ভারতীয় সংস্থার কাছ থেকে গোলাবারুদ কেনা নিয়ে বিতর্ক, পদত্যাগ এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক তালিন: ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে গোলাবারুদ কেনার চুক্তি ঘিরে বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেছেন এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানো পেভকুর। প্রায় ৭ কোটি ইউরোর ওই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সরবরাহ করা গোলাবারুদের মান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এস্তোনিয়ার রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না—এমন একটি ভারতীয় সংস্থার কাছ থেকে কামানের গোলাবারুদ কেনার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছিলেন পেভকুর। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উত্তর ইউরোপের বাল্টিক রাষ্ট্র এস্তোনিয়ায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিতর্কের কেন্দ্রে মূলত দুটি অভিযোগ রয়েছে। প্রথমত, সরবরাহ করা গোলাবারুদের মান প্রত্যাশিত পর্যায়ের ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ গোলাবারুদ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। পেভকুরের পদত্যাগের পর এস্তোনিয়ার সরকারি সম্প্রচার সংস্থা ইআরআর এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি বিতর্ককে ‘প্রতিরক্ষা ক্রয় কেলেঙ্কারি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও পেভকুর দাবি করেছেন, এই ঘটনার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নন। বিতর্কিত চুক্তির সঙ্গে ভারতের পাশাপাশি একটি ইতালীয় সংস্থার নামও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই চুক্তির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ডেটাসেল’ নামে একটি ছোট ইতালীয় সংস্থা। সংস্থাটি ভারতের নেকো গ্রুপের মালিকানাধীন বলে জানা গিয়েছে। নাগপুরের জয়স্বাল পরিবারের সঙ্গে ওই শিল্পগোষ্ঠীর যোগ রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এস্তোনিয়াকে সরবরাহ করা গোলাবারুদ সরাসরি ভারতে তৈরি হয়েছিল, নাকি সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী সংস্থা অন্য কোনও দেশ থেকে তা সংগ্রহ করে এস্তোনিয়ায় পাঠিয়েছিল—সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে গোলাবারুদের উৎপত্তি এবং সম্পূর্ণ সরবরাহ-শৃঙ্খল নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ঘটনাটি ভারতের কয়েক দশক আগের বফর্স বিতর্কের স্মৃতিও উস্কে দিয়েছে। সুইডিশ সংস্থা বফর্সের কাছ থেকে কামান কেনার চুক্তিতে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আশির দশকের শেষদিকে ভারতে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং রাজীব গান্ধী সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। যদিও বফর্স বিতর্ক এবং বর্তমান এস্তোনিয়ার গোলাবারুদ ক্রয় সংক্রান্ত ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ সম্পূর্ণ আলাদা। এস্তোনিয়ার বর্তমান বিতর্কে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া, গোলাবারুদের গুণমান এবং সরবরাহকারী সংস্থা নির্বাচনের পদ্ধতির উপর। তদন্ত ও সরকারি পর্যালোচনায় কী তথ্য সামনে আসে, তার উপরই নির্ভর করবে এই প্রতিরক্ষা ক্রয় বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ।
হরমুজে আমেরিকার সমর্থনে সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে দক্ষিণ কোরিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক সিওল, ৪ সেপ্টেম্বর: হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে আমেরিকাকে সহায়তার জন্য সেখানে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ‘দ্য কোরিয়া হেরাল্ড’-এর শুক্রবারের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতর চিয়ং ওয়া দে-র এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ওই আধিকারিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জানান, কোরীয় উপদ্বীপে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করেই সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেটিবিসি জানিয়েছিল, দক্ষিণ কোরিয়া সরকার হরমুজ প্রণালীতে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এমনকী, সেনা মোতায়েনের অনুমোদন চেয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে প্রস্তাব পেশ করতেও বেশি সময় লাগবে না বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্টের দফতরের ওই আধিকারিক জানান, সরকার এখনও কোনও নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ সামুদ্রিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া বাস্তব ও সামরিক অবদান রাখবে বলে সিওলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। আধিকারিক বলেন, “এখনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমরা সমস্ত বিকল্প বিবেচনা করছি।