ক্যালিফোর্নিয়ায় ভেঙে পড়ল মার্কিন এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পাইলট
সকাল সকাল ডেস্ক ক্যালিফোর্নিয়া: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন মিরামারে শুক্রবার মার্কিন মেরিন কর্পসের অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। দুর্ঘটনার ঠিক আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর তাতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও জরুরি পরিষেবার দল। মার্কিন সেনাবাহিনী এই ঘটনাকে ‘ক্লাস-এ’ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা সামরিক বিমান দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন মেরিন কর্পস জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি থার্ড মেরিন এয়ারক্রাফট উইং-এর মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ-১১-এর অন্তর্গত ছিল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইলটকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং গুরুতর কোনও আঘাত লাগেনি বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, রানওয়ের পাশে বিমানটির ধ্বংসাবশেষে আগুন জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। বিমানটি ভেঙে পড়ার ফলে আশপাশের ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সান দিয়েগো দমকল বাহিনী বিশেষ অভিযান চালায় এবং ফায়ার রিটার্ডেন্ট ব্যবহার করে আগুন নেভায়। তবে মাটিতে থাকা কোনও ব্যক্তি আহত হননি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এফ-৩৫বি পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান। অল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং উল্লম্বভাবে অবতরণ করার বিশেষ ক্ষমতার জন্য এটি পরিচিত। মূলত মার্কিন মেরিন কর্পস এই যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে। একটি এফ-৩৫বি বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন মিরামার একসময় মার্কিন নৌবাহিনীর বিখ্যাত ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। ‘ফাইটারটাউন ইউএসএ’ নামেও এই ঘাঁটি পরিচিত। ১৯৯৬ সালে এটি মেরিন কর্পসের অধীনে হস্তান্তর করা হয়। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার নেভাল এয়ার স্টেশন লেমুরের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমানও দুর্ঘটনায় পড়েছিল। সেই ঘটনাতেও পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হলেও বিমানটি একটি কৃষিজমিতে পড়ে আগুনে পুড়ে যায়।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ফের ট্রাম্পের দাবি, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নাকচ ভারতের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: অপারেশন সিঁদুরকে ঘিরে ফের বিতর্কিত দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য বৃহত্তর সামরিক সংঘাত ঠেকাতে তাঁর প্রশাসন উভয় দেশকে উচ্চ হারে শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তবে ভারত পুনরায় স্পষ্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষবিরতি সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগের ফল এবং এতে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মুখে ছিল। সেই সময় তিনি দুই দেশকেই জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শুরু হলে ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তাঁর দাবি, প্রথমে উভয় দেশই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও পরে তারা সংঘাতে না জড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কারণ তাঁর হস্তক্ষেপে এমন একটি সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারত। তবে ভারত সরকার বরাবরের মতোই এই দাবি খারিজ করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয় পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ বন্ধের অনুরোধ জানানোর পর। এতে কোনও বিদেশি মধ্যস্থতার ভূমিকা ছিল না। এছাড়া সংঘর্ষে ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ট্রাম্পের দাবিও নাকচ করেছে ভারত। সরকারি সূত্রের দাবি, এই বক্তব্যের কোনও সরকারি ভিত্তি বা প্রমাণ নেই। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ মে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি, লঞ্চপ্যাড এবং পরিকাঠামো লক্ষ্য করে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। লক্ষ্যভেদ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ১০ মে পাকিস্তানের ডিজিএমও-র অনুরোধে দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে অভিযান স্থগিত করা হয়। ভারত পুনর্ব্যক্ত করেছে, অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত, সামরিক অভিযান শুরু থেকে স্থগিত করা পর্যন্ত, দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনভাবে এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে।
হিন্দু রাষ্ট্র বা রাজতন্ত্রের পক্ষে নয় নেপাল সরকার, স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, কাঠমান্ডু : নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর সরকার দেশে হিন্দু রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা কিংবা রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে নয়। তাঁর বক্তব্য, হিন্দু রাষ্ট্রের প্রশ্নটি রাজতন্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পথে এগোনো দেশের স্বার্থে উপযুক্ত হবে না। শুক্রবার মধেশকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ফেডারেল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বৈঠকে উপস্থিত জনতা সমাজবাদী পার্টির মহাসচিব রামকুমার শর্মার উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকার হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনও পরিকল্পনা করছে না। তাঁর মতে, তরাই-মধেশ অঞ্চলে হিন্দু রাষ্ট্রের দাবির প্রেক্ষাপট যেমন একরকম, পাহাড়ি অঞ্চলে তার ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক তাৎপর্য ভিন্ন। হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্ন সামনে চলে আসবে, যা ফেডারেল কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। সেই কারণেই সরকার এ ধরনের কোনও পদক্ষেপের পক্ষে নয়। জাতীয় মুক্তি পার্টি নেপালের সভাপতি রাজেন্দ্র মহতো জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে পুনরায় আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি এবং তাঁর দল ফেডারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সরকারের যে সব চুক্তি হয়েছে, সেগুলিও দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু অসাধু শক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের অপচেষ্টা রুখতে সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তরাই-মধেশ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রশমনে সরকার সক্রিয় রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং এ ক্ষেত্রে সব দলের সহযোগিতা কামনা করেন। অন্যদিকে, মধেশকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা বৈঠকে সুনসরি জেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে হওয়া সমঝোতা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে একাধিক চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার যেন সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না করে এবং বাস্তব পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে।
রাশিয়ার ক্যানসার টিকায় আশার ইঙ্গিত, প্রথম রোগীর শরীরে ইতিবাচক ফলের দাবি গবেষকদের
সকাল সকাল ডেস্ক রাশিয়ায় উদ্ভাবিত এমআরএনএ-ভিত্তিক ক্যানসার টিকার প্রাথমিক ফল আশাব্যঞ্জক বলে দাবি করেছেন দেশটির গবেষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, টিকাটি গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। যদিও এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বৃহত্তর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। টিকাটির উন্নয়নে যুক্ত গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেক্সান্দর গিনজবার্গ রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি-কে জানান, প্রথম রোগীর শরীরে এমন সক্রিয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে, যা টিউমার এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার কোষের (মেটাস্টেসিস) বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করতে পারে। গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশীয়ভাবে তৈরি দুটি ক্যানসার চিকিৎসা পদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটি উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক টিকা ‘নিওঅনকোভ্যাক’ এবং অন্যটি কলোরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি পেপটাইড-ভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্ট’। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথমবার মানবদেহে নিওঅনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে টিকাটি দেওয়া হয় ৬০ বছর বয়সী এক রোগীকে, যিনি তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসারে আক্রান্ত। বর্তমানে তিনি মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। গিনজবার্গ জানিয়েছেন, ওই রোগীকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তাঁর রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া এবং শারীরিক অবস্থার উপর নিবিড় নজর রাখা হবে। এদিকে আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক মেলানোমা টিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে সেই টিকাগুলি প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। রাশিয়ার ন্যাশনাল মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজি-র প্রধান আন্দ্রে কাপরিনের মতে, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি এই পদ্ধতির লক্ষ্য রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে কার্যকরভাবে ধ্বংস করতে পারে। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রথমে রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে জিনগত বিশ্লেষণ করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীর জন্য পৃথকভাবে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে সহায়তা করে। রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, কলোরেক্টাল ক্যানসারের জন্য তৈরি অনকোপেপ্ট গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাশাপাশি গামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যও নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বৃহৎ পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
সিউটায় অভিবাসীদের ঢল, চাপে স্পেনের সীমান্ত নিরাপত্তা; সমুদ্রপথে প্রাণ হারালেন ৯ জন
সকাল সকাল ডেস্ক মরক্কো থেকে স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশে নতুন করে ইউরোপের অভিবাসন সংকট সামনে এল। বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে সিউটায় ঢুকে পড়ায় কার্যত চাপে পড়ে স্পেনের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমুদ্রপথে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিউটার প্রশাসন সীমান্তে সেনা মোতায়েন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে কেবল অভিবাসন পরিস্থিতির কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আইনি সুযোগ নেই বলেও মাদ্রিদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে। সিউটায় দায়িত্বে থাকা স্পেনের সিভিল গার্ড অফিসারদের সংগঠনের প্রধান রশিদ সবিহি জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। তাঁর দাবি, ঠিক কতজন সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব না হলেও কয়েক হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেছেন এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলিও পরিস্থিতিকে ব্যতিক্রমী বলে বর্ণনা করেছে। উত্তর মরক্কোর মানবাধিকার কর্মী আক্রাফ মাইমুনির দাবি, তারাহাল (Tarajal) সীমান্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে খুলে যাওয়ার সুযোগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বহু মানুষ তারাহাল সমুদ্রসৈকতের ব্রেকওয়াটার ঘুরে হেঁটে সিউটায় ঢুকছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই যুবক হলেও নারী, শিশু এবং পরিবার-সহ বহু মানুষও ছিলেন। কয়েকজনকে ‘ভিভা এস্পানা’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়। তবে এত বড় সংখ্যায় মানুষ একযোগে সীমান্ত পার হওয়ার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনার আগের দিনও বহু অভিবাসী সাঁতরে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও, মৃতের সংখ্যা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তে বহু মানুষকে আটকাচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় চলছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য শুক্রবার সিউটা সফরে যাচ্ছেন স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা। অন্যদিকে, সিউটার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই সিউটায় ১,৫০০-র বেশি অভিবাসী প্রবেশ করেছিলেন। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলির ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং বহু মানুষকে অস্থায়ীভাবে খোলা আকাশের নীচে থাকতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মে মাসে মাত্র দু’দিনে আট হাজারেরও বেশি অভিবাসী মরক্কো থেকে সিউটায় প্রবেশ করেছিলেন, যা স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ঘটনার স্মৃতি ফের উসকে দিয়েছে। ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার বহু মানুষের কাছে সিউটা এখনও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গাজায় শান্তির ইঙ্গিত? হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ঐতিহাসিক সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে নতুন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার আওতায় হামাস এবং গাজায় সক্রিয় অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ইজরায়েলও ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল বা হামাস—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সমর্থন জানায়নি। শুক্রবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প দাবি করেন, ‘বোর্ড অফ পিস’-এর মধ্যস্থতায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে। আলোচনায় সহযোগিতার জন্য তিনি মিশর, কাতার এবং তুরস্কের ভূমিকাকেও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। প্রথম পর্যায়ে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের কাছে থাকা সব ধরনের অস্ত্র জমা দেবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। একই সময়ে গাজার অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী। প্রস্তাবিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব পরিচালনার জন্য ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) নামে ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের পুনর্বাসনের কাজ পরিচালনা করবে বলে দাবি করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী সূত্রের দাবি, এই রূপরেখার আওতায় হামাসের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, অস্ত্রভাণ্ডার এবং অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলিও ধাপে ধাপে ধ্বংস করা হবে। লক্ষ্য, গাজাকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা। তবে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল সরকার কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ইজরায়েলি সূত্রের খবর, খসড়া চুক্তির কয়েকটি বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে গাজা থেকে সমস্ত অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলার বিষয়টিকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, হামাস-ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির মাধ্যমে প্রস্তাবিত রোডম্যাপের কয়েকটি ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে চুক্তির সব দিক এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই ইঙ্গিত মিলছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ গাজা পরিস্থিতি নিয়ে একটি বহুপাক্ষিক শান্তি উদ্যোগ শুরু করে। ট্রাম্পের দাবি, এই সমঝোতা সেই বৃহত্তর শান্তি পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করবে হামাসের প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ, ইজরায়েলের সেনা প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক সম্মতির উপর। তাই পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের।
পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, মৃত্যু কমপক্ষে ৩২ জনের
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের বালুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন খনিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আরও ১০ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা তাঁদের কাছে পৌঁছানোর জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। সরকারি খনি পরিদর্শক গনি বালোচ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বালুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠে বিস্ফোরণ হয়। সম্ভবত মিথেন গ্যাসের জন্য এই বিস্ফোরণটি হয়। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পর সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল আরও ২৫ জনের মৃতদেহ খুঁজে পান। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল খনির ভিতরে আটকে পড়া বাকি খনিশ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বালুচিস্তানের খনি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নোশেরওয়ানি বলেছেন, উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করছে।
টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগ রাশিয়ার, ১৫ বছরের কারাদণ্ডের আশঙ্কা
