সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা
পাহাড়ের প্রশাসনিক কাঠামো ও উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। বুধবারের এই বৈঠকের পর গুরুং স্পষ্ট জানান, শুধুমাত্র জিটিএ (GTA) দিয়ে পাহাড়ের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই পাহাড়ের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি স্থায়ী বিকল্প কাঠামো প্রয়োজন বলে তাঁরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
বৈঠকের পর গুরুং আরও জানান, আগামী ৭ অক্টোবর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে দার্জিলিং সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির সাফল্যের নেপথ্যে বিমল গুরুংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর নেতৃত্ব ও প্রচারের জোরেই পাহাড়ের তিনটি আসনে বিজেপি উল্লেখযোগ্য জয় পায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে চা–বাগানের সমস্যা, শিক্ষক নিয়োগ, পাহাড়ের পরিবহন ব্যবস্থা, জিটিএ–র কার্যকারিতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গুরুংয়ের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ–তে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সরকারি নথি খুলে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের দাবিও জানানো হয়েছে।
এছাড়া গোর্খাল্যান্ড ইস্যুর স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র, রাজ্য ও পাহাড়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে ভবিষ্যতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন গুরুং। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী সোমবার পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং পাহাড় সফরে গিয়ে পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখবেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
এর আগে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজ্যের আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোর্চা নেতৃত্ব। সেখানে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো মামলাগুলি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠকে দীর্ঘদিন পর পাহাড়ে অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত পঞ্চায়েতগুলিকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা হস্তান্তর এবং প্রতিটি পঞ্চায়েতে দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিমল গুরুংয়ের সাক্ষাতের পর থেকেই পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছিল। এবার কলকাতায় এই বৈঠক এবং দার্জিলিং সফরের আমন্ত্রণকে ঘিরে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
No Comment! Be the first one.