শাহের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছাবার্তা এবং ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক সদস্য জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূত শ্রীবাস্তব শাহকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। আমি শীঘ্রই ভারত সফর করব।” প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এতদিন রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক এড়িয়ে চলেছিলেন শাহ। সাধারণত একসঙ্গে একাধিক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রায় সাড়ে চার মাস পর সোমবারই প্রথমবার একই দিনে ভারত ও চিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করলেন শাহ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রধান ব্যক্তিগত সচিব সুবাস শর্মা, তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বিবেক মিশ্র এবং বিদেশ মন্ত্রকের ভারত ডেস্কের প্রধান সহসচিব-সহ দু’জন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন এবং এক রাজনৈতিক আধিকারিক। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কোনও ভারতীয় আধিকারিকের সঙ্গে শাহের এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে। প্রধানমন্ত্রীর দলের এক উপদেষ্টা বলেন, “সোমবারই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এর ফলে ভারত সফরের পথ খুলে গেল। এখন কবে সফর করবেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর।” প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শাহ এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতীয় আধিকারিকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না করায় তাঁর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এরই মধ্যে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা কুমার বেন দিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাঁর দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। কুমার বেনের দিল্লি সফরকে শাহের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হয়েছিল। দিল্লি যাওয়ার আগে এবং সফর থেকে ফেরার পরও তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গে কথা বলেন। কুমার বেনের আগে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল এবং রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টির সভাপতি রবি লামিছানেও ভারত সফর করেছেন।
সমুদ্রপথের বিকল্প খুঁজছে মস্কো, ভারত পর্যন্ত রেল করিডরের ভাবনা রাশিয়ার
সকাল সকাল ডেস্ক মস্কো: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে এবার স্থলপথে নজর দিয়েছে রাশিয়া। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে মস্কো। পরিকল্পনাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও বাস্তবায়িত হলে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহণ এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন সম্প্রতি রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলিকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার কারণে বিকল্প স্থল করিডর তৈরি করা প্রয়োজন। সেই কারণেই ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। মস্কোর এই পরিকল্পনার পিছনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তাও অন্যতম কারণ। বসফরাস ও হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনও কারণে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হলে বিশ্ববাণিজ্যে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে তেল, গ্যাস-সহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থলপথ তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে রাশিয়া। প্রাথমিকভাবে যে সম্ভাব্য রুট নিয়ে আলোচনা চলছে, তা রাশিয়া থেকে তুর্কমেনিস্তান হয়ে ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতে পৌঁছতে পারে। তবে রুট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ভারত পর্যন্ত পৌঁছনোর জন্য একাধিক বিকল্প পথ বিবেচনা করা হতে পারে। তবে মস্কোর এই ভাবনা মূলত পণ্য পরিবহণ ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক যোগাযোগকে কেন্দ্র করে। ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি কোনও নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। প্রস্তাবিত রেল করিডর বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ার পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পটির সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয়, সীমান্তপারের রেল পরিকাঠামো এবং বিপুল নির্মাণ ব্যয় বড় বাধা হতে পারে। তা সত্ত্বেও সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে ভারতমুখী স্থল করিডর তৈরির রুশ পরিকল্পনা কৌশলগত ও বাণিজ্যিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক সর্বোচ্চ নেতার
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেইয়ের স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে জল্পনার মধ্যেই তাঁর সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রবিবার সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় এই বৈঠকের কথা জানিয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের মেয়াদের তৃতীয় বছর শুরু উপলক্ষে এই বৈঠক হয়। দুই নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে সামরিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে বৈঠকের সঠিক সময় ও স্থান প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি মোজতবা খামেনেইকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা না যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে পেজেশকিয়ানও জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা বর্তমানে ‘খুবই কঠিন’ হয়ে পড়েছে। কিছু সূত্রের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মোজতবা আহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এদিকে ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের এক জেনারেলকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার বিভিন্ন বৈঠক ও জনসাক্ষাতের ছবি ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হবে। তবে তার কোনও নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
