সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি : দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আনা সংশোধনী বিল লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল বুধবার নিম্নকক্ষে অনুমোদন পায়। বৃহস্পতিবার বিলটি রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হবে।
সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও বিক্ষোভের আবহ তৈরি হয়। দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের আন্দোলন কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ায়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন প্রহ্লাদ জোশী। এরপরই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করতে সংশোধনী বিল সংসদে আনা হয়।
সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। তবে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে সেদিন একাধিকবার অধিবেশন মুলতুবি হওয়ায় বিল নিয়ে আলোচনা এগোয়নি। মঙ্গলবার থেকে বিলের ওপর বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয় এবং বুধবার তা ধ্বনিভোটে গৃহীত হয়।
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষা পরিচালনা এবং সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
রাহুলের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি অভিযোগ করেন, প্রমাণ ছাড়া গুরুতর মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং এ ধরনের বক্তব্যের জন্য বিরোধী দলনেতার ক্ষমা চাওয়া উচিত। এ নিয়ে লোকসভায় শাসক ও বিরোধী সদস্যদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে স্পিকার স্পষ্ট করে দেন, কোনও ঘটনার তদন্ত দাবি করা যেতে পারে, তবে প্রমাণ ছাড়া নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা সংসদের নিয়মের পরিপন্থী।
এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সংশোধনী বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় নানা ঘাটতি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; কার্যকর তদন্ত ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রথম আইন প্রণয়ন করা হলেও পরবর্তী সময়ে একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সংশোধনীতে শাস্তি ও জরিমানার বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার হবে।
No Comment! Be the first one.