টেনিস হল অফ ফেমে ফেডেরার, মঞ্চে বারবার চোখে জল কিংবদন্তির
সকাল সকাল ডেস্ক নিউপোর্ট: টেনিস কেরিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড ও সম্মানের পর এবার আরও এক বিশেষ স্বীকৃতি রজার ফেডেরারের মুকুটে। রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্টারন্যাশনাল টেনিস হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হলেন ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক সুইস কিংবদন্তি। একই সঙ্গে এই সম্মান পেয়েছেন প্রাক্তন খেলোয়াড় ও প্রখ্যাত ক্রীড়া সম্প্রচারক মেরি কারিলো। প্রথা মেনে শুক্রবার রাতের নৈশভোজে ফেডেরার ও কারিলোর গায়ে তুলে দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল টেনিস হল অফ ফেমের লোগো বসানো বিশেষ নীল ব্লেজার। শনিবার ঐতিহাসিক হর্সশু কোর্টে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জন ম্যাকেনরো, স্ট্যান স্মিথ, লিন্ডসে ভন-সহ ক্রীড়াজগতের বহু পরিচিত মুখ। অনুষ্ঠানের আগেও ফেডেরারের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার ঝলক দেখা যায়। এক অনুরাগী তাঁর চার বছরের মেয়ের টেনিস কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করলে ফেডেরার মজা করে জানান, চার বছর বয়সে শুরু করা একটু দেরি হয়ে গেল, কারণ তিনি নিজে তিন বছর বয়সেই টেনিস শুরু করেছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রথমে সম্মানিত করা হয় মেরি কারিলোকে। কিংবদন্তি বিলি জিন কিং তাঁর হাতে সম্মান তুলে দেন। ১৯৭৭ সালে ফরাসি ওপেনে জন ম্যাকেনরোর সঙ্গে মিক্সড ডাবলস খেতাব জিতেছিলেন কারিলো। পরে হাঁটুর চোটের কারণে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে ক্রীড়া সম্প্রচারের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর ফেডেরারের কেরিয়ারের বিভিন্ন অজানা মুহূর্ত তুলে ধরেন তাঁর স্ত্রী মিরকা। একসময় নিজেও পেশাদার টেনিস খেলতেন মিরকা। তিনি জানান, তাঁদের পরিচয়ের সময় ফেডেরারের ঝুলিতে কোনও বড় ট্রফি ছিল না। ম্যাচের আগে অনেক সময় তিনিই ফেডেরারকে কোর্টে ওয়ার্ম-আপ করাতেন। অ্যান্ডি রডিকের বিরুদ্ধে ফেডেরারের একটি জয়ের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। স্ত্রীর মুখে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ফেডেরার। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিকবার চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাঁকে। ফেডেরার জানান, খ্যাতি অর্জন কখনও তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল না। নিজের পছন্দের কাজটি প্রিয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে করে যাওয়াই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাসেলে বল-বয় হিসেবে টেনিসের সঙ্গে নিজের যাত্রা শুরুর কথাও স্মরণ করেন ফেডেরার। ছেলেবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে চক দিয়ে কোর্ট এঁকে গভীর রাত পর্যন্ত খেলার স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, নিজেকে কখনও আলাদা করে পেশাদার অ্যাথলিট হিসেবে দেখেননি, বরং সবসময় একজন টেনিস খেলোয়াড় হিসেবেই ভাবতে পছন্দ করেছেন। মিরকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়েও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সুইস কিংবদন্তি। দীর্ঘ কেরিয়ারে পরিবার তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বলে জানান তিনি। টেনিসকে ‘জটিল অথচ সুন্দর খেলা’ হিসেবেও বর্ণনা করেন ফেডেরার। কোর্টের জ্যামিতি থেকে বলের গতি, ম্যাচের চাপ—সবকিছুই তাঁর কাছে বিশেষ আকর্ষণের ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে কেরিয়ারের সমাপ্তি ঘটলেও টেনিসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও শেষ হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফেডেরারের কথায়, খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অধ্যায় শেষ হয়েছে, কিন্তু টেনিস চিরকাল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের জায়গাগুলির একটি হয়ে থাকবে। দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ এবং সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানান সর্বকালের অন্যতম সেরা এই টেনিস তারকা।
মাত্র ১৫ বছরেই দলীপ ট্রফিতে নেতৃত্ব বৈভবের, সামিদের সামলে গড়লেন নজির
সকাল সকাল ডেস্ক বেঙ্গালুরু : বয়স মাত্র ১৫ বছর। অথচ সেই বয়সেই সিনিয়র দলের নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন বৈভব সূর্যবংশী। দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ইস্ট জোনের অধিনায়ক ঈশান কিষাণ চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তেই দলের দায়িত্ব নেন সহ-অধিনায়ক বৈভব। মহম্মদ সামি, মুকেশ কুমার, অভিমন্যু ঈশ্বরনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে মাঠে দল পরিচালনা করে নজর কাড়লেন তরুণ ব্যাটার। রবিবার বেঙ্গালুরুতে সেন্ট্রাল জোনের প্রথম ইনিংসের ১৯তম ওভারে উইকেটকিপিং করার সময় ডান হাতের কব্জিতে চোট পান ঈশান। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে উঠে যেতে হয়। পরে ড্রেসিংরুমের বাইরে তাঁর হাতে ভারী ব্যান্ডেজ দেখা যায়। ঈশান মাঠ ছাড়ার পর উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব নেন কুমার কুশাগ্র। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বৈভবকে ইস্ট জোনের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল। ফলে ঈশানের অনুপস্থিতিতে মাঠে দল পরিচালনার দায়িত্ব এসে পড়ে ১৫ বছরের বৈভবের কাঁধে। মাঠে উপস্থিত ক্রিকেটারদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট হয়েও অভিজ্ঞদের পরিচালনা করতে পিছপা হননি তিনি। মহম্মদ সামির মতো অভিজ্ঞ পেসারের বোলিং স্পেল সামলানো থেকে শুরু করে ফিল্ডিং সাজানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বোলিং পরিবর্তন— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় বৈভবকে। তাঁর নেতৃত্বে লাঞ্চের আগে সেন্ট্রাল জোনকে চাপে রাখে ইস্ট জোন। ৮১ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় প্রতিপক্ষ। বড় মঞ্চে বৈভবের ফিল্ড প্লেসমেন্ট ও বোলিং পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নজর কাড়ে। দলীপ ট্রফির শুরুতেই বৈভবকে সহ-অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এত কম বয়স এবং সীমিত প্রথম শ্রেণির অভিজ্ঞতা থাকা একজন ক্রিকেটারকে কেন এত বড় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ইস্ট জোনের নির্বাচকদের লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতের জন্য তরুণ ক্রিকেটারকে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা দেওয়া। ২০২৪ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় বৈভবের। সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি তাঁর দশম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং দ্বিতীয় দলীপ ট্রফি ম্যাচ। সেই সীমিত অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে সিনিয়র দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি। ঈশানের কব্জির চোট কতটা গুরুতর, তা মেডিক্যাল পরীক্ষার পর স্পষ্ট হবে। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বৈভব। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সিনিয়র স্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে মাঠে দল পরিচালনা করে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন নজিরের জন্ম দিলেন এই তরুণ ক্রিকেটার।
পন্টিংকে টপকে ইতিহাস রুটের, এবার নজরে সচিনের জোড়া রেকর্ড
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন : ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে নতুন ইতিহাস গড়লেন জো রুট। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে রিকি পন্টিংকে পিছনে ফেলে ঘরের মাঠে সর্বাধিক টেস্ট রানের মালিক হলেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার। এই রেকর্ড নিজের নামে করার পর এবার তাঁর সামনে সচিন তেন্ডুলকরের একাধিক মাইলফলক ছোঁয়ার হাতছানি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৯২টি টেস্ট খেলে পন্টিং করেছিলেন ৭,৫৭৮ রান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্ট শুরুর আগে সেই রেকর্ড টপকাতে রুটের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৩ রান। প্রথম ইনিংসে অবশ্য মাত্র ৪ রান করেই ফিরে যান তিনি। ফলে অপেক্ষা বাড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে সেই অপেক্ষার অবসান হয়। ৩৭ বলে ২৪ রান করেন রুট। মহম্মদ আলির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেও তার আগেই পন্টিংকে টপকে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেন ইংল্যান্ডের তারকা। ঘরের মাঠে ৮৯টি টেস্টে রুটের সংগ্রহ এখন ৭,৫৯১ রান। পন্টিংয়ের ৭,৫৭৮ রান করতে লেগেছিল ৯২টি টেস্ট। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর। ভারতের মাটিতে ৯৪টি টেস্ট খেলে তাঁর সংগ্রহ ৭,২১৬ রান। ঘরের মাঠে সর্বাধিক টেস্ট রানের তালিকার প্রথম সারিতে রয়েছেন মহেলা জয়বর্ধনে এবং জ্যাক কালিসও। ঘরের মাঠে পন্টিংয়ের রেকর্ড ভাঙার পর রুটের সামনে এবার আরও বড় লক্ষ্য। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক রানের বিশ্বরেকর্ড এখনও সচিন তেন্ডুলকরের দখলে। ২০০টি টেস্টে সচিনের সংগ্রহ ১৫,৯২১ রান। সেই মাইলফলকের দিকেই ক্রমশ এগিয়ে চলেছেন রুট। তবে রেকর্ড গড়লেও চলতি হোম মরসুমে রুটের ব্যাটে তাঁর পরিচিত ছন্দ এখনও পুরোপুরি দেখা যায়নি। টানা ১০টি ইনিংসে শতরান নেই। চলতি মরসুমে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ৭৭। লর্ডসেও ক্রিজে কিছুটা সময় কাটানোর পর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। তা সত্ত্বেও একের পর এক ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করে চলেছেন ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ঘরের মাঠে আরও একটি নজিরের সামনে দাঁড়িয়ে রুট। ইংল্যান্ডের মাটিতে ১৯৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ২৬০ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১১,৯২৮ রান। আর ৭২ রান করলেই ঘরের মাঠে ১২ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। সেই নজির গড়তে পারলে বিশ্বের ষষ্ঠ এবং ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি অর্জন করবেন রুট। এই তালিকাতেও শীর্ষে সচিন। ভারতের মাটিতে ২৫৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৩১৩ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১৪,১৯২ রান। ফলে পন্টিংকে পিছনে ফেলার পর রুটের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ সচিনের রেকর্ডগুলির দিকে আরও এগিয়ে যাওয়া।
নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তৃতীয়বার মহিলা হকি বিশ্বকাপ জিতল আর্জেন্টিনা
সকাল সকাল ডেস্ক অ্যামস্টেলভিন : ইউরোপের হকির শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসকে তাদেরই ঘরের মাঠে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো মহিলা হকি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা। শনিবার ওয়াগেনার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। গত ১৩ বছরে আন্তর্জাতিক হকিতে নেদারল্যান্ডসের আধিপত্য ছিল প্রায় অপ্রতিরোধ্য। টানা তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি তারা বছরে গড়ে মাত্র একটি করে ম্যাচ হেরেছে। সেই দুর্ভেদ্য দুর্গেই এদিন ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে দুই দলই একটি করে গোল করে সমতায় ছিল। শেষ মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে এনে ম্যাচকে শুটআউটে নিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর গোলরক্ষক ক্রিস্টিনা কসেন্তিনো দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে নেদারল্যান্ডসের দুটি শট প্রতিহত করেন। অন্যদিকে সোফিয়া কায়রো সফল শট নিয়ে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন এবং শুরু হয় শিরোপা উদযাপন। এই জয় আর্জেন্টিনার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের বদলা নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও অর্জন করল তারা। মহিলা হকি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা। এদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সহ-আয়োজক বেলজিয়াম অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেয়। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন শার্লট এঙ্গেলবার্ট।
উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী মোদী
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শভকাত মির্জিওয়েভ রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘ওলিয়া দারজালি দোস্তলিক’ (সর্বোচ্চ মৈত্রী সম্মান) প্রদান করেছেন। এই সম্মান দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব এবং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সম্মান গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মান। তিনি উজবেকিস্তানের জনগণ, সরকার এবং রাষ্ট্রপতি শভকাত মির্জিওয়েভের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই সম্মান তাঁর কাছে গর্বের পাশাপাশি এক বড় দায়িত্বও। ভারত সর্বদাই এই বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও উজবেকিস্তান ভবিষ্যতেও ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং মানবকল্যাণে একসঙ্গে কাজ করে যাবে। তিনি এই সম্মানকে দুই দেশের শতাব্দীপ্রাচীন বন্ধুত্ব, অভিন্ন ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রতি উৎসর্গ করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি মির্জিওয়েভের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ভারতের প্রতি তাঁর আন্তরিক সদ্ভাবের প্রশংসা করে মোদী বলেন, সেই কারণেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আজ ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি শভকাত মির্জিওয়েভ প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ফলপ্রসূ ও আন্তরিক আলোচনার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্বমঞ্চে ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাষ্ট্রপতি আরও জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবহন, পর্যটন, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে ভারত ও উজবেকিস্তানের সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক লেনদেন কোনও চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং এটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সূচনা মাত্র। ভবিষ্যতের লক্ষ্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জিওয়েভ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রথমে পাঁচ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তীতে দশ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ আশাবাদী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানের বালুচিস্তানে সেনার সাঁজোয়া বহরে হামলা, ১৩ জওয়ান নিহতের দাবি বিএলএ-র
সকাল সকাল ডেস্ক ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বালুচিস্তানে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ির বহরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৩ জন জওয়ান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। হামলার দায় স্বীকার করে সংগঠনটির সরকারি চ্যানেল ‘হাকাল’ এক মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওটিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। হাকাল মিডিয়ার সূত্র উল্লেখ করে ‘দ্য বালুচিস্তান পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির সদস্যরা মাস্তুংয়ের খড়কোচা এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। আইইডি বিস্ফোরণে একটি সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও একটি সাঁজোয়া গাড়ি এবং কনভয়ের সঙ্গে থাকা অন্যান্য গাড়ির উপরও অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। বিএলএ-র দাবি, হামলায় ১৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সংগঠনটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই অভিযানে তাদের স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশন স্কোয়াডও অংশ নেয়। এই ইউনিটটি ‘ফতেহ স্কোয়াড’ নামেও পরিচিত। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কনভয় আসার আগে একটি সেতুর নিচে বিস্ফোরক স্থাপন করা হচ্ছে। সাঁজোয়া গাড়ির কনভয় সেখানে পৌঁছনোর পর একটি গাড়ি শক্তিশালী বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। হামলার পর ড্রোন থেকে ধারণ করা কিছু দৃশ্যও ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে। বিএলএ পাকিস্তানে সক্রিয় একটি সশস্ত্র বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। চলতি বছরের ১১ মার্চ বোলান জেলায় জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনে হামলা চালিয়ে ১৮০ জনের বেশি মানুষকে পণবন্দি করার ঘটনার দায়ও সংগঠনটি নিয়েছিল। ওই অভিযানে বিএলএ-র ফিদায়িন ইউনিট ‘মজিদ ব্রিগেড’-এর পাশাপাশি স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশন স্কোয়াড অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। বালুচিস্তানকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০০ সালে বিএলএ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর এবং চিনের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পকে অতীতে একাধিকবার নিশানা করেছে সংগঠনটি। বিএলএ-র বিভিন্ন অভিযান মূলত মজিদ ব্রিগেড, ফতেহ স্কোয়াড এবং অন্যান্য সশস্ত্র ইউনিটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব ইউনিট মূলত গেরিলা কৌশলে হামলা চালানোর জন্য পরিচিত। মজিদ ব্রিগেড প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে। এটি বিএলএ-র বিশেষ বাহিনী হিসেবে পরিচিত এবং আত্মঘাতী হামলায় এই ইউনিটকে ব্যবহার করা হয়। ব্রিগেডটির নাম রাখা হয়েছে আব্দুল মজিদ বালুচের নামে। ১৯৭৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টোকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন আব্দুল মজিদ বালুচ। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানে একাধিক বড় হামলার সঙ্গে মজিদ ব্রিগেডের নাম জড়িয়েছে। অন্যদিকে, ফতেহ স্কোয়াড প্রধানত বালুচিস্তানের পাহাড়ি এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক টহলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা অভিযান পরিচালনা করে বলে জানা যায়। বিএলএ-র দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ‘অপারেশন হেরোফ’-এর সময় ফতেহ স্কোয়াড অন্য ইউনিটগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বালুচিস্তানের ১৪টি স্থানে অবরোধ তৈরি করেছিল এবং সেই অভিযানে ৬২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছিলেন। তবে এই সংখ্যাগুলি বিএলএ-র নিজস্ব দাবি। স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশন স্কোয়াডকে বিএলএ-র একটি বিশেষ ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ইউনিট মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়। বশির জাইব বালুচের নেতৃত্বাধীন বিএলএ-র এই ইউনিট পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাদের স্থানীয় সহযোগীদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। বালুচিস্তানের বর্তমান সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও দীর্ঘ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় কালাত রাজ্য স্বাধীনতা ঘোষণা করে। বর্তমান বালুচিস্তানের একটি বড় অংশ তখন কালাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কালাতের সম্পর্ক নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে কালাত পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটিতে অসন্তোষ ও সশস্ত্র বিদ্রোহের বিভিন্ন পর্যায় দেখা যায়। ১৯৪৮ সালের পর ১৯৫৮-৫৯, ১৯৭৩-৭৭ এবং ২০০৪ সালের পরবর্তী সময়েও বালুচিস্তানে একাধিক বিদ্রোহ হয়েছে। বালুচ জাতীয়তাবাদীদের অভিযোগ, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও স্থানীয় মানুষ তার যথাযথ সুবিধা পান না। বিভিন্ন বালুচ গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সম্পদের ন্যায্য অংশীদারিত্ব এবং অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন সময় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা করেছে। এসব অভিযানকে ঘিরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে।
ভারত এখন আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম রাষ্ট্র, বিশ্বমঞ্চে নিয়ম নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে: রাজনাথ সিং
সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি দৃঢ় আস্থাশীল একটি দেশ হিসেবেও আন্তর্জাতিক পরিসরে আত্মপ্রকাশ করেছে। শনিবার উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের দরবারে ভারতের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ভারত যখন কোনও বিষয়ে মতামত জানায়, আন্তর্জাতিক মহল তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তাঁর কথায়, ‘নতুন ভারত’-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, দেশ আর কেবল বৈশ্বিক নিয়ম অনুসরণকারী নয়; বরং আন্তর্জাতিক নীতি ও মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রাজনাথ সিংয়ের মতে, একটি দেশের ভাষা, সংস্কৃতি এবং সভ্যতার প্রতি নাগরিকদের গর্ববোধ সেই দেশকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ভারত বর্তমানে এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানসিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কাজ শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং দায়িত্বশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলা। তাঁর মতে, শিক্ষাঙ্গন থেকে এমন তরুণ প্রজন্ম উঠে আসা প্রয়োজন, যাদের মধ্যে দেশগঠনের মানসিকতা থাকবে এবং যারা ন্যায়, সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্বের সাংবিধানিক আদর্শে বিশ্বাসী হবে। তিনি আরও জানান, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশে শিক্ষার গুণগত মান, সহজলভ্যতা এবং সাশ্রয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের খাতে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়েছে এবং প্রায় ৩৪ বছর পর কার্যকর হয়েছে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি, যা শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য, এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলেই দেশের তরুণ সমাজ আজ স্টার্টআপ, ইউনিকর্ন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রে নতুন উদ্যমে এগিয়ে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ভারতের যুবশক্তিই দেশকে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে।
ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভান্ডারে বাড়ছে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ, বড় চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন, ২৯ অগস্ট: ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল চুক্তির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের মজুতের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। শুক্রবার চুক্তির কথা ঘোষণা করে একে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলচুক্তি’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই চুক্তির হাত ধরে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আসবে বলেও দাবি তাঁর। বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই কারাকাসের উপর ওয়াশিংটনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাদুরোর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদে আমেরিকার প্রভাব বাড়ানোর আগ্রহের কথা আগেও একাধিকবার জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চুক্তির ঘোষণা করে তিনি দাবি করেন, এর ফলে আমেরিকার হাতে থাকা তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন। তাঁর দাবি, এই সমঝোতা আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ক্রমশ উন্নত হতে থাকা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। চুক্তিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার কাছাকাছি অঞ্চলেই স্থিতিশীল তেলের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর ক্ষেত্রেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ রুবিও দাবি করেন, চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। যদিও এই বিপুল বিনিয়োগ কী ভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছিল, আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে প্রায় এক ডজন উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই তেলক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যা ভেনেজুয়েলার মোট প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। দুই মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, আমেরিকার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত কয়েক দশকের মধ্যে তুলনামূলকভাবে নিচু স্তরে থাকার সময়ে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি ওয়াশিংটনের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, চুক্তির প্রভাবে আমেরিকায় পেট্রলের দাম কমবে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম মার্কিন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তেলের সরবরাহে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপের মুখে রয়েছে প্রশাসন। এদিকে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মার্কিন সংস্থাগুলিকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও দীর্ঘদিনের অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো এবং অতীতে বিদেশি সংস্থার সম্পদ অধিগ্রহণের নজিরের কারণে অনেক মার্কিন সংস্থাই এখনও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অন্যতম বড় মার্কিন তেল সংস্থা শেভরন গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, তাদের দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ উৎপাদন আরও প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে মার্কিন সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকার এই তেলসমৃদ্ধ দেশটির সঙ্গে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্য এশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী
উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যোগ দেবেন এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে শনিবার উজবেকিস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই সফরে তিনি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত হতে চলা ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনেও অংশ নেবেন। শনিবার সকালে বিশেষ বিমানে নয়াদিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের প্রথম পর্বে তিনি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে পৌঁছে সে দেশের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে প্রতিনিধি-স্তরের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। পাশাপাশি একাধিক সরকারি কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বিশকেকে যাবেন। সেখানে ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ও অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে। সফর শুরুর আগে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, আগামী কয়েক দিন তিনি উজবেকিস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তিনি লেখেন, “তাশখন্দে প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করব। পাশাপাশি তাশখন্দ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজে শাস্ত্রী স্মৃতিসৌধ এবং মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্র পরিদর্শন করব। এরপর বিশকেকে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেব।” কূটনৈতিক মহলের মতে, মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এসসিও মঞ্চে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বার্তাও এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় প্রথম মস্তিষ্কের টিউমার অস্ত্রোপচার, দৃষ্টিশক্তি ফিরল রোগীর
সকাল সকাল ডেস্ক লন্ডন: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন নজির। বিশ্বে প্রথমবার সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় অস্ত্রোপচার করে এক রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার সফলভাবে অপসারণ করলেন ব্রিটেনের চিকিৎসকেরা। অস্ত্রোপচার না হলে ওই রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ুর সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করে তাঁদের নিরাপদে টিউমার অপসারণে সাহায্য করেছে। রোগীর নাম রিস হিবার্ট। ৪৮ বছরের হিবার্ট দুই সন্তানের বাবা এবং ব্রিটেনের বেডফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে এই অস্ত্রোপচার করেন। প্রায় ১৮ মাস আগে হাঁটার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে খিঁচুনি শুরু হয় হিবার্টের। পরীক্ষায় তাঁর মস্তিষ্কে ১১ মিলিমিটার আকারের একটি টিউমার ধরা পড়ে। টিউমারটি ক্যানসারযুক্ত না হলেও মস্তিষ্কের নিচের দিকে থাকা পিটুইটারি গ্রন্থিতে বেড়ে উঠছিল। এর খুব কাছেই রয়েছে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ ক্যারোটিড ধমনি এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অপটিক স্নায়ু। টিউমারটি বড় হতে থাকায় অপটিক স্নায়ুর উপর চাপ বাড়ছিল। ফলে ধীরে ধীরে হিবার্টের দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। ঝাপসা দেখার কারণে হাঁটার সময় বিভিন্ন জিনিসে হোঁচট খাওয়ার পাশাপাশি ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর নাক দিয়ে একটি সরু ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে খুলির নিচের অংশ পর্যন্ত নিয়ে যান চিকিৎসকেরা। একই সময়ে পৃথক পর্দায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ক্যামেরার দৃশ্য বিশ্লেষণ করে। অস্ত্রোপচারের যন্ত্রগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ুর সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করে চিকিৎসকদের সতর্ক করে দেয় ওই ব্যবস্থা। টিউমারের কোন অংশ দিয়ে অস্ত্রোপচার তুলনামূলক নিরাপদ হবে, সেই নির্দেশনাও পাওয়া যায়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার অপসারণের কয়েকশো অস্ত্রোপচারের দৃশ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থাটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দৃশ্যে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ুর অবস্থান চিহ্নিত ছিল। সেই তথ্য থেকেই মস্তিষ্কের জটিল গঠন শনাক্ত করার ক্ষমতা অর্জন করেছে প্রযুক্তিটি। অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক হানি মার্কাস জানিয়েছেন, একজন চিকিৎসক তাঁর গোটা কর্মজীবনে যত অস্ত্রোপচার দেখেন বা করেন, তার থেকেও বেশি অস্ত্রোপচারের তথ্য এই ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র চিকিৎসকদের সহায়তা করেছে। অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসকদের হাতেই ছিল। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং গুগলের অর্থায়নে কয়েক বছর ধরে প্রযুক্তিটি নিয়ে গবেষণা চলছে। প্রথম বাস্তব অস্ত্রোপচারে সাফল্যের পর এবার আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন গবেষকেরা। অস্ত্রোপচারের আট সপ্তাহের মধ্যে হিবার্টের দৃষ্টিশক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তাঁর কর্মশক্তিও ফিরে এসেছে এবং আগের অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও অনেকটাই দূর হয়েছে। হিবার্টের কথায়, এই অস্ত্রোপচার তাঁকে তাঁর জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।