সকাল সকাল ডেস্ক
মুখের ত্বকের যত্নে অনেকেই নিয়মিত সময় দিলেও হাত ও পায়ের পরিচর্যা প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়। এর ফলে ধীরে ধীরে হাত-পায়ের ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়তে পারে। তবে হাত-পায়ের হারানো কোমলতা ও উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে প্রতিবার পার্লারে গিয়ে ব্যয়বহুল ম্যানিকিউর বা পেডিকিউর করানোর প্রয়োজন নেই। বাড়িতে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপকরণ ব্যবহার করেই সহজে হাত ও পায়ের পরিচর্যা করা সম্ভব।
ঘরোয়া ম্যানিকিউর-পেডিকিউরের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হালকা গরম জল, অল্প পরিমাণ মৃদু শ্যাম্পু বা বডি ওয়াশ, এক চা চামচ লবণ বা বেকিং সোডা, অর্ধেক লেবু, স্ক্রাব, নেইল ক্লিপার, নেইল ফাইলার, পিউমিস স্টোন, ময়েশ্চারাইজার এবং পছন্দের নেলপলিশ।
পরিচর্যা শুরুর আগে নখে পুরনো নেলপলিশ থাকলে রিমুভার দিয়ে তা পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর নেইল ক্লিপার দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নখ কেটে ফাইলারের সাহায্যে পছন্দমতো আকার দেওয়া যেতে পারে।
পরবর্তী ধাপে একটি পাত্র বা বালতিতে ত্বকের জন্য আরামদায়ক হালকা গরম জল নিতে হবে। সেই জলে সামান্য শ্যাম্পু, লবণ এবং অল্প লেবুর রস মিশিয়ে হাত ও পা প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে শক্ত ও খসখসে ত্বক কিছুটা নরম হয়ে আসে এবং পরবর্তী পরিচর্যা সহজ হয়।
বিশেষ করে পায়ের গোড়ালির শক্ত ও মৃত ত্বক পরিষ্কার করতে পিউমিস স্টোন বা ফুট ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খুব বেশি চাপ দিয়ে ঘষা উচিত নয়। আলতোভাবে গোড়ালি পরিষ্কার করার পর হাত ও পায়ে স্ক্রাব লাগিয়ে কয়েক মিনিট বৃত্তাকারভাবে হালকা মাসাজ করে সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
জলে ভেজানোর পর নখের চারপাশের কিউটিকলও নরম হয়ে যায়। কিউটিকল পুশার বা পরিষ্কার তোয়ালের সাহায্যে খুব সাবধানে তা পিছনের দিকে সরানো যেতে পারে। কিউটিকল কাটা বা জোর করে সরানো থেকে বিরত থাকাই ভালো, কারণ এতে ত্বকে আঘাত বা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সবশেষে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে হাত ও পা ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর ঘন ময়েশ্চারাইজার, লোশন বা নারকেল তেল ব্যবহার করে কয়েক মিনিট আলতোভাবে মাসাজ করা যেতে পারে। এতে শুষ্ক ত্বক আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং হাত-পা আরও কোমল দেখায়। ময়েশ্চারাইজার ত্বকে শোষিত হওয়ার পর নখে বেস কোট লাগিয়ে পছন্দের নেলপলিশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
এইভাবে বাড়িতে অল্প সময় ও সাধারণ কয়েকটি উপকরণ ব্যবহার করেই ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করা সম্ভব। নিয়মিত হাত-পা পরিষ্কার রাখা এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের অভ্যাস শুষ্কতা ও রুক্ষতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ত্বকে কাটা-ছেঁড়া, ফাটল, সংক্রমণ বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা থাকলে লেবু, স্ক্রাব বা পিউমিস স্টোন ব্যবহার না করাই ভালো।
No Comment! Be the first one.