বারবার পরিচিত নাম-শব্দ মনে পড়ছে না? কখন বুঝবেন সতর্ক হওয়ার সময়
সকাল সকাল ডেস্ক পরিচিত কোনও মানুষের নাম জানা আছে, জায়গাটিও চেনা, এমনকি কোনও সাধারণ শব্দও বহুবার ব্যবহার করেছেন—তবু প্রয়োজনের মুহূর্তে কিছুতেই মনে পড়ছে না। মনে হচ্ছে উত্তরটি যেন জিভের ডগায় আটকে রয়েছে। কিছুক্ষণ পর আবার আচমকাই মনে পড়ে গেল। এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি প্রায় সকলেরই হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’। মাঝে মধ্যে এমন ঘটনা ঘটলেই স্মৃতিশক্তি কমে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। সাধারণত এটি মস্তিষ্কের স্মৃতি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। তবে পরিচিত নাম বা শব্দ মনে করতে না পারার ঘটনা যদি ঘন ঘন ঘটতে শুরু করে, ক্রমশ বাড়ে কিংবা দৈনন্দিন কথাবার্তায় সমস্যা তৈরি করে, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কেন পরিচিত শব্দ মনে পড়ে না? ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’-এর সময় শব্দটি সাধারণত স্মৃতি থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। বরং নির্দিষ্ট মুহূর্তে সেই শব্দটি খুঁজে বের করার প্রক্রিয়ায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে শব্দটির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য মনে থাকে, অথচ ঠিক শব্দটিই মুখে আসে না। কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট পরে কোনও বিশেষ চেষ্টা ছাড়াই সেটি আবার মনে পড়তে পারে। ভাষা ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শব্দ মনে পড়ে। এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর হয়ে গেলে পরিচিত শব্দও মনে করতে অসুবিধা হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং ক্লান্তি সাময়িকভাবে তথ্য মনে করার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি থেকে কোনও তথ্য খুঁজে বের করার গতি কিছুটা কমে যাওয়াও স্বাভাবিক। তাই মাঝেমধ্যে কারও নাম বা কোনও শব্দ মনে না পড়া মানেই স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন? সমস্যা যদি আগের তুলনায় বাড়তে থাকে, নিয়মিত কথাবার্তায় বাধা সৃষ্টি করে কিংবা স্মৃতি ও চিন্তাভাবনার অন্য পরিবর্তনের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভিটামিন বি-১২-এর ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, অবসাদ, উদ্বেগ, শ্রবণশক্তির সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও স্মৃতি ও মনোযোগের পরিবর্তন যুক্ত থাকতে পারে। বারবার পরিচিত মানুষের নাম বা সাধারণ শব্দ ভুলে যাওয়া, অন্যের কথার ধারা অনুসরণ করতে সমস্যা হওয়া কিংবা নিজের বক্তব্য ঠিকভাবে প্রকাশ করতে না পারলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পরিচিত জায়গায় পথ হারিয়ে ফেলা, অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি বা দৈনন্দিন পরিচিত কাজ করতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। হঠাৎ সমস্যা হলে জরুরি চিকিৎসা শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা যদি হঠাৎ শুরু হয় এবং তার সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা বা শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা হঠাৎ বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। শব্দ মনে না পড়লে কী করবেন? কোনও শব্দ মনে না এলে সেটি জোর করে মনে করার চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ অন্যদিকে মন দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন হলে শব্দটির অর্থ বা সেটি কী বোঝায়, তা অন্যভাবে বর্ণনা করে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া যায়। পরে আবার শব্দটি মনে করার চেষ্টা করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা মস্তিষ্কের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নতুন কিছু শেখা ও নিয়মিত মানসিকভাবে সক্রিয় থাকার অভ্যাসও উপকারী। সুতরাং, মাঝেমধ্যে পরিচিত কোনও নাম বা শব্দ মনে না পড়া সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এই সমস্যা যদি বারবার হতে থাকে, ক্রমশ বাড়ে বা তার সঙ্গে আচরণ, স্মৃতি, ভাষা কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উচিত।
দুধের সরেই ফিরবে ত্বকের জেল্লা! কীভাবে ব্যবহার করবেন মালাই
