শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে দেবঘরে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা, ৩০ জুলাই থেকে বাড়ছে রেল পরিষেবা
সকাল সকাল ডেস্ক ধানবাদ, ২৬ জুলাই: আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র শ্রাবণ মাস। এই উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের দেবঘরে বসবে বিশ্বখ্যাত শ্রাবণী মেলা। প্রতি বছর এই সময় বাবা বৈদ্যনাথ ধামে জলাভিষেক করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেল একাধিক ‘শ্রাবণ স্পেশাল’ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি রবিবার থেকে পুনরায় চালু হয়েছে রাঁচি-ভাগলপুর শ্রাবণ স্পেশাল ট্রেন পরিষেবা। রেল সূত্রে জানা গেছে, রাঁচি ও ভাগলপুরের মধ্যে দুটি জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে। একটি ট্রেন বোকারো, গোমো, কোডারমা ও তিলাইয়া হয়ে চলবে, অন্যটি বরকাকানা ও হাজারিবাগ টাউন রুট ব্যবহার করবে। দুটি ট্রেনই সুলতানগঞ্জ হয়ে ভাগলপুর পৌঁছাবে, যাতে বৈদ্যনাথ ধামে যাওয়া পুণ্যার্থীরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। রাঁচি-ভাগলপুর স্পেশাল ট্রেনে একটি তৃতীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, সাতটি শয়নযান এবং সাতটি সাধারণ শ্রেণির কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১ আগস্ট থেকে মহারাষ্ট্রের ইতওয়ারি থেকে মধুপুর পর্যন্ত আরও একটি শ্রাবণ স্পেশাল ট্রেন চলবে। এই ট্রেন রাঁচি, বোকারো, চন্দ্রপুরা, কাত্রাস এবং ধানবাদ হয়ে যাতায়াত করবে। এতে চারটি তৃতীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, ১০টি শয়নযান এবং চারটি সাধারণ কোচ থাকবে। রাঁচি-ভাগলপুর স্পেশাল (০৮৬৯০) আগামী ২৬ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি রবিবার ও বুধবার চলবে। রাঁচি থেকে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে বোকারো, চন্দ্রপুরা ও গোমো হয়ে পরদিন সকালে সুলতানগঞ্জ ও ভাগলপুর পৌঁছাবে। ভাগলপুর-রাঁচি স্পেশাল (০৮৬৮৯) ২৭ জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার চলবে। ভাগলপুর থেকে সকালে ছেড়ে সুলতানগঞ্জ, গোমো, চন্দ্রপুরা ও বোকারো হয়ে রাতে রাঁচিতে পৌঁছাবে। এছাড়া ইতওয়ারি-মধুপুর স্পেশাল (০৮৮৯৫) ১ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি শনিবার চলবে। ফেরার পথে মধুপুর-ইতওয়ারি স্পেশাল (০৮৮৯৬) ২ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি রবিবার চলবে। শ্রাবণী মেলার সময় যাত্রীদের সুবিধার্থে যশিডিহ স্টেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের পাঁচ মিনিটের বিশেষ বিরতির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী এক্সপ্রেস, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, পূর্বা এক্সপ্রেস, জন শতাব্দী, দুরন্ত এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং বাবা বৈদ্যনাথ এক্সপ্রেসসহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি স্টপেজের ফলে শ্রাবণী মেলায় আগত লক্ষাধিক ভক্তের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান ইস্যুতে কড়া বার্তা শমীকের, পাল্টা তোপ কুণালের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা দেশবিরোধী স্লোগান এবং ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি‘ ধ্বনি ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। এই ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মিছিলে কেউ যদি ‘ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে‘ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি‘র মতো স্লোগান তোলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, আইন মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে, তবে দেশবিরোধী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো চলবে না। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতাকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং এর পিছনে কিছু রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ভারতবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও বিস্ফোরিত হতে পারে। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তাঁর বক্তব্য, এমন ঘটনায় পুলিশই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এবং প্রয়োজন হলে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সাধারণ মানুষই আইন প্রয়োগ করতে নামে, তবে পুলিশের ভূমিকা কী? ‘আজাদি‘ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে এই বাকযুদ্ধ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। একদিকে বিজেপি দেশবিরোধী স্লোগানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূল আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপরই জোর দিচ্ছে। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার ১২ ঘণ্টার অ্যাপ ক্যাব ধর্মঘট, ভোগান্তির আশঙ্কায় কলকাতা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই বড় ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন কলকাতার সাধারণ মানুষ। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার অ্যাপ ক্যাব ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিটু (CITU)। ফলে অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে যাতায়াতকারীসহ হাজার হাজার যাত্রী সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরের ব্যস্ত সময়ে ওলা, উবার-সহ বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। সিটুর দাবি, অ্যাপ ক্যাব চালকদের দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি। সেই কারণেই ১১ দফা দাবিকে সামনে রেখে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চালকদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, এসি লাক্সারি ক্যাবের ভাড়া বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক কাজে ব্যক্তিগত বাইক বা গাড়ির ব্যবহার বন্ধ, কলকাতায় সিএনজি-র সংকট দ্রুত দূর করা এবং বাণিজ্যিক গাড়ির দূষণ পরীক্ষার ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর ব্যবহারের নিয়ম বাতিল করা। ধর্মঘটের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ১১টায় মৌলালির রামলীলা পার্কে অ্যাপ ক্যাব চালকদের জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে চালকেরা মিছিল করে পরিবহণ দফতরের উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং সরকারের কাছে তাঁদের ১১ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। সিটু নেতৃত্বের দাবি, এই দাবিগুলি নতুন নয়। আগের সরকারের কাছেও বারবার বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছিল এবং বর্তমান সরকারের কাছেও একই দাবিগুলি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও কার্যকর সমাধান না মেলায় আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে শহর ও শহরতলির মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা অ্যাপ ক্যাব পরিষেবা। দিন-রাত যেকোনও সময়ে সহজে গাড়ি পাওয়ার সুবিধার কারণে এর ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। তবে চালকদের অভিযোগ, যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাঁদের আয়, জ্বালানি, কমিশন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সমস্যার বোঝা ক্রমশ বাড়ছে। সেই কারণেই নিজেদের দাবি আদায়ে একদিনের এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘট সফল হলে সোমবার কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পঞ্চায়েত আইনে বড় সংশোধন, দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের পদত্যাগ বা অনাস্থায় বসতে পারেন প্রশাসক
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা পঞ্চায়েত স্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণপদত্যাগ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একযোগে পদত্যাগ করলে বা অনাস্থার জেরে বোর্ড কার্যত অচল হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জেলাশাসক প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবেন। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা। নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ একসঙ্গে পদত্যাগ করলে জেলাশাসক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র ‘শেষ বিকল্প’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। প্রশাসক বসানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রধান, উপ-প্রধান এবং নির্বাচিত বোর্ডকে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে। সংশোধিত আইনে প্রধান ও উপ-প্রধানকে অপসারণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি প্রধান বা উপ-প্রধান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন অথবা তাঁদের বিরুদ্ধে বিধিসম্মত অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়, তাহলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পদ থেকে অপসারণ করা হবে। এর ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দীর্ঘদিন পঞ্চায়েতের কাজ আটকে থাকার সুযোগ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক প্রশাসনেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন পঞ্চায়েতের চেকে নির্বাহী সহায়ক বা এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে দ্বিতীয় স্বাক্ষরকারী হিসেবে প্রধানের স্বাক্ষর প্রয়োজন হতো। সংশোধিত আইনে সেই ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব নির্বাহী সহায়ক গ্রাম পঞ্চায়েতের সভার সামনে উপস্থাপন করবেন। এছাড়া প্রধান বা উপ-প্রধান টানা ১৫ দিন পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে জেলাশাসক প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিতে পারবেন। গ্রাম সভার কার্যক্রমেও নমনীয়তা আনা হয়েছে। এখন থেকে গ্রাম সভার বৈঠক পরিচালনার জন্য প্রধানের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। পঞ্চায়েতের যে কোনও সদস্যকে সভার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে বৈঠক পরিচালনা করা যাবে। সরকারের মতে, এই সংশোধনের ফলে পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা দ্রুত কাটানো সম্ভব হবে এবং স্থানীয় স্তরে নাগরিক পরিষেবা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে এই সংশোধনী নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ধর্মতলা কাণ্ডে আরও গ্রেফতার, অভিযুক্তদের নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে আয়োজিত মিছিল ঘিরে সংঘর্ষ, পুলিশের উপর হামলা এবং সাংবাদিকদের নিগ্রহের ঘটনায় তদন্তে গতি এনেছে কলকাতা পুলিশ। রবিবার আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ছাত্র নন, বরং তাঁদের একাংশ ‘জামাতি’ ও ‘মৌলবাদী’। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও বার্তা দিয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মতলার বিক্ষোভ চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী পুলিশের দিকে জলের বোতল, জুতো এবং অন্যান্য বস্তু ছুড়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। সেই সময় কর্তব্যরত সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকদের উপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় একাধিক সাংবাদিক আহত হন। পরে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি-সহ মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সবকটি মামলায় গুন্ডাদমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন কড়েয়ার শাহবাজ খান, রাজাবাগানের শেখ মহম্মদ সলমান হোসেন এবং ভাঙড়ের মহম্মদ জহিরউদ্দিন মোল্লা। এর আগে মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, তাঁরা ভিনরাজ্যে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় ধৃতদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যেমন খারিজি মাদ্রাসা সংক্রান্ত তদন্ত, ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা, পশু আইন ও সাউন্ড পলিসি বাস্তবায়নের ফলে ক্ষুব্ধ কিছু গোষ্ঠী অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মতলা কাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর সংগঠিত চক্র বা পরিকল্পিত উস্কানির যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছবে অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় উদ্যোগ ঝাড়খণ্ড সরকারের
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৫ জুলাই: জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল ঝাড়খণ্ড সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ইরফান আনসারি জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হল যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ১৫ মিনিটের মধ্যে রোগীর কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে দেওয়া। এতে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে এবং বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো যাবে। শনিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও কার্যকর করতে ৭২০টি নতুন অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু হলে সড়ক দুর্ঘটনা, গর্ভবতী মহিলা, হৃদ্রোগ, স্ট্রোকসহ অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত ৭২০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৫০টি অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট (এএলএস), ২৭০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) এবং ৪০০টি পেশেন্ট ট্রান্সপোর্ট ভেহিকল (পিটিভি) থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পিটিভি অ্যাম্বুলেন্সগুলি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার (সিএইচসি) ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিএইচসি) মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে, এএলএস অ্যাম্বুলেন্স জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে রাখা হবে। ড. আনসারি বলেন, ঝাড়খণ্ডের দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ছোট আকারের আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, বাকি ৬৯০টি অ্যাম্বুলেন্সের টেন্ডার প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে, যাতে দ্রুত সেগুলি পরিষেবায় যুক্ত করা যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েতে ছোট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ঝাড়খণ্ডের কোনও নাগরিক যেন জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং সময়মতো প্রত্যেকের কাছে জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যায়।
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে প্রস্তুতি পর্যালোচনা, ভিআইপি-ভিভিআইপি দর্শনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
সকাল সকাল ডেস্ক দেওঘর, ২৫ জুলাই: আগামী ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা রাজ্য সরকারি শ্রাবণী মেলা ২০২৬-কে সামনে রেখে শনিবার দেওঘর সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঝাড়খণ্ডের নগর উন্নয়ন, উচ্চ ও প্রযুক্তি শিক্ষা, পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী সুদিব্য কুমার। বৈঠকে দেওঘরের জেলা প্রশাসক সৌরভ কুমার ভুবানিয়া এবং দুমকার জেলা প্রশাসক অভিজিৎ সিনহা বিভাগভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী সুদিব্য কুমার বলেন, মেলা শুরুর আগেই ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে হবে। তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে জলাভিষেক করতে পারেন এবং বাবা বৈদ্যনাথ ধাম থেকে সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রাবণী মেলা চলাকালীন আউট অব টার্ন দর্শন, ভিআইপি ও ভিভিআইপি দর্শন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এতে সাধারণ ভক্তদের দর্শনে কোনও অসুবিধা হবে না। আগামী ২৯ জুলাই ফের দেওঘর ও দুমকার তীর্থযাত্রী পরিষেবার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে মেলা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, ট্রাফিক পোস্ট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, মাতৃত্ব বিশ্রামগৃহ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনটি টেন্ট সিটিতে আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পানীয় জল, শৌচাগার, স্নানাগার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গরম ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখে মিস্ট কুলিং ব্যবস্থা এবং ‘ইন্দ্র বর্ষা’ স্প্রে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেওঘর ও বাসুকীনাথের মধ্যে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সমন্বিত মেলা কন্ট্রোল রুম, এআই ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা, যানবাহন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ডিজিটাল প্যাভিলিয়ন এবং কিউআর কোডভিত্তিক অভিযোগ ও মতামত গ্রহণ ব্যবস্থা চালু থাকবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে ভক্তরা সরাসরি প্রশাসনকে অভিযোগ বা পরামর্শ জানাতে পারবেন, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়। বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের সচিব, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের আশা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত পরিকাঠামো এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের শ্রাবণী মেলা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ভক্তবান্ধব হবে।
