ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে আমেরিকাতেই আইনি লড়াই, আদালতের দ্বারস্থ ২৫ অঙ্গরাজ্য
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের উপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নতুন আমদানি শুল্ককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিউইয়র্ক-সহ ২৫টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এ মামলা দায়ের করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এমন শুল্ক আরোপ করেছেন এবং পূর্বে আদালতে বাতিল হওয়া নীতিই নতুন আইনি ভিত্তি দেখিয়ে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করছেন। মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘জোরপূর্বক শ্রম’ (Forced Labour) রোধের যুক্তি দেখিয়ে ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করেছে। তবে রাজ্যগুলির দাবি, এই যুক্তি আসলে পূর্বে আদালতে বাতিল হওয়া বিস্তৃত শুল্কনীতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার একটি অজুহাত মাত্র। ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড অভিযোগ করে বলেন, আদালতে বারবার পরাজিত হওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং আমদানিনির্ভর শিল্পের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলও এই নীতিকে আইনের অপব্যবহার বলে দাবি করেছেন। গত ২৩ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন ভারত-সহ ৬০টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে নতুন শুল্কের ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন করায় প্রস্তাবিত ১২.৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় এসেছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট পণ্যকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত শুল্কনীতি মার্কিন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এবার ৩০১ ধারার অধীনে নতুন শুল্ক আরোপ করা হলেও, বিরোধীদের দাবি, এত ব্যাপক পরিসরে এই আইনের ব্যবহার নজিরবিহীন এবং তা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মামলায় শুল্ক বাতিলের পাশাপাশি ইতিমধ্যে আদায় করা অতিরিক্ত শুল্ক ফেরতেরও দাবি জানানো হয়েছে। এখন এই মামলার রায়ের দিকেই নজর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের। আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে ভারত-সহ একাধিক দেশের রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি কতটা কার্যকর থাকবে।
উদ্বোধনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাময়িক বন্ধ লন্ডনের হলদিরামস, কারণ জানাল কর্তৃপক্ষ
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল লন্ডনের লেস্টার স্কয়ারে অবস্থিত হলদিরামসের প্রথম আউটলেট। তবে এই বন্ধের নেপথ্যে ব্যবসায়িক কোনও সমস্যা নয়, বরং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হলদিরামস ইউকের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বায়োতে জানানো হয়েছে, ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কস (UKPN)-এর নির্ধারিত বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজের জন্য ২০২৬ সালের ২১ জুলাই থেকে রেস্তোরাঁটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ শেষ হলেই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে। এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর প্রবেশদ্বারে একটি নোটিশ টাঙানো রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কসের পূর্বনির্ধারিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস আপগ্রেডের কাজের জন্য সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। নোটিশে গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশের পাশাপাশি পুনরায় খোলার তারিখ শীঘ্রই জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কস (UKPN) লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সংস্থা। ফলে এই সাময়িক বন্ধ পরিকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুন মাসে লন্ডনের লেস্টার স্কয়ারের ১৯–২০ আরভিং স্ট্রিটে প্রায় ৩,০০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে হলদিরামস তাদের প্রথম যুক্তরাজ্য শাখার উদ্বোধন করে। রেস্তোরাঁটিতে একসঙ্গে ১২০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বাইরে আরও ২০টি আসনের সুবিধা রাখা হয়েছে। এই শাখায় প্রচলিত কুইক-সার্ভিস মডেলের পাশাপাশি প্রিমিয়াম ক্যাজুয়াল ডাইনিংয়ের অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেনুতে রাখা হয় ছোলে ভাটুরে, পাও ভাজি, রাজ কচুরি, বিভিন্ন ধরনের চাট এবং লন্ডন আউটলেটের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কয়েকটি ফিউশন ডেজার্ট। পাশাপাশি প্যাকেটজাত মিষ্টি ও স্ন্যাকস কেনার জন্য একটি পৃথক রিটেল বিভাগও চালু করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই রেস্তোরাঁটির বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল এবং লন্ডনে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও এটি ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি পুনরায় কবে খুলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
দাবানল নেভাতে গিয়ে আকাশে বিপর্যয়! গ্রিসে কপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত ২, বরাতজোরে বাঁচলেন দু’জন
সকাল সকাল ডেস্ক দাবানলের তাণ্ডবের মাঝেই গ্রিসে মুখোমুখি সংঘর্ষ দুটি হেলিকপ্টারের (Greece Helicopter Crash)! ভেঙে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই ক্রু সদস্য। রবিবার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে (Wildfire Firefighting Collision)। জানা গিয়েছে, ভয়ংকর দাবানল নেভাতে যাওয়া দুটি ‘বেল’ (Bell) মডেলের হেলিকপ্টারের মধ্যে ধাক্কা লাগলে একটি আগুন ধরে খাদে পড়ে যায়। সেই কপ্টারেই থাকা ডেনমার্কের এক পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের এক আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত, অন্য হেলিকপ্টারে থাকা একজন ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেকজন গ্রিক আধিকারিক চোট পেলেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? অস্ট্রেলিয়ান সংস্থা ‘ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন’ থেকে ভাড়া নেওয়া দুটি হেলিকপ্টার আতিকা-বোওটিয়া সীমান্তে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিল। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে ওড়ার সময় একটি কপ্টারের ব্লেড বা প্রপেলার অন্যটির গায়ে গিয়ে সজোরে আঘাত করে। মুহূর্তে আগুন ধরে যায় প্রথম কপ্টারটিতে এবং সেটি নীচে একটি খাদে ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় কপ্টারটি কোনওমতে একটি ঝোপঝাড়যুক্ত নিচু জায়গায় জরুরি অবতরণ (Emergency Landing) করতে সক্ষম হয়। কপ্টারটি ভেঙে পড়ার পর বেঁচে যাওয়া দুই সদস্যই উদ্ধারকারী দলকে দ্রুত খবর দেন, যার ফলে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছনো সহজ হয়। শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর, দেশজুড়ে কপ্টার উড়ানে নিষেধাজ্ঞা এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিয়াইরিয়াকোস মিটসোটাকিস। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তায় তিনি মৃতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ঘটনার পরই গ্রিক সুরক্ষা প্রটোকল মেনে দেশজুড়ে সমস্ত ‘বেল’ মডেলের কপ্টার ওড়ানো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক আধিকারিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের পর্যবেক্ষণ রাখছেন। ইউরোপজুড়ে ছড়াচ্ছে দাবানলের আগুন গত কিছুদিন ধরেই তীব্র দাবদাহ এবং শুকনো আবহাওয়ার কারণে গ্রিস-সহ সমগ্র ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এথেন্সের একাধিক অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রিসের পোর্টো জেরমেনো, মেগারা ও কেফালোনিয়ার মতো এলাকায় ৫০০-রও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী দিনরাত এক করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও অতিরিক্ত দাবদাহে ফ্রান্স ও স্পেনের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবুও তীব্র খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ইউরোপের দেশগুলোর কপালে।
পাকিস্তানে শান্তি মিছিলে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ১৩, আহত অন্তত ২২
সকাল সকাল ডেস্ক পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের রক্তাক্ত জঙ্গি হামলা। রবিবার একটি শান্তি মিছিল চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াত জেলার একটি শহরে ওই শান্তি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় উপজাতি সংগঠন ‘সোয়াত আমান জিরগা’-র উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার দাবিতে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার আর আর্তনাদ। বিস্ফোরণের জেরে বহু মানুষ রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এটি আত্মঘাতী হামলা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং হামলার পদ্ধতি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিস্ফোরণের পরই উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে জরুরি পরিষেবা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। কে বা কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সেখানে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে শান্তির দাবিতে আয়োজিত মিছিলেই এমন রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণ নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। বিশ্লেষকদের মতে, শান্তির দাবিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীকেও বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রশাসন দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া প্রমাণ খতিয়ে দেখে হামলার নেপথ্যের চক্রান্ত উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে রেস্তোরাঁয় গুলি, তিনজন নিহত
সকাল সকাল ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় আইডাহো অঙ্গরাজ্যে একটি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবারের এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অঙ্গরাজ্যটির পুলিশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করলেও সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি এখনো জানায়নি। বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় টুইন ফলস শহরের পুলিশপ্রধান ম্যাথিউ হিকস বলেন, ইন-অ্যান্ড-আউট বার্গার নামে ওই রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানতে এখনো কাজ করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকদের ম্যাথিউ হিকস বলেন, গুলি ছোড়ার সময় সেখানে খুবই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শহর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জোশ পালমার বলেন, গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও আরও দুজন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে সন্দেহভাজন হামলাকারী আছেন কি না, সেটা তিনি নিশ্চিত করেননি। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রচার করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ফুটেজে রেস্তোরাঁর বাইরে লম্বা বন্দুক নিয়ে এক তরুণকে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে ওই রেস্তোরাঁর বাইরে বেশ কিছু মানুষকে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। আইডাহো অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণের শহর টুইন ফলস। সল্ট লেক সিটি থেকে শহরটির দূরত্ব প্রায় ১৮০ মাইল বা ২৯০ কিলোমিটার। শহরটিতে প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের বসবাস।
মধ্যপ্রাচ্যসংঘাতেইরানেআড়াইহাজারেরবেশিশিশুহতাহত: ইউনিসেফ