সকাল সকাল ডেস্ক নিখুঁত, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বক কে না চান! ত্বকের যত্নে অনেকেই বাজারচলতি নানা প্রসাধনী ব্যবহার করেন। তবে রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনীর পরিবর্তে ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের পরিচর্যা করতে চাইলে কাজে লাগতে পারে রান্নাঘরে থাকা দুধের সর বা মালাই। মালাইয়ে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাট ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে মধু, হলুদ, গোলাপজল, বেসন কিংবা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে তৈরি করা যায় কয়েক ধরনের ঘরোয়া ফেস প্যাক। মালাই ও মধু শুষ্ক ত্বকের যত্নে মধু ও মালাইয়ের মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, অন্যদিকে মালাই ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সহায়ক হতে পারে। এক চা চামচ মালাইয়ের সঙ্গে আধ চা চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগান। প্রায় ১৫ মিনিট রেখে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মালাই ও হলুদ ত্বকের পরিচর্যায় হলুদের ব্যবহার বহু পুরনো। মালাইয়ের সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে একটি পাতলা মিশ্রণ তৈরি করুন। সেটি মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর জল দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। তবে হলুদে সংবেদনশীলতা থাকলে এই মিশ্রণ এড়িয়ে চলাই ভালো। মালাই ও গোলাপজল ত্বককে সতেজ রাখতে মালাইয়ের সঙ্গে গোলাপজল ব্যবহার করা যেতে পারে। এক চা চামচ মালাইয়ের সঙ্গে এক চা চামচ গোলাপজল ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মালাই ও বেসন ত্বকে জমে থাকা ময়লা ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতে বেসন দীর্ঘদিন ধরেই ঘরোয়া রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক চা চামচ মালাইয়ের সঙ্গে এক চা চামচ বেসন মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগানোর সময় খুব হালকা হাতে মালিশ করুন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না, কারণ এতে ত্বকে জ্বালা হতে পারে। মালাই ও অ্যালোভেরা জেল ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে অ্যালোভেরা জেলও জনপ্রিয়। সমপরিমাণ মালাই ও অ্যালোভেরা জেল ভালো করে মিশিয়ে মুখ ও গলায় লাগাতে পারেন। কিছুক্ষণ রেখে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহারের আগে যা খেয়াল রাখবেন যে কোনও ফেস প্যাক ব্যবহারের আগে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করা জরুরি। নতুন কোনও উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়াও ভালো। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি এ ধরনের ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কোনও উপাদান ব্যবহারের পর চুলকানি, জ্বালা, লালচে ভাব বা অন্য কোনও অস্বস্তি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। ত্বকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘরোয়া উপায়ের পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বর্ষায় ম্যাট্রেসে স্যাঁতসেঁতে ভাব আর দুর্গন্ধ? সহজ কয়েকটি উপায়েই রাখুন শুকনো
সকাল সকাল ডেস্ক বর্ষাকাল এলেই জামাকাপড় শুকানো থেকে ঘরবাড়ি স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাওয়া—একাধিক সমস্যায় পড়তে হয়। এর মধ্যে অন্যতম শোয়ার ঘরের তোষক বা ম্যাট্রেসে আর্দ্রতা জমে যাওয়া। সরাসরি বৃষ্টির জল না লাগলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং শরীরের ঘাম ধীরে ধীরে ম্যাট্রেসের ভিতরে জমতে পারে। বাইরে থেকে বিছানা শুকনো মনে হলেও ভিতরে জমে থাকা আর্দ্রতা থেকেই তৈরি হতে পারে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি থাকলে ছত্রাক বা মোল্ড জন্মানোর আশঙ্কাও বাড়ে। তাই বর্ষার সময় ম্যাট্রেস যতটা সম্ভব শুকনো রাখা জরুরি। কয়েকটি সাধারণ পদ্ধতি মেনে চললেই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডিহিউমিডিফায়ার হতে পারে কার্যকর বর্ষায় ঘরের বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকলে ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। যন্ত্রটি বাতাসের অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে ঘরের আর্দ্রতা কমাতে সাহায্য করে। ডিহিউমিডিফায়ার চালানোর সময় ঘরের দরজা ও জানালা বন্ধ রাখলে সেটি তুলনামূলক কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। ম্যাট্রেসের চাদর সরিয়ে রাখলে বাতাস চলাচলের সুযোগ বাড়ে এবং তোষকের আর্দ্রতা কমাতেও সুবিধা হয়। ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন ম্যাট্রেস ম্যাট্রেসে হালকা স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকলে সাধারণ ফ্যানও কাজে আসতে পারে। প্রথমে বিছানার চাদর, কম্বল, বালিশ-সহ সমস্ত কিছু সরিয়ে দিন। এরপর এমনভাবে ফ্যান চালান, যাতে ম্যাট্রেসের যতটা সম্ভব অংশে বাতাস পৌঁছয়। সম্ভব হলে কিছু সময় পর ম্যাট্রেস উল্টে অন্য দিকেও বাতাস লাগানো যেতে পারে। সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার আগে নতুন চাদর না পাতাই ভালো। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে ঘরের জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। তরল পড়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন ম্যাট্রেসে জল, চা বা অন্য কোনও তরল পড়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব তা শুষে নেওয়া জরুরি। প্রথমে পরিষ্কার ও শুকনো তোয়ালে দিয়ে জায়গাটির উপর চাপ দিয়ে অতিরিক্ত তরল শুষে নেওয়া যেতে পারে। ঘষাঘষি করলে তরল আরও গভীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। বাড়িতে ‘ওয়েট অ্যান্ড ড্রাই ভ্যাকিউম ক্লিনার’ থাকলে উপযুক্ত সংযুক্তি ব্যবহার করে ম্যাট্রেস থেকে তরল শুষে নেওয়া যেতে পারে। এরপর ফ্যান বা ডিহিউমিডিফায়ারের সাহায্যে অবশিষ্ট আর্দ্রতা সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। ময়েশ্চার অ্যাবজর্বারও কাজে আসতে পারে যে সমস্ত ঘরে বাতাস চলাচল কম বা দীর্ঘ সময় দরজা-জানালা বন্ধ থাকে, সেখানে ময়েশ্চার অ্যাবজর্বার ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্যালশিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত ময়েশ্চার অ্যাবজর্বার বাতাস থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করতে সাহায্য করে। এটি খাটের কাছাকাছি নিরাপদ কোনও জায়গায় রাখা যেতে পারে। তবে শিশু ও পোষ্য প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা জরুরি। পাত্রে জমে থাকা তরলও নির্দেশিকা মেনে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। নিয়মিত যত্নেই কমবে সমস্যা বর্ষায় সুযোগ পেলেই ম্যাট্রেসের চাদর সরিয়ে কিছুক্ষণ বাতাস লাগানো ভালো। রোদ উঠলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুযায়ী ম্যাট্রেসে রোদ বা খোলা বাতাস লাগানো যেতে পারে। বিছানার চাদরও নিয়মিত পরিবর্তন ও সম্পূর্ণ শুকিয়ে ব্যবহার করা উচিত। ম্যাট্রেসে যদি ইতিমধ্যেই বড় অংশজুড়ে ছত্রাক জন্মায়, তীব্র দুর্গন্ধ থাকে অথবা বারবার স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়, শুধু ঘরোয়া উপায়ে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পেশাদার পরিষ্কারের সাহায্য নেওয়া বা প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাট্রেস পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
শুধু জলে ধুলেই কি টমেটো পরিষ্কার হয়? রান্নার আগে জেনে নিন সঠিক পদ্ধতি
সকাল সকাল ডেস্ক ডাঁটা-আলুর তরকারি থেকে মাছ কিংবা মাংসের ঝোল—রোজকার রান্নাঘরে টমেটোর ব্যবহার প্রায় অপরিহার্য। রান্নায় স্বাদ ও রং বাড়ানোর পাশাপাশি স্যালাডেও অনেকেই কাঁচা টমেটো খান। কিন্তু বাজার থেকে কিনে আনার পর টমেটো ঠিকমতো পরিষ্কার করছেন তো? সাধারণত টমেটো রান্নায় ব্যবহারের আগে জলে একবার ধুয়ে নেওয়াই অনেকের অভ্যাস। মসৃণ খোসার কারণে টমেটোর গায়ে তেমন ময়লা দেখা যায় না। তবে খালি চোখে ময়লা না দেখা গেলেও তার উপর ধুলো, মাটি বা বিভিন্ন জীবাণু থাকতে পারে। তাই টমেটো ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। কীভাবে পরিষ্কার করবেন টমেটো? টমেটো পরিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল পরিষ্কার প্রবাহিত জলে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া। টমেটোর গায়ে কোনও দৃশ্যমান ময়লা থাকলে জলের নিচে রেখে হাত দিয়ে আলতোভাবে ঘষে পরিষ্কার করা যেতে পারে। ধোয়ার আগে হাতও পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। অনেকে টমেটো পরিষ্কার করতে নুন-জল ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে একটি বড় পাত্রে পর্যাপ্ত পরিষ্কার জল নিয়ে তার মধ্যে সামান্য নুন মিশিয়ে টমেটো কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। এরপর টমেটোগুলি তুলে পরিষ্কার প্রবাহিত জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, নুন-জলে ভিজিয়ে রাখলেই টমেটোর গায়ে থাকা সমস্ত কীটনাশক বা জীবাণু সম্পূর্ণ দূর হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই নুন-জল ব্যবহার করা হলেও শেষে প্রবাহিত পরিষ্কার জলে টমেটো ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কাটার আগে ধোয়া জরুরি টমেটো কাটার আগেই ধুয়ে নেওয়া উচিত। কারণ না ধুয়ে কাটলে খোসার উপর থাকা ময়লা বা জীবাণু ছুরি ও হাতের মাধ্যমে টমেটোর ভেতরের অংশে পৌঁছে যেতে পারে। একই কারণে টমেটো কাটার জন্য ব্যবহৃত ছুরি ও কাটিং বোর্ডও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। বাজার থেকে টমেটো কিনে আনার পর সংরক্ষণের আগে অথবা রান্না ও স্যালাডে ব্যবহারের ঠিক আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা টমেটো খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। আর একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—টমেটো বা অন্য কোনও ফল-সবজি পরিষ্কার করতে সাবান, ডিটারজেন্ট বা গৃহস্থালির রাসায়নিক ক্লিনার ব্যবহার করা উচিত নয়। পরিষ্কার প্রবাহিত জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াই নিরাপদ অভ্যাস। এভাবে সামান্য সতর্কতা মেনে চললে প্রতিদিনের খাবারে ব্যবহৃত টমেটো আরও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব।
পার্লারে না গিয়েই হাত-পায়ের যত্ন, ঘরেই করুন সহজ ম্যানিকিউর-পেডিকিউর
সকাল সকাল ডেস্ক মুখের ত্বকের যত্নে অনেকেই নিয়মিত সময় দিলেও হাত ও পায়ের পরিচর্যা প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়। এর ফলে ধীরে ধীরে হাত-পায়ের ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়তে পারে। তবে হাত-পায়ের হারানো কোমলতা ও উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে প্রতিবার পার্লারে গিয়ে ব্যয়বহুল ম্যানিকিউর বা পেডিকিউর করানোর প্রয়োজন নেই। বাড়িতে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপকরণ ব্যবহার করেই সহজে হাত ও পায়ের পরিচর্যা করা সম্ভব। ঘরোয়া ম্যানিকিউর-পেডিকিউরের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হালকা গরম জল, অল্প পরিমাণ মৃদু শ্যাম্পু বা বডি ওয়াশ, এক চা চামচ লবণ বা বেকিং সোডা, অর্ধেক লেবু, স্ক্রাব, নেইল ক্লিপার, নেইল ফাইলার, পিউমিস স্টোন, ময়েশ্চারাইজার এবং পছন্দের নেলপলিশ। পরিচর্যা শুরুর আগে নখে পুরনো নেলপলিশ থাকলে রিমুভার দিয়ে তা পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর নেইল ক্লিপার দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নখ কেটে ফাইলারের সাহায্যে পছন্দমতো আকার দেওয়া যেতে পারে। পরবর্তী ধাপে একটি পাত্র বা বালতিতে ত্বকের জন্য আরামদায়ক হালকা গরম জল নিতে হবে। সেই জলে সামান্য শ্যাম্পু, লবণ এবং অল্প লেবুর রস মিশিয়ে হাত ও পা প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে শক্ত ও খসখসে ত্বক কিছুটা নরম হয়ে আসে এবং পরবর্তী পরিচর্যা সহজ হয়। বিশেষ করে পায়ের গোড়ালির শক্ত ও মৃত ত্বক পরিষ্কার করতে পিউমিস স্টোন বা ফুট ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খুব বেশি চাপ দিয়ে ঘষা উচিত নয়। আলতোভাবে গোড়ালি পরিষ্কার করার পর হাত ও পায়ে স্ক্রাব লাগিয়ে কয়েক মিনিট বৃত্তাকারভাবে হালকা মাসাজ করে সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। জলে ভেজানোর পর নখের চারপাশের কিউটিকলও নরম হয়ে যায়। কিউটিকল পুশার বা পরিষ্কার তোয়ালের সাহায্যে খুব সাবধানে তা পিছনের দিকে সরানো যেতে পারে। কিউটিকল কাটা বা জোর করে সরানো থেকে বিরত থাকাই ভালো, কারণ এতে ত্বকে আঘাত বা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সবশেষে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে হাত ও পা ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর ঘন ময়েশ্চারাইজার, লোশন বা নারকেল তেল ব্যবহার করে কয়েক মিনিট আলতোভাবে মাসাজ করা যেতে পারে। এতে শুষ্ক ত্বক আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং হাত-পা আরও কোমল দেখায়। ময়েশ্চারাইজার ত্বকে শোষিত হওয়ার পর নখে বেস কোট লাগিয়ে পছন্দের নেলপলিশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এইভাবে বাড়িতে অল্প সময় ও সাধারণ কয়েকটি উপকরণ ব্যবহার করেই ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করা সম্ভব। নিয়মিত হাত-পা পরিষ্কার রাখা এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের অভ্যাস শুষ্কতা ও রুক্ষতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ত্বকে কাটা-ছেঁড়া, ফাটল, সংক্রমণ বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা থাকলে লেবু, স্ক্রাব বা পিউমিস স্টোন ব্যবহার না করাই ভালো।
সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো জল খাচ্ছেন, জানুন শরীরকে রোগমুক্ত রাখার ৭টি উপকারিতা
সকাল সকাল ডেস্ক আমাদের রান্নাঘরের মশলার কৌটোয় লুকিয়ে থাকা মেথি (Fenugreek) কেবল তরকারির স্বাদ বা গন্ধ বাড়ায় না, বরং এটি একটি অসামান্য ও ভেষজ ঔষধি উপাদান। বহু প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসায় মেথির বহুবিধ ব্যবহার হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদাচার্য ও পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস মেথি ভেজানো জল পান করার অভ্যাস শরীরকে একাধিক মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ‘গ্যালাক্টোম্যানান’ (Galactomannan)-এর মতো দ্রবণীয় উপাদান। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি জল পানের জাদুকরী উপকারিতা এবং এটি তৈরির সঠিক নিয়ম নিয়ে একটি বিস্তৃত পুষ্টি ও স্বাস্থ্য প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো। ১. খালি পেটে মেথি ভেজানো জল পানের ৭টি জাদুকরী উপকারিতা ক) ডায়াবেটিস ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ: মেথিতে থাকা ‘গ্যালাক্টোম্যানান’ ও দ্রবণীয় ফাইবার রক্তে শর্করার শোষণ ধীর করে দেয়। এ ছাড়া এটি ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা ও ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সকালে মেথি জল পান করা প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। খ) দ্রুগ গতিতে ওজন হ্রাস ও মেদ ঝরানো: সকালে মেথি ভিজানো জল খেলে এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার পেটে গিয়ে ফুলে ওঠে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে অসময়ে বা বারবার খাওয়ার তাগিদ বা ‘ফুড ক্রেভিং’ কমে যায়। এ ছাড়া মেথি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বাড়িয়ে