সরাফা বাজারে প্রাথমিক লেনদেনে সামান্য পতন, সোনা-রুপোর দামে কমল ঝলক
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: সরাফা বাজারে সোমবার প্রাথমিক লেনদেনে সোনা ও রুপোর দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। দামের দুর্বলতার কারণে দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৬৩০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৫৪০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৯০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। রুপোর দামেও সামান্য পতন হয়েছে। দিল্লির সরাফা বাজারে এদিন রুপো প্রতি কিলোগ্রাম ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনা এদিন প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৫৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৪০ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬৪০ টাকা। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরো মূল্য প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭৪০ টাকা। দেশের অন্যান্য প্রধান শহরের মধ্যে চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৬৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৪০ টাকা। সেখানে ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭৪০ টাকায়। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭৪০ টাকা। লখনউয়ের সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা এদিন প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কর্নাটক, তেলঙ্গানা এবং ওড়িশার সরাফা বাজারেও প্রাথমিক লেনদেনে সোনার দামে সামান্য দুর্বলতা দেখা গিয়েছে। এই তিন রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। একইভাবে তিন শহরেই ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, মৃত্যু ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের
সকাল সকাল ডেস্ক ঢাকা: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের খোরদাম এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সোমবার সৌদি আরবের দমকল বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রক। বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ‘প্রথম আলো’ এবং তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘আনাদোলু’ মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১০ জন উত্তর বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। বাকিরা নাটোর ও রাজশাহী জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। নওগাঁর ডেপুটি কমিশনার মহম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলার মৃত ১০ জনই আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। মৃতদের অধিকাংশের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা ইতিমধ্যে তিন মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা হলেন সাব্বির হুসেন শুভ, শামীম হুসেন এবং রবিউল আউয়াল হৃদয়। তিনজনই খাজুরা ইউনিয়নের পৃথক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর প্রায় সাড়ে ৩টা নাগাদ ওই সোফা তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সন্ধানে সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের এভাবে অকালে প্রাণ হারানোর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, মৃতদের দেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে। রিয়াধে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তাঁদের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন তাঁরা। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকও গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থল সৌদি আরব। বর্তমানে প্রায় ৩৫ লক্ষ বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ কম দক্ষতাসম্পন্ন এবং শ্রমনির্ভর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেন। এই অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের পরিবার-পরিজন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক দীনেশের, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জোর
সকাল সকাল ডেস্ক ঢাকা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। গত জুনে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ। তারেক রহমান দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপরে জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে এ দিনই দিল্লি আসার কথা রয়েছে দীনেশের। সোমবার বেলা ১১টার পর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করতে নতুন আদেশ ট্রাম্পের, মানলেন না আদালতের রায়
সকাল সকাল ডেস্ক সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করেই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন দুই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার এ পদক্ষেপ নেন তিনি। এ পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আবারও মার্কিন সংবিধানের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করলেন, যদিও এ বিষয়ে তাঁর আগের একটি চেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিলেন। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করা। হোয়াইট হাউসের মূল লক্ষ্য, কথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা ‘সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ’ বন্ধ করা। এ প্রক্রিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা বিদেশি নারীরা সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন। গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে গতকাল তিনি নির্বাহী আদেশের পথই বেছে নেন। এমন আদেশের মধ্য দিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারিত হলেও তা কংগ্রেসের পাস করা আইনের মতো শক্তিশালী নয়। এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া একটি নির্বাহী আদেশ অসাংবিধানিক হিসেবে বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিশানা করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন এ নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আওতাভুক্ত নয়। কারণ, এবার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মের নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, নাগরিকত্বের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিধি আরও বাড়ানো। ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে গতকাল নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, ‘এ আদেশে স্বাক্ষরের পর থেকেই বার্থ ট্যুরিজমের চর্চা নিষিদ্ধ করা হলো।’ অভিবাসন কমানোর পক্ষে কাজ করা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’ ২০২০ সালের একটি বিশ্লেষণে জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মাঝের এক বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ লাখ (৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন) শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যাঁদের ‘এলিয়েন এনিমি’ (শত্রু দেশের নাগরিক) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, তাঁদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারও নির্বাহী আদেশ দুটিতে সীমিত করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের স্কুলে নবম শ্রেণির পড়ুয়ার গুলি, শিক্ষক-সহ নিহত ৪
সকাল সকাল ডেস্ক ব্যাংকক: থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল নবম শ্রেণির এক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। শুক্রবার ননথাবুরি প্রদেশের বাং ক্রুয়াই জেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে শিক্ষক-সহ চারজনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও, রয়টার্স পুলিশকে উদ্ধৃত করে একজন শিক্ষক নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। হামলাকারী পড়ুয়ারও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোর ওই স্কুলেরই নবম শ্রেণির ছাত্র। শুক্রবার ক্লাস চলাকালীন আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সে সহপাঠী ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্কুলে। পড়ুয়াদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক শিক্ষক এগিয়ে এলে তাঁকেও গুলি করা হয় বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা স্কুলে পৌঁছন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় অভিযান। ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান দেচারেপি কোংডি বিবিসিকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। তবে কী কারণে সে স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলাকারীর মৃত্যু নিয়েও প্রথম দিকে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে খবর ছড়ায়, গুলি চালানোর পর ওই পড়ুয়া স্কুল ভবনের ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে। কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পরে জানায়, হামলাকারী নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। আবার কিছু সূত্রে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যুর দাবি করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশাসনের তরফে সব দাবির আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ পোহ টেক তুং ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা স্কুলের ভিতরে গোলাগুলির খবর পান। দ্রুত সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। প্রথম দিকে আহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। থাই পিবিএস আহতের সংখ্যা ১৫ বলে জানায়। যদিও পরবর্তী সময়ে রয়টার্স পুলিশকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন এবং চারজন আহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে হামলাকারীর আত্মহত্যার কথাও বলা হয়েছে। প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছিল, গুলি চালানোর পর অভিযুক্ত ছাত্রটি স্কুলের গোলাপি রঙের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় আশ্রয় নিয়েছিল। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্কুল চত্বর ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশে এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। অভিযুক্ত কিশোরের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে পৌঁছল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। থাইল্যান্ডের উপ-অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, অস্ত্রটির উৎস এবং কীভাবে ওই ছাত্র সেটি সংগ্রহ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটি দেবসিরিন স্কুলের একটি শাখা বলে জানা গিয়েছে। দেবসিরিন থাইল্যান্ডের পরিচিত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম এবং দেশটির বিভিন্ন জায়গায় এর শাখা রয়েছে। হামলার ঘটনাস্থল ননথাবুরি প্রদেশে, ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে অবস্থিত। থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের হাতে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। দেশটিতে অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার দাবি এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি বহুবার সামনে এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে গোলাগুলির ঘটনায় এক প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২২ সালে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রে এক প্রাক্তন পুলিশকর্মীর হামলা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনায় ২৪ শিশু-সহ মোট ৩৬ জন নিহত হন। শুক্রবারের ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ, মানসিক চাপ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে স্কুলের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নাবালকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছনোর বিষয়টিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
অজ্ঞাত স্থানে অন্ধকার গাড়িতে গোপন বৈঠক, খামেনেইকে নিয়েই সংশয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট!