সকাল সকাল ডেস্ক মস্কো: জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের গুরুতর অভিযোগ এনেছে রাশিয়া। দেশটির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি-র দাবি, টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে এবং তরুণদের উসকানি দিচ্ছে। এফএসবি-র অভিযোগ, টেলিগ্রামের কিছু প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের লক্ষ্য করে নিয়োগ, যোগাযোগ ও হামলার পরিকল্পনা পরিচালিত হয়েছে। সংস্থার দাবি, এসব কার্যকলাপের ফলে প্রাণহানি এবং বিপুল সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়ার তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, ‘ডাইভিংচিক’ নামে একটি পরিষেবার মাধ্যমে ভুয়ো পরিচয়ে রুশ তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হতো। পরে তাঁদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করা হয় বলে অভিযোগ। এফএসবি-র দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে দেশের ১৬টি অঞ্চল থেকে এ ধরনের অভিযোগে ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাশিয়ার দণ্ডবিধির ২০৫.১ ধারায় সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাভেল দুরোভের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে বলে রুশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাভেল দুরোভ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, টেলিগ্রামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং প্ল্যাটফর্মটিতে সেন্সরশিপ আরোপের উদ্দেশ্যেই রাশিয়া এই অভিযোগ তুলছে। তিনি বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রাশিয়া ছেড়ে দেশত্যাগ করেন পাভেল দুরোভ। বর্তমানে তিনি ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া নিজস্ব মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি টেলিগ্রামের কিছু পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপেও টেলিগ্রামকে ঘিরে বিভিন্ন তদন্ত চলায় সংস্থাটি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। রাশিয়ার অভিযোগের বিষয়ে এখনও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ইউক্রেনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেই গ্রিন কার্ডের সুযোগ? মার্কিন সিনেটে নতুন বিল, আশায় ভারতীয় এইচ-১বি ভিসাধারীরা
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ সহজ করতে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল পেশ করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে টানা সাত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিরা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বহু ভারতীয় পেশাজীবী। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স পাদিলা এই বিলটি উত্থাপন করেছেন। তাঁর দাবি, প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে আধুনিক করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। বিলটি কার্যকর হলে লক্ষ লক্ষ দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসী এর সুবিধা পেতে পারেন। বর্তমান আইনে শুধুমাত্র ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারির আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নির্দিষ্ট অভিবাসীরাই ‘রেজিস্ট্রি’ বিধানের আওতায় গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে সেই নির্দিষ্ট তারিখের পরিবর্তে ‘রোলিং’ বা চলমান সময়সীমার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আবেদনকারীর টানা সাত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রমাণ এবং অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন। ভারতীয় এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য এই প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশভিত্তিক কোটার কারণে বহু ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীকে গ্রিন কার্ডের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের সন্তানরা ২১ বছর পূর্ণ করলে ‘এজিং আউট’-এর সমস্যায় পড়েন, যার ফলে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। নতুন বিল আইনে পরিণত হলে সেই দীর্ঘ অপেক্ষা অনেকটাই কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিলের আওতায় শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীরাই নন, বরং ‘ড্রিমার্স’, টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) প্রাপ্ত অভিবাসী এবং আরও কয়েকটি শ্রেণির দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দারাও উপকৃত হতে পারেন। তবে বিলটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি আইনে পরিণত হতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। বর্তমানে অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বিলটি পাস করানো সহজ হবে না বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তবুও দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয় পেশাজীবীদের কাছে এই উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের ভিসা নিয়ে বিতর্ক, নীরব নিষেধাজ্ঞার অভিযোগে চাপে ইসলামাবাদ
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের ভিসা ইস্যু নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, ইউএই নীরবে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রদান সীমিত বা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আমিরাত প্রশাসন। পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, ভিসা না পাওয়ায় দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বৈঠক, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং বাণিজ্যিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানসহ সব দেশের আবেদনকারীদের ভিসা নির্ধারিত নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। কোনও দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আলাদা করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা। রাওয়ালপিন্ডি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শওকত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউএই-তে ব্যবসা পরিচালনা করা একাধিক পাকিস্তানি উদ্যোক্তাও সম্প্রতি ভিসা পাননি। ফলে তাঁদের ব্যবসায়িক সফর এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান নুন উৎপাদক সমিতির চেয়ারম্যান ইসমাইল সুত্তরের দাবি, ইউএই-নির্ভর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ভিসা-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে করাচি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইতিমধ্যেই ইউএই-র কনসাল জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি বলে তাদের দাবি। এদিকে, শিগগিরই দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একটি বড় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে অংশগ্রহণ নিয়ে পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং একই সময়ে ইউএই-পাকিস্তান সম্পর্কের কিছু কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই ভিসা বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে ভিসা সমস্যার সঙ্গে এই কূটনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি।