প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়তে পারেন আগরকর, চুক্তি নবীকরণ নিয়ে নীরব বিসিসিআই
সকাল সকাল ডেস্ক ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৪ অক্টোবর তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত চুক্তি নবীকরণ নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। এই পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে আগরকর সরে দাঁড়াতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বুধবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজের দল নির্বাচনের জন্য বৈঠকে বসার কথা নির্বাচক কমিটির। সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচক হিসেবে এটিই আগরকরের শেষ দল নির্বাচন হতে পারে। তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে বোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এখনও কোনও চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন আগরকর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল নির্বাচনের পর তিনি আর চুক্তি নবীকরণের জন্য অপেক্ষা করতে চান না বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকী বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াকে একটি ধন্যবাদসূচক বার্তা পাঠাতে পারেন তিনি। গত তিন বছর জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য সেখানে বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাতে পারেন আগরকর। যদিও আগরকরকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিসিসিআই এখনও প্রকাশ্যে কোনও ঘোষণা করেনি। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হতে চলেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ান ডে এবং পাঁচটি টি-২০ ম্যাচের জন্য ভারতীয় দল নির্বাচনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৬ অক্টোবর থেকে টি-২০ সিরিজ শুরু হওয়ার কথা। এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া দলের একাধিক ক্রিকেটার টি-২০ সিরিজের স্কোয়াডে জায়গা পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নির্বাচকদের বেশি নজর থাকবে ওয়ান ডে দল গঠনের দিকে। ওয়ান ডে দলে বেশ কয়েকজন পরিচিত ক্রিকেটারের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋষভ পন্থ, হার্দিক পাণ্ডিয়া, ঋতুরাজ গায়কোয়াড় এবং রজত পাটিদারের নাম নির্বাচকদের বিবেচনায় থাকতে পারে। চোট কাটিয়ে ফেরা ক্রিকেটারদের ফিটনেস এবং সাম্প্রতিক ফর্মও দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর আগে আগরকর আগামী বছরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে থাকতে পারেন বলে আলোচনা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বোর্ড এবং আগরকরের মধ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়ায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন আগরকর। দল ঘোষণার পর তাঁর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিসিসিআই অথবা আগরকরের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর ভারতীয় ক্রিকেট মহলের।
২০০১-এর পর ইংল্যান্ডের ব্যালন ডি’অর খরা কাটাবেন কেন? লড়াইয়ে এমবাপে-ইয়ামাল
সকাল সকাল ডেস্ক ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর আর কোনও ইংরেজ ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। দীর্ঘ ২৫ বছরের সেই অপেক্ষা কি এবার শেষ হতে চলেছে? ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেনকে ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। তাঁর সঙ্গে লড়াইয়ে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে এবং বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলগত সাফল্য—দুই ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত একটি বছর কাটিয়েছেন কেন। গত ১২ মাসে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোল করার পাশাপাশি ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। অর্থাৎ সরাসরি ৮১টি গোলে অবদান রয়েছে ইংরেজ স্ট্রাইকারের। বায়ার্নের জার্সিতেও একের পর এক সাফল্য এসেছে তাঁর ঝুলিতে। জার্মান লিগ, ডিএফবি পোকাল এবং জার্মান সুপার কাপ জিতে ঘরোয়া ট্রেবল সম্পূর্ণ করেছে বায়ার্ন। বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে টানা তৃতীয়বার সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মান পেয়েছেন কেন। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু-ও তাঁর দখলে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক মরসুমে ১৪টি গোল করে ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে নজির গড়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়েও কেনের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর পা থেকে এসেছে ৬টি গোল। প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে ইংল্যান্ড। ডিএফবি পোকালের ফাইনালে স্টুটগার্টের বিরুদ্ধে বায়ার্নের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে কেনের হ্যাটট্রিকও তাঁর মরসুমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। তবে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কেনকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২টি গোল করেছেন ফরাসি তারকা। লা লিগায় তাঁর গোলসংখ্যা ২৫ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটও জিতেছেন এমবাপে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের তুলনায় দলগত ট্রফির সংখ্যা তাঁর ক্ষেত্রে কম। অন্যদিকে লামিন ইয়ামালের শক্তি মূলত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সঙ্গে দলের একাধিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা। লা লিগায় ১৬টি গোলের পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রায় ২৪টি গোল এবং ২০টির বেশি অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা, কোপা দেল রে ও সুপার কাপ জয়ের সাফল্যও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ফলে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তিন তারকার দাবির ভিত্তি তিন রকম। এমবাপের শক্তি তাঁর বিপুল গোলসংখ্যা, ইয়ামালের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে দলগত সাফল্য। আর কেনের পক্ষে রয়েছে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি একাধিক ট্রফি জয়ের রেকর্ড। একসময় ‘ট্রফিহীন স্ট্রাইকার’ তকমা পাওয়া কেনের কেরিয়ারে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা অবশ্য নির্ধারণ করবেন ভোটদাতারাই। কেন, এমবাপে ও ইয়ামালের পারফরম্যান্স এবং দলগত সাফল্যকে ঘিরে তাই পুরস্কার ঘোষণার আগে আলোচনা আরও বাড়বে। ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর অনুষ্ঠান ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতীয় সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের কথা রয়েছে। টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারের চূড়ান্ত সূচি সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারকারী ও আয়োজকদের ঘোষণার ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
লাইভ সম্প্রচারের মাঝেই ভেঙে পড়ল নিউজ হেলিকপ্টার, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিহত ৩
সকাল সকাল ডেস্ক লস অ্যাঞ্জেলেস: বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে লারলাইন অ্যাভিনিউ ও নর্ডহফ স্ট্রিটের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এলএএফডি) জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি দুটি বাণিজ্যিক ভবনের মাঝের একটি ফাঁকা জায়গায় আছড়ে পড়ে। এরপরই তাতে আগুন ধরে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে কাছাকাছি থাকা দুটি শিপিং কনটেইনার ও কয়েকটি গাড়িতেও। দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্ঘটনাস্থলে চারজনকে পরীক্ষা করেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেসের সম্প্রচার কেন্দ্র এনবিসি৪-এর ‘নিউজকপ্টার৪’। এর আগে চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি বড় বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে হেলিকপ্টারটি সেখানে গিয়েছিল। ওই বাস দুর্ঘটনায় অন্তত দু’জনের মৃত্যু এবং ছয়জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার পর এনবিসি৪-এর সিনিয়র সংবাদ উপস্থাপিকা কলিন উইলিয়ামস লাইভ সম্প্রচারে আবেগঘন কণ্ঠে জানান, তাঁদের দলের সঙ্গে হেলিকপ্টারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরে তাঁরা দুর্ঘটনার দুঃসংবাদ পান। এলএএফডির ক্যাপ্টেন ব্র্যান্ডেন সিলভারম্যান জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ার সময় ঘটনাস্থলের বাইরে থাকা এক ব্যক্তিকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে হেলিকপ্টারের ভিতরে ঠিক কতজন ছিলেন এবং নিহতদের মধ্যে কারা হেলিকপ্টারের আরোহী ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করা যায়নি। হেলিকপ্টারটি কী কারণে ভেঙে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে এলএএফডি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।
সিদ্ধার্থ মালহোত্রার ‘দ্য ভান’-এর রহস্য-রোমাঞ্চে ভরা ট্রেলার মুক্তি