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সংঘাতের পরিস্থিতিতেও আমেরিকার পাশে দাঁড়াতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালীতে দক্ষিণ কোরিয়ার যে কোনও ধরনের ‘বাস্তব অবদান’-এর আগে কোরীয় উপদ্বীপে দেশের সামরিক প্রস্তুতির উপর তার সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, “কোরীয় উপদ্বীপে আমাদের সামরিক প্রস্তুতির বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমাদের ধারণা, এই পদক্ষেপের ফলে যদি কোরীয় উপদ্বীপে আমাদের সামরিক প্রস্তুতির উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব না পড়ে, তাহলে কিছুটা সুযোগ থাকতে পারে।” তবে সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ আইনও বিবেচনায় রাখতে হবে। দেশটির সংবিধানের ৬০ নম্বর অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে বিদেশে মোতায়েনের জন্য ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সম্মতি প্রয়োজন। ওই আধিকারিক বলেন, “অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া বলতে শেষ পর্যন্ত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের সম্মতি নেওয়াকেই বোঝায়। আমরা এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।” কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো ডু জিন-হো মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য ও সামরিক জোট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধা পাওয়ার কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে সিওল। ডু বলেন, “এই মুহূর্তে কেন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে? মনে হচ্ছে, সরকার মনে করছে কোনও ধরনের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। আমার ধারণা, জোটে আরও বেশি অবদান রাখার বার্তা দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে বর্তমান জটিলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে সরকার।” শুক্রবার প্রেসিডেন্টের দফতরের ওই উচ্চপদস্থ আধিকারিকও স্বীকার করেন, বছরের শুরুতে কিছুটা অগ্রগতি হলেও দুই দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা ফের জটিলতার মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, “মে মাসের কাছাকাছি সময়ে আলোচনা আবার সঠিক পথে ফিরেছিল এবং কিছু অগ্রগতিও হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আবার কঠিন হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকটি বিষয় জড়িত রয়েছে।” চিয়ং ওয়া দে আগেই স্বীকার করেছিল, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা কার্যত থমকে ছিল। এর অন্যতম কারণ ছিল আমেরিকায় নথিভুক্ত ই-কমার্স সংস্থা কুপ্যাং-কে ঘিরে বড় ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার তদন্ত থেকে তৈরি হওয়া উত্তেজনা। মে মাস নাগাদ দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ফের শুরু হয়। এরপর জুনের শুরুতে পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিধান নিয়ে উভয় পক্ষ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করে।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহী ট্রাম্প, ইরানকে তোপ মার্কিন প্রেসিডেন্টের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহী বলে জানালেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি ফের একবার ইরানের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আমেরিকার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি এমনটি চেয়েছিলাম, তবে আমি তখনই তা করতে চাই যখন আমরা কোনও শান্তি চুক্তি করার জন্য প্রস্তুত থাকব। আমি এটা করতে চাই। আমরা রাশিয়া, ইউক্রেন এবং সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। এটি ব্যবসার জন্য দারুণ হবে। রাশিয়ার বিশাল ও অত্যন্ত মূল্যবান ভূখণ্ড রয়েছে। অনেক ভালো কিছু ঘটছে। আমার বিশ্বাস, আমি এখনই এটা করতে পারব। তবে যুদ্ধ যখন শেষের পথে থাকবে, তখনই আমি এটা করতে চাই; আর আমার ধারণা, আমরা তা পারবও।” ইরানকে আক্রমণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছি। মাঝেমধ্যে তারা কোনও ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে—অত্যন্ত জোরালো নিয়ন্ত্রণ। তারা নিজেদের রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং মাইন ফেলার সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল। তারা এমন একটি রকেট তৈরির চেষ্টা করছিল যা থেকে মাইন ফেলা যায়। এমনটা কারা করে? আপনি কি কখনও এমন কোনও রকেট তৈরি করেছেন যা থেকে মাইন ফেলা যায়? আমি তো এমন কিছুর কথা কখনও শুনিনি, কিন্তু তারা ঠিক সেটাই করছিল। তারা ওটা তৈরি করছিল। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল, তাই আমরা ওটা ধ্বংস করে দিয়েছি।
ইরানে মার্কিন হামলায় বাসিজের ৩ যোদ্ধা ও আইআরজিসির ৪ সদস্য-সহ নিহত ১৮
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান, ২ সেপ্টেম্বর: ইরানের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ‘লাভান দ্বীপে’ একদিন আগে চালানো মার্কিন হামলায় আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর তিন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। রাতভর চলা মার্কিন বিমান হামলায় সামরিক সদস্য ও সাধারণ নাগরিক মিলিয়ে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এক ইরানি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, কোহেস্তকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চারজন এবং খুজেস্তান প্রদেশে সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কেরমানশাহে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির চার সদস্য এবং লাভান দ্বীপে বাসিজের তিন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। সাধারণ নাগরিকদের এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনুমান করা হয়, বাসিজে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার যোদ্ধা রয়েছেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলায় প্রায়ই এই বাহিনীকে সামনের সারিতে মোতায়েন করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিদ্রোহ দমনে বাসিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইজরায়েল এই সংগঠনের প্রধান কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যা করেছিল। বাসিজ আইআরজিসির পাঁচটি শাখার অন্যতম। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেইনি এই বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন দমনে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ও সহিংস ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইরানের বিভিন্ন জনসমাগমস্থল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি পোশাকবিধি, বিশেষ করে হিজাব সংক্রান্ত নিয়ম এবং অন্যান্য কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতেও বাসিজকে ব্যবহার করা হয়। নৈতিক পুলিশিংয়ের পাশাপাশি ইরানের সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় কট্টর ইসলামি মতাদর্শের প্রচার এবং দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পক্ষে জনমত তৈরির ক্ষেত্রেও এই বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
ইরানে ‘কঠোর আঘাতের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্তির পর ফের ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। এই পরিস্থিতিতে তেহরানকে ‘কঠোর আঘাত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতির উপর চাপ আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে সংঘাতের মাত্রা কমাতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর সংঘাত শুরু হওয়ার ছ’মাস পরেও অচলাবস্থা কাটেনি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে তেহরান। পাল্টা ইরানের বন্দরগুলিকে ঘিরে চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকা। এর মধ্যেই রবিবার হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের একটি রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যাতে নতুন করে মাইন বসাতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই লারাক দ্বীপে অভিযান চালানো হয়েছিল। এর জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতেই ফক্স নিউজের এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের উপর কঠোর আঘাত করব। ইরানকে জবাব দেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করা হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব না হলেও সেটি কোনও বড় হুমকি তৈরি করেনি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জর্ডানের সেনাবাহিনী আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে। তবে সেগুলি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা জানানো হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করেও হামলার দাবি করেছে ইরান। যদিও আবুধাবি আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তেহরান। সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কিরগিজস্তানে একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরান সমঝোতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুঁজছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া ইরান বা অঞ্চলের কোনও দেশের স্বার্থে নয়। তাঁর মতে, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই বর্তমান সমস্যার সমাধান সম্ভব। এদিকে সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রাখবে আমেরিকা। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের উপর চাপ বজায় রাখা হবে এবং কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে তার বড় প্রভাব দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেল-সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রয়াত নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অ্যাডা ইয়োনাথ
সকাল সকাল ডেস্ক রেহোভোত: নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ইজরায়েলি বিজ্ঞানী তথা এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফার অ্যাডা ইয়োনাথ ৮৭ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন। সোমবার তিনি প্রয়াত হন। ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স-এর তরফ থেকে তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর বৈজ্ঞানিক জীবনের সিংহভাগ সময় গবেষণা চালিয়ে গেছেন। অ্যাডা ইয়োনাথ ২০০৯ সালে রাইবোজোমের গঠন ও কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত যুগান্তকারী গবেষণার জন্য রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কোশের ভেতরে প্রোটিন কীভাবে তৈরি হয়, তা বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্ভাবনী গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর এই আবিষ্কার গবেষকদের আরও বেশি কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন পথ দেখায়। ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউটের মতে, একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুতর চিকিৎসা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ— অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর উদ্ভাবন অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৩৯ সালে জেরুজালেমে জন্মগ্রহণকারী অ্যাডা ইয়োনাথের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে। অতি অল্প বয়সেই তাঁকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল, কিন্তু তিনি পড়াশোনা থামাননি। ১৯৬৮ সালে তিনি ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট থেকে এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফিতে পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিশ্বে অসামান্য অবদান রাখেন। ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ বিজ্ঞানী ইয়োনাথকে দেশের বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অ্যাডা ইয়োনাথ ছিলেন এমন এক পথিকৃৎ নারী বিজ্ঞানী, যিনি নিজের কৌতূহল, লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠা ও দৃঢ় সংকল্পের জোরে জ্ঞানের সীমানাকে আরও প্রসারিত করেছিলেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-সৌদি নেতৃ
