অভিষেকের ব্যাটিং ঝড়ে উড়ল আফগানিস্তান, সাত উইকেটে জয় ভারতের
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : জিম্বাবোয়েকে তাদের ঘরের মাঠে ক্লিন সুইপ করার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা দাপটের সঙ্গে করল ভারত। রবিবার প্রথম ম্যাচে সাত উইকেটে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ওপেনার অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৩৮ বল বাকি থাকতেই ১৫৭ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারত। টস জিতে আফগানিস্তানকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের দাপটে বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ৪৩ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। সেখান থেকে দলকে লড়াইয়ে ফেরান আজমতুল্লাহ ওমরজাই এবং মহম্মদ নবি। ষষ্ঠ উইকেটে দু’জনে যোগ করেন ৮৩ রান। নবি ২৭ বলে ৩৩ রান করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান ওমরজাই। ৪৪ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে চারটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন তিনি। তাঁর ইনিংসের সুবাদেই নির্ধারিত ২০ ওভারে আট উইকেটে ১৫৬ রান তোলে আফগানিস্তান। ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল আর্শদীপ সিং। বাঁ-হাতি পেসার ১৯ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। চোট সারিয়ে দলে ফেরা জসপ্রীত বুমরা চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তীও একটি করে উইকেট পান। ১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সঞ্জু স্যামসনকে হারায় ভারত। ১০ রান করে ফেরেন তিনি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণের ১২১ রানের জুটিতেই ম্যাচ কার্যত ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। শুরু থেকেই আফগান বোলারদের উপর আক্রমণ চালান অভিষেক। মাত্র ২২ বলে পূর্ণ করেন টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের দ্বাদশ অর্ধশতরান। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৮২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন বাঁ-হাতি ওপেনার। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও সাতটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে অভিষেককে যোগ্য সঙ্গত দেন ঈশান। পাঁচটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৩৩ বলে ৪২ রান করেন তিনি। ঈশান যখন ফেরেন, জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র পাঁচ রান। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার আট এবং তিলক বর্মা তিন রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন। মাত্র ১৩.৪ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। ম্যাচজয়ী ৮২ রানের ইনিংসের জন্য সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন অভিষেক শর্মা।
নিজের ভাষায় কথা বললে ছোট মনে করা বড় পাপ, তরুণদের বার্তা অমিত শাহের
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : হিন্দি দিবস উপলক্ষে দেশের তরুণ প্রজন্ম ও অভিভাবকদের বিশেষ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিজের মাতৃভাষাকে কখনও অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের যত বেশি সম্ভব ভাষা শেখা উচিত, কিন্তু নিজের ভাষাকে কখনও পরিত্যাগ করা উচিত নয়। নিজের ভাষায় কথা বললে নিজেকে ছোট মনে করার মানসিকতাকে ‘বড় পাপ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার হিন্দি দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, ভারত ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির এক অনন্য দেশ। দেশের বিভিন্ন ভাষার ভিন্নতাকে অনেক সময় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হলেও, এই বৈচিত্র্যই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রতিটি ভাষার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনদর্শন, যা দেশের তরুণ প্রজন্মের মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর মতে, এই ভাষাগত বহুত্বই ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর চেতনাকে আরও শক্তিশালী করে। হিন্দি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হিন্দি কোনও ভারতীয় ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ ও জাতীয় সংহতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে হিন্দি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ভূমিকা পালন করে। দেশের ইতিহাসেও তার বহু উদাহরণ রয়েছে। অমিত শাহ উল্লেখ করেন, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মাতৃভাষা গুজরাটি হলেও তিনি হিন্দিতে ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ রচনা করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী ১৯১৮ সালে মাদ্রাজে ‘দক্ষিণ ভারত হিন্দি প্রচার সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আবার বাংলাভাষী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর যোগাযোগের ভাষা হিসেবে হিন্দিকে বেছে নিয়েছিলেন এবং দেশবাসীকে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান উপহার দিয়েছিলেন। হিন্দিভাষী না হয়েও বহু মহান ব্যক্তিত্বের হিন্দির প্রসারে অবদান দেশের ভাষাগত ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, তাঁর মাতৃভাষা গুজরাটি। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে হিন্দি তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করে। স্বাধীনতার পর ভারতীয় ভাষাগুলি দেশ গঠন, প্রশাসন পরিচালনা এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে বলেও জানান তিনি। ১৯৪৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গণপরিষদ হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছিল বলে উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পরও নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মমর্যাদার বিষয়গুলি দীর্ঘদিন প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘রাজপথ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কর্তব্য পথ’ করা কিংবা ঔপনিবেশিক আমলের আইন পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপকে তিনি আত্মগৌরব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে অমিত শাহের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘বিশ্বের যত বেশি সম্ভব ভাষা তোমরা শেখো, কিন্তু নিজের ভাষাকে কখনও পরিত্যাগ করো না।’’ একইসঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, নিজের ভাষায় কথা বললে নিজেকে ছোট মনে করার হীনম্মন্যতার চেয়ে বড় পাপ নেই। কারণ, মাতৃভাষাই মানুষকে তার মা, মাটি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২১
সকাল সকাল ডেস্ক কেপ টাউন, ১৪ সেপ্টেম্বর। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। লিউ-গামকা ও প্রিন্স অ্যালবার্টের মধ্যবর্তী একটি মহাসড়কে দুটি মিনিবাস ট্যাক্সি এবং একটি এসইউভির মধ্যে সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন (আরটিএমসি) জানিয়েছে, রবিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ২১ জন প্রাণঘাতী আঘাত পান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর মহাসড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়। পুলিশ দুর্ঘটনার ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনায় আহত আরও বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেপ টাউন থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং সিট বেল্ট ব্যবহার না করাকে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরটিএমসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ হাজার ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা পাঁচ শতাংশেরও কম হ্রাস পেয়েছিল। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন পথচারীরা।
লোহিত সাগরে হুতিদের দাপট, ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করল সৌদি আরব
সকাল সকাল ডেস্ক রিয়াধ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ল বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট–ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির কৌশলগত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। ফলে আরব উপদ্বীপের দুই প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ ঘিরে চাপ আরও বেড়েছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ। প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনটি দেশের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলিকে লোহিত সাগরের উপকূলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়েও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানোর সুযোগ পায় রিয়াধ। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে হরমুজ দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এই পাইপলাইনের গুরুত্ব আরও বেড়েছিল। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াধ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে হামলা হয়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সৌদি বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তবে তেল রপ্তানিতে ঠিক কতটা প্রভাব পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হয়েছে। যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের আনুমানিক ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান। ফলে পাইপলাইন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যেই বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের অগ্রগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইয়েমেনের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম বা ময়উন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। দ্বীপটি বাব আল-মানদেব প্রণালির মাঝামাঝি অবস্থিত। ফলে লোহিত সাগরে প্রবেশ ও বেরোনোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দ্বীপটি থেকে সরে যাওয়ার পর হুতি যোদ্ধারা নৌযানে সেখানে পৌঁছয়। বাব আল-মানদেব উপকূলের বিভিন্ন এলাকাতেও সশস্ত্র যোদ্ধা ও সামরিক যান মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অবশ্য দাবি করেছেন, আগে থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজগুলির জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ রয়েছে। এদিকে ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার জন্য কারা সরাসরি দায়ী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার পর ইরাকের মাইসান প্রদেশে সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা এক শীর্ষ কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ইরান সীমান্তবর্তী মাইসান দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন এলাকা হিসেবে পরিচিত। ইরাক সরকার সৌদি আরবে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ শালামচেহ সীমান্তপথও বন্ধ করেছে বাগদাদ। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বড় আকারে অভিযান চলছে বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। সৌদি আরব এখনও পাল্টা সামরিক হামলার পথে না হাঁটার সিদ্ধান্তে অটল। তবে রিয়াধ জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা’ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন হুতিদের মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য, ওয়াশিংটন আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে নামতে আগ্রহী নয়। তবে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেওয়া হতে পারে।
আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া
সকাল সকাল ডেস্ক আলজিয়ার্স: সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলজেরিয়া। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। তবে ঠিক কোন সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি আলজেরিয়া। আলজেরিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা আর গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগও ক্রমশ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ আলজিয়ার্সের। দেশটিতে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তা কার্যকর করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। আলজেরিয়ার সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবির বিদেশ মন্ত্রক আশা প্রকাশ করেছে, এই পরিস্থিতি সাময়িক হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক ও অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানিয়েছে। আমিরাতের বিবৃতিতে আলজেরিয়ার জনগণের প্রতি শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে আমিরাতে বসবাসকারী আলজেরীয় নাগরিক এবং পর্যটকদের মাধ্যমে সেই যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমিরাতের বিমানের জন্য আকাশসীমাও বন্ধ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি আমিরাতে নিবন্ধিত সামরিক ও বেসামরিক বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলজেরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আলজিয়ার্সে যাতায়াতকারী আমিরাতের বাণিজ্যিক উড়ানকে সাময়িক ভাবে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হবে। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই একাধিক আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক প্রশ্নে আলজেরিয়া এবং আমিরাত বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। পশ্চিম সাহারা থেকে ইসরায়েল, একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে আলজেরিয়া। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। আলজেরিয়ার অন্যতম আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কোও একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পশ্চিম সাহারা প্রশ্নেও আলজিয়ার্স ও আবুধাবি বিপরীত মেরুতে। আমিরাত পশ্চিম সাহারার উপর মরক্কোর দাবিকে সমর্থন করে এবং ওই অঞ্চলে তাদের একটি কনস্যুলেটও রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত পলিসারিও ফ্রন্টকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে আলজেরিয়া। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থের সংঘাত ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ওই অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করেছে আমিরাত। অন্যদিকে একাধিক সামরিক অভ্যুত্থানের পর দক্ষিণের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেবউন গত বছরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশ ছাড়া বাকি দেশগুলির সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল। সংশ্লিষ্ট দেশের নাম না বললেও তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেই তখন মনে করা হয়েছিল। ওই দেশের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টার অভিযোগও করেছিলেন তিনি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দূরত্বের আর একটি ইঙ্গিত মিলেছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত দুই দেশের বিমান চলাচল চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে আলজেরিয়া। এবার সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তে সেই টানাপোড়েন আরও গভীর হল।
পুতিনকে রুশ ভাষায় অনূদিত ‘তিরুক্কুরাল’ উপহার মোদীর
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় তাঁকে রুশ ভাষায় অনূদিত তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের অমর সৃষ্টি ‘তিরুক্কুরাল’ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই উপহারের মাধ্যমে তিরুভাল্লুভারের শাশ্বত জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ভাষা ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রাষ্ট্রপতি পুতিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে দুই রাষ্ট্রনেতা পরস্পরকে উষ্ণ অভিবাদন জানান। এরপর ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী পুতিনকে রুশ ভাষায় অনূদিত ‘তিরুক্কুরাল’ উপহার দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পুতিনকে ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে মহান তিরুভাল্লুভারের শাশ্বত জ্ঞান ও চিন্তার ঐতিহ্য