সিঙ্গুরে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার প্রস্তাব, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শমীক ভট্টাচার্যের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে কেন্দ্রের ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্পের আওতায় একটি কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়ে তিনি সিঙ্গুরকে প্রথম পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি হলদিয়া, রঘুনাথপুর ও দুর্গাপুরকেও সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন। ২৮ জুলাই পাঠানো চিঠিতে শমীক ভট্টাচার্য জানান, ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৩,০৩০ কোটি টাকার ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশে তিনটি ডেডিকেটেড কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি পার্কের জন্য কেন্দ্র ১,০০০ কোটি টাকা অনুদান দেবে। তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রায় ২,০০০ একর জমির ব্যবস্থা করতে হবে। চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক বিনিয়োগের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বেসরকারি পুঁজি পশ্চিমবঙ্গে আসবে। এর ফলে রাসায়নিক শিল্পের পাশাপাশি নির্মাণ, লজিস্টিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়বে। একই সঙ্গে বস্ত্র, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, কৃষি ও অটোমোবাইল শিল্পও উপকৃত হবে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারকে দ্রুত একটি আন্তঃবিভাগীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, এই ঐতিহাসিক শিল্পাঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ এলে রাজ্যের শিল্পোন্নয়নে ইতিবাচক বার্তা যাবে। চিঠির অনুলিপি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং শিল্প সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এখন রাজ্য সরকার এই প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও শিল্পমহলের।
২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা এবং আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করাই লক্ষ্য: সঞ্জয় শেঠ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ বলেছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বদেশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, ভারত সবসময় শান্তি, মানবতা এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শে বিশ্বাস করে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। সন্ত্রাসবাদ বা শত্রুপক্ষের যেকোনও চ্যালেঞ্জের জবাব ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে দিতে সক্ষম বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সঞ্জয় শেঠ বলেন, সীমান্তে কর্মরত সেনাদের সাফল্যের পেছনে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের বড় ভূমিকা রয়েছে। আজ যে প্রযুক্তি তৈরি হবে, ভবিষ্যতে সেটিই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তিনি প্রতিরক্ষা নির্মাতা ও উদ্ভাবকদের ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ভারতের নবীন উদ্যোগগুলির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি তিন বাহিনীর সমন্বিত কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঐক্য, দলগত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় সংকল্পই ভারতের প্রকৃত শক্তি। অনুষ্ঠানে সঞ্জয় শেঠ ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত ‘সংকল্প ২০২৬: ভারতীয় বায়ুসেনার সমস্যা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ. পি. সিং, প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরা, উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিক, গবেষণা ও শিক্ষাজগতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং শিল্প–সেনা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ভুরকুন্ডায় শীঘ্রই গড়ে উঠতে পারে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন, কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: ভুরকুন্ডায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার দাবিতে কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডির সঙ্গে বৈঠক করলেন বড়কাগাঁওয়ের বিধায়ক রোশনলাল চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গিরিডিহের সাংসদ চন্দ্র প্রকাশ চৌধুরী। বৈঠকে বিধায়ক জানান, বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় পাঁচ একর জমি আগেই চিহ্নিত করা হলেও সেটি এখনও সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে রয়েছে। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পড়ুয়াদের এখনও অস্থায়ী ভবনে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। রোশনলাল চৌধুরী আরও বলেন, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দ্রুত জমি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার আবেদন জানান। কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের উদ্যোগ এবং জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। বৈঠকের পর বিধায়ক রোশনলাল চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, স্থায়ী বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হলে পাত্রাতু, রামগড় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং অঞ্চলের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
