নেপালে ভয়াবহ বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু : নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১০৮টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। এছাড়া পূর্ব নওয়ালপরাসি থেকে ৬২ জন, পশ্চিম নওয়ালপরাসি থেকে ১৫ জন, ধাদিং থেকে ২৭ জন, গোর্খা থেকে ২০ জন, রাসুয়া থেকে ১৭ জন, নুয়াকোট থেকে ১২ জন এবং তানাহুন থেকে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, বন্যায় আহত অন্তত ৫২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষণ হাসপাতালে ২৬ জন, ট্রমা সেন্টারে ২০ জন, বীর হাসপাতালে ২ জন, নারভিক হাসপাতালে ২ জন, মনমোহন হাসপাতালে ১ জন এবং বীরেন্দ্র মিলিটারি হাসপাতালে ১ জনের চিকিৎসা চলছে। নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ জোরকদমে চলছে। দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
হাওড়ার বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, চারতলায় আটকে বহু বাসিন্দা; উদ্ধার ৮ জন
সকাল সকাল ডেস্ক হাওড়া : হাওড়ার আন্দুল মৌড়ি এলাকায় বুধবার দুপুরে একটি বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভবনের চারতলা থেকে আচমকা আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশ ও দমকল বিভাগে খবর দেন। আগুন লাগার সময় বহুতলের ভেতরে একাধিক বাসিন্দা আটকে পড়েন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি সমান তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। দমকলকর্মী ও পুলিশ যৌথভাবে বহুতলের বিভিন্ন তলায় আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসার কাজ শুরু করেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চারতলায় আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে গোটা আবাসন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘন ধোঁয়ার কারণে অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। ভবনের অন্য কোনও অংশে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি তলা ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎই চারতলা থেকে আগুনের শিখা এবং ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ওই তলায় তাঁর এক পরিচিত মহিলা থাকেন বলে জানান তিনি। ফলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দমকল সূত্রে খবর, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বহুতলের প্রতিটি অংশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহেই তারাপীঠ এবং কলকাতার দুটি পৃথক গেস্ট হাউসে আগুন লেগে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হাওড়ার এই অগ্নিকাণ্ড নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান প্রধান অর্থনীতি ভারত, দাবি নির্মলা সীতারমনের
সকাল সকাল ডেস্ক টরন্টো : ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তাঁর বক্তব্য, বৃহৎ বাজার, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিপুল তরুণ জনসংখ্যা এবং দ্রুত সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার—এই চারটি শক্তির সমন্বয়ই ভারতের অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। কানাডার টরন্টোয় প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সীতারমন বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক পরিবর্তন কোনও সাময়িক প্রবণতা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তরের ফল। দ্রুত নগরায়ণ, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান এবং বিশ্বমানের ডিজিটাল অবকাঠামো এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর কথায়, এই রূপান্তরের ফলে অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভারতের ডিজিটাল অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর প্রসঙ্গও বিশেষভাবে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম আর্থিক পরিষেবা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করে তুলেছে। একই সঙ্গে কানাডার ব্যাংক, ফিনটেক সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সহযোগিতা শুধু ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আগামী প্রজন্মের আর্থিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ভারত-কানাডা সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নির্মলা সীতারমন। তিনি বলেন, কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকরা দুই দেশের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সেতুবন্ধনের কাজ করছেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বহুত্ববাদ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক—এই সবকিছুর ভিত্তিতেই ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
পাকিস্তানের হাসপাতালে আগুন, প্রাণ হারালো ১৪টি নবজাতক শিশু
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুনে মৃত্যু হয়েছে ১৪টি নবজাতক শিশুর। বুধবার ভোরে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এর স্ত্রীরোগ বিভাগে আগুন লাগে, সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৪টি নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের এসিতে গোলযোগের জেরেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। হাসপাতালের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, ওয়ার্ডে রাখা একটি এসির কম্প্রেসারে বিস্ফোরণ হয়। সেই থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালে। বুধবার সকালে আচমকাই আগুন লেগে যায় ইসলামাবাদের ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’-এর স্ত্রীরোগ বিভাগে। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে লাগোয়া সদ্যোজাত ওয়ার্ডে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের সময়ে ওয়ার্ডে ১৬ সদ্যোজাতকে রাখা ছিল। তাদের মধ্যে মাত্র এক জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৪ জন শিশুর দেহ সম্পূর্ণ ভাবে পুড়ে গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে এসে পৌঁছয় দমকল। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন আয়ত্তে আসে।
নেপালে বন্যার তাণ্ডব, চিন সীমান্তে ভেসে গেল ৫০০-র বেশি কন্টেনার
সকাল সকাল ডেস্ক কাঠমান্ডু: তিব্বতে বুধবার সকালে হিমবাহ ফেটে যাওয়ার জেরে নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এই বন্যায় নেপাল-চিন সীমান্তে নেপালে আসার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ৫০০-র বেশি কন্টেনার ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। নেপাল হিমালয় সীমান্তপার বাণিজ্য সংঘের মতে, রাসুয়ার টিমুরেতে অবস্থিত কাস্টমস দফতরের ইয়ার্ডে রাখা কয়েকশো কন্টেনার বন্যায় ভেসে গিয়েছে। সংঘের সচিব আঙদর্জে শেরপার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ইয়ার্ডে রাখা প্রায় ২০০টি কন্টেনার ভেসে গিয়েছে। একইভাবে চিনের দিকে পণ্য নিতে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ৩০০টি কন্টেনারও বন্যার কবলে পড়েছে। শেরপা জানিয়েছেন, এর মধ্যে সম্ভবত মাত্র ১০ শতাংশ কন্টেনারই রক্ষা পেয়েছে। টিমুরেতে থাকা তাঁর ভাইয়েরা জানিয়েছেন, গোটা গ্রামই ভেসে গিয়েছে। কন্টেনারগুলিও সার দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। চিনের দিকে যাওয়ার রাস্তার এখন আর কোনও চিহ্ন নেই। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত একটি হেলিকপ্টার টিমুরেতে পৌঁছেছে এবং ৭-৮ জন আহতকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডু পাঠানো হয়েছে। কাস্টমস দফতর অবস্থিত টিমুরে এলাকায় বন্যার জল এখন কিছুটা কমেছে এবং টেলিফোন পরিষেবাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সংঘের সভাপতি রামহরি কার্কিও জানিয়েছেন, শতাধিক কন্টেনার এবং বহু মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। তাঁর মতে, আচমকা বন্যার কারণে ব্যাপকভাবে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সীমান্ত ইস্যুতে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠকে অজিত দোভাল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল মঙ্গলবার বেজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ পর্যায়ের বৈঠক করেন। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরের আগে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও চিনের সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনা প্রক্রিয়ায় অজিত দোভাল এবং ওয়াং ই উভয়েই নিজ নিজ দেশের ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী ও সামগ্রিক সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে এই বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছিল। এর আগে, দু’দিনের সরকারি সফরে বেজিং পৌঁছে সোমবার চিনের উপরাষ্ট্রপতি হান ঝেং-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন অজিত দোভাল। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, পাশাপাশি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। দূতাবাসের মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তিতেই এই আলোচনা এগিয়ে চলেছে।
আমেরিকা-কানাডা বাণিজ্য সংঘাত তুঙ্গে, বিদ্যুৎ ও খনিজ সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি অন্টারিওর
সকাল সকাল ডেস্ক অটোয়া: শুল্কযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও কানাডার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার গাড়ি, যন্ত্রাংশ এবং ইস্পাতের উপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা করার পর পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। প্রয়োজন হলে আমেরিকায় বিদ্যুৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ সীমিত করা কিংবা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডায় তৈরি গাড়ি, ট্রাক, মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ এবং ইস্পাতের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তার আগে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের উপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার কথা সামনে এসেছে। দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থান বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে সংবাদ সংস্থা এপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফোর্ড বলেন, কানাডার সামনে ‘সব পথই খোলা’। তাঁর দাবি, অন্টারিও থেকে আমেরিকার প্রায় ১৫ লক্ষ বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কানাডার উৎপাদন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বা সরবরাহ বন্ধ করার কথাও বিবেচনা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ফোর্ডের মন্তব্যের পর পাল্টা আক্রমণে যান ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রিমিয়ারের হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে কানাডার নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকেও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আমেরিকা অর্থনৈতিক ও সামরিক ভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আমেরিকাকে বাদ দিয়ে কানাডার পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ফোর্ডও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, অটোয়ার উচিত আমেরিকার বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজনে জ্বালানি তেল, পটাশ এবং কৌশলগত খনিজ সম্পদের সরবরাহ নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, কানাডার অন্যতম বড় জলবিদ্যুৎ উৎপাদক প্রদেশ কুইবেক আপাতত অন্টারিওর মতো কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে না। তবে আমেরিকার সঙ্গে বিরোধ আরও বাড়লে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদকে পাল্টা চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আমেরিকায় বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় বিদেশি সরবরাহকারী কানাডা। যদিও আমেরিকার মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় কানাডা থেকে আমদানির পরিমাণ খুবই কম। তবে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে কানাডার সরবরাহ এই অঞ্চলগুলির গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ। বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন এমন হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উপর চাপ বাড়ছে। ফলে কানাডা থেকে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে সীমান্তবর্তী কয়েকটি মার্কিন রাজ্যে তার প্রভাব তুলনামূলক ভাবে বেশি পড়তে পারে। এর আগেও শুল্কযুদ্ধের সময় বিদ্যুৎকে পাল্টা চাপ তৈরির হাতিয়ার করেছিলেন ফোর্ড। ২০২৫ সালের মার্চে তিনটি মার্কিন রাজ্যে বিদ্যুৎ রপ্তানির উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি আরোপ করেছিলেন তিনি। পরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের লক্ষ্য কানাডার গাড়ি শিল্পকে দুর্বল করা। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনায় আমেরিকা এমন কিছু শর্ত দিয়েছিল যা অটোয়ার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে আলোচনার টেবিল ছাড়তে বাধ্য হয় কানাডা। দুই প্রতিবেশী ও দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে শুল্ক নিয়ে এই সংঘাত এখন বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে ওয়াশিংটন ও অটোয়া শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথে ফেরে, নাকি পাল্টাপাল্টি অর্থনৈতিক পদক্ষেপে সংঘাত আরও তীব্র হয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