সকাল সকাল ডেস্ক জেনেভা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে শিশুদের প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, গত পাঁচ মাসে সংঘাতকবলিত ছয়টি দেশে ৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইরানেই হতাহত শিশুর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা এক বিবৃতিতে জানান, ইরানে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৮৬ শিশু নিহত এবং ২ হাজার ১১৭ শিশু আহত হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব শিশুদের জীবন, শিক্ষা ও নিরাপত্তার ওপর গভীর আঘাত হানছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে বাড়ি, বিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকাগুলো শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা, সেখানেই তারা প্রাণ হারাচ্ছে অথবা গুরুতরভাবে আহত হচ্ছে। সর্বশেষ ৩০ জুলাই ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে কেশম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুই শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। আবদুল ফোফানা বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে, পুরো অঞ্চলে সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে শিশুরাই। যে যুদ্ধ তারা শুরু করেনি এবং বন্ধ করারও কোনও ক্ষমতা তাদের নেই, সেই সংঘাতের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার হচ্ছে নিরীহ শিশুরা। এই পরিস্থিতিকে কখনও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। ইউনিসেফ সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং যেখানেই থাকুক না কেন, প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। ইউনিসেফের মতে, শিশুদের জীবন, শিক্ষা ও মানসিক সুস্থতা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান ভেঙে পড়ে ১৩ জনের মৃত্যু
সকাল সকাল ডেস্ক নাজকা (পেরু): দক্ষিণ আমেরিকার পেরুতে একটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান ভেঙে পড়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন পাইলট এবং ১১ জন যাত্রী। শনিবার (স্থানীয় সময়) বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নাজকা লাইনস-এর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। পেরুর নাজকা প্রদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন পর্যটক এবং ২ জন পাইলট রয়েছেন। নাজকা শহরের কাছে ‘পুয়েবলো ভিয়েখো’ এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিমানটি পেরুর বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘এরোডায়না’-র ছিল। পিসকো বিমানবন্দর থেকে বিমানটি পর্যটকদের আকাশপথে নাজকা লাইনস ঘুরিয়ে দেখানোর উদ্দেশ্যে ওড়ে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মাথায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বিমানে থাকা কোনও আরোহীকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি প্রশাসন।
ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত, আলোচনার অগ্রগতির কথা জানালেন ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন : ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইরান ও পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতার খসড়া তৈরি হওয়ায় আপাতত হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রস্তাবিত সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য হল দ্রুত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা-ঝুঁকি দূর করা। ট্রাম্প আরও জানান, এই সিদ্ধান্তে ইজরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেশ প্রস্তুত। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তর স্বার্থ, পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ইরানের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই তিনি হামলার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে যদি খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হয়।
সেউতায় অভিবাসী সংকট তীব্র, ৫৭ জনের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক মাদ্রিদ: মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টার সময় অন্তত ৫৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস সাংবাদিকদের জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় স্থল ও জলপথ ব্যবহার করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। অনেকেই সমুদ্রপথে সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রম করেন। তবে কীভাবে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেউতার সিভিল গার্ডের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রশিদ সাবিহি পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ মানবিক সংকট’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, বহু মানুষ সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া সীমান্তের তারাজাল এলাকায় পদদলিত হয়েও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অভিভাবকহীন শিশু-সহ হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে ভিড় নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে একটি বাস ও একাধিক গাড়ি পুড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়। স্পেন সরকার মনে করছে, সাম্প্রতিক একটি আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে মানবপাচারকারী চক্র বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্তে জড়ো হয়েছে। তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন সেউতার পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পেনের সীমান্ত সুরক্ষা নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্রান্সও স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অন্যদিকে, সেউতার আঞ্চলিক প্রশাসন জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন নেই। তবে সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত জনবল ও সহায়তা পাঠানো হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে নতুন দাবি, হরমুজ প্রণালিতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন/তেহরান: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘নীতি লঙ্ঘনকারী’ দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলোর অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও চারটি জাহাজ তাদের নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। আইআরজিসির দাবি, জাহাজগুলো মার্কিন সামরিক সুরক্ষায় একটি ‘অঘোষিত রুট’ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তবে এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের পর অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত। শুক্রবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে প্রাচীন বিউফোর্ট দুর্গের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর টানেল ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে লেবাননের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, এই হামলা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।