জমানো চর্বি দ্রুত পোড়াতে সাহায্য করে। গ) হজমশক্তি বৃদ্ধি ও অ্যাসিডিটি দূর: খালি পেটে মেথি জল পানের ফলে তা পরিপাকতন্ত্রের ভেতরে একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি করে। এটি বুক জ্বালা, গ্যাস, অম্লতা বা অ্যাসিডিটি এবং বদহজমের সমস্যা নিমেষে দূর করে। যাদের দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যের (Constipation) সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য মেথি জল মল নিষ্কাশন সহজ করে। ঘ) খারাপ কোলেস্টেরল কমায় ও হৃদযন্ত্র সুরক্ষিত রাখে: মেথিতে থাকা উপাদান রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং রক্তনালীকে পরিষ্কার রাখে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ কমে যায়। ঙ) রক্ত পরিশোধন ও টক্সিন দূরীকরণে: মেথি জল একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ডিটক্স পানীয় (Detox Drink)। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি জল খেলে তা লিভার ও কিডনি থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়, যা রক্তকে বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। চ) উজ্জ্বল ত্বক ও চুল পড়া বন্ধ: রক্ত পরিষ্কার হওয়ার কারণে স্কিন বা ত্বকের একনে, ব্রণ ও দাগছোপ কমে গিয়ে ত্বকে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আসে। এ ছাড়া মেথিতে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করে নতুন চুল গজাতে এবং খুশকি দূর করতে সহায়তা করে। ছ) নারীদের পিরিয়ডের ব্যথা উপশম: মেথিতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাবলী নারীদের মাসিক বা পিরিয়ডের সময় পেটের তীব্র ব্যথা ও ক্র্যাম্প কমাতে সাহায্য করে। ২. মেথি ভেজানো জল তৈরি ও পানের সঠিক নিয়ম কোনো প্রকার কেমিক্যাল বা কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই শরীরকে সুস্থ, সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে প্রতিদিন সকালে মেথি ভেজানো জলের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ।
রান্নায় বেশি হলুদ পড়ে ঝোল তেঁতো হয়ে গিয়েছে? স্বাদ ফেরাতে জানুন ৭ জাদুকরী উপায়
সকাল সকাল ডেস্ক বাঙালি রান্নাঘরে হলুদ শুধু একটি সাধারণ মশলা নয়। তরকারির রং, স্বাদ ও গন্ধে হলুদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাছের ঝোল থেকে শুরু করে মাংসের কষা—প্রায় প্রতিটি রান্নাতেই পরিমাণমতো হলুদের ব্যবহার খাবারের স্বাদ ও রূপ বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু রান্নার সময় অসাবধানতাবশত যদি কড়াইয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলুদ পড়ে যায়, তাহলেই দেখা দিতে পারে সমস্যা। তরকারির রং অতিরিক্ত গাঢ় হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাঁচা হলুদের কড়া গন্ধ এবং তিতকুটে স্বাদ পুরো রান্নাটিকেই নষ্ট করে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করেন, এত পরিশ্রম করে তৈরি করা খাবারটি বুঝি আর বাঁচানোর কোনও উপায় নেই। তবে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান ব্যবহার করেই অতিরিক্ত হলুদের তীব্রতা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। স্বাদের ভারসাম্য ফেরানোর পাশাপাশি কাঁচা হলুদের গন্ধও কমানো যায়। জেনে নিন রান্নায় বেশি হলুদ পড়ে গেলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন। ১. টক দই ব্যবহার করুন অতিরিক্ত হলুদের তিতকুটে স্বাদ এবং কাঁচা গন্ধ কমাতে টক দই ব্যবহার করা যেতে পারে। তরকারিতে ঝোল বা গ্রেভি থাকলে ২ থেকে ৩ চামচ তাজা টক দই ভালো করে ফেটিয়ে ধীরে ধীরে মিশিয়ে দিন। দইয়ের টক ও মোলায়েম স্বাদ হলুদের কড়া ভাবের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে গ্রেভিও কিছুটা ঘন ও সুস্বাদু হয়ে উঠবে। তবে দই সরাসরি খুব গরম ঝোলে দেওয়ার সময় সতর্ক থাকা দরকার। ভালো করে ফেটিয়ে অল্প অল্প করে মেশালে দই কেটে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে। ২. নারকেলের দুধ বা সাধারণ দুধ নিরামিষ তরকারি, পনির কিংবা মালাইকারির মতো কোনও পদে ভুল করে বেশি হলুদ পড়ে গেলে নারকেলের দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্নার ধরন অনুযায়ী সামান্য সাধারণ দুধও কাজে আসতে পারে। দুধ বা নারকেলের দুধ যোগ করলে তরকারির স্বাদ তুলনামূলক মোলায়েম হয়। এর হালকা মিষ্টি ও মসৃণ স্বাদ অতিরিক্ত হলুদের কড়া ভাবকে অনেকটাই ভারসাম্যে আনতে পারে। তবে যে রান্নায় দুধ ব্যবহার করলে স্বাভাবিক স্বাদ বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে এই পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো। ৩. ঝোল বা অন্যান্য উপকরণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন অতিরিক্ত হলুদের সমস্যা সামলানোর সবচেয়ে সহজ উপায়গুলির একটি হল রান্নার মোট পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া। কারণ, এতে হলুদের ঘনত্ব স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে। ঝোল