জিটিএ নয়, পাহাড়ের উন্নয়নে স্থায়ী সমাধানের দাবি গুরুংদের, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পাহাড়ের প্রশাসনিক কাঠামো ও উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। বুধবারের এই বৈঠকের পর গুরুং স্পষ্ট জানান, শুধুমাত্র জিটিএ (GTA) দিয়ে পাহাড়ের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই পাহাড়ের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি স্থায়ী বিকল্প কাঠামো প্রয়োজন বলে তাঁরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। বৈঠকের পর গুরুং আরও জানান, আগামী ৭ অক্টোবর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে দার্জিলিং সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির সাফল্যের নেপথ্যে বিমল গুরুংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর নেতৃত্ব ও প্রচারের জোরেই পাহাড়ের তিনটি আসনে বিজেপি উল্লেখযোগ্য জয় পায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে চা–বাগানের সমস্যা, শিক্ষক নিয়োগ, পাহাড়ের পরিবহন ব্যবস্থা, জিটিএ–র কার্যকারিতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গুরুংয়ের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ–তে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সরকারি নথি খুলে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের দাবিও জানানো হয়েছে। এছাড়া গোর্খাল্যান্ড ইস্যুর স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র, রাজ্য ও পাহাড়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে ভবিষ্যতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন গুরুং। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী সোমবার পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং পাহাড় সফরে গিয়ে পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখবেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর আগে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজ্যের আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোর্চা নেতৃত্ব। সেখানে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো মামলাগুলি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠকে দীর্ঘদিন পর পাহাড়ে অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত পঞ্চায়েতগুলিকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা হস্তান্তর এবং প্রতিটি পঞ্চায়েতে দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিমল গুরুংয়ের সাক্ষাতের পর থেকেই পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছিল। এবার কলকাতায় এই বৈঠক এবং দার্জিলিং সফরের আমন্ত্রণকে ঘিরে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বীরভূমে বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২৯ জুলাই : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বীরভূম জেলায় বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের বড় মাপের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল এবং বেআইনিভাবে সম্পত্তি অর্জনকারীদের কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বুধবার ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বীরভূম পুলিশ মোহাম্মদ বাজার থানা এলাকার অবৈধ বালি মাফিয়া টুল্লু মণ্ডল ওরফে মোহাম্মদ নজিবুদ্দিনের আস্তানায় অভিযান চালায়। তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৫.৫ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নোট গণনার কাজ এখনও চলছে। এছাড়া ১৫ কেজি সোনাও উদ্ধার করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের রাজ্য পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি), বীরভূমের পুলিশ সুপার এবং অভিযানে শামিল সমস্ত পুলিশকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, তাঁরা অত্যন্ত দ্রুত, পেশাদার ও নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযান ভবিষ্যতেও জারি থাকবে এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা’-ই সরকারের মূল নীতি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট শব্দে জানিয়ে দেন, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করে এবং পূর্বতন শাসক দলের আশ্রয়ে বেআইনি সম্পত্তি গড়ে তোলা কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, জনগণের সম্পদে কেবল জনগণেরই অধিকার রয়েছে এবং তা লুণ্ঠনকারীদের আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। রাজ্যে মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযান লাগাতার চলবে বলেও জানান তিনি।
পুরুলিয়া বিমানবন্দরের জন্য ₹২ হাজার কোটি বরাদ্দ, দ্রুত কাজ শুরুর দাবি সাংসদের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগে পুরুলিয়ার বহুদিনের বিমানবন্দর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বাজেটে ঘোষণার পরই পুরুলিয়ার ছড়রায় প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ₹২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি পরিত্যক্ত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হত। যুদ্ধ শেষে ধীরে ধীরে সেটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে সেখানে বাণিজ্যিক বিমানবন্দর তৈরির দাবি উঠলেও বিভিন্ন সময়ে সমীক্ষা ও পরিকল্পনার মধ্যেই প্রকল্প সীমাবদ্ধ ছিল। বামফ্রন্ট ও পরবর্তী তৃণমূল সরকার উভয় আমলেই উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। এবার বাজেটে বরাদ্দের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এখনও কয়েকটি প্রযুক্তিগত ও জমি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। ওএলএস (অবস্টাকল লিমিটেশন সারফেস) সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণে একটি রেললাইন এবং একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ পরিবহণ লাইন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে দিল্লি থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে থাকা রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ১১ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প অন্যত্র সরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই বিমানবন্দরটি কেন্দ্রের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে এটি পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হবে। বর্তমানে প্রায় ৩০০ একর জমি উপলব্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে রানওয়ে সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হতে পারে। প্রকল্প অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১১০০ মিটার দীর্ঘ ওয়ান-বি শ্রেণির রানওয়ে নির্মাণ করা হবে। পরে সেটিকে ১৭০০ মিটার দীর্ঘ টু-সি শ্রেণির রানওয়েতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত হবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ভবন, দমকল কেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ওয়াচ টাওয়ার, ভূগর্ভস্থ জলাধারসহ আধুনিক বিমানবন্দরের সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পুরনো রানওয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই নতুন করেই আধুনিক মানের রানওয়ে নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মিড-ডে মিলে আলাদা করে ডিম দেবে রাজ্য, জল্পনায় ইতি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) এলাকার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল চালুর সিদ্ধান্ত ঘিরে ডিম থাকবে কি না, সেই বিতর্কের অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত স্কুল কম্পোজিট গ্র্যান্ট প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মিড-ডে মিলের পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে ডিমের ব্যবস্থা করা হবে। অনুষ্ঠানে রাজ্যের ৮০ হাজার ৩৭৫টি সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের জন্য ২৯৬ কোটিরও বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহ শুরু হবে। তবে শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্কুলে আলাদা করে ডিম বিতরণ করা হবে, যাতে পড়ুয়াদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়। এর আগে রাজ্য বাজেটে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা হতেই শিক্ষামহলের একাংশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অনেকের আশঙ্কা ছিল, নিরামিষভোজী সংস্থা দায়িত্ব পাওয়ায় স্কুলের খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ পড়তে পারে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। আদালত বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামাও তলব করেছে। বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছিল স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের এক মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি বলেছিলেন, নিরামিষ খাবারেও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ডিম খাওয়াই একমাত্র উপায় নয়। সেই মন্তব্যের পর থেকেই ডিম বাদ পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়। তবে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সেই জল্পনার কার্যত অবসান ঘটেছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, মিড-ডে মিলের মূল খাবার ইসকনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলেও শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি কোনওভাবেই উপেক্ষা করা হবে না। তাই আলাদা ব্যবস্থায় নিয়মিত ডিম দেওয়া হবে। ফলে পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল পরিচালনার সিদ্ধান্তও কার্যকর হবে।
বিশ্ব ওআরএস দিবসে শিয়ালদহ স্টেশনে সচেতনতা শিবির, যাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে ওআরএস বিতরণ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা বিশ্ব ওআরএস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পূর্ব রেলের উদ্যোগে বুধবার শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত হল বিশেষ জনসচেতনতা কর্মসূচি। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওষ্করের নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ডায়রিয়া প্রতিরোধ এবং ডিহাইড্রেশন মোকাবিলায় ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস)-এর গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। বি. আর. সিং হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে শিয়ালদহের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের সম্পাদক ড. মিহির সরকার, অধ্যাপক ড. দিব্যেন্দু রায় চৌধুরী, শিয়ালদহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এসিএমএস ড. সঞ্জীব চৌধুরী-সহ একাধিক বিশিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়রিয়া হলে দ্রুত ওআরএস খাওয়ানো, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বর্ষাকালে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে বলে প্রতিটি পরিবারের কাছে ওআরএস প্যাকেট মজুত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিয়ালদহ স্টেশনের শত শত যাত্রীর হাতে বিনামূল্যে ওআরএস প্যাকেট এবং সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা যাত্রীদের ওআরএস তৈরির সঠিক পদ্ধতি, ব্যবহারের নিয়ম এবং ডিহাইড্রেশনের বিপজ্জনক লক্ষণ সম্পর্কে হাতে-কলমে বোঝান। পাশাপাশি, গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও সচেতন করা হয়। যাত্রীদের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে স্টেশনের ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডেও স্বাস্থ্যবিষয়ক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা হয়। স্বাস্থ্যকর্মী, রেল আধিকারিক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, শিয়ালদহের মতো ব্যস্ত রেল স্টেশনে এই ধরনের জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ প্রতিদিনের বিপুল সংখ্যক যাত্রীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে পূর্ব রেল ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
