বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদ চত্বরে বিরোধীদের বিক্ষোভ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টি

সকাল সকাল ডেস্ক,

নয়াদিল্লি : বাদল অধিবেশন চলাকালীন বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হল বিরোধী দলগুলি। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রামমন্দিরে দান সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তাঁর সঙ্গে দলের আরও বহু সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে পেলেট গানের ব্যবহারকে তাঁরা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলেন।

পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেসের সাংসদ কে. সি. বেনুগোপাল প্রশ্ন তোলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতাকেও সংসদে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবলও একই ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই পেলেট গানের ব্যবহার হয়ে থাকে এবং তার জেরে মানুষ আহত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায় কার, তা দেশের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পেলেট ব্যবহারের কথা অস্বীকার করা হলেও পরে আহতদের শরীরে তার প্রমাণ মিলেছে। এত বড় ঘটনার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সিবল বলেন, বিরোধী দলনেতা যে বিষয়গুলি উত্থাপন করেছেন, তা আহত ছাত্রদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রছাত্রী এবং মহিলাদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে এলেও সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।

অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংসদ চত্বরে আলাদা বিক্ষোভ দেখান। ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ সংবিধানসম্মত অধিকারকে খর্ব করেছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্য ব্যাখ্যার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

Read More News

ভুরকুন্ডায় শীঘ্রই গড়ে উঠতে পারে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন, কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: ভুরকুন্ডায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের...

Read More