সেউতায় অভিবাসী সংকট তীব্র, ৫৭ জনের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক মাদ্রিদ: মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টার সময় অন্তত ৫৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস সাংবাদিকদের জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় স্থল ও জলপথ ব্যবহার করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। অনেকেই সমুদ্রপথে সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রম করেন। তবে কীভাবে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেউতার সিভিল গার্ডের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রশিদ সাবিহি পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ মানবিক সংকট’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, বহু মানুষ সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া সীমান্তের তারাজাল এলাকায় পদদলিত হয়েও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অভিভাবকহীন শিশু-সহ হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে ভিড় নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে একটি বাস ও একাধিক গাড়ি পুড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়। স্পেন সরকার মনে করছে, সাম্প্রতিক একটি আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে মানবপাচারকারী চক্র বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্তে জড়ো হয়েছে। তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীদের একাংশ এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন সেউতার পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পেনের সীমান্ত সুরক্ষা নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্রান্সও স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অন্যদিকে, সেউতার আঞ্চলিক প্রশাসন জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন নেই। তবে সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত জনবল ও সহায়তা পাঠানো হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভেঙে পড়ল মার্কিন এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন পাইলট
সকাল সকাল ডেস্ক ক্যালিফোর্নিয়া: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন মিরামারে শুক্রবার মার্কিন মেরিন কর্পসের অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। দুর্ঘটনার ঠিক আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর তাতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও জরুরি পরিষেবার দল। মার্কিন সেনাবাহিনী এই ঘটনাকে ‘ক্লাস-এ’ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা সামরিক বিমান দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন মেরিন কর্পস জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি থার্ড মেরিন এয়ারক্রাফট উইং-এর মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ-১১-এর অন্তর্গত ছিল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইলটকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং গুরুতর কোনও আঘাত লাগেনি বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, রানওয়ের পাশে বিমানটির ধ্বংসাবশেষে আগুন জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। বিমানটি ভেঙে পড়ার ফলে আশপাশের ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সান দিয়েগো দমকল বাহিনী বিশেষ অভিযান চালায় এবং ফায়ার রিটার্ডেন্ট ব্যবহার করে আগুন নেভায়। তবে মাটিতে থাকা কোনও ব্যক্তি আহত হননি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এফ-৩৫বি পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান। অল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং উল্লম্বভাবে অবতরণ করার বিশেষ ক্ষমতার জন্য এটি পরিচিত। মূলত মার্কিন মেরিন কর্পস এই যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে। একটি এফ-৩৫বি বিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন মিরামার একসময় মার্কিন নৌবাহিনীর বিখ্যাত ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। ‘ফাইটারটাউন ইউএসএ’ নামেও এই ঘাঁটি পরিচিত। ১৯৯৬ সালে এটি মেরিন কর্পসের অধীনে হস্তান্তর করা হয়। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার নেভাল এয়ার স্টেশন লেমুরের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমানও দুর্ঘটনায় পড়েছিল। সেই ঘটনাতেও পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হলেও বিমানটি একটি কৃষিজমিতে পড়ে আগুনে পুড়ে যায়।
হিন্দু রাষ্ট্র বা রাজতন্ত্রের পক্ষে নয় নেপাল সরকার, স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, কাঠমান্ডু : নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর সরকার দেশে হিন্দু রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা কিংবা রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে নয়। তাঁর বক্তব্য, হিন্দু রাষ্ট্রের প্রশ্নটি রাজতন্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পথে এগোনো দেশের স্বার্থে উপযুক্ত হবে না। শুক্রবার মধেশকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ফেডারেল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বৈঠকে উপস্থিত জনতা সমাজবাদী পার্টির মহাসচিব রামকুমার শর্মার উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকার হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনও পরিকল্পনা করছে না। তাঁর মতে, তরাই-মধেশ অঞ্চলে হিন্দু রাষ্ট্রের দাবির প্রেক্ষাপট যেমন একরকম, পাহাড়ি অঞ্চলে তার ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক তাৎপর্য ভিন্ন। হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্ন সামনে চলে আসবে, যা ফেডারেল কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে। সেই কারণেই সরকার এ ধরনের কোনও পদক্ষেপের পক্ষে নয়। জাতীয় মুক্তি পার্টি নেপালের সভাপতি রাজেন্দ্র মহতো জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে পুনরায় আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি এবং তাঁর দল ফেডারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সরকারের যে সব চুক্তি হয়েছে, সেগুলিও দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু অসাধু শক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের অপচেষ্টা রুখতে সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তরাই-মধেশ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রশমনে সরকার সক্রিয় রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং এ ক্ষেত্রে সব দলের সহযোগিতা কামনা করেন। অন্যদিকে, মধেশকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা বৈঠকে সুনসরি জেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে হওয়া সমঝোতা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে একাধিক চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার যেন সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না করে এবং বাস্তব পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে।
টানা তৃতীয় দিন ঊর্ধ্বমুখী শেয়ার বাজার, একদিনে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ বাড়ল প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েও টানা তৃতীয় দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করল দেশের শেয়ার বাজার। শুক্রবারের লেনদেন শেষে বিএসই সেনসেক্স ১৬৬.৪৯ পয়েন্ট বা ০.২১ শতাংশ এবং এনএসই নিফটি ৬৬.৪৫ পয়েন্ট বা ০.২৭ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়েছে। বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির ফলে একদিনেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে। দিনের শুরুতে সেনসেক্স ৭০.৫১ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৯৯৮.৬৬-এ খুললেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রির চাপে ৭৭,৮০৯.৯৩-এ নেমে যায়। পরে ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচক ঘুরে দাঁড়িয়ে দিনের সর্বোচ্চ ৭৮,২৭২.২৫ পর্যন্ত ওঠে। শেষ পর্যন্ত ১৬৬.৪৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি নিয়ে ৭৮,০৯৪.৬৪-এ লেনদেন শেষ করে। অন্যদিকে, নিফটি ২৪,৩৬১.৪৫-এ লেনদেন শুরু করে। প্রথম দিকে বিক্রির চাপে সূচক ২৪,২৯৯.৭০ পর্যন্ত নেমে গেলেও পরে ক্রয়চাপ বাড়ায় ২৪,৪২৯.৪০-এর উচ্চতায় পৌঁছায়। দিনের শেষে নিফটি ২৪,৩৮৩.৬০ পয়েন্টে বন্ধ হয়। খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্থান দেখা যায় মিডিয়া খাতে। নিফটি মিডিয়া সূচক প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া অটোমোবাইল, তেল ও গ্যাস এবং জ্বালানি খাতেও শক্তিশালী কেনাকাটা দেখা যায়। অটো সূচক ১.৬৪ শতাংশ, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সূচক ১.০১ শতাংশ এবং এনার্জি সূচক ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়। পাশাপাশি ব্যাংকিং, ক্যাপিটাল গুডস, স্বাস্থ্য, ধাতু এবং সরকারি সংস্থার শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে বিক্রির চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। নিফটি আইটি সূচক ১.৫৬ শতাংশ এবং বিএসই টেক সূচক ০.৭৩ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া এফএমসিজি ও কনজিউমার ডিউরেবলস খাতও দিনের শেষে নিম্নমুখী ছিল। বৃহত্তর বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। নিফটির মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ—উভয় সূচকই ০.৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শেষ করেছে। বাজারে এই উত্থানের ফলে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৫.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল ৪৮৪.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ, একদিনেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদে প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। দিনভর লেনদেনে এনএসই-তে মোট ২,৯৮৯টি শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১,৮৪২টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী এবং ১,১৪৭টি শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। সেনসেক্সের ৩০টি শেয়ারের মধ্যে ১৬টি এবং নিফটির ৫০টি শেয়ারের মধ্যে ২৯টি শেয়ার লাভের মুখ দেখেছে। দিনের সেরা লাভকারী শেয়ারগুলির মধ্যে ছিল বাজাজ ফাইন্যান্স (৮.৩২%), বাজাজ ফিনসার্ভ (৬.২৭%), জিও ফিনান্সিয়াল (৩.৮৫%), মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা (৩.৫০%) এবং আদানি পোর্টস (১.৯৫%)। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে টিসিএস (২.৭২%), এটার্নাল (২.৬৪%), ম্যাক্স হেলথকেয়ার (২.৩৪%), ইনফোসিস (২.১৬%) এবং উইপ্রো (১.৪৪%)-এর শেয়ারে।
সিউটায় অভিবাসীদের ঢল, চাপে স্পেনের সীমান্ত নিরাপত্তা; সমুদ্রপথে প্রাণ হারালেন ৯ জন
