রুশ তেল কেনায় বাড়তে পারে চাপ, ভারত-সহ ১০ দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব আমেরিকায়

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ফের বড় ধরনের বাণিজ্যিক চাপ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাশিয়া ও ইরান সংক্রান্ত একটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিলে নতুন কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সংশোধনীতে ভারত-সহ ১০টি দেশের নাম উল্লেখ করে তাদের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে আর একটি সংশোধনীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া সংক্রান্ত ধারাই বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে।

‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’ নামে বিলটি গত ৭ আগস্ট মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাশ হয়। রাশিয়ার নেতৃত্ব এবং জ্বালানি ক্ষেত্রের উপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার পাশাপাশি মস্কোর তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে এতে।

‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলতে এমন জাহাজের নেটওয়ার্ককে বোঝানো হয়, যেগুলি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে পশ্চিমী দেশগুলির অভিযোগ। ওয়াশিংটনের দাবি, অপরিশোধিত তেল রফতানি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাশিয়াকে সাহায্য করছে। সেই কারণেই রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিলের একটি ধারায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। মূল প্রস্তাবে নির্দিষ্ট কোনও দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বরং রুশ তেল ও গ্যাস আমদানির পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলিকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল।

এবার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ার একটি সংশোধনী প্রস্তাবে নির্দিষ্ট ১০টি দেশের নাম যুক্ত করেছেন। তালিকায় রয়েছে ভারত, চিন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান। সোমবার মার্কিন হাউস রুলস কমিটির সামনে সংশোধনীটি প্রকাশ্যে আসে।

তবে সংশোধনী প্রস্তাবে ভারতের নাম থাকার অর্থ এই নয় যে ভারতের উপর ইতিমধ্যেই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে গিয়েছে। প্রস্তাবটি আইনি প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ অতিক্রম করার পর কার্যকর হওয়ার প্রশ্ন আসবে।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থার বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস পৃথক একটি সংশোধনী এনে বিলের ১১৩ নম্বর ধারা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই ধারাতেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মিকসের আর একটি সংশোধনীতে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। প্রয়োজন হলে সেই সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও পরিষেবা কেনার জন্য ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সরাসরি ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

ফলে বিলটির চূড়ান্ত রূপ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংশোধনীগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত এবং বিলটি পাশ হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপ সামনে আসবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে।

ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই নয়াদিল্লির উপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ভারত অবশ্য ধারাবাহিকভাবে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে।

এখন নজর মার্কিন কংগ্রেসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সংশোধনীটি গৃহীত হয়ে শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বজায় রাখা দেশগুলির উপর নতুন করে বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে ভারত-সহ ১০টি দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এখনও প্রস্তাবের স্তরেই রয়েছে।

Read More News

ভারত এখন আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম রাষ্ট্র, বিশ্বমঞ্চে নিয়ম নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে: রাজনাথ সিং

সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা,...

Read More