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেইর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একটি গোপন বৈঠক ঘিরে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর দাবি, বৈঠক শেষে পেজেশকিয়ান নিজেই নিশ্চিত হতে পারেননি, তিনি যাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি সত্যিই মোজতবা খামেনেই ছিলেন কি না। এই প্রতিবেদনের পর দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে না আসা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের একটি অজ্ঞাত স্থানে গাঢ় রঙের একটি গাড়ির ভিতরে ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। গাড়িটির জানালায় কালো কাচ লাগানো ছিল এবং ভিতরে কোনও আলো ছিল না। ফলে পেজেশকিয়ান এবং খামেনেই কেউই একে অপরকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈঠকটি মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্টকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি খামেনেইর নিরাপত্তারক্ষীরা প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে করমর্দনের সুযোগও দেননি বলে দাবি। পরে নিজের দফতরের ঘনিষ্ঠদের কাছে পেজেশকিয়ান নাকি জানতে চেয়েছিলেন, তিনি যে কণ্ঠস্বর শুনেছেন সেটি সত্যিই মোজতবা খামেনেইর ছিল কি না। তবে এই দাবির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের আগের একটি বক্তব্যের অসঙ্গতি রয়েছে। মে মাসে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি জানিয়েছিলেন, মোজতবা খামেনেইর সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে আন্তরিক পরিবেশে তাঁর আলোচনা হয়েছে। পদত্যাগের ইঙ্গিতের পর গোপন বৈঠক? ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও সফল হচ্ছিলেন না প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। নীতিগত বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের জেরে তিনি একাধিকবার পদত্যাগের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। এরপরই খামেনেইর কার্যালয় বৈঠকের অনুমতি দেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠকটি হয়নি। প্রেসিডেন্টকে তাঁর নিরাপত্তা বহর প্রথমে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে নিজের গাড়ি থেকে নামিয়ে অন্য একটি গাড়িতে তোলা হয়। দাবি করা হয়েছে, সেই গাড়িতে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন মোজতবা খামেনেই। গাড়িটির ভিতরে সম্পূর্ণ অন্ধকার থাকায় দু’জন পরস্পরকে দেখতে পাননি। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গোটা ঘটনায় পেজেশকিয়ান অপমানিত বোধ করেছিলেন। বৈঠকের পর তিনি খামেনেইর সরকারি বাসভবনে দ্বিতীয়বার সাক্ষাতের আবেদন জানান। সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় বলেও দাবি। ‘সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ অত্যন্ত কঠিন’ এর আগে পেজেশকিয়ান প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হলেও সর্বোচ্চ নেতার উপস্থিতি সরকারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শক্তির উৎস। একই সঙ্গে মোজতবা খামেনেইর প্রশংসাও করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি ছিল, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তাঁর আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং তিনি তাঁর কাছ থেকে সবসময় সৌহার্দ্যপূর্ণ ও যুক্তিসংগত আচরণ পেয়েছেন। পেজেশকিয়ানের অভিযোগ ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু মহল খামেনেইকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। নীতিগত বিরোধ, প্রেসিডেন্টকে ‘চূড়ান্ত বার্তা’ দেওয়ার দাবি প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিদেশনীতি নিয়ে সরকারের ভূমিকা সীমিত হয়ে যাওয়ায় পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ইরানের ক্ষমতাশালী সামরিক নেতৃত্বের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের আবেদনও করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। পেজেশকিয়ানের অভিযোগ ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে তাঁর সরকারকে কার্যত দূরে রাখা হয়েছে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে আরও দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনেই প্রেসিডেন্টকে ‘চূড়ান্ত আলটিমেটাম’ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আলোচনা এবং চলমান সংঘাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার আহমাদ ভাহিদির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ইজরায়েলের ‘চ্যানেল ১৪’-এর দাবি, খামেনেইর অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত বিষয়ে তিনি দেশের সামরিক নেতৃত্বের অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছেন। ফলে ইরানের কৌশলগত নীতি নির্ধারণে প্রেসিডেন্টের প্রভাব সীমিত হয়ে পড়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাঁচ মাস ধরে প্রকাশ্যে নেই মোজতবা খামেনেই মোজতবা খামেনেইকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়াই তাঁকে ঘিরে জল্পনার অন্যতম কারণ। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপর থেকে প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাঁকে কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। তাঁর কোনও সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তাও প্রকাশ্যে আসেনি বলে দাবি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাঁর নামে লিখিত বার্তা প্রচার করা হলেও সেগুলির সঙ্গে মূলত স্থিরচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। জুলাই মাসে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ওই সময় পর্যন্ত তিনিও মোজতবা খামেনেইর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিই সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্ব নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে দাবি করেন, দেশটির নৌ ও বিমান শক্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শীর্ষ নেতৃত্বেরও বড় অংশ আর সক্রিয় নেই। মোজতবা খামেনেইকে নিয়েও তিনি একটি অস্পষ্ট মন্তব্য করেন। তবে মোজতবা খামেনেইর বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ইরান সরকারের তরফে এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসেনি, যা তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনার নিশ্চিত সমর্থন করে। ফলে গোপন বৈঠক সংক্রান্ত দাবিগুলিও স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেগুলিকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।