নেতাজি প্রসঙ্গে অনন্ত মহারাজের ক্ষমা চাওয়াকে ইতিবাচক বললেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর অনন্ত মহারাজের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রবীণ সাংসদ হিসেবে অনন্ত মহারাজ নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেতাজিকে নিয়ে করা ওই মন্তব্য কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে পরবর্তীতে নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ভুল হলে তা স্বীকার করে নেওয়া এবং মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে এবং যাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর কোনও অযাচিত উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। এদিকে নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির প্রসঙ্গেও পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোটা ঘটনার তদন্ত আইন মেনেই এগিয়ে চলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পিপলকোটি সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭, ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী ধামি
সকাল সকাল ডেস্ক চামোলি : উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মায়াপুর-পিপলকোটি এলাকায় টিএইচডিসি-র নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে জল ঢুকে ধস নামার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর থেকেই জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখনও সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণ করানোও ছিল অত্যন্ত কঠিন। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টিআরটি সুড়ঙ্গে ধস নামার ফলে প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ জলমগ্ন হয়ে যায়। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সুড়ঙ্গে দুর্ঘটনার সময় ২২ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। জেলাশাসক গৌরব কুমার সারারাত ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার অভিযান তদারকি করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করে আনতে উদ্ধারকারী দল নিরন্তর কাজ করে চলেছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করা ছয়জন উদ্ধারকর্মী নিরাপদে রয়েছেন। আহতদের গোপেশ্বর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ, পুলিশ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে জল জমে থাকা এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রদীপ সিং পাওয়ার, মুকেশ, দুর্লভ শর্মা, বিজয়, জিতেন্দ্র কুমার, লোকেশ্বর এবং ভুবনেশ্বর। প্রদীপ সিং পাওয়ার তেহরি জেলার চম্বা এলাকার গেনওয়াল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মুকেশের বাড়ি চামোলি জেলার উরগামে। দুর্লভ শর্মা বিহারের বাসিন্দা এবং বিজয় ও জিতেন্দ্র কুমারের বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। লোকেশ্বর ও ভুবনেশ্বরের পরিচয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের করাচিতে স্বাধীনতা দিবসের রাতে তাণ্ডব: গুলিবর্ষণে নিহত মহিলা, আহত অন্তত ৯৪
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আনন্দঘন মুহূর্ত নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে। করাচিতে মধ্যরাতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের নামে চালানো হয় বেপরোয়া গুলি। শূন্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের পৃথক একাধিক ঘটনায় এক মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৯৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রখ্যাত সমাজসেবী সংস্থা ‘এধি ফাউন্ডেশন’-এর মুখপাত্র এই হতাহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সকালে তিনি জানান, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জন নারী ও ১৭টি শিশু রয়েছে। গুলিবিদ্ধদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে জিন্নাহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টার, সিভিল হাসপাতাল এবং আব্বাসি শহিদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একাধিক সংবাদ মাধ্যম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে— আব্বাসি শহিদ হাসপাতালে ১ জন মহিলা, ৪ জন শিশু সহ মোট ২৪ জন ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মহিলার নিজস্ব খুড়তুতো ভাইই এই ঘটনায় অভিযুক্ত, যাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, জিন্নাহ হাসপাতালে ৩৫ জন এবং সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ২৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, করাচির লিয়ারি, সদর, কোরঙ্গি, মালির, আজিজাবাদ, নর্থ নাজিমাবাদ, নাজিমাবাদ, গুলবাহার, গুলশান-এ-ইকবাল, ওরঙ্গি টাউন, জমশেদ কোয়ার্টার্স ও ডিফেন্স কলোনি এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ন্ত্রিত গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযানে নেমে করাচির বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সহ অন্তত ৩০ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, প্রতি বছরই ১৪ আগস্টের রাতে করাচিতে শূন্যে গুলি চালানোর কারণে বহু নির্দোষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালেও অনুরূপ ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৭৫ জন আহত হন। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের রাতেও এই অনিয়ন্ত্রিত উদযাপনের বলি হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল প্রায় ৯৫ জনকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে জলবণ্টন ইস্যুতে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের জন্য জলের প্রতিটি ফোটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জল ইস্যুতে কোনো কারচুপি করা হলে তার যোগ্য ও কড়া জবাব দেওয়া হবে।”
শচীনেরও নেই! দ্রাবিড়ের দখলে এই ৩ রেকর্ড
সকাল সকাল ডেস্ক ভারতীয় ক্রিকেটে রাহুল দ্রাবিড় মানেই ধৈর্য, একাগ্রতা এবং অসাধারণ টেকনিক। ক্রিকেটবিশ্ব তাঁকে ‘দ্য ওয়াল’ নামেই বেশি চেনে। প্রতিপক্ষের বোলারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা হতাশ করে ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অসংখ্য নজির গড়েছেন দ্রাবিড়। তার মধ্যে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানে কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকরকেও পিছনে রেখেছেন তিনি। টেস্টে সবচেয়ে বেশি বল খেলেছেন দ্রাবিড় টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ ইনিংস খেলার ক্ষেত্রে দ্রাবিড়ের জুড়ি মেলা ভার। নিজের টেস্ট কেরিয়ারে মোট ৩১,২৫৮টি বল মোকাবিলা করেছেন তিনি। এই তালিকায় তাঁর পিছনে রয়েছেন শচীন তেন্ডুলকর। মাস্টার ব্লাস্টার খেলেছেন ২৯,৪৩৭টি বল। অর্থাৎ শচীনের তুলনায় প্রায় ১,৮০০ বল বেশি খেলেছেন দ্রাবিড়। এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দেয় কেন তাঁকে ‘দ্য ওয়াল’ বলা হত। তাঁর রক্ষণ ভেদ করা বিশ্বের সেরা বোলারদের কাছেও ছিল কঠিন পরীক্ষা। ক্রিজে কাটিয়েছেন সবচেয়ে বেশি সময় শুধু বলের সংখ্যায় নয়, ব্যাট হাতে ক্রিজে কাটানো সময়ের হিসাবেও দ্রাবিড়ের ধৈর্যের পরিচয় পাওয়া যায়। টেস্ট কেরিয়ারে ব্যাটিং করতে গিয়ে মোট ৪৪,১৫২ মিনিট ক্রিজে কাটিয়েছেন তিনি। এই ক্ষেত্রেও তাঁর পিছনে শচীন। তেন্ডুলকরের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ৪১,৩০৪ মিনিট। অর্থাৎ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থেকে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে ক্লান্ত করে দেওয়াই ছিল দ্রাবিড়ের অন্যতম বড় শক্তি। শতরানের জুটিতেও এগিয়ে ‘দ্য ওয়াল’ দ্রাবিড়ের আর একটি উল্লেখযোগ্য নজির রয়েছে বড় জুটি গড়ার ক্ষেত্রে। টেস্ট ক্রিকেটে সতীর্থদের সঙ্গে ৮৮ বার ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়েছেন তিনি। শচীনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৮৬। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে কোনও এক সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ে তোলার ক্ষমতা ছিল দ্রাবিড়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই শুধু ব্যক্তিগত রান নয়, পার্টনারশিপের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ভারতীয় ক্রিকেটে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। শচীন-দ্রাবিড় জুটি ভারতকে দিয়েছে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে দু’জনের মধ্যে তুলনা হলেও মাঠে শচীন ও দ্রাবিড় ছিলেন ভারতের অন্যতম সফল ব্যাটিং জুটি। টেস্ট ক্রিকেটে দু’জনে একসঙ্গে ২০টি শতরানের পার্টনারশিপ গড়েছেন। একদিকে শচীনের দুর্দান্ত শট খেলার ক্ষমতা, অন্যদিকে দ্রাবিড়ের ধৈর্য ও শক্তিশালী রক্ষণ—দুই কিংবদন্তির ব্যাটিংয়ের এই মেলবন্ধন দীর্ঘদিন ভারতীয় ব্যাটিংকে ভরসা জুগিয়েছে। সংখ্যাতেও উজ্জ্বল দ্রাবিড়ের কেরিয়ার ভারতের হয়ে ১৬৪টি টেস্ট ম্যাচে ১৩,২৮৮ রান করেছেন রাহুল দ্রাবিড়। তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৩৬টি শতরান এবং ৬৩টি অর্ধশতরান। টেস্টে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ২৭০ রানের। একদিনের ক্রিকেটেও দ্রাবিড়ের সাফল্য কম নয়। ৩৪৪টি একদিনের ম্যাচে ১০,৮৮৯ রান করেছেন তিনি। এই সংস্করণে তাঁর রয়েছে ১২টি শতরান এবং ৮৩টি অর্ধশতরান। অবসরের পরেও ভারতীয় ক্রিকেটের সেবায় খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পরেও ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়নি। তরুণ ক্রিকেটারদের তৈরি করা থেকে শুরু করে জাতীয় দলের কোচ—বিভিন্ন ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন দ্রাবিড়। তাঁর প্রধান কোচ থাকার সময়েই ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ভারত। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ব্যাটার দ্রাবিড়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় আজও ‘দ্য ওয়াল’। সবচেয়ে বেশি বল মোকাবিলা, দীর্ঘতম সময় ক্রিজে থাকা এবং অসংখ্য শতরানের জুটি—এই পরিসংখ্যানগুলি আরও একবার বুঝিয়ে দেয় কেন ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে রাহুল দ্রাবিড়ের জায়গা এতটা বিশেষ।
ইউরোপে ফের পিএসজির জয়জয়কার
সকাল সকাল ডেস্ক ইউরোপের সেরার মুকুট ধরে রাখল প্যারিস সাঁ জারমাঁ। বুধবার সালজবার্গে উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলাকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে নিল লুইস এনরিকের দল। গত বছর টটেনহ্যাম হটস্পারকে হারিয়ে প্রথমবার এই খেতাব জিতেছিল পিএসজি। এবার আরও এক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবকে হারিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল ফরাসি জায়ান্টরা। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সোমালিয়ার ৩৪ বছর বয়সি রেফারি ওমর আরতান। বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নির্বাচিত রেফারিদের প্যানেলে থাকা আরতান গত জুনে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে না পারার ঘটনায় খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। শুরুতেই কাভারৎস্কেলিয়ার ঝলক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজি এবং ইউরোপা লিগ বিজয়ী অ্যাস্টন ভিলার লড়াই শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনায় ভরা। আর্সেনালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা দলের নয়জন ফুটবলারকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন এনরিকে। ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস এবং অধিনায়ক মার্কিনহোস শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলা এজরি কোনসা, এমি মার্টিনেজ এবং অলি ওয়াটকিন্সের মতো কয়েকজন তারকাকে বিশ্রাম দেয়। কোচ উনাই এমেরি সুযোগ দেন অভিষেককারী মিডফিল্ডার জোয়াও গোমস এবং ১৭ বছর বয়সি তরুণ স্ট্রাইকার ব্রায়ান মডজোরকে। ম্যাচের ২০ মিনিটে পিএসজিকে এগিয়ে দেন খভিচা কাভারৎস্কেলিয়া। বাঁ-দিক থেকে ভিতরে ঢুকে দুরন্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন জর্জিয়ার তারকা। তাঁর গতি এবং দক্ষতার সামনে সমস্যায় পড়ে ভিলার রক্ষণ। অভিষেকেই চমক মডজোরের এক গোলে পিছিয়ে পড়লেও লড়াই থেকে সরে যায়নি অ্যাস্টন ভিলা। প্রথমার্ধের আধ ঘণ্টার মাথায় জন ম্যাকগিনের ক্রস থেকে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন মডজো। সেই সুযোগ কাজে না লাগলেও বিরতির ঠিক আগে আর ভুল করেননি তরুণ স্ট্রাইকার। ৪৫ মিনিটে ম্যাকগিনের নিখুঁত পাস থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে গোল করে ভিলাকে ১-১ সমতায় ফেরান মডজো। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে নজর কাড়েন মাত্র ১৭ বছর বয়সি এই ফুটবলার। বিরতির পর আক্রমণের শক্তি বাড়াতে উসমান ডেম্বেলেকে মাঠে নামান এনরিকে। অন্যদিকে ম্যাকগিন এবং মডজোর জুটি পিএসজির রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে। ম্যাকগিনের একটি বাঁকানো শট কোনওক্রমে রুখে দেন পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনভ। ভিএআর নাটকের পর জয়সূচক গোল ম্যাচের ৬১ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় পিএসজি। ডান দিক দিয়ে উঠে এসে বল জালে পাঠান ডেজিরে ডুয়ে। প্রথমে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন। কিন্তু ভিএআর পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পিএসজি। শেষ দিকে অ্যাস্টন ভিলা সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়। ট্যামি আব্রাহাম একটি ভালো সুযোগও পেয়েছিলেন, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ ১৫ মিনিটে ফ্যাবিয়ান রুইজকে নামিয়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেন এনরিকে। শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি। সেই সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বার উয়েফা সুপার কাপ নিজেদের ঘরে তুলল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। মরসুমের শুরুতেই আরও একটি ট্রফি পিএসজির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল। এবার তাদের সামনে নতুন লক্ষ্য—ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে আরও সাফল্য অর্জন করা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দাপুটে প্রত্যাবর্তন
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামালেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে প্যাট কামিন্সের দল। মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে কেরিয়ারের সেরা বোলিং করেন হাসান। শুরুটা ভালো হলেও হঠাৎ ছন্দপতন অস্ট্রেলিয়ার টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। শুরুটাও বেশ ভালো করেছিলেন দুই ওপেনার। কোনও উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ৪৫ রান তুলে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এরপরই ম্যাচের ছবিটা বদলে দেন হাসান মাহমুদ। ডারউইনের ঘরের ছেলে জ্যাক ওয়েদারল্ডকে ২৩ রানে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম উইকেট তুলে নেন তিনি। অফস্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেট হারান অজি ওপেনার। এরপর হাসানের শিকার হন ট্র্যাভিস হেড। ৫২ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। মার্নাস লাবুশেন এবং ক্যামেরন গ্রিনও দলের ইনিংসকে ভরসা দিতে পারেননি। হাসানের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কাজ আরও কঠিন করে তোলে। ঘাসে ঢাকা পিচে স্পিনের পরিবর্তে পেস আক্রমণের উপর বাংলাদেশের ভরসা পুরোপুরি কাজে আসে। হাসানের কেরিয়ার সেরা বোলিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই নিখুঁত লাইন ও লেংথ বজায় রাখেন হাসান। তাঁর গতি ও সুইং সামলাতে সমস্যায় পড়েন স্বাগতিক ব্যাটাররা। মাত্র ৫৩ ওভারের মধ্যেই ১৯৮ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। ৫৫ রান খরচ করে ৬টি উইকেট তুলে নেন হাসান। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসারদের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স এটি। এর আগে শাহাদাত হোসেন ২৭ রানে ৬ উইকেট এবং ইবাদত হোসেন ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন হাসান। একা লড়লেন স্টিভ স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার একের পর এক ব্যাটার যখন ব্যর্থ, তখন এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান প্রাক্তন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ১০৯ বলে ৭১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তবে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। শেষ পর্যন্ত হাসানের বলেই থামে স্মিথের প্রতিরোধ। কভারের উপর দিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে টপ-এজ করেন তিনি। ক্যাচ ধরে স্মিথের লড়াই শেষ করে বাংলাদেশ। তাঁর বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসও আর বেশি দূর এগোয়নি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন স্কোর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে এটিই অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২১৭ রানে অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশের এমন শুরু দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। প্রথম দিনের পারফরম্যান্সের পর ম্যাচে আপাতত সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ।
সুরাব জেলায় পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণ, ২০-র বেশি সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের বালুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী ও রাজনৈতিক সংগঠন বালুচ ন্যাশনাল মুভমেন্ট (বিএনএম) অভিযোগ করেছে, বালুচিস্তানের সুরাব জেলার গদর এলাকায় পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণে ২০ জনেরও বেশি সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটি এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিমান থেকে চালানো হামলায় ১০ বছরের কম বয়সি শিশুরাও প্রাণ হারিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বালুচিস্তানে মানবাধিকার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ‘দ্য বালুচিস্তান পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনএমের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের উপর বোমাবর্ষণ এবং শিশুদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বালুচিস্তানে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যবহার বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিএনএম ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে এই পরিস্থিতিতে নীরব না থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র আরও বলেছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস বা আইএসপিআর-এর একতরফা প্রচার ও বক্তব্যের উপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উচিত স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা। অন্য একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালুচিস্তানের চাগাই জেলার মাহিয়ান কোর এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা একটি বেসরকারি খনিজ সংস্থার খনিতে হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ, হামলাকারীরা লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রপাতি দখল করার পাশাপাশি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী ও শ্রমিকদেরও সঙ্গে নিয়ে যায়। অপহৃত শ্রমিকদের মধ্যে গিলগিটের ওয়াজাহাত, ওয়াজিদ, শাহিদ ও সাবর এবং স্থানীয় শ্রমিক জিয়াউদ্দিন, শাহ সলিম, চাগাই ও সইদ মহম্মদ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চাগাই পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, ডেরা বুগতি জেলার সুইয়ের গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বিস্ফোরণের পর কোয়েটার কোলপুর, মাচ, মাস্তুং, কালাত, পিশিন ও জিয়ারত-সহ একাধিক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে গ্যাস পাইপলাইন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বেরোতে দেখা যায়। মূল সড়ক থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে পাইপলাইনের ভালভ অ্যাসেম্বলিতে বিস্ফোরণটি ঘটে। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে জাপান সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক সিওল: যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর কয়েক দিন আগে ফের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল উত্তর কোরিয়া। বুধবার ভোরে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৬টা নাগাদ উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। সেটি জাপান সাগর অভিমুখে যায়। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা, সর্বোচ্চ উচ্চতা কিংবা কতটা দূরত্ব অতিক্রম করেছে, সে সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নজরে আসার কথা জানিয়েছে। টোকিওর তরফে এটিকে সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, সেটি ইতিমধ্যেই সমুদ্রে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ১১ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই বার্ষিক মহড়ার উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই ধরনের যৌথ মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করে এসেছে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এসব মহড়া আসলে তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি। অতীতেও যৌথ মহড়ার আগে ও পরে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে কিম জং উনের দেশ। জাপানকে নিয়েও বাড়ছে উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও সরব হয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন শান্তিবাদী নীতি অনুসরণ করা জাপান এখন দ্রুত সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। দেশের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সম্প্রতি জরুরি পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এরপরই উত্তর কোরিয়া জাপানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিযোগ করে, টোকিও ক্রমশ একটি ‘যুদ্ধরাষ্ট্রে’ পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধেও উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে অভিযোগ এর মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিয়েভের অভিযোগ, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক একটি হামলায় ১০ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সেনা সহায়তা পাচ্ছে। যদিও ওই নির্দিষ্ট দাবির পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ দেননি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়াকে সহযোগিতার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া আর্থিক ও সামরিক সুবিধা পেতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সেনারা বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও অর্জন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনার পাশাপাশি দেশটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারাও অংশ নেবেন। মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড জানিয়েছেন, ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করা উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সম্ভাব্য মোকাবিলার বিষয়টিও এবারের প্রস্তুতিতে গুরুত্ব পাবে। যৌথ মহড়ার ঠিক আগে উত্তর কোরিয়ার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের উপকূলের কাছে জাহাজে মিসাইল হামলা, ওমান উপসাগরে বাড়ছে উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আবহে এবার পাকিস্তানের উপকূলের অদূরে ওমান উপসাগরে একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজে মিসাইল আঘাত হানার খবর সামনে এসেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ওমান উপসাগর পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত। এই জলপথ আরব সাগরকে হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে যুক্ত করেছে। পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ গওয়াদার বন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পাকিস্তানের উপকূলের কাছে এমন ঘটনার খবরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের উপকূল থেকে প্রায় ৭১ নটিক্যাল মাইল দূরে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘ভেলা নোভা’ হামলার মুখে পড়ে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক সংস্থা ‘ভ্যানগার্ড’ এবং একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র পৃথকভাবে রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ ওমান উপসাগরে একটি কন্টেইনার জাহাজকে ঘিরে একটি ঘটনার খবর তাদের কাছে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট জাহাজটির নাম, পতাকা, ঘটনার প্রকৃতি কিংবা কোনও সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে সতর্ক থাকতে এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সময় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই সংঘাতের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথেও পড়েছে। ফলে ওমান উপসাগরে জাহাজে মিসাইল আঘাতের খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরান ও আমেরিকার সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনায় এসেছে। সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতির দিকেও আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের উপকূলের কাছাকাছি একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মিসাইল আঘাতের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা চলমান সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে সতর্ক থাকছেন পর্যবেক্ষকরা। তদন্তের পরেই স্পষ্ট হতে পারে, এটি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। তবে ঘটনাটি যে ওমান উপসাগর ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
আসছে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট, পরীক্ষামূলক ব্যবহারে কেন্দ্রের অনুমোদন
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি দেশে এবার ১০ এবং ২০ টাকার পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালুর পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। দুই ধরনের নোট পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ টাকা ও ২০ টাকার একশো কোটি করে পলিমার নোট আনার প্রস্তাব রয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি জানান, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কেন্দ্রীয় পর্ষদের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৩৪ সালের ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আইনের ২৫ নম্বর ধারার আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাব বিবেচনা করে ১০ এবং ২০ টাকার পলিমার ব্যাঙ্কনোট পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমে ১০ টাকা এবং ২০ টাকার একশো কোটি করে পলিমার ব্যাঙ্কনোট পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে। এই পরীক্ষা সফল হলে পরবর্তী সময়ে দুই মূল্যমানের পলিমার ব্যাঙ্কনোট নিয়মিতভাবে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নোটগুলির ব্যবহার, স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখার পরেই দেশজুড়ে নিয়মিতভাবে সেগুলি চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোটের পাশাপাশি পলিমার ব্যাঙ্কনোটও বাজারে রাখা হবে। ফলে পলিমার নোট চালু হলেও সংশ্লিষ্ট মূল্যমানের কাগজের নোট অবিলম্বে বাজার থেকে তুলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। তবে ১০ ও ২০ টাকার নতুন পলিমার নোট ঠিক কবে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নোট সংগ্রহের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সেই কারণে পলিমার ব্যাঙ্কনোট বাজারে আসার নির্দিষ্ট সময় এখনই জানানো সম্ভব নয়। একই কারণে এই প্রকল্পে মোট কত টাকা খরচ হবে, সে বিষয়েও এখনও কোনও নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া হয়নি। নোট সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও এগোনোর পর খরচ এবং পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পলিমার দিয়ে তৈরি নোট সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় আলাদা উপাদানে তৈরি হয়। পরীক্ষামূলক ব্যবহার সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় ১০ এবং ২০ টাকার নোটের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের ব্যাঙ্কনোটের ব্যবহার শুরু হতে পারে। তবে তার আগে পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফলের উপরেই নজর রাখবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং কেন্দ্রীয় সরকার।