ইউপিআই-এর অভূতপূর্ব সাফল্যে গর্বিত হওয়া উচিত প্রত্যেক ভারতীয়ের: প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) চালুর এক দশক পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ইউপিআই-এর বিস্তৃতি ও সাফল্য প্রতিটি ভারতীয়ের কাছে গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, ইউপিআই শুধু ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকেই বদলে দেয়নি, বরং বিশ্বমঞ্চেও দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরেছে। সোমবার এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “দশ বছর আগে ইউপিআই চালু হয়েছিল। আজ এটি ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট যাত্রার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ইউপিআই-এর ব্যাপক প্রসার ও জনপ্রিয়তা এমন একটি অর্জন, যা নিয়ে প্রত্যেক ভারতীয়র গর্ব করা উচিত।” ইউপিআই সহজ, নিরাপদ এবং তাৎক্ষণিক লেনদেনের সুবিধা এনে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ডিজিটাল বিপ্লব ঘটিয়েছে। নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনকে আরও দ্রুত ও সহজ করেছে। ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে ইউপিআই এখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নিজের উপস্থিতি জোরদার করেছে। বর্তমানে ভুটান, নেপাল, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, শ্রীলঙ্কা, মরিশাস, কাতার, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং মালদ্বীপ-সহ মোট ১১টি দেশে ইউপিআই পরিষেবা চালু রয়েছে। এই সম্প্রসারণ ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি বৈশ্বিক আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন।
সামান্য পতন সোনার বাজারে, কমল সোনা ও রুপোর দাম
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ২৪ আগস্ট: সোমবার লেনদেনের শুরুতেই দেশের সরাফা বাজারে সোনা ও রুপোর দামে সামান্য দুর্বলতা দেখা গিয়েছে। দামের এই পরিবর্তনের ফলে দেশের অধিকাংশ বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকা থেকে ১,৬৩,২৩০ টাকার মধ্যে লেনদেন করছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪৯,৪৯০ টাকা থেকে ১,৪৯,৬৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। রুপোর দামেও সামান্য পতন হয়েছে। দিল্লির সরাফা বাজারে এদিন প্রতি কেজি রুপোর দাম ২,৫৯,৯০০ টাকা। দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,২৩০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৯,৬৪০ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৯,৪৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আহমেদাবাদে ২৪ ক্যারেট সোনার খুচরো দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,১৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৯,৫৪০ টাকা। চেন্নাইয়ে এদিন ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৯,৪৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতাতেও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৯,৪৯০ টাকা। ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,১৩০ টাকা, আর ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪৯,৫৪০ টাকায়। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,২৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৯,৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটনায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,১৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৯,৫৪০ টাকা। লখনউয়ের সরাফা বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,২৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনা ১,৪৯,৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কর্ণাটক, তেলঙ্গানা ও ওড়িশার সরাফা বাজারেও সোমবার সোনার দামে সামান্য পতন হয়েছে। তিন রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও ভুবনেশ্বরে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৬৩,০৮০ টাকায় লেনদেন করছে। একইভাবে এই তিন শহরে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪৯,৪৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে ইউক্রেন: পুতিন
সকাল সকাল ডেস্ক রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়ে ইউক্রেন নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইউক্রেনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। গতকাল শনিবার তাঁর এ মন্তব্য প্রকাশিত হয়। চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় ড্রোন হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে তেল শোধনাগার ও অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদাম। এসব খাত থেকে আসা অর্থ রাশিয়াকে যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করছে। অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়ে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে চায় কিয়েভ। অবশ্য ইতিমধ্যে এসব হামলার জবাব দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ‘কিয়েভ আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু এতে তারা নিজেরাই এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে। এখন তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতে হামলার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার কারণে দেশটির কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যসংকট তৈরি হবে না বলে দাবি করেছেন পুতিন। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির ঘাটতি রাশিয়া পূরণ করতে পারবে। পুতিন বলেন, ‘আমাদের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা এসব সমস্যা সমাধান করব। ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি হবে না।’ এর আগে কৃষ্ণসাগর দিয়ে বিশ্ববাজারে শস্য রপ্তানি নিরাপদ রাখতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তি করেছিল। তুরস্কের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে করা এ চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির পথ নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা হয়। তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া চুক্তিটি থেকে সরে আসে। পুতিন আবারও বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁর শর্ত, আলোচনায় যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতিকে ভিত্তি হিসেবে মেনে নিতে হবে। অর্থাৎ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ইউক্রেনীয় এলাকাগুলোকে মস্কোর ভূখণ্ড হিসেবে মেনে নিতে হবে। ইউক্রেন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো ‘অবাস্তব’ ও ‘অদ্ভুত’ বলেও মন্তব্য করেন পুতিন। তিনি বলেন, এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই শান্তি আলোচনা হতে হবে।