সকাল সকাল ডেস্ক মরক্কো থেকে স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশে নতুন করে ইউরোপের অভিবাসন সংকট সামনে এল। বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে সিউটায় ঢুকে পড়ায় কার্যত চাপে পড়ে স্পেনের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমুদ্রপথে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিউটার প্রশাসন সীমান্তে সেনা মোতায়েন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে কেবল অভিবাসন পরিস্থিতির কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আইনি সুযোগ নেই বলেও মাদ্রিদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে। সিউটায় দায়িত্বে থাকা স্পেনের সিভিল গার্ড অফিসারদের সংগঠনের প্রধান রশিদ সবিহি জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। তাঁর দাবি, ঠিক কতজন সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব না হলেও কয়েক হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেছেন এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলিও পরিস্থিতিকে ব্যতিক্রমী বলে বর্ণনা করেছে। উত্তর মরক্কোর মানবাধিকার কর্মী আক্রাফ মাইমুনির দাবি, তারাহাল (Tarajal) সীমান্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে খুলে যাওয়ার সুযোগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বহু মানুষ তারাহাল সমুদ্রসৈকতের ব্রেকওয়াটার ঘুরে হেঁটে সিউটায় ঢুকছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই যুবক হলেও নারী, শিশু এবং পরিবার-সহ বহু মানুষও ছিলেন। কয়েকজনকে ‘ভিভা এস্পানা’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়। তবে এত বড় সংখ্যায় মানুষ একযোগে সীমান্ত পার হওয়ার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনার আগের দিনও বহু অভিবাসী সাঁতরে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও, মৃতের সংখ্যা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তে বহু মানুষকে আটকাচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় চলছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য শুক্রবার সিউটা সফরে যাচ্ছেন স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা। অন্যদিকে, সিউটার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই সিউটায় ১,৫০০-র বেশি অভিবাসী প্রবেশ করেছিলেন। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলির ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং বহু মানুষকে অস্থায়ীভাবে খোলা আকাশের নীচে থাকতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মে মাসে মাত্র দু’দিনে আট হাজারেরও বেশি অভিবাসী মরক্কো থেকে সিউটায় প্রবেশ করেছিলেন, যা স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ঘটনার স্মৃতি ফের উসকে দিয়েছে। ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার বহু মানুষের কাছে সিউটা এখনও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওড়িশায় বন্যা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, প্রায় আট লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
সকাল সকাল ডেস্ক, ভুবনেশ্বর : ওড়িশার বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মহানদী অববাহিকার উজানে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসায় সেখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বৈতরণী নদী ও তার শাখা-প্রশাখাকে ঘিরে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে, রাজ্যের ৫৭টি ব্লকের প্রায় আট লক্ষ মানুষ বন্যার প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মহানদী অববাহিকায় জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হীরাকুদ জলাধারের ১২টি স্লুইস গেট খোলা রাখা হয়েছে। জলাধারে জলের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত ১২টি গেট খুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ২ লক্ষ ৬৮ হাজার মানুষ বন্যার জলে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। জাজপুর জেলায় ব্রহ্মাণী, কানি এবং নুয়া মাহারা নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত সাতটি স্থানে জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে দশরথপুর ব্লক থেকে, যেখানে বহু গ্রাম জলমগ্ন হয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
আরও তিনটি দেহ উদ্ধার, ভিওয়ান্ডিতে বহুতল ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯
সকাল সকাল ডেস্ক, ভিওয়ান্ডি : মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে চারতলা একটি আবাসনের একাংশ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই বিপর্যয়ের পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট ৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর নেতৃত্বে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ বালাজি নগর এলাকার ভান্ডারি কম্পাউন্ডে অবস্থিত কোহিনূর ভবনের ‘বি’ উইংয়ের একটি অংশ আচমকাই ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পৌরসভার আধিকারিকদের মতে, চারতলা ওই ভবনে মোট ৪৮টি আবাসিক কক্ষ ছিল, প্রতিটি তলায় ১২টি করে ঘর। ভবনটিকে আগেই বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে মেরামতির কাজ চলছিল। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনের ভিতর থেকে বিকট ফাটল ধরার শব্দ শুনতে পান। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয়রা দ্রুত বহু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সবাই বেরিয়ে আসার আগেই ভবনের ‘বি’ উইংয়ের একটি বড় অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকারী বাহিনী, দমকল এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, মৃত্যু কমপক্ষে ৩২ জনের
