টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগ রাশিয়ার, ১৫ বছরের কারাদণ্ডের আশঙ্কা
সকাল সকাল ডেস্ক মস্কো: জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের গুরুতর অভিযোগ এনেছে রাশিয়া। দেশটির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি-র দাবি, টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে এবং তরুণদের উসকানি দিচ্ছে। এফএসবি-র অভিযোগ, টেলিগ্রামের কিছু প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের লক্ষ্য করে নিয়োগ, যোগাযোগ ও হামলার পরিকল্পনা পরিচালিত হয়েছে। সংস্থার দাবি, এসব কার্যকলাপের ফলে প্রাণহানি এবং বিপুল সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়ার তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, ‘ডাইভিংচিক’ নামে একটি পরিষেবার মাধ্যমে ভুয়ো পরিচয়ে রুশ তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হতো। পরে তাঁদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করা হয় বলে অভিযোগ। এফএসবি-র দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে দেশের ১৬টি অঞ্চল থেকে এ ধরনের অভিযোগে ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাশিয়ার দণ্ডবিধির ২০৫.১ ধারায় সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাভেল দুরোভের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে বলে রুশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাভেল দুরোভ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, টেলিগ্রামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং প্ল্যাটফর্মটিতে সেন্সরশিপ আরোপের উদ্দেশ্যেই রাশিয়া এই অভিযোগ তুলছে। তিনি বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রাশিয়া ছেড়ে দেশত্যাগ করেন পাভেল দুরোভ। বর্তমানে তিনি ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া নিজস্ব মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি টেলিগ্রামের কিছু পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপেও টেলিগ্রামকে ঘিরে বিভিন্ন তদন্ত চলায় সংস্থাটি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে। রাশিয়ার অভিযোগের বিষয়ে এখনও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ইউক্রেনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেল ‘রামায়ণ’-এর প্রতীক্ষিত ট্রেলার
সকাল সকাল ডেস্ক, বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হল পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির মহাকাব্যভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ: প্রথম পর্ব’-এর সরকারি ট্রেলার। ভারতীয় পুরাণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাহিনিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহৎ পর্দায় তুলে ধরার এই প্রয়াস ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রযোজক নমিত মালহোত্রার প্রাইম ফোকাস স্টুডিওস, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভিএফএক্স সংস্থা ডিএনইজি এবং যশের মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটির ট্রেলার হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম-সহ একাধিক ভারতীয় ভাষায় একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। ছবিটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে সনি পিকচার্স, আর উত্তর ভারতে মুক্তির দায়িত্ব সামলাবে ধর্মা প্রোডাকশনস। আগামী দীপাবলিতে বিশ্বের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই দুই পর্বের চলচ্চিত্রের প্রথম অংশ। এই ছবিতে ভগবান রামের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, সীতার চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী এবং রাবণের চরিত্রে দেখা যাবে যশকে। এছাড়া রাজা দশরথের ভূমিকায় অরুণ গোভিল, লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবে, কৈকেয়ীর ভূমিকায় শোভনা, ঋষি বিশ্বামিত্রের চরিত্রে আজিঙ্কা দেব, দেবরাজ ইন্দ্রের ভূমিকায় কুণাল কাপুর এবং শূর্পণখার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাকুল প্রীত সিং। চলচ্চিত্রের কাহিনিতে অযোধ্যা থেকে বনবাস, সীতাহরণ, ধর্ম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাবণের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ—সমস্ত ঘটনাই আধুনিক প্রযুক্তি ও দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চিত্রনাট্য লিখেছেন শ্রীধর রাঘবন। সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অস্কারজয়ী হান্স জিমার এবং এ. আর. রহমান। প্রযোজক নমিত মালহোত্রা বলেন, ‘রামায়ণ’ শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বের দর্শকদের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি আন্তরিক প্রয়াস। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির কথায়, এই কালজয়ী মহাকাব্যকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সঙ্গে পর্দায় উপস্থাপন করাই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁর আশা, ছবিটি আবেগ, নির্মাণশৈলী এবং বিশ্বমানের উপস্থাপনার মাধ্যমে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও সমানভাবে আকৃষ্ট করবে।
বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদ চত্বরে বিরোধীদের বিক্ষোভ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টি
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : বাদল অধিবেশন চলাকালীন বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হল বিরোধী দলগুলি। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রামমন্দিরে দান সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তাঁর সঙ্গে দলের আরও বহু সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে পেলেট গানের ব্যবহারকে তাঁরা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেসের সাংসদ কে. সি. বেনুগোপাল প্রশ্ন তোলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতাকেও সংসদে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবলও একই ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই পেলেট গানের ব্যবহার হয়ে থাকে এবং তার জেরে মানুষ আহত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায় কার, তা দেশের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পেলেট ব্যবহারের কথা অস্বীকার করা হলেও পরে আহতদের শরীরে তার প্রমাণ মিলেছে। এত বড় ঘটনার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাহুল গান্ধীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সিবল বলেন, বিরোধী দলনেতা যে বিষয়গুলি উত্থাপন করেছেন, তা আহত ছাত্রদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রছাত্রী এবং মহিলাদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে এলেও সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংসদ চত্বরে আলাদা বিক্ষোভ দেখান। ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ সংবিধানসম্মত অধিকারকে খর্ব করেছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্য ব্যাখ্যার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ সংশোধনী বিল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আনা সংশোধনী বিল লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল বুধবার নিম্নকক্ষে অনুমোদন পায়। বৃহস্পতিবার বিলটি রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হবে। সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও বিক্ষোভের আবহ তৈরি হয়। দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের আন্দোলন কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ায়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন প্রহ্লাদ জোশী। এরপরই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করতে সংশোধনী বিল সংসদে আনা হয়। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। তবে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে সেদিন একাধিকবার অধিবেশন মুলতুবি হওয়ায় বিল নিয়ে আলোচনা এগোয়নি। মঙ্গলবার থেকে বিলের ওপর বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয় এবং বুধবার তা ধ্বনিভোটে গৃহীত হয়। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষা পরিচালনা এবং সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। রাহুলের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি অভিযোগ করেন, প্রমাণ ছাড়া গুরুতর মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং এ ধরনের বক্তব্যের জন্য বিরোধী দলনেতার ক্ষমা চাওয়া উচিত। এ নিয়ে লোকসভায় শাসক ও বিরোধী সদস্যদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে স্পিকার স্পষ্ট করে দেন, কোনও ঘটনার তদন্ত দাবি করা যেতে পারে, তবে প্রমাণ ছাড়া নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা সংসদের নিয়মের পরিপন্থী। এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সংশোধনী বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় নানা ঘাটতি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; কার্যকর তদন্ত ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রথম আইন প্রণয়ন করা হলেও পরবর্তী সময়ে একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সংশোধনীতে শাস্তি ও জরিমানার বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার হবে।
প্রায় ছয় দশকের সশস্ত্র হিংসার অবসান, ভারত এখন নকশাল-মুক্ত: সংসদে জানাল কেন্দ্র
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের নকশাল হিংসার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ভারত এখন সম্পূর্ণ নকশাল-মুক্ত বলে বুধবার সংসদে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানান, এক সময় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির অন্যতম ছিল নকশাল সমস্যা। তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগ এবং নকশাল দমনে ২০১৫ সালের জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ফলে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে দেশের কোনও জেলাকেই আর নকশাল-কবলিত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে যেখানে ১২৬টি জেলা নকশাল-কবলিত হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল, সেখানে ২০২১ সালের জুলাইয়ে সেই সংখ্যা নেমে আসে ৭০-এ। পরে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তা কমে হয় ৩৮ এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ মাত্র ৮টি জেলা ওই তালিকায় ছিল। ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ সেই সংখ্যাও শূন্যে নেমে এসেছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৩৭টি জেলাকে ‘লেগ্যাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জেলাগুলিকে আর নকশাল-প্রভাবিত বলা না হলেও, সেখানে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কেন্দ্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া একটি জেলাকে ‘ডিস্ট্রিক্ট অফ কনসার্ন’ বা বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিস্তার এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বিত পদক্ষেপের ফলেই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় নকশাল কার্যকলাপ কার্যত নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সাফল্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং দীর্ঘদিনের একটি বড় নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জের অবসান ঘটিয়েছে।
অসমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবুও সাত জেলায় জলবন্দি তিন লক্ষাধিক মানুষ
জল কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কাটেনি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে। সকাল সকাল ডেস্ক অসমে বন্যার জল ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রাজ্যের সাতটি জেলায় এখনও তিন লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জন মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে শিবসাগর জেলায় আরও সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। জল নামতে শুরু করলেও বহু পরিবার এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শিবসাগর, গোলাঘাট, চড়াইদেও, যোরহাট, নগাঁও, শোণিতপুর এবং কামরূপ (মহানগর) জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বন্যাকবলিত। মোট ২১টি রাজস্ব চক্রের ৬২২টি গ্রাম এখনও জলের নিচে রয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ৩৪২ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জল কমলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বহু রাস্তা, বিদ্যালয় এবং সরকারি ভবন এখনও কাদা ও পলিতে ভরে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উজান অসমের চারটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যাও এই এলাকাগুলিতেই বেশি। শিবসাগরের নাজিরা এলাকায় এখনও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের খোঁজে উদ্ধারকারী দল নিরন্তর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান না মিললে সরকারি নিয়ম মেনে তাঁদের মৃত ঘোষণা করে পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হবে। নতুন সমস্যার মুখে দুর্গত মানুষ বন্যার জল নামার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বহু বাড়ি, বিদ্যালয় ও অন্যান্য ভবনের ভিতরে হাঁটুসমান পলি জমে রয়েছে। অনেক বাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে বহু পরিবার এখনও ত্রাণশিবিরেই অবস্থান করছে। পানীয় জল, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন বর্তমানে ৮১টি ত্রাণশিবির এবং ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। মোট ১১৫টি কেন্দ্রের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন ত্রাণশিবিরে বর্তমানে ৩২ হাজার ৪৭৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া আরও ১৬ হাজার ৩১৪ জন মানুষ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়ার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা, জেলা প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা একযোগে কাজ করছেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ দেখুন ১২৫টি চিকিৎসক দল দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে। উদ্ধারকাজে ২১টি নৌকা নিয়োজিত রয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধনশিরি নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। তবে পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল: ভূপেন্দ্র যাদব
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন নয়াদিল্লির ইন্দিরা পরিবেশ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত বারো বছরে দেশে বাঘের সংখ্যা যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে বাঘ সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত অভয়ারণ্যের সংখ্যাও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভূপেন্দ্র যাদব বিদ্যালয়-স্তরের চিত্রাঙ্কন ও মুখোশ নির্মাণ প্রতিযোগিতার বিজয়ী পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রতিযোগীদের শিল্পকর্ম ও ভাবনায় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা উঠে এসেছে বলে তিনি প্রশংসা করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ শুধু পরিসংখ্যান বা সরকারি উদ্যোগের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের আবেগ, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ। তিনি সকলকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। ভূপেন্দ্র যাদবের মতে, বাঘ সংরক্ষণে ভারতের সাফল্য বিশ্বের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ, বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের ফলে দেশে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ঘাঁটিতে মার্কিন-সৌদি যৌথ হামলা
সকাল সকাল ডেস্ক বাগদাদ: ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স (পিএমএফ)-এর একাধিক ঘাঁটিতে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। গত ৩০ দিনের মধ্যে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, অভিযানের আগে ইরান জর্ডনে অবস্থিত তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ও সৌদি বাহিনীর হামলার পর ইরাকের উত্তরাঞ্চলের নিনেভেহ এবং দক্ষিণাঞ্চলের বসরা প্রদেশের একাধিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বসরায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়। পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় ইরাকজুড়ে তাদের একাধিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। নিনেভেহ প্রদেশে অন্তত আট জন নিহত এবং চার জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে হুথিদের দাবি, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত। উল্লেখ্য, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স ইরাকের একটি সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী। ২০১৪ সালের ১৫ জুন ইরান-সমর্থিত একাধিক শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে একত্রিত করে এই বাহিনী গঠন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীটি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলেও, বাস্তবে এর উপর ইরানের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করা হয়ে আসছে।
পিওকে-তে জনরোষ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রত্যক্ষ নিদর্শন : রণধীর জয়সওয়াল
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচন করানো ওই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অবৈধ কার্যকলাপ চালানোর সুবিধার্থে নেওয়া এক ছদ্ম পদক্ষেপ বলে ভারত উল্লেখ করেছে। নতুন দিল্লিতে মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে যে জনরোষ গড়ে উঠেছে তা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রত্যক্ষ নিদর্শন। ওই এলাকায় মানুষের প্রাথমিক অধিকার যে প্রশাসনিক চাপে লঙ্ঘিত হচ্ছে, তা বিক্ষোভ থেকেই প্রমাণিত। রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “আমরা সবাই জানি, পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে আসছে। ভারতের জনগণ—যার মধ্যে ‘জেন জি’-এর তরুণরাও রয়েছেন—দাবি জানিয়ে আসছেন, পাকিস্তানের মদতপুষ্ট এই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটাতেই হবে। আমরা আশা করি, ওপার থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।”
রাষ্ট্রপতি হিসেবে চার বছর পূর্তি, ‘ই-উপহার’-এর তৃতীয় সংস্করণের উদ্বোধন দ্রৌপদী মুর্মুর
সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার ‘ই-উপহার’-এর তৃতীয় সংস্করণের উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই সংস্করণে রাষ্ট্রপতির প্রাপ্ত ৩০০টি নির্বাচিত উপহার জনসাধারণের জন্য নিলামে তোলা হবে। আগামী ৫ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অনলাইন নিলাম চলবে। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপ-রাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন রাষ্ট্রপতির চার বছরের কার্যকালকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত একাধিক গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সেগুলোর প্রথম কপি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. এল. মুরুগান। এদিন যে প্রকাশনাগুলোর উদ্বোধন করা হয়, সেগুলির মধ্যে রয়েছে— ‘রাষ্ট্রপতি ভবন: রাষ্ট্র কা ভবন’, ‘সেবা অউর সংবেদনা’, ‘সমাবেশী সহভাগিতা’, ‘ভারতীয়তা কা উৎসব’ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবন্ধ সংকলনের ওড়িয়া সংস্করণ ‘আমা রাষ্ট্রপতি – আমা গৌরব’। অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই সচিত্র প্রকাশনাগুলি পাঠকদের রাষ্ট্রপতি ভবনের ঐতিহ্য, কর্মকাণ্ড ও বহুমাত্রিক ভূমিকা সম্পর্কে আরও সম্যক ধারণা দেবে। তাঁর মতে, এই গ্রন্থগুলির প্রকৃত গুরুত্ব শুধু তথ্য উপস্থাপনায় নয়, বরং দেশের ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের গর্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগানোর মধ্যেই নিহিত।