কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ১৩২, আহত কমপক্ষে ৫৭০ জন
সকাল সকাল ডেস্ক বোগোটা: কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩২। এছাড়াও কমপক্ষে ৫৭০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার পশ্চিম কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৪। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের বিবৃতি অনুযায়ী, সোমবার কলম্বিয়ার রাজধানী বগোটার পশ্চিমে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার অন্দরে স্যান হোসে দে পামার এলাকায় প্রায় ১০৭ কিলোমিটার মাটির নীচে এই কম্পনের উৎস। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, পড়শি দেশ পানামা এবং ইকুয়েডরেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। যদিও সে দেশে খুব একটা ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ায় বড়বড় বহুতল ভেঙে পড়ে। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩২ এবং আহত হয়েছেন ৫৭০ জন।
সমুদ্রপথের বিকল্প খুঁজছে মস্কো, ভারত পর্যন্ত রেল করিডরের ভাবনা রাশিয়ার
সকাল সকাল ডেস্ক মস্কো: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে এবার স্থলপথে নজর দিয়েছে রাশিয়া। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে মস্কো। পরিকল্পনাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও বাস্তবায়িত হলে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহণ এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন সম্প্রতি রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলিকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার কারণে বিকল্প স্থল করিডর তৈরি করা প্রয়োজন। সেই কারণেই ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। মস্কোর এই পরিকল্পনার পিছনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তাও অন্যতম কারণ। বসফরাস ও হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনও কারণে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হলে বিশ্ববাণিজ্যে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে তেল, গ্যাস-সহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থলপথ তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে রাশিয়া। প্রাথমিকভাবে যে সম্ভাব্য রুট নিয়ে আলোচনা চলছে, তা রাশিয়া থেকে তুর্কমেনিস্তান হয়ে ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতে পৌঁছতে পারে। তবে রুট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ভারত পর্যন্ত পৌঁছনোর জন্য একাধিক বিকল্প পথ বিবেচনা করা হতে পারে। তবে মস্কোর এই ভাবনা মূলত পণ্য পরিবহণ ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক যোগাযোগকে কেন্দ্র করে। ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি কোনও নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। প্রস্তাবিত রেল করিডর বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ার পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পটির সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয়, সীমান্তপারের রেল পরিকাঠামো এবং বিপুল নির্মাণ ব্যয় বড় বাধা হতে পারে। তা সত্ত্বেও সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে ভারতমুখী স্থল করিডর তৈরির রুশ পরিকল্পনা কৌশলগত ও বাণিজ্যিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক সর্বোচ্চ নেতার
সকাল সকাল ডেস্ক তেহরান: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেইয়ের স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে জল্পনার মধ্যেই তাঁর সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রবিবার সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় এই বৈঠকের কথা জানিয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের মেয়াদের তৃতীয় বছর শুরু উপলক্ষে এই বৈঠক হয়। দুই নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে সামরিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে বৈঠকের সঠিক সময় ও স্থান প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি মোজতবা খামেনেইকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা না যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে পেজেশকিয়ানও জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা বর্তমানে ‘খুবই কঠিন’ হয়ে পড়েছে। কিছু সূত্রের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মোজতবা আহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এদিকে ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের এক জেনারেলকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার বিভিন্ন বৈঠক ও জনসাক্ষাতের ছবি ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হবে। তবে তার কোনও নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক দীনেশের, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জোর
সকাল সকাল ডেস্ক ঢাকা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। গত জুনে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ। তারেক রহমান দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপরে জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে এ দিনই দিল্লি আসার কথা রয়েছে দীনেশের। সোমবার বেলা ১১টার পর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে কোনও পদক্ষেপে প্রস্তুত ভারত : রাজনাথ সিং
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার দিল্লির বেস হাসপাতালে ‘সিঁদুর মহারক্তদান যাত্রা’ রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ গোটা বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছে যে, দেশের নারীদের সিঁদুরের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভারত প্রয়োজনীয় যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, তারা পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারতের দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার সাহস দেখানো শক্তিগুলিকেও উপযুক্ত পরিণতির মুখোমুখি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। রক্তদান মানবতার শ্রেষ্ঠ উপহার রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেন, রক্ত কোনও কারখানা বা গবেষণাগারে তৈরি করা যায় না। একজন সুস্থ মানুষই অন্য একজনের জীবন রক্ষার জন্য রক্ত দিতে পারেন। তাই জীবনদানের পাশাপাশি রক্তদান মানবতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রে বীরত্ব ও সহমর্মিতার যে ঐতিহ্য ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের সময় থেকে চলে আসছে, তা আজও অব্যাহত রয়েছে। অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশসেবার মধ্যেই মানুষের শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিহিত রয়েছে। রক্তদানকে সংস্কৃতিতে পরিণত করার আহ্বান তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, রক্তদানকে শুধুমাত্র একটি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। তরুণদের এই উদ্যোগে আরও বেশি করে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাজনাথ সিং বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সংবেদনশীল ভারত গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রক্তদানের মতো মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা জাতীয় গঠনে মূল্যবান অবদান রাখতে পারেন।
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করতে নতুন আদেশ ট্রাম্পের, মানলেন না আদালতের রায়
সকাল সকাল ডেস্ক সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করেই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন দুই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার এ পদক্ষেপ নেন তিনি। এ পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আবারও মার্কিন সংবিধানের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করলেন, যদিও এ বিষয়ে তাঁর আগের একটি চেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিলেন। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করা। হোয়াইট হাউসের মূল লক্ষ্য, কথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা ‘সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ’ বন্ধ করা। এ প্রক্রিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা বিদেশি নারীরা সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন। গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে গতকাল তিনি নির্বাহী আদেশের পথই বেছে নেন। এমন আদেশের মধ্য দিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারিত হলেও তা কংগ্রেসের পাস করা আইনের মতো শক্তিশালী নয়। এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া একটি নির্বাহী আদেশ অসাংবিধানিক হিসেবে বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিশানা করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন এ নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আওতাভুক্ত নয়। কারণ, এবার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মের নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, নাগরিকত্বের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিধি আরও বাড়ানো। ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে গতকাল নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, ‘এ আদেশে স্বাক্ষরের পর থেকেই বার্থ ট্যুরিজমের চর্চা নিষিদ্ধ করা হলো।’ অভিবাসন কমানোর পক্ষে কাজ করা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’ ২০২০ সালের একটি বিশ্লেষণে জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মাঝের এক বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ লাখ (৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন) শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যাঁদের ‘এলিয়েন এনিমি’ (শত্রু দেশের নাগরিক) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, তাঁদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারও নির্বাহী আদেশ দুটিতে সীমিত করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের স্কুলে নবম শ্রেণির পড়ুয়ার গুলি, শিক্ষক-সহ নিহত ৪
সকাল সকাল ডেস্ক ব্যাংকক: থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল নবম শ্রেণির এক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। শুক্রবার ননথাবুরি প্রদেশের বাং ক্রুয়াই জেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে শিক্ষক-সহ চারজনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও, রয়টার্স পুলিশকে উদ্ধৃত করে একজন শিক্ষক নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। হামলাকারী পড়ুয়ারও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোর ওই স্কুলেরই নবম শ্রেণির ছাত্র। শুক্রবার ক্লাস চলাকালীন আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সে সহপাঠী ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্কুলে। পড়ুয়াদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক শিক্ষক এগিয়ে এলে তাঁকেও গুলি করা হয় বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা স্কুলে পৌঁছন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় অভিযান। ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান দেচারেপি কোংডি বিবিসিকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। তবে কী কারণে সে স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলাকারীর মৃত্যু নিয়েও প্রথম দিকে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে খবর ছড়ায়, গুলি চালানোর পর ওই পড়ুয়া স্কুল ভবনের ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে। কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পরে জানায়, হামলাকারী নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। আবার কিছু সূত্রে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যুর দাবি করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশাসনের তরফে সব দাবির আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ পোহ টেক তুং ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা স্কুলের ভিতরে গোলাগুলির খবর পান। দ্রুত সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। প্রথম দিকে আহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। থাই পিবিএস আহতের সংখ্যা ১৫ বলে জানায়। যদিও পরবর্তী সময়ে রয়টার্স পুলিশকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন এবং চারজন আহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে হামলাকারীর আত্মহত্যার কথাও বলা হয়েছে। প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছিল, গুলি চালানোর পর অভিযুক্ত ছাত্রটি স্কুলের গোলাপি রঙের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় আশ্রয় নিয়েছিল। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্কুল চত্বর ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশে এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। অভিযুক্ত কিশোরের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে পৌঁছল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। থাইল্যান্ডের উপ-অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, অস্ত্রটির উৎস এবং কীভাবে ওই ছাত্র সেটি সংগ্রহ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটি দেবসিরিন স্কুলের একটি শাখা বলে জানা গিয়েছে। দেবসিরিন থাইল্যান্ডের পরিচিত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম এবং দেশটির বিভিন্ন জায়গায় এর শাখা রয়েছে। হামলার ঘটনাস্থল ননথাবুরি প্রদেশে, ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে অবস্থিত। থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের হাতে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। দেশটিতে অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার দাবি এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি বহুবার সামনে এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে গোলাগুলির ঘটনায় এক প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২২ সালে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রে এক প্রাক্তন পুলিশকর্মীর হামলা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনায় ২৪ শিশু-সহ মোট ৩৬ জন নিহত হন। শুক্রবারের ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ, মানসিক চাপ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে স্কুলের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নাবালকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছনোর বিষয়টিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
কোরিয়া মাস্টার্সে তানভীর অভিযান শেষ, সেমিফাইনালে অস্মিতা; কোয়ার্টারে ভারতীয় পুরুষ ডাবলস
সকাল সকাল ডেস্ক আসান (দক্ষিণ কোরিয়া) : কোরিয়া মাস্টার্স ২০২৬-এ দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালেই থামতে হল ভারতের তরুণ ব্যাডমিন্টন তারকা তানভী শর্মাকে। শুক্রবার আসানে অনুষ্ঠিত মহিলাদের এককের শেষ আটের লড়াইয়ে স্বদেশী রক্ষিতা রামরাজের কাছে ২১-১৮, ১৯-২১, ১৯-২১ গেমে পরাজিত হন ১৭ বছর বয়সি তানভী। গত সপ্তাহে তাইপেই ওপেন জিতে সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন তানভী। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই কোরিয়া মাস্টার্সেও তিনি দুর্দান্ত ছন্দে খেলছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম গেম জিতে আরও একটি সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে রক্ষিতা দারুণ প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয় গেম জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর রুদ্ধশ্বাস তৃতীয় গেমে স্নায়ুর লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়ে মুখোমুখি সাক্ষাতে ৪-০ ব্যবধানে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন। পরাজিত হলেও তানভীর পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে তিনি দ্রুত নিজের জায়গা তৈরি করছেন। একাধিক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছনো তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য বিডব্লিউএফ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই পারফরম্যান্স ভারতের জন্যও ইতিবাচক বার্তা। উল্লেখ্য, প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে তানভী স্বদেশী শ্রীয়াংশী ভালিশেট্টিকে ২১-১৬, ১৭-২১, ২১-১৩ গেমে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিলেন। এদিকে সেমিফাইনালে উঠেছেন ভারতেরই অস্মিতা চালিহা। তিনি শীর্ষ বাছাই জাপানের হিনা আকেচিকে ২০-২২, ২১-১৫, ২১-১৯ গেমে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছেন। ফলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবেন দুই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা—অস্মিতা চালিহা ও রক্ষিতা রামরাজ। অন্যদিকে, মহিলাদের দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈত বিভাগে ভারতের অভিযান শেষ হয়েছে। মহিলাদের ডাবলসে সোনালী সিং ও রিতিকা থাকের জাপানের সপ্তম বাছাই সুমিরে নাকাদে ও মিউ তাকাহাশির কাছে ২১-১৫, ২১-৯ গেমে পরাজিত হন। মিশ্র দ্বৈতেও ইশান ভাটনাগর ও শ্রুতি মিশ্র দক্ষিণ কোরিয়ার শিন তে-ইয়াং ও কিম ইউ জং জুটির কাছে ২১-১৬, ১৬-২১, ২১-১৩ গেমে হেরে বিদায় নেন। তবে পুরুষদের দ্বৈত বিভাগে ভারতের আশা এখনও অটুট। পৃথ্বী কৃষ্ণমূর্তি রায় ও কৃষ্ণ প্রসাদ গারাগা দক্ষিণ কোরিয়ার কিম ইয়ং-হিউক ও শিন তে-ইয়াং জুটিকে ২১-১৮, ২১-১৯ গেমে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন।
যুব সমাজকে সঠিক দিশা দেখানো জরুরি: দিলীপ ঘোষ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের যুব প্রজন্মের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, সমাজের সংকটময় সময়ে তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, মোহন ভাগবত বরাবরই হিন্দু সমাজের অভিভাবক, বন্ধু, দার্শনিক ও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছেন। সমাজ যখনই কোনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বা যুব সমাজকে বিভ্রান্ত বলে মনে হয়েছে, তখনই তিনি তাঁদের কথা শুনেছেন, পরিস্থিতি অনুধাবন করেছেন এবং যথাযথ দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, সরসঙ্ঘচালকের সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। তাঁর বিশ্বাস, এই সংলাপের মাধ্যমে বর্তমান সময়ের নানা সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। দিলীপ ঘোষের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বর্তমান প্রজন্মের ওপর ক্রমশ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তরুণ-তরুণীরা পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই না করেই বিভিন্ন বিষয়কে সমর্থন বা বিরোধিতা করেন। কখনও কখনও তারা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবেও পড়েন। তাই যুব সমাজকে সঠিক তথ্য, যুক্তি এবং মূল্যবোধের ভিত্তিতে পথ দেখানো সময়ের দাবি। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে ‘ইন্ডিয়াজ ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস’-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেন জি ও জেন আলফা প্রজন্মের প্রায় দুই হাজার তরুণ-তরুণীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন আরএসএস সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতভেদ ও বিরোধিতা সংলাপের একটি স্বাভাবিক ও বৈধ মাধ্যম। তবে সেই সংলাপের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাজে ঐক্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি করা, বিভাজন সৃষ্টি করা নয়। মোহন ভাগবত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাকেও যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ছয় শতাংশ শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
পাকিস্তানের অশান্ত বালুচিস্তানের সুরাব জেলায় কারফিউ, অমান্য করলে গুলি চালানোর নির্দেশ
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বালুচিস্তানের সুরাব জেলায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আচমকাই কারফিউ জারি করা হয়েছে। ৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হওয়া এই কারফিউ ৮ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কারফিউ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যেই বালুচ স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটি অভিযোগ করেছে, করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বালুচ ছাত্রকে করাচির গুলশন-ই-ইকবাল এলাকা থেকে পাকিস্তানি রেঞ্জার্স জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছে। ‘দ্য বালুচিস্তান পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় পৌঁছনো খবরে শুক্রবার সকালে জানা গিয়েছে, সুরাব জেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর জন্য সতর্ক করেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কারফিউ অমান্যকারীদের গুলি করা হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই দায়ী থাকবেন। বালুচিস্তানের মধ্যাঞ্চলে কোয়েটা-করাচি জাতীয় সড়কের উপর অবস্থিত সুরাব। এর আগেও বালুচিস্তানের কালাত ও মাস্তুং এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জেহরি এবং নুশকিতে গত কয়েক মাস ধরে কারফিউ বলবৎ রয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত বালুচ গোষ্ঠীগুলির উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বালুচ স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটির এক মুখপাত্রের অভিযোগ, প্রাদেশিক সরকারের পাশাপাশি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারও সাধারণ নাগরিক এবং ছাত্রছাত্রীদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, করাচির গুলশন-ই-ইকবাল এলাকায় বসবাসকারী পাঁচ বালুচ যুবককে পাকিস্তানি রেঞ্জার্স তুলে নিয়ে গিয়েছে। বালুচ স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটি জানিয়েছে, ওই পাঁচ যুবকই করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হায়াতের দুই ছেলে আজহার ও ঘোস বখশ, শাহিদের ছেলে শাহজাদ, আজিমের ছেলে আনিস এবং মহম্মদ আমিনের ছেলে ওয়াসিম বালুচ। কমিটির অভিযোগ, বুধবার রাত প্রায় ২টো নাগাদ করাচির গুলশন-ই-ইকবাল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই পাঁচ ছাত্রকে আটক করা হয়। অভিযোগ, তাঁদের মারধর করা হয় এবং পরে ধাক্কা দিতে দিতে তাঁদের জিনিসপত্র-সহ নিয়ে যাওয়া হয়। পাঁচ ছাত্রই ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।