শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা, বৈদ্যনাথধাম-বাসুকীনাথে মোতায়েন হবে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ১৭ জুলাই: বিশ্ববিখ্যাত বাবা বৈদ্যনাথধাম (দেওঘর) ও বাবা বাসুকীনাথধামে অনুষ্ঠিতব্য শ্রাবণী মেলা-২০২৬ উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। সম্ভাব্য লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমকে সামনে রেখে রাজ্য পুলিশ সদর দপ্তর সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মেলা চলবে ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। পুলিশ সদর দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অপরাধ দমনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিহার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সুলতানগঞ্জ থেকে দেওঘর পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁভারিয়া পথের নিরাপত্তার জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান শাখার মহাপরিদর্শক নরেন্দ্র কুমার সিং জানান, মেলাকে শান্তিপূর্ণ, সুরক্ষিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে গোটা মেলা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিশেষ করে ৩ আগস্ট, ১০ আগস্ট, ১৭ আগস্ট (নাগপঞ্চমী) এবং ২৪ আগস্ট—এই চারটি সোমবারে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ২৯ জুলাই আষাঢ় পূর্ণিমার দিন দেওঘরের দুম্মায় ঝাড়খণ্ড প্রবেশদ্বারে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। শ্রাবণী মেলার সময় বিহারের সুলতানগঞ্জ থেকে উত্তরবাহিনী গঙ্গার পবিত্র জল কাঁধে নিয়ে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে ভক্তরা বাবা বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গে জলাভিষেক করেন। পরে বহু ভক্ত বাসুকীনাথধামেও পুজো দিতে যান। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মেলা চলাকালীন প্রতি সোমবার তিন লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অসমের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ থেকেও বহু ভক্ত আসবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। শেষ সোমবার, অর্থাৎ ২৪ আগস্ট সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে। মেলা উপলক্ষে কাঁভারিয়া পথে অতিরিক্ত পুলিশ টহল, সংবেদনশীল এলাকায় চেকপোস্ট, সিসিটিভি নজরদারি, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও গণপরিবহণে কড়া নিরাপত্তা থাকবে। পাশাপাশি গুজব রটনাকারী, ছিনতাইকারী, প্রতারক, নারী হয়রানিকারী এবং লাইনে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য পদপিষ্ট হওয়া, ভারী বৃষ্টি বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক, ওষুধ ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকবে। শিশুদের জন্য খোঁজ-খবর কেন্দ্র, বিশ্রামশিবির, পানীয় জল, শৌচাগার এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে। শ্রাবণী মেলার নিরাপত্তায় দেওঘর ও বাসুকীনাথে ১৪ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। এদের মধ্যে থাকবেন এটিএস, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ), ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার, সিআরপিএফ-এর মহিলা ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানি, এনডিআরএফ, বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকের বিশেষ শাখার সদস্যরা। ড্রোন ও অত্যাধুনিক সিসিটিভির মাধ্যমে মেলা এলাকা ও কাঁভারিয়া পথের সার্বক্ষণিক নজরদারিও চালানো হবে।
বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক মাসের রক্ষাকবচ, রাজ্যকে নোটিস হাইকোর্টের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা বিধানসভায় সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী এক মাস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে নোটিস জারি করে আদালত তাদের অবস্থান জানাতে বলেছে। মামলার সূত্রপাত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের একটি চিঠিকে ঘিরে। অভিযোগ, স্পিকারের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। সেই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং পরে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালীন সিআইডি একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাঁকে নোটিসও পাঠায়। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তখন আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল। এবার তিনি মূল এফআইআর বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদনের শুনানিতেই বিচারপতি কৌশিক চন্দ আগামী এক মাসের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ দেন। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় তৃণমূলের দুই জয়ী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের পর। তাঁদের দাবি ছিল, স্পিকারের কাছে জমা পড়া চিঠিতে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনার পর বিধানসভার পক্ষ থেকেই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জয়ী বিধায়কদের নতুন একটি চিঠির ভিত্তিতে স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তবে সেই সিদ্ধান্তও বর্তমানে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পৃথকভাবে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন। ফলে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং সই জালিয়াতি—এই দুই বিষয়কে ঘিরে একাধিক মামলা বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
জেলের পরিকাঠামো ও বন্দিদের অধিকার নিয়ে কড়া হাইকোর্ট, রাজ্যকে একগুচ্ছ নির্দেশ
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে বন্দিদের নিরাপত্তা, হেফাজতে মৃত্যু, কর্মীসংকট, অতিরিক্ত ভিড় এবং এইচআইভি আক্রান্ত বন্দিদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে রাজ্য ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হেফাজতে মৃত্যুর তথ্য জমা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট নয় আদালত। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমস্ত হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও পরবর্তী রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলাভিত্তিক হেফাজতে মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তালিকা, মৃতদের নাম ও ঠিকানাসহ, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সদস্য-সচিবের কাছে জমা দিতে হবে। মৃত বন্দিদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা নিতে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রয়োজনে উত্তরাধিকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে ক্ষতিপূরণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। সংশোধনাগারগুলিতে কর্মীসংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ৪ হাজার ৭৮৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩২২ জন। অর্থাৎ ১ হাজার ৪৬৭টি পদ শূন্য। এই শূন্যপদ পূরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি বা রোডম্যাপ পরবর্তী রিপোর্টে জানাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জেলগুলিতে অতিরিক্ত বন্দির চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। ৬১টি সংশোধনাগারের ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৯২৯ জন হলেও বর্তমানে সেখানে রয়েছেন ২৩ হাজার ৮৮৬ জন বন্দি। নতুন সংশোধনাগার নির্মাণ এবং ভবিষ্যতের বন্দি সংখ্যা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে আদালত। মহিলা বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরুষ ও মহিলা বন্দিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, সিসিটিভি নজরদারি এবং মহিলা বন্দিদের তল্লাশির জন্য পৃথক গোপন কক্ষ রয়েছে কি না, তা জানাতে হবে। পাশাপাশি হেফাজতে থাকা এইচআইভি আক্রান্ত বন্দিদের সংখ্যা, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং তাঁদের জন্য গৃহীত স্বাস্থ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
মুর্শিদাবাদে মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা, ‘কোনও গাফিলতি সহ্য করা হবে না’— কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে রেলগেট পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় একটি পুলকার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চার শিশু-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ঘটনায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরই দায়িত্বে থাকা রেল গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধারকাজ ও তদন্তের তদারকি করছেন। স্বাস্থ্য দফতরও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে, রেল কর্তৃপক্ষও মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। দুর্ঘটনায় মৃত তিনজনের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যান প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাজ করতেন এবং সময়মতো রেলগেট বন্ধ করেননি। পূর্ব রেলের প্রাথমিক তদন্তেও জানা গিয়েছে, ট্রেনটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রেলগেট খোলা ছিল। তবে সিