সকাল সকাল ডেস্ক
নিয়মিত স্কিনকেয়ার করেও যদি কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলে, তাহলে শুধু প্রসাধনী নয়, নজর দিতে হবে দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকেও। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট কিছু ভুল অভ্যাসই ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল করে, ব্রণ বাড়ায় এবং অকালেই বলিরেখার ঝুঁকি তৈরি করে।
১. নোংরা বালিশের ওয়ার ব্যবহার
প্রতিদিন বালিশের ওয়ারে তেল, ঘাম, ধুলো ও ব্যাকটেরিয়া জমে। দীর্ঘ সময় সেই কাপড়ের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকে ব্রণ, জ্বালাভাব ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুইবার বালিশের ওয়ার পরিবর্তন করা উচিত।
২. বারবার মুখে হাত দেওয়া
অজান্তেই অনেকেই বারবার মুখে হাত দেন বা ব্রণ খোঁচান। এতে হাতের জীবাণু ও ময়লা সরাসরি ত্বকের রোমকূপে পৌঁছে প্রদাহ, ব্রণ এবং কালো দাগের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৩. অতিরিক্ত স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েশন
উজ্জ্বল ত্বকের আশায় ঘন ঘন স্ক্রাব বা অ্যাসিডভিত্তিক এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হতে পারে। এর ফলে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, লালচে ভাব ও ব্রণের প্রবণতা বেড়ে যায়।
৪. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মুখ ধোয়া
দিনে বারবার মুখ ধুলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ত্বক আরও বেশি তেল উৎপাদন করতে শুরু করে, যা শুষ্কতা ও ব্রণের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
৫. অতিরিক্ত চিনি খাওয়া
খাদ্যাভ্যাসও ত্বকের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং কোলাজেনের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। ফলে ত্বক দ্রুত নিস্তেজ হয়ে যায় এবং বয়সের ছাপ আগেভাগেই দেখা দিতে পারে।
৬. ঘরেও সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা
অনেকেই মনে করেন, ঘরের ভিতরে থাকলে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু জানালার কাচ ভেদ করে অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে পিগমেন্টেশন, ট্যান এবং অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়ে।
সুস্থ ত্বকের জন্য কী করবেন?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ত্বক পেতে শুধু দামি প্রসাধনী ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজন অনুযায়ী ত্বকের যত্ন নেওয়া এবং প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে ত্বককে সুস্থ, পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
No Comment! Be the first one.