ভাষা এবং ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তামিল সাহিত্যের অমূল্য সৃষ্টি ‘তিরুক্কুরাল’ তিরুক্কুরাল তামিল সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রভাবশালী গ্রন্থ। তিরুভাল্লুভারের রচিত এই গ্রন্থে মোট ১ হাজার ৩৩০টি দ্বিপদী রয়েছে। সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর ভাবনায় এই দ্বিপদীগুলিতে নীতিশাস্ত্র, সদাচার, শাসনব্যবস্থা, সামাজিক জীবন এবং মানবিক মূল্যবোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তিরুভাল্লুভারের দর্শনে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে ‘তিরুক্কুরাল’ শুধু তামিল ভাষা ও সাহিত্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছেও পৌঁছেছে। সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বার্তা পুতিনকে রুশ ভাষায় অনূদিত ‘তিরুক্কুরাল’ উপহার দেওয়ার ঘটনাকে ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টিও এই উপহারের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ও সাহিত্যকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রুশ ভাষায় ‘তিরুক্কুরাল’-এর অনুবাদ রাশিয়ার পাঠকদের কাছে ভারতীয় দর্শন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।
এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলেই অলিম্পিকের টিকিট, ৪৪ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর লক্ষ্যে ভারতীয় মহিলা হকি দল
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক পঞ্চম স্থান অর্জনের পর এবার এশিয়ান গেমসে নতুন লক্ষ্যে নামতে চলেছে সলিমা তেতের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় মহিলা হকি দল। ১৯৮২ সালের পর থেকে এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিততে পারেনি ভারত। তাই দীর্ঘ ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার শীর্ষস্থান দখল করাই দলের প্রধান লক্ষ্য। শুধু এশিয়ান গেমসের সোনা নয়, সেই সঙ্গে সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের সুযোগও রয়েছে ভারতের সামনে। দলের অধিনায়ক সলিমা তেতে জানিয়েছেন, দলের লক্ষ্য একেবারেই স্পষ্ট—সোনা জেতা এবং সরাসরি লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন করা। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর দলের আত্মবিশ্বাসও এখন যথেষ্ট উঁচুতে রয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই এশিয়ান গেমসে সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্যে এগোতে চাইছে ভারত। এবার ভারত রয়েছে পুল বি-তে। একই গ্রুপে রয়েছে আয়োজক জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া এবং উজবেকিস্তান। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচই ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুরু থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়াই হবে দলের প্রথম লক্ষ্য। ২০ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান গেমস অভিযান শুরু করবে ভারত। পরের দিন, অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে তারা। ২৩ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর আয়োজক জাপান এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে ভারত। এরপর শুরু হবে আসল লড়াই। ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনালের ম্যাচগুলি। আর ২ অক্টোবর হবে সোনার পদকের লড়াই অর্থাৎ ফাইনাল। সেই ম্যাচে জিততে পারলেই শুধু এশিয়ান গেমসের সোনা নয়, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের সরাসরি যোগ্যতাও নিশ্চিত হয়ে যাবে। ১৯৮২ সালের পর মহিলা হকিতে এশিয়ান গেমসে সোনা জিততে পারেনি ভারত। ফলে এবার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ রয়েছে সলিমা তেতে-দের সামনে। বিশ্বকাপে পঞ্চম স্থান অর্জন করে ভারতীয় দল ইতিমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। এবার সেই সাফল্যকে আরও বড় মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপে ভালো ফল দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে ঠিকই, তবে এশিয়ান গেমসের লড়াই হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিটি ম্যাচে চাপ সামলে নিজেদের সেরা হকি উপহার দিতে হবে ভারতীয় দলকে। বিশেষ করে জাপানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারতীয় মহিলা হকি দলের সামনে তাই একই সঙ্গে রয়েছে ইতিহাস বদলের সুযোগ এবং অলিম্পিকের দরজা সরাসরি খুলে দেওয়ার হাতছানি। ৪৪ বছরের খরা কাটিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেন কি না সলিমা তেতে-রা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশের ক্রীড়ামহল।
নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাৎ টেড্রোসের, ভারতের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রশংসা হু প্রধানের