সকাল সকাল ডেস্ক ইস্তাম্বুল: মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাসও কাটেনি। এর মধ্যেই চুক্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে তৎপর তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান। তিন দেশের বিদেশমন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্তাদের বৈঠক ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সোমবার তিন দেশের বিদেশমন্ত্রী এবং সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কৌশলগত ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে ইসলামাবাদের তরফে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল লক্ষ্য তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। কোনও সদস্য দেশ বহিরাগত আক্রমণের মুখে পড়লে অন্য দেশগুলি সামরিক সরঞ্জাম, কৌশলগত সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা সহযোগিতা দেবে—এমন ব্যবস্থার কথা চুক্তিতে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সাদৃশ্য টেনে কোনও কোনও মহল ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলে উল্লেখ করছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বক্তব্য, এর উদ্দেশ্য মূলত পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি। এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশও আগ্রহ দেখিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নভেম্বরে ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের সময় বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় বিষয়টি উঠতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এত দ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের নজর এখন ইস্তাম্বুলের বৈঠকের দিকে। বিশেষ করে তিনটি দেশ বর্তমানে সরাসরি কোনও অভিন্ন যুদ্ধে জড়িত না থাকায় এই তৎপরতার কৌশলগত তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক ও সেনাবাহিনী ঈশাক দার এবং আসিম মুনিরের সফরকে ‘সরকারি সফর’ হিসেবেই উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে তুরস্কের তরফে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হলেও বৈঠকের বিস্তারিত এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বৈঠক থেকে নতুন কোনও সামরিক রূপরেখা সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে উদ্ধারকাজ জারি, মৃত্যু বেড়ে ৯০৩
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু,: হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে এখনও জোরকদমে চলছে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ। একইসঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। সোমবার পর্যন্ত নেপাল ও তিব্বতে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯০৩। এখনও আড়াই হাজারের বেশি মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে অনেক ভারতীয় রয়েছেন। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯০৩। এছাড়াও আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাণের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে নেপালে। হড়পা বানে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাসুয়া জেলায়। এছাড়াও নেপালের আরও কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, নেপালের নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মীর এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। হড়পা বানের সময় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের মধ্যে ওই কর্মীরা কাজ করছিলেন। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখনও নিখোঁজ ৩ হাজার ৪৮ জন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ১৪৯ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা গিয়েছে।
আলভারেজ বিতর্কের মাঝেই সেভিয়াকে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষে আতলেতিকো
সকাল সকাল ডেস্ক মাদ্রিদ: মাঠের বাইরে হুলিয়ান আলভারেজকে ঘিরে দলবদলের জল্পনা। কিন্তু তার কোনও প্রভাব পড়ল না মাঠের পারফরম্যান্সে। শনিবার অ্যাওয়ে ম্যাচে সেভিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেল আতলেতিকো মাদ্রিদ। তিন ম্যাচে দিয়েগো সিমিওনের দলের সংগ্রহ সাত পয়েন্ট। আর্জেন্তিনার স্ট্রাইকার আলভারেজের বার্সেলোনা অথবা আর্সেনালে যোগ দেওয়ার জল্পনা চলছে। যদিও তাঁকে ছাড়তে নারাজ আতলেতিকো। ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে ২-২ ড্রয়ের সময় সমর্থকদের একাংশের দুয়োর মুখেও পড়েছিলেন তিনি। সেভিয়ার বিরুদ্ধে তাঁকে ম্যাচ-ডে স্কোয়াডে রাখা হয়নি। আলভারেজ প্রসঙ্গে সিমিওনে জানিয়েছেন, আর্জেন্তাইন স্ট্রাইকার বর্তমানে ব্যক্তিগত একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এবং ক্লাব তাঁর পাশে রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে তিনি আবার দলকে সাহায্য করবেন বলেই আশা আতলেতিকো কোচের। আলভারেজের অনুপস্থিতিতে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া ফরোয়ার্ডরাই সেভিয়ার বিরুদ্ধে পার্থক্য গড়ে দেন। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটে লি কাং-ইনের দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে নিচু শটে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্স বায়েলা। ২৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আদেমোলা লুকমান। সেভিয়ার গোলরক্ষক ওডিসিস ভ্লাচোডিমোসকে পরাস্ত করে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এর সাত মিনিট পরেই ফের গোল। মার্কোস লোরেন্তের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় এবং আতলেতিকোর তৃতীয় গোল করেন বায়েলা। প্রথমার্ধেই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সিমিওনের দল। দ্বিতীয়ার্ধে সেভিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। মিগুয়েল সিয়েরার ভলিতে একটি গোল শোধ হলেও ম্যাচে ফেরার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আতলেতিকো। জোড়া গোলের পর বায়েলা জানান, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। সেই ছন্দ এবার ক্লাব ফুটবলেও ধরে রাখাই তাঁর লক্ষ্য। এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে বড় অঘটন ঘটিয়েছে লেভান্তে। রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তারা। এই হারের ফলে চলতি লিগে প্রথমবার পরাজয়ের মুখ দেখল ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল। ম্যাচটি জিতলে টানা তিন জয়ের সুবাদে শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল বেতিসের। লেভান্তের হয়ে আদ্রিয়ান দে লা ফুয়েন্তে গোলের খাতা খোলেন। বেতিসের হয়ে মার্ক বারত্রা সমতা ফেরালেও প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে অসাধারণ চিপে গোল করেন এনজো বারদেলি। পরে রদ্রিগো রিকেলমে বেতিসকে ফের সমতায় ফেরালেও দ্বিতীয়ার্ধে রজার ব্রুগুয়ের জোড়া গোল এবং জন আন্দের ওলাশাগাস্তির হেডে বড় জয় নিশ্চিত করে লেভান্তে। দিনের অন্য ম্যাচে এস্পানিওলকে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদ। চলতি মরসুমে এটিই তাদের প্রথম জয়।
মেসির চার গোলের ঝড়, মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিল মায়ামি
সকাল সকাল ডেস্ক মায়ামি: বয়স যে তাঁর কাছে শুধুই সংখ্যা, আরও একবার প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। মেজর লিগ সকারে আর্জেন্তাইন মহাতারকার চার গোলের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ভর করে মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করল ইন্টার মায়ামি। একই সঙ্গে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচের জয়হীন খরা কাটাল তারা। চার গোল করে চলতি মরসুমের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে উঠে গেলেন মেসি। এমএলএসে এই প্রথম কোনও ম্যাচে চার গোল করলেন মেসি। পেশাদার কেরিয়ারে নবমবার এক ম্যাচে অন্তত চারটি গোল করার নজির গড়লেন তিনি। এই চার গোলের সুবাদে চলতি মরসুমে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৮। গোলদাতাদের তালিকায় ডালাসের পিটার মুসাকে পিছনে ফেলেছেন মেসি। মুসার সংগ্রহ ১৬ গোল। ম্যাচের ২০ মিনিটে ইন্টার মায়ামিকে এগিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। তেলাস্কো সেগোভিয়ার কর্নার থেকে হেডে গোল করেন তিনি। তবে ৩৭ মিনিটে ফাবিয়ান হারবার্সের গোলে সমতায় ফেরে মন্ট্রিয়েল। সেই সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি মেসি। বিরতির আগেই বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে মায়ামিকে ফের এগিয়ে দেন তিনি। কাছের পোস্ট ঘেঁষে তাঁর শট জালে জড়িয়ে যায়। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত একপেশে হয়ে যায় ম্যাচ। ৫২ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত গোল করে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। ৮০ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে মায়ামির হয়ে গোল করেন লুই সুয়ারেজ। তার তিন মিনিট পরেই নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন মেসি। এরপর ৮৯ মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন আলেকজান্ডার শ। তবে তখনও মেসি-ঝড় শেষ হয়নি। সংযোজিত সময়ের ৯৬ মিনিটে দুর্দান্ত বাঁকানো ফ্রি-কিকে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন আর্জেন্তাইন তারকা। তাঁর শটের সামনে কার্যত দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মন্ট্রিয়েলের গোলরক্ষককে। শেষ পর্যন্ত ৭-১ ব্যবধানে বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি। এই জয়ের ফলে ২২ ম্যাচে ৪২ পয়েন্টে পৌঁছেছে ইন্টার মায়ামি। তাদের জয়-ড্র-হারের রেকর্ড ১২-৬-৪। অন্যদিকে মন্ট্রিয়েলের টানা চার ম্যাচের অপরাজিত থাকার দৌড়ও শেষ হয়েছে। ম্যাচে মায়ামির ডাগআউটে ছিলেন না প্রধান কোচ গিলারমো হোয়োস। লিগের ‘লেট কিকঅফ’ সংক্রান্ত নিয়ম একাধিকবার ভাঙার কারণে নির্বাসিত থাকায় স্কাইবক্স থেকে ম্যাচ দেখেন তিনি। তাঁর পরিবর্তে ডাগআউটে দায়িত্ব সামলান সহকারী কোচ রাফায়েল পেরেজ। এরই মধ্যে মায়ামির কোচিং বিভাগেও পরিবর্তন আসতে চলেছে। আর্জেন্তিনার কিলি গঞ্জালেজকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। তবে কোচিং নিয়ে আলোচনা ছাপিয়ে এই রাত পুরোপুরি মেসির। চার গোল করে শুধু দলের জয়হীন দৌড়ই থামালেন না, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও নিজেকে নিয়ে গেলেন সবার উপরে।