জাতীয় রান্না হলে সামান্য গরম জল যোগ করা যেতে পারে। তবে শুধু জল দিলে স্বাদ হালকা হয়ে যেতে পারে, তাই প্রয়োজনে লবণ ও অন্যান্য মশলার পরিমাণও সামঞ্জস্য করতে হবে। কষা বা শুকনো তরকারিতে সেদ্ধ আলু, অতিরিক্ত টমেটো, পেঁয়াজ বা রান্নার সঙ্গে মানানসই অন্য কোনও উপকরণ যোগ করা যেতে পারে। এতে হলুদের পরিমাণ একই থাকলেও অন্যান্য উপকরণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তার তীব্রতা অনেকটাই কমে যাবে। ৪. লেবুর রস বা সামান্য তেঁতুল হলুদের তিতকুটে স্বাদ কমাতে অল্প টক স্বাদও কাজে লাগতে পারে। রান্না প্রায় শেষ হয়ে এলে সামান্য পাতিলেবুর রস অথবা তেঁতুলের ক্বাথ যোগ করা যেতে পারে। রান্না নামানোর প্রায় ২ মিনিট আগে অল্প পরিমাণে লেবুর রস মিশিয়ে স্বাদ পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে আরও সামান্য যোগ করা যেতে পারে। একইভাবে যে সব রান্নায় তেঁতুলের স্বাদ মানানসই, সেখানে অল্প তেঁতুল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একবারে বেশি লেবু বা তেঁতুল দেওয়া উচিত নয়। এতে হলুদের তিতকুটে স্বাদ কমলেও গোটা রান্না অতিরিক্ত টক হয়ে যেতে পারে। ৫. আটার ছোট গোলা ব্যবহারের ঘরোয়া কৌশল পুরনো দিনের রান্নাঘরে অতিরিক্ত মশলা বা স্বাদের ভারসাম্য সামলাতে নানা ধরনের ঘরোয়া কৌশল ব্যবহার করা হত। তেমনই একটি পরিচিত পদ্ধতি হল আটার ছোট গোলা ব্যবহার। আটা বা ময়দা দিয়ে ২ থেকে ৩টি ছোট গোলা তৈরি করে ফুটন্ত ঝোলে কিছুক্ষণ রাখা যেতে পারে। প্রায় পাঁচ মিনিট পরে সেগুলি তুলে ফেলে দিন। তবে এই পদ্ধতির ফল রান্নার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অতিরিক্ত হলুদ কমানোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে রান্নার পরিমাণ বাড়ানো বা স্বাদের ভারসাম্য ঠিক করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। ৬. গরম মশলা, ঘি বা কাসুরি মেথির ছোঁয়া অনেক সময় বেশি হলুদ পড়ে যাওয়ার পর মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় কাঁচা হলুদের তীব্র গন্ধ। রান্নার শেষে অল্প গরম মশলা, সামান্য ঘি অথবা হাতে ডলে কিছুটা কাসুরি মেথি যোগ করলে খাবারে নতুন সুবাস তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাংস, পনির বা ঘন গ্রেভির রান্নায় এই পদ্ধতি বেশ কাজে আসতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, গরম মশলা বা কাসুরি মেথি হলুদের পরিমাণ কমায় না। এগুলি মূলত স্বাদ ও গন্ধের ভারসাম্য তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে রান্নার আসল স্বাদই বদলে যেতে পারে। ৭. সামান্য চিনি বা গুড় দিয়ে স্বাদের ভারসাম্য হলুদের কারণে তরকারিতে হালকা তিতকুটে স্বাদ তৈরি হলে এক চিমটে চিনি বা খুব সামান্য গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে। মিষ্টি স্বাদ তিতকুটে ভাবের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করতে সাহায্য করে। তবে এখানে পরিমাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বেশি চিনি বা গুড় দিলে তরকারি মিষ্টি হয়ে যেতে পারে। তাই প্রথমে এক চিমটে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে স্বাদ পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে পরে আরও সামান্য যোগ করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে রান্নায় বেশি হলুদ পড়া এড়াবেন কীভাবে? রান্নার সময় ছোট কয়েকটি অভ্যাস এই সমস্যা অনেকটাই এড়াতে পারে। প্রথমত, ফুটন্ত কড়াই বা হাঁড়ির উপর মশলার কৌটো ধরে সরাসরি হলুদ ঢালা উচিত নয়। রান্নার বাষ্পে কৌটোর মুখে থাকা হলুদ ভিজে দলা পাকিয়ে যেতে পারে এবং আচমকা অনেকটা মশলা কড়াইয়ে পড়ে যেতে পারে। তাই হলুদ দেওয়ার সময় সবসময় ছোট চামচ ব্যবহার করাই ভালো। কতটা হলুদ দেওয়া হচ্ছে, তা এতে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চাইলে একটি ছোট বাটিতে সামান্য জল দিয়ে হলুদ গুলে নিয়েও রান্নায় যোগ করা যেতে পারে। রান্না একটি শিল্প, আর রান্না করতে গিয়ে ছোটখাটো ভুল হওয়াও খুব স্বাভাবিক। তাই অসাবধানতাবশত তরকারিতে বেশি হলুদ পড়ে গেলে পুরো খাবার ফেলে দেওয়ার আগে এই সহজ কৌশলগুলি কাজে লাগানো যেতে পারে। রান্নার ধরন বুঝে দই, দুধ, অতিরিক্ত ঝোল বা উপকরণ, লেবুর রস, সামান্য মিষ্টি কিংবা সুগন্ধি মশলা ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাদের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এতে খাবারের অপচয়ও কমবে, আবার পরিশ্রম করে তৈরি করা রান্নাটিও বাঁচানো যাবে।
৮ আগস্ট প্রকাশ্যে আসছে ‘টক্সিক’-এর ট্রেলার
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই : রকিং স্টার যশের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এবার ছবির নির্মাতারা প্রকাশ করলেন নতুন পোস্টার। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী ৮ আগস্ট মুক্তি পাবে ছবির বহুল প্রতীক্ষিত ট্রেলার। নতুন পোস্টারে যশকে তাঁর চরিত্র ‘রায়া’-র রহস্যময় রূপে তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টারে তাঁর মুখ স্পষ্ট দেখা না গেলেও হাতে একটি টমি গান নিয়ে ছায়াময় উপস্থিতি ছবির রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্মাতারা এবারও গল্প সম্পর্কে কোনও ইঙ্গিত না দিয়ে কৌতূহল অটুট রেখেছেন। ফলে পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সমাজমাধ্যমে ছবির কাহিনি ও যশের চরিত্র নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ৮ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছবির ট্রেলার প্রকাশ করা হবে। দিনটি ছবির নির্মাতাদের কাছেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ওই দিনই ‘টক্সিক’-এর শুটিং শুরুর দুই বছর পূর্ণ হবে। ট্রেলারের মাধ্যমে প্রথমবার দর্শকরা ছবির জগত, প্রধান চরিত্রগুলির রূপ এবং কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ ঝলক দেখতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরিচালক গীতু মোহনদাসের পরিচালনায় নির্মিত এই গ্যাংস্টারধর্মী ছবিতে যশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদবাণী, তারা সুতারিয়া, রুক্মিণী বসন্ত এবং হুমা কুরেশি। কেভিএন প্রোডাকশন্স এবং মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশন্সের প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি একযোগে কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় শুট করা হয়েছে। পাশাপাশি হিন্দি, তামিল, তেলুগু ও মালয়ালম ভাষাতেও এটি মুক্তি পাবে। ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ আগামী ২৬ আগস্ট ২০২৬ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
বিয়ের আগে সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করতে পারে ৩-৩-৩ ডেটিং রুল
সকাল সকাল ডেস্ক বিয়ে শুধু দুজন মানুষের একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, দায়িত্ব, পরিবার, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িয়ে থাকে। তাই শুধু আবেগ বা প্রাথমিক ভালো লাগার ওপর নির্ভর না করে, সময় নিয়ে সঙ্গীকে বোঝার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্পর্ককে ধাপে ধাপে মূল্যায়নের এমনই একটি পদ্ধতি হলো ৩-৩-৩ ডেটিং রুল। ৩-৩-৩ ডেটিং রুল কী? এই নিয়মে সম্পর্কের তিনটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে নিজের অনুভূতি ও সঙ্গীর আচরণ মূল্যায়ন করার কথা বলা হয়। প্রথম মূল্যায়ন করা হয় তিনটি ডেটের পর, দ্বিতীয়টি তিন সপ্তাহ পর এবং তৃতীয়টি তিন মাস পর। এই সময়গুলোতে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া কতটা তৈরি হয়েছে, মতের মিল-অমিল কীভাবে সামলানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথ চলা সম্ভব কি না—এসব বিষয় ভেবে দেখা যায়। তিনটি ডেটের পর কী বুঝবেন? প্রথম কয়েকটি সাক্ষাতে কাউকে ভালো লেগে যেতেই পারে। তবে অল্প সময়ে একজন মানুষের প্রকৃত স্বভাব পুরোপুরি বোঝা কঠিন। তিনটি ডেটের পর সাধারণত কথাবার্তা ও আচরণে কিছুটা স্বাভাবিকতা আসে। এই পর্যায়ে খেয়াল করুন, সঙ্গী আপনার কথা মন দিয়ে শোনেন কি না, সম্মানজনক আচরণ করেন কি না এবং তার সঙ্গে সময় কাটাতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কি না। দুজনের আগ্রহ ও কথাবার্তার মধ্যে স্বাভাবিক সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই পর্যায়টি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নয়। বরং সম্পর্কটি আরও এগিয়ে নেওয়া উচিত কি না, তা বোঝার সুযোগ। তিন সপ্তাহ পর যেসব বিষয় দেখবেন তিন সপ্তাহের মধ্যে একে অপরকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। শুধু সাজানো ডেট নয়, কাজের চাপ, ব্যস্ততা কিংবা ছোটখাটো সমস্যার সময় মানুষটির আচরণ কেমন, সেটিও ধীরে ধীরে বোঝা যায়। এ সময় লক্ষ্য করুন, তিনি কথা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন কি না। মতের অমিল হলে শান্তভাবে আলোচনা করেন, নাকি এড়িয়ে যান বা অসম্মানজনক আচরণ করেন। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা পরিষেবা প্রদানকারী মানুষের সঙ্গে তার ব্যবহার কেমন, সেটিও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। ভবিষ্যৎ, বিয়ে, পরিবার, অর্থনৈতিক দায়িত্ব কিংবা কর্মজীবন নিয়ে দুজনের চিন্তাভাবনার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও কথা বলা যেতে পারে। তিন মাস পর সম্পর্কের বাস্তব চিত্র সম্পর্কের শুরুতে আবেগ ও আকর্ষণ অনেক বেশি থাকে। সময়ের সঙ্গে সেই উত্তেজনা কিছুটা স্বাভাবিক হলে দুজনের প্রকৃত অভ্যাস, মূল্যবোধ ও জীবনযাপন আরও পরিষ্কারভাবে সামনে আসে। তিন মাস পর ভাবুন, সঙ্গীর সঙ্গে থাকলে আপনি মানসিকভাবে নিরাপদ ও শান্ত বোধ করেন কি না। সমস্যা দেখা দিলে দুজন মিলে সমাধান করতে পারেন কি না এবং একে অপরের ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। জীবনের লক্ষ্য, পরিবার, অর্থব্যবস্থা, সন্তান, কর্মজীবন ও বসবাসের পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুজনের মতামত কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও এই পর্যায়ে আলোচনা করা যেতে পারে। অস্বস্তি বা সন্দেহ উপেক্ষা নয় সম্পর্কে সামান্য মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে একই বিষয়ে বারবার অস্বস্তি, ভয়, অবিশ্বাস বা অসম্মানজনক আচরণ দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শুধু সময়ের সঙ্গে সব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে—এমন ধারণার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। অস্বস্তির বিষয়গুলো খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। কথা বলার পরও যদি সমস্যার ধরন বদল না হয়, তাহলে সম্পর্কটি নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। সঙ্গীকে পরীক্ষা নেওয়া উদ্দেশ্য নয় ৩-৩-৩ নিয়মের উদ্দেশ্য সঙ্গীকে পরীক্ষার মুখে ফেলা বা প্রতিটি আচরণের নম্বর দেওয়া নয়। এটি মূলত নিজের অনুভূতি, প্রত্যাশা ও সম্পর্কের বাস্তব অবস্থা বোঝার একটি নির্দেশিকা। এ পদ্ধতিতে দুজনই খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন—সম্পর্কটি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, ভবিষ্যতে কী চান এবং কোন জায়গায় আরও বোঝাপড়া প্রয়োজন। কঠোর নিয়ম নয়, কেবল নির্দেশনা প্রতিটি সম্পর্কের গতি আলাদা। কেউ তিন মাসে অনেকটাই কাছাকাছি আসতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে একজনকে বুঝতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ৩-৩-৩ পদ্ধতিকে কঠোর নিয়ম হিসেবে না দেখে একটি সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে নেওয়াই ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক সম্মান, সততা, বিশ্বাস, মানসিক নিরাপত্তা এবং সুস্থ যোগাযোগ। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শুধু ভালোবাসা নয়, সঙ্গীর মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও আচরণও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সময় নিয়ে সম্পর্ক বোঝা কখনোই সময় নষ্ট নয়। বরং তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে ধীরে, সচেতনভাবে এবং বাস্তবতা যাচাই করে এগোনো অনেক বেশি নিরাপদ।
অজান্তেই ত্বকের ক্ষতি করছেন? দৈনন্দিন ৬ অভ্যাসেই বাড়ছে ব্রণ ও বলিরেখার ঝুঁকি
সকাল সকাল ডেস্ক নিয়মিত স্কিনকেয়ার করেও যদি কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলে, তাহলে শুধু প্রসাধনী নয়, নজর দিতে হবে দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকেও। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট কিছু ভুল অভ্যাসই ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল করে, ব্রণ বাড়ায় এবং অকালেই বলিরেখার ঝুঁকি তৈরি করে। ১. নোংরা বালিশের ওয়ার ব্যবহার প্রতিদিন বালিশের ওয়ারে তেল, ঘাম, ধুলো ও ব্যাকটেরিয়া জমে। দীর্ঘ সময় সেই কাপড়ের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকে ব্রণ, জ্বালাভাব ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুইবার বালিশের ওয়ার পরিবর্তন করা উচিত। ২. বারবার মুখে হাত দেওয়া অজান্তেই অনেকেই বারবার মুখে হাত দেন বা ব্রণ খোঁচান। এতে হাতের জীবাণু ও ময়লা সরাসরি ত্বকের রোমকূপে পৌঁছে প্রদাহ, ব্রণ এবং কালো দাগের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। ৩. অতিরিক্ত স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েশন উজ্জ্বল ত্বকের আশায় ঘন ঘন স্ক্রাব বা অ্যাসিডভিত্তিক এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হতে পারে। এর ফলে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, লালচে ভাব ও ব্রণের প্রবণতা বেড়ে যায়। ৪. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মুখ ধোয়া দিনে বারবার মুখ ধুলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ত্বক আরও বেশি তেল উৎপাদন করতে শুরু করে, যা শুষ্কতা ও ব্রণের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ৫. অতিরিক্ত চিনি খাওয়া খাদ্যাভ্যাসও ত্বকের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং কোলাজেনের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। ফলে ত্বক দ্রুত নিস্তেজ হয়ে যায় এবং বয়সের ছাপ আগেভাগেই দেখা দিতে পারে। ৬. ঘরেও সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা অনেকেই মনে করেন, ঘরের ভিতরে থাকলে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু জানালার কাচ ভেদ করে অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে পিগমেন্টেশন, ট্যান এবং অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়ে। সুস্থ ত্বকের জন্য কী করবেন? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ত্বক পেতে শুধু দামি প্রসাধনী ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজন অনুযায়ী ত্বকের যত্ন নেওয়া এবং প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে ত্বককে সুস্থ, পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।