ধর্মতলা হিংসায় যুক্ত চার কুখ্যাত অপরাধীর নাম বিধানসভায় প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা : ধর্মতলায় শুক্রবার ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসা ছড়ানো এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার বিধানসভায় চার নামকরা অপরাধীর নাম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এরা কোনো ছাত্র নয়, বরং সংগঠিত উপদ্রবী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পাস হওয়া পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট (জননিরাপত্তা আইন)-এর অধীনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭০ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এদের মধ্যে রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, ইকবালপুরের তানভীর এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এরা কেউই ছাত্র নয়; হিংসা ছড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই এরা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল। তিনি জানান, ধর্মতলার হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মোট সাতটি প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং সবকটি মামলাতেই পাবলিক সেফটি অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো দুষ্কৃতীকে রেহাই দেবে না। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গুন্ডাদমন আইন এজন্যই তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ধরনের সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আমরা এমন পদক্ষেপ নেব যে একটা নয়, ওদের তিন প্রজন্ম তা মনে রাখবে। এখন রাজ্যের সাধারণ মানুষও দেখতে পাবেন এই আইনের প্রয়োজন কতটা ছিল।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশকে আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত যেন বলপ্রয়োগ না করা হয়। কর্তব্যে কর্মরত পুলিশকর্মীদের সংযমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উসকানি সত্ত্বেও পুলিশ ধৈর্য বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
সেবাশ্রয় শিবির মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে আরও একটি প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে। পৈলানের একটি রিসোর্টে জোরপূর্বক স্বাস্থ্য শিবির আয়োজনের ঘটনার সঙ্গে মামলাটি সম্পর্কিত। রিসোর্টের প্রতিনিধি সমীরণ রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর থানায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায় এবং বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ অনুসারে, ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির জন্য রিসোর্টটিকে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এই সময়কালে ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক ও কর্মীর থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকেই করতে হয়েছিল। অভিযোগ, পুরো আয়োজনের খরচও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে পর্যটন মরসুমে রিসোর্টটিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এবং সুমিত রায় রিসোর্টের মালিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। স্থানীয় শিবির পরিচালনার নামে অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হয়। টাকা না দিলে রিসোর্টে ভাঙচুর চালানো এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। খবর অনুযায়ী, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ কর্মসূচির কারণে রিসোর্টটির ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রিসোর্টের পক্ষ থেকে অভিযোগকারী সমীরণ রায় জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযুক্তই প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় ভয়ে এতদিন তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাহস সঞ্চয় করে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তোলাবাজি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন স্থানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এই সমস্ত মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন, তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তাকে সার্বিকভাবে কোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব নয়।
ধর্মতলায় সাংবাদিক নিগ্রহে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হবে গুন্ডা দমন আইন
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ধর্মতলায় বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিধানসভায় কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজ্যের গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হবে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি কলকাতা পুলিশের সংযমেরও প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত প্ররোচনা সত্ত্বেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে এবং অযথা বলপ্রয়োগ করেনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং সেগুলিতে গুন্ডা দমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের অনেকেই ছাত্র বা নিট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেন তিনি। আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামাল নামে কয়েকজনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যা তারা “তিন পুরুষ মনে রাখবে”। শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, তিনি নিজে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সকলের রয়েছে, কিন্তু সেই অধিকারকে সামনে রেখে সাংবাদিক বা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক এনে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল এবং পরে সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। এদিকে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় কলকাতা প্রেস ক্লাবও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে ক্লাব জানায়, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের আক্রমণে প্ররোচনার অভিযোগে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে প্রেস ক্লাব, কলকাতায় প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের একাংশও পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, তাঁরা রাজ্যপালের সঙ্গেও দেখা করে গোটা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ এবং ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।