সকাল সকাল ডেস্ক
কিয়েভ : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং তার আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার রাতভর চালানো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন এক ডজনেরও বেশি সাধারণ নাগরিক। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে এবারের বিবৃতিতে প্রথমবারের মতো কোনও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করা হয়নি। সামরিক সূত্রের দাবি, ইউক্রেনের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত এখন অত্যন্ত সীমিত।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে ইউক্রেনে রুশ হামলায় অন্তত ৩৭৭ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ২,১২৯ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর এক মাসে এটিই সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে জুলাই মাস ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলাকে ইউক্রেনের পাল্টা অভিযানের জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে ইউক্রেন রাশিয়ার ই-কমার্স সংস্থা ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছিল।
রাশিয়ার হামলায় কিয়েভ এবং তার আশপাশের বিভিন্ন গুদাম, লজিস্টিকস কেন্দ্র ও শিল্প অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত গুদামগুলি। তিনি বলেন, একটি বিয়ার কারখানা, হার্ডওয়্যার স্টোরের গুদাম, একটি রেলস্টেশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার আরও হামলার আশঙ্কা এখনও রয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই অভিযানে ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র এবং দূরপাল্লার স্ট্রাইক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
জেলেনস্কি আবারও ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলির কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকটে ভুগছে ইউক্রেন। উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বর্তমানে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
No Comment! Be the first one.