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের বালুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন খনিশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আরও ১০ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা তাঁদের কাছে পৌঁছানোর জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। সরকারি খনি পরিদর্শক গনি বালোচ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বালুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠে বিস্ফোরণ হয়। সম্ভবত মিথেন গ্যাসের জন্য এই বিস্ফোরণটি হয়। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পর সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল আরও ২৫ জনের মৃতদেহ খুঁজে পান। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল খনির ভিতরে আটকে পড়া বাকি খনিশ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বালুচিস্তানের খনি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নোশেরওয়ানি বলেছেন, উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, নাগরিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে জোর প্রধানমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে ভারতীয় নাগরিক ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ও সারের সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। জানানো হয়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, রান্নার গ্যাস এবং সারের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাস আমদানির উৎসও আরও বৈচিত্র্যময় করা হয়েছে, যাতে কোনও একটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত অপরিশোধিত খনিজ তেল মজুত থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন রবি মরসুমে কৃষকদের জন্য সারের চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, দেশের কোনও কৃষক যেন সারের অভাবে সমস্যায় না পড়েন এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিরাপত্তা, জরুরি সহায়তা, পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব যাতে ভারতের নাগরিক কিংবা বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের শক্তি নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে সৌরশক্তি-সহ নবায়নযোগ্য এবং অন্যান্য অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব মন্ত্রক ও সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি নির্দেশ দেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং দেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
ওঠানামার পর ঊর্ধ্বমুখী শেয়ার বাজার, বাড়ল সেনসেক্স-নিফটি, তবু বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বই: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা এবং অটোমোবাইল খাতে কেনাকাটা বাড়ার জেরে বৃহস্পতিবার দিনের শেষে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় বন্ধ হল ভারতীয় শেয়ার বাজার। তবে বৃহত্তর বাজারে বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা কমেছে। দিনভর ওঠানামার পর বিএসই সেনসেক্স ২৭৩.৫৫ পয়েন্ট বা ০.৩৫ শতাংশ বেড়ে ৭৭,৯২৮.১৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে এনএসই নিফটি ৬৬.৯৫ পয়েন্ট বা ০.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪,৩১৭.১৫ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শেষ করে। দিনের শুরুতে দুই সূচকই সামান্য দুর্বল ছিল। লেনদেন চলাকালীন সেনসেক্স একসময় ৫৬৫ পয়েন্টের বেশি এবং নিফটি ১৫৫ পয়েন্টের বেশি পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী হলেও পরে লাভের কিছুটা অংশ হারায়। খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে অটোমোবাইল খাত সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিল। নিফটির অটো সূচক ১.৬৩ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, ভোগ্য টেকসই পণ্য, ধাতু, তেল ও গ্যাস এবং সরকারি সংস্থার শেয়ারেও কেনাকাটার প্রবণতা দেখা যায়। অন্যদিকে আবাসন খাতে সবচেয়ে বেশি বিক্রির চাপ ছিল। রিয়েলটি সূচক ২.০১ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া ব্যাঙ্কিং, মূলধনী পণ্য, দ্রুত বিক্রিত ভোগ্যপণ্য এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতও নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। বৃহত্তর বাজারে মিডক্যাপ সূচক ০.৩৫ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ০.৫৬ শতাংশ কমেছে। বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য ৪৮৪.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৮৩.১৩ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ফলে একদিনেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদের মূল্য প্রায় ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা কমেছে। দিনের সেরা লাভকারী শেয়ারের মধ্যে ছিল মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা, কোল ইন্ডিয়া, মারুতি সুজুকি, আইশার মোটরস এবং টেক মহিন্দ্রা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে আদানি পোর্টস, এইচডিএফসি লাইফ, শ্রীরাম ফাইন্যান্স, আল্ট্রাটেক সিমেন্ট এবং জিও ফিনান্সিয়ালের শেয়ারে।