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস। বৈঠকে ভারতের স্বাস্থ্য খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণে ভারতের সাফল্যকে তিনি উল্লেখযোগ্য বলে অভিহিত করেন। বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ড. টেড্রোস জানান, ভারতের প্রায় ১.৬০ লক্ষ ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’-এর মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কয়েক ধরনের সাধারণ ক্যানসারের স্ক্রিনিং এখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারেল ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের ‘আশা’ কর্মীরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। টিকাকরণ কর্মসূচির বিস্তার এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৩ শতাংশে পৌঁছানোয় মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ড. টেড্রোস জানান, বৈঠকে যক্ষ্মা নির্মূলে ভারতের উদ্যোগ, চিকিৎসা-সামগ্রীর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে ভারতের চলমান সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষভাবে চিরাচরিত চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারী চুক্তির আওতায় ‘প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ ব্যবস্থা সম্পর্কেও মতবিনিময় হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগিতায় দেশের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করে হু প্রধান আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও ভারত বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাবে।
হরমুজ প্রণালীকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ বলা উচিত, মন্তব্য মার্কিন রাষ্ট্রপতির
সকাল সকাল ডেস্ক ওয়াশিংটন: হরমুজ প্রণালীকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ বলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। ইরানের সমালোচনায় সরব হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আমেরিকা জয়লাভ করলেই তেলের দাম কমে যাবে; আর আমরা সেই জয়ের পথেই আছি। আমার মনে হয় হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ রাখা উচিত। আমি নিশ্চিত, এতে ইরানের নেতৃত্ব দারুণ খুশি হবে। অবশ্য আমার মনে হয় না তারা এ নিয়ে খুব একটা খুশি হবে। আসলে কোনও কিছুতেই তাদের খুশি হতে দেখি না। তাদের দেশটাই তো ভেঙে পড়ছে।” ট্রাম্প আরও বলেন, “এখন আমাদের দেশ রাশিয়া ও সৌদি আরবের সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি গ্যাস ও তেল উৎপাদন করছে। আমরাই এখন বিশ্বের বৃহত্তম (তেল উৎপাদনকারী)। আর এর মধ্যে ভেনেজুয়েলাও অন্তর্ভুক্ত—যাদের আমরা সবেমাত্র আমাদের এই ছোটখাটো মজুত ভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করেছি। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি। ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল এখন আমাদের দখলে, আর জানেন তো এর মেয়াদ কত বলা হচ্ছে? কত দিন চলবে? ৫০০ বছর। আমাদের সম্পর্কটা চমৎকার।” ডালাসে আয়োজিত আরএনসি-র মধ্যবর্তীকালীন সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালে রিপাবলিকান পার্টি যদি সিনেট ও হাউস—উভয়ের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়, তবে তিনি প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫,০০০ ডলারের লভ্যাংশ প্রদান করবেন।
শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উৎক্ষেপণ ইওএস-০৫, আরও শক্তিশালী হল ভারতের ভূ-পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা
সকাল সকাল ডেস্ক শ্রীহরিকোটা : মহাকাশ গবেষণায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করল ভারত। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) শুক্রবার ভোররাতে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করল ভূ-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ ইওএস-০৫। ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি. নারায়ণন এবং সংস্থার একাধিক প্রাক্তন প্রধানের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় এই গুরুত্বপূর্ণ উৎক্ষেপণ। ইসরোর জানানো তথ্য অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের প্রায় ১৮ মিনিটের মধ্যেই ইওএস-০৫-কে সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। এটি ভারতের উন্নত ইমেজিং সক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভূ-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ, যা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের রিয়েল-টাইম ছবি সংগ্রহ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে। ইসরো জানিয়েছে, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, ভূমি ব্যবহার বিশ্লেষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইওএস-০৫ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। রিয়েল-টাইম তথ্যপ্রাপ্তির ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা আরও সহজ হবে। মিশনের সাফল্যের পর ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি. নারায়ণন বলেন, ইওএস-০৫ ভারতের ভূ-পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, জিএসএলভি-এফ১৭-এর মাধ্যমে এটি ছিল জিএসএলভি সিরিজের ১৯তম উৎক্ষেপণ। শুক্রবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটে রকেটটি সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। ইওএস-০৫ মিশনের মূল লক্ষ্য হল সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে উপগ্রহটিকে স্থাপন করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণের মাধ্যমে নির্ভুল ও উচ্চমানের পর্যবেক্ষণ তথ্য সংগ্রহ করা। এই তথ্য দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ প্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতা আরও একধাপ এগিয়ে গেল এবং বিশ্বমঞ্চে ইসরোর নির্ভরযোগ্যতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার আরও একবার প্রমাণ মিলল।