‘খালি হাতে আসব, তা হয় নাকি!’ ভবানী ভবনে পুলিশের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতার ভবানী ভবনে পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিনের বেতন, ভাতা, নিয়োগ ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত ক্ষোভ দূর করতে তিনি একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, এটা হয় নাকি? পরে আরও দেব, ভালভাবে কাজ করুন।” সবচেয়ে বড় ঘোষণা হল আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। সেই ঘাটতি পূরণে উত্তরপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া জোরদার করার কথা জানান তিনি। আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদ দ্রুত পূরণের পথও এখন পরিষ্কার হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৪ হাজার কনস্টেবলকে দুর্গাপুজোর আগেই বিভিন্ন জেলায় কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পুলিশকর্মীদের আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য গঠিত সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই তা দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ–র ব্যবধান কমাতে আগামী অক্টোবর মাস থেকে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হবে, যা পুজোর মাস থেকেই কার্যকর হবে। রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) আদলে গঠন করা হবে স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)। পাশাপাশি পুলিশের প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাবিহীন যানবাহন পর্যায়ক্রমে বদলে নতুন আধুনিক গাড়ি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হবে। এছাড়া গুজরাতের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ–এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পুলিশকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।কর্মীদের বদলি নীতিতেও আনা হচ্ছে মানবিক পরিবর্তন। মহিলা কনস্টেবলদের নিজ জেলায় এবং মহিলা আধিকারিকদের পার্শ্ববর্তী জেলায় পোস্টিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় নিজ জেলা থেকে বাইরে কর্মরত পুলিশকর্মীদেরও পর্যায়ক্রমে স্বজেলায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আবাসন, চিকিৎসা, ক্রীড়া সুবিধা এবং কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণে একটি অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠন করা হবে। একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের পুরনো নাগরিক সহায়তা প্রকল্পও ফের চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চোখের চিকিৎসায় বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত, হাইকোর্টের নির্দেশের মাঝেই অভিষেককে ঘিরে নতুন অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদন নিয়ে নতুন মোড়। কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। একই সময়ে তাঁর জমা দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, ফলে বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে বিধানসভা ভোটের আগে অভিষেকের ‘ডিজে মন্তব্য’ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেই শুনানিতে তাঁর আইনজীবীরা চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চান। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বিদেশে চিকিৎসার আবেদন বিবেচনার আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের কাছে চিকিৎসা করাতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানাবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা রাজ্যে বা দেশে সম্ভব কি না। সেই রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পরই বিদেশে চিকিৎসার আবেদন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরই মধ্যে অভিষেকের জমা দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে সমাজসংস্কারক ও হুইসেল-ব্লোয়ার বলে পরিচয় দিয়েছেন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আদালতে পেশ করা মেডিক্যাল সার্টিফিকেটে চিকিৎসকদের স্বাক্ষর থাকলেও তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ নেই। তাই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়ো বা জাল নথি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২০২৩ সালের ৩১৮, ৩৩৬, ৩৩৮ এবং ৩৪০ ধারায় এফআইআর দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মেডিক্যাল নৈতিকতা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে এবং সার্টিফিকেটের সত্যতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিকে হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষ নির্দেশ এবং অন্যদিকে মেডিকেল কাউন্সিলে জমা পড়া অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার আবেদনকে নতুন করে জটিলতার মুখে ফেলেছে। এখন এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকদের রিপোর্ট এবং অভিযোগের তদন্ত— এই দুই দিকের অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।