সকাল সকাল ডেস্ক অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ভান—ফোর্স অফ দ্য ফরেস্ট’-এর ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। বালাজি মোশন পিকচার্স এবং দ্য ভাইরাল ফিভারের ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি অতিপ্রাকৃত লোককথা ও পৌরাণিক থ্রিলারের আবহে তৈরি। ছবিতে সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে প্রধান ভূমিকায় দেখা যাবে তামান্না ভাটিয়াকে। পরিচালনায় রয়েছেন দীপক কুমার মিশ্র। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনীল গ্রোভার, মণীশ পল, শ্বেতা তিওয়ারি এবং অপূর্ব সোনি। চলচ্চিত্রের গল্প বিহারে অবস্থিত ষোড়শ শতাব্দীর একটি বনদেবী মন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত লোককথা থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানা গিয়েছে। ট্রেলারে রহস্য, রোমাঞ্চ এবং অতিপ্রাকৃত ঘটনার এক অদ্ভুত জগতের ঝলক তুলে ধরা হয়েছে। সিদ্ধার্থকে এমন এক চরিত্রে দেখা যায়, যে জঙ্গলকে ঘিরে প্রচলিত ভয়ংকর বিশ্বাসকে উপেক্ষা করে সেখানে প্রবেশ করে। এরপরই গ্রামজুড়ে নেমে আসে প্রকৃতির ভয়াবহ প্রভাব এবং একের পর এক রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ট্রেলারে পুনর্জন্ম এবং প্রাচীন কোনও শক্তির সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। তামান্না ভাটিয়াকে দেখা যাবে সিদ্ধার্থের স্ত্রীর চরিত্রে। গল্প যত এগোয়, ততই সামনে আসে জঙ্গলের অজানা রহস্য এবং অতীতের সঙ্গে বর্তমানের যোগসূত্র। নির্মাতাদের আশা, ভারতীয় লোককথা, পৌরাণিক উপাদান এবং অতিপ্রাকৃত রহস্যকে কেন্দ্র করে তৈরি এই চলচ্চিত্র দর্শকদের সামনে এক নতুন ধরনের সিনেমার অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে। ট্রেলারেই ছবির আবহ, রহস্য এবং চমকপ্রদ দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। রহস্য, রোমাঞ্চ এবং অতিপ্রাকৃত উপাদানে ভরপুর ‘দ্য ভান—ফোর্স অফ দ্য ফরেস্ট’ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি আকস্মিক নয়, কৃতিত্ব দেশের পরিশ্রমী মানুষের : নির্মলা সীতারমন
সকাল সকাল ডেস্ক বেঙ্গালুরু : চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি কোনও আকস্মিক ঘটনা বা কাকতালীয় ফল নয় বলে স্পষ্ট জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বুধবার কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সাফল্যের মূল কৃতিত্ব দেশের পরিশ্রমী নাগরিক, শিল্পমহল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি নীতি ও পরিকল্পনা অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করে দেয়। তাঁর কথায়, “নীতি বা সরকারি পরিকল্পনা হলো সেই রেললাইন, যার ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু প্রকৃত অগ্রগতি এনে দিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তারা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে।” বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সীতারমন দেশীয় শিল্পমহলকে আন্তর্জাতিক স্তরের সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় বজায় রাখার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতীয় শিল্পকে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। দেশের অর্থনীতি নিয়ে ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রচারেরও সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু পর্যবেক্ষক এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ প্রায়ই দাবি করে, ভারতে কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। সীতারমনের বক্তব্য, দেশের কোনও কোনও ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকতেই পারে এবং সেই সমস্যাগুলি সম্মিলিতভাবে চিহ্নিত করে সমাধান করা প্রয়োজন। কিন্তু দেশে যেন কোনও ইতিবাচক পরিবর্তনই ঘটছে না— এমন ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রচার উদ্বেগজনক। সীতারমন আরও বলেন, গত বছর কর সংস্কারের মাধ্যমে করের হার কমানো হলেও দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং দেশের মানুষের পরিশ্রম এবং উদ্যোগের জোরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী জিএসটি আদায়ের ক্ষেত্রে। অর্থমন্ত্রী আরও দাবি করেন, তৃতীয়বারের জন্য নির্বাচিত স্থিতিশীল সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করনীতিতে আনা নিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে নানা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও নীতিগত স্থিরতা এবং দেশের মানুষের পরিশ্রম ভারতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সরাফা বাজারে সোনার ঔজ্জ্বল্য কমল, রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন নেই
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি। দেশের সরাফা বাজারে বুধবার প্রাথমিক লেনদেনে সোনার দামে দুর্বলতার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। দাম কমার ফলে দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম সোনা ৮৫০ টাকা থেকে ৯২০ টাকা পর্যন্ত সস্তা হয়েছে। অন্যদিকে, টানা তৃতীয় দিনের মতো রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। মঙ্গলবারের দামেই বুধবার প্রাথমিক লেনদেনে রুপো কেনাবেচা হচ্ছে। দাম কমার পর দেশের অধিকাংশ সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। রুপোর দামে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় দিল্লির সরাফা বাজারে প্রতি কিলোগ্রাম রুপো ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪০ টাকা। দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরো দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৪০ টাকা। চেন্নাইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতাতেও ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২১০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৪০ টাকা। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২১০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লখনউয়ের সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা এবং ওড়িশার সরাফা বাজারেও বুধবার সোনার দাম নিম্নমুখী রয়েছে। এই তিন রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। একইভাবে এই তিন শহরে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সেহওয়াগের সতীর্থ থেকে শুটিং তারকা, ৫০-এ এশিয়াডের মঞ্চে মৈরাজ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি: একসময় স্বপ্ন ছিল বাইশ গজে নজির গড়ার। হাতে থাকত ক্রিকেট ব্যাট। তিন দশক পর সেই স্বপ্ন অন্য পথে বাস্তব হয়েছে। ব্যাটের জায়গায় হাতে উঠেছে শটগান। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের খুরজা থেকে ভারতীয় শুটিংয়ের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা মৈরাজ আহমেদ খান এবার আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নামতে চলেছেন। ৫০ বছর বয়সি মৈরাজ ভারতীয় দলের দ্বিতীয় প্রবীণতম অ্যাথলিট। এটি তাঁর চতুর্থ এশিয়াড। মৈরাজের ক্রীড়াজীবনের শুরু ক্রিকেট দিয়ে। বাঁহাতি টপ-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে তিন নম্বরে নামতেন। সিকে নাইডু ও বিনু মাঁকড় ট্রফিতে উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তরুণ বীরেন্দ্র সেহওয়াগের সঙ্গে নেটে অনুশীলন করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তবে বন্দুকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল আরও ছোটবেলায়। স্থানীয় একটি শুটিং প্রতিযোগিতা জিতে একবার ৩০ টাকা পুরস্কার পেয়েছিলেন মৈরাজ। মজার বিষয়, সেই টাকা দিয়েই কিনেছিলেন ক্রিকেট ব্যাট। পরে দিল্লিতে এসে এক আত্মীয়ের হাত ধরে কার্নি সিং শুটিং রেঞ্জে যান। সেখানে দেশের নামী শুটারদের কাছ থেকে দেখে শুটিংয়ের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে। কয়েক বছর ট্র্যাপ ও স্কিট—দুই বিভাগেই অনুশীলন করেন মৈরাজ। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় ১৯৯৯ সালে চেন্নাইয়ের একটি প্রতিযোগিতায়। রঞ্জন সোধির বিরুদ্ধে স্কিট শুট-অফে জয় তাঁকে নতুন পথ দেখায়। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ট্র্যাপ ছেড়ে পুরোপুরি স্কিটকেই বেছে নেন তিনি। মৈরাজের কথায়, তাঁর নাম, পরিচিতি ও সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এই স্কিটই। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে স্কিটে যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়েছিলেন মৈরাজ। এই বিভাগে অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনকারী প্রথম ভারতীয় শুটার হয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপেও সোনা ও রুপো জিতেছেন। তবে ২০১৮ সালের জাকার্তা এবং হাংঝাউ এশিয়ান গেমসে অল্পের জন্য সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার হতাশা এখনও তাঁর মনে রয়েছে। এবার ফের এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়ামঞ্চে নামার সুযোগ এসেছে। ২০০৬ ও ২০১৪ সালের পর আবার এশিয়াডে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মৈরাজ। বয়স ৫০ ছুঁলেও কোনও বাড়তি চাপ নিতে নারাজ অভিজ্ঞ শুটার। নতুন প্রতিযোগীর মতোই শুরু করতে চান তিনি। এবারের ভারতীয় দলে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার বৈপরীত্যও নজরকাড়া। দলের অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে মৈরাজের বয়সের ব্যবধান প্রায় ৩৫ বছর। তা নিয়েও রসিকতা করতে ছাড়ছেন না তিনি। মৈরাজের কথায়, ‘পঞ্চাশই এখন কুড়ি। ওর বয়স আছে, আমার অভিজ্ঞতা।’ তরুণ বৈভবের জেদের পাশে নিজের প্রজ্ঞাকে রেখেই এশিয়াডের নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ভারতীয় শুটিংয়ের এই বর্ষীয়ান তারকা।
জেলাশাসকদের চিঠিতে অনিশ্চিত সিএবি নির্বাচন, আইনি পরামর্শ নেবেন সৌরভ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের বার্ষিক সাধারণ সভা ও আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। সচিব, যুগ্মসচিব এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি সদস্য পদে নির্বাচনের সূচি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের একাধিক জেলাশাসকের পাঠানো চিঠির জেরে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াই এখন প্রশ্নের মুখে। পরিস্থিতি নিয়ে আগামী দু’দিনের মধ্যে আইনি পরামর্শ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আগামী বুধবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার ঠিক আগে জেলাশাসকদের চিঠি আসায় নির্বাচন নির্ধারিত সূচিতে হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। মূল বিতর্ক ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের অংশগ্রহণ এবং সংস্থায় কোনও কর্মকর্তার টানা ন’বছরের মেয়াদ সংক্রান্ত বিধি নিয়ে। সৌরভ জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের কাছ থেকে চিঠি এসেছে। আগেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। চিঠিতে সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিএবি সভাপতি। লোধা কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি বিসিসিআইয়ের সংবিধানের সঙ্গে সিএবি-র নিজস্ব নিয়মাবলীর কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাগত পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি। সেই অস্পষ্টতা দূর না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে রাজ্যের ১৮টি জেলার মধ্যে অন্তত ছ’জন জেলাশাসক সিএবি-কে চিঠি দিয়েছেন। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ময়দান সূত্রে খবর। জেলাশাসকদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ৭০ বছরের বেশি বয়সি কোনও ব্যক্তি সিএবি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে পদে থেকে ন’বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা আধিকারিকদের ভোটাধিকার নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। তবে সৌরভের বক্তব্য, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা এবং বিসিসিআইয়ের নিয়ম এক নয়। দু’টি সংস্থার পৃথক সংবিধান রয়েছে। ফলে বিষয়টির নিষ্পত্তি আইনি পথেই করা হবে। জেলাশাসকদের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন সিএবি সচিব বাবলু কোলে। তাঁর দাবি, সিএবি-র নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী ৭০ বছরের বেশি বয়সি কিংবা ন’বছর দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা কর্মকর্তা বা পদপ্রার্থী হতে পারবেন না ঠিকই, কিন্তু তাঁদের ভোটার হওয়া বা ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা নেই। সংস্থার গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না বলেই তাঁর মত। মাসখানেক আগে সিএবি-র জরুরি সাধারণ সভাতেও একই বিতর্কের জেরে যুগ্মসচিব পদের নির্বাচন স্থগিত রাখতে হয়েছিল। সেবারও একাধিক জেলাশাসকের চিঠির পর থমকে যায় ভোটপ্রক্রিয়া। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভা হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই দিন আদৌ নির্বাচন হবে কি না, তা নির্ভর করছে আইনি পরামর্শ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।
ভারতীয় ক্রিকেটের খোলনলচে বদলাতে সচিন-সৌরভদের চান গাভাসকর
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ভারতীয় ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামোয় বদল আনতে এবার কিংবদন্তি প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন সুনীল গাভাসকর। তাঁর প্রস্তাব, বিসিসিআইয়ের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটির কাজের পরিধি বাড়িয়ে সেখানে সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রাহুল দ্রাবিড়দের মতো প্রাক্তনদের যুক্ত করা হোক। শুধু জাতীয় দলের কোচ বা নির্বাচক বাছাই নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো থেকে আন্তর্জাতিক সূচি—ভারতীয় ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে এই কমিটির মতামত নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। সম্প্রতি দলীপ ট্রফির ফাইনাল ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়ম নিয়ে। ঈশান কিষাণের নেতৃত্বাধীন ইস্ট জোন প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে খেতাব জেতে। ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরিবর্তে প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতে খেতাব নির্ধারণের এই নিয়মে সন্তুষ্ট নন গাভাসকর। তাঁর মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটের এমন ত্রুটিগুলি চিহ্নিত করে নিয়মে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটির সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত। ২০২২ সালে অশোক মালহোত্রা, যতীন পরাঞ্জপে এবং সুলক্ষণা নায়েককে নিয়ে তিন সদস্যের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছিল বিসিসিআই। মূলত জাতীয় দলের কোচ ও নির্বাচক বাছাইয়ের দায়িত্ব ছিল তাদের উপর। গাভাসকর চাইছেন, এবার সেই কমিটির দায়িত্ব আরও বাড়ানো হোক। নিজের কলামে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক লিখেছেন, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত বিষয় এই কমিটির নজরে থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটে এমন অনেক অভিজ্ঞ প্রাক্তন রয়েছেন, যাঁদের দক্ষতা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাজে লাগানো যেতে পারে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রবি শাস্ত্রী, অনিল কুম্বলে, হরভজন সিং এবং বীরেন্দ্র সেহওয়াগের নাম উল্লেখ করেছেন গাভাসকর। তাঁর প্রস্তাব, বিসিসিআই সভাপতি ও সচিবও এই কমিটির অংশ হোন। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক ক্ষমতার পাশাপাশি ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোকেও আরও পেশাদার করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর মত। গাভাসকরের মতে, দ্রাবিড় বা সচিনের মতো কিংবদন্তিরা যখন জাতীয় দলের প্রধান কোচ, অধিনায়ক কিংবা জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, তখন সেই বৈঠকের গুরুত্বই হবে আলাদা। একইভাবে মহিলা ক্রিকেটের জন্যও অভিজ্ঞ প্রাক্তনদের নিয়ে শক্তিশালী কমিটি গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে এমন প্রস্তাব আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে গাভাসকরের। তাঁর কথায়, এমন একটি কমিটির কথা ভাবলেই রোমাঞ্চ হয়। কিন্তু সেটি কোনও দিন বাস্তবে রূপ নেবে, নাকি শুধুই স্বপ্ন হয়ে থাকবে—সেই প্রশ্নও তুলেছেন ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার।
আফগান সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন বরুণ, এশিয়ান গেমসেও অনিশ্চিত
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে নামার আগে বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে। চোটের কারণে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। বিসিসিআইয়ের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, পার্শ্বিক টানের কারণে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আর খেলতে পারবেন না বরুণ। শুধু চলতি সিরিজই নয়, আসন্ন এশিয়ান গেমসে তাঁর খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন বরুণ। সেই চোট সারিয়ে আফগানিস্তান সিরিজে ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। রবিবার নয়াদিল্লিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে চার ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে একটি উইকেটও নিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন করে চোট পাওয়ায় তাঁর সিরিজ সেখানেই শেষ হয়ে গেল। এখনও পর্যন্ত বরুণের পরিবর্ত হিসেবে কোনও ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করা হয়নি। বোর্ড সূত্রের খবর, এমআরআই রিপোর্টে বরুণের পার্শ্বিক টান ধরা পড়েছে। ফলে আফগানিস্তান সিরিজের পাশাপাশি এশিয়ান গেমসেও তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়ান গেমস শুরু হলেও পুরুষদের ক্রিকেট শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। ভারত প্রথম ম্যাচ খেলবে ২৮ সেপ্টেম্বর। তার আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ খেলার কথা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ভারতীয় ক্রিকেটারদের একের পর এক চোটের ঘটনায় বেঙ্গালুরুতে বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্রের ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি চোট কাটিয়ে জসপ্রীত বুমরা, নীতীশ কুমার রেড্ডি ও ওয়াশিংটন সুন্দর ভারতীয় দলে ফিরেছেন। অন্যদিকে আফগানিস্তান সিরিজের প্রাথমিক দলে থাকলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারায় ছিটকে গিয়েছেন পেসার হর্ষিত রানা। তাঁর পরিবর্তে যশ ঠাকুরকে দলে নিয়েছে বিসিসিআই। এশিয়ান গেমসের দলেও হর্ষিতের নাম থাকায় তাঁকে জাপানে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এদিকে প্রথম ম্যাচে সাত উইকেটের বড় জয়ের পর মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত। প্রথম টি-২০-তে অভিষেক শর্মার ৩২ বলে বিধ্বংসী ৮২ রানের সুবাদে আফগানিস্তানের দেওয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারে পেরিয়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া।