সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা : ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের বার্ষিক সাধারণ সভা ও আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। সচিব, যুগ্মসচিব এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি সদস্য পদে নির্বাচনের সূচি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের একাধিক জেলাশাসকের পাঠানো চিঠির জেরে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াই এখন প্রশ্নের মুখে। পরিস্থিতি নিয়ে আগামী দু’দিনের মধ্যে আইনি পরামর্শ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
আগামী বুধবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার ঠিক আগে জেলাশাসকদের চিঠি আসায় নির্বাচন নির্ধারিত সূচিতে হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। মূল বিতর্ক ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের অংশগ্রহণ এবং সংস্থায় কোনও কর্মকর্তার টানা ন’বছরের মেয়াদ সংক্রান্ত বিধি নিয়ে।
সৌরভ জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের কাছ থেকে চিঠি এসেছে। আগেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। চিঠিতে সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিএবি সভাপতি।
লোধা কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি বিসিসিআইয়ের সংবিধানের সঙ্গে সিএবি-র নিজস্ব নিয়মাবলীর কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাগত পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি। সেই অস্পষ্টতা দূর না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে রাজ্যের ১৮টি জেলার মধ্যে অন্তত ছ’জন জেলাশাসক সিএবি-কে চিঠি দিয়েছেন। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ময়দান সূত্রে খবর।
জেলাশাসকদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ৭০ বছরের বেশি বয়সি কোনও ব্যক্তি সিএবি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে পদে থেকে ন’বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা আধিকারিকদের ভোটাধিকার নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে।
তবে সৌরভের বক্তব্য, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা এবং বিসিসিআইয়ের নিয়ম এক নয়। দু’টি সংস্থার পৃথক সংবিধান রয়েছে। ফলে বিষয়টির নিষ্পত্তি আইনি পথেই করা হবে।
জেলাশাসকদের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন সিএবি সচিব বাবলু কোলে। তাঁর দাবি, সিএবি-র নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী ৭০ বছরের বেশি বয়সি কিংবা ন’বছর দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা কর্মকর্তা বা পদপ্রার্থী হতে পারবেন না ঠিকই, কিন্তু তাঁদের ভোটার হওয়া বা ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা নেই। সংস্থার গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না বলেই তাঁর মত।
মাসখানেক আগে সিএবি-র জরুরি সাধারণ সভাতেও একই বিতর্কের জেরে যুগ্মসচিব পদের নির্বাচন স্থগিত রাখতে হয়েছিল। সেবারও একাধিক জেলাশাসকের চিঠির পর থমকে যায় ভোটপ্রক্রিয়া। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভা হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই দিন আদৌ নির্বাচন হবে কি না, তা নির্ভর করছে আইনি পরামর্শ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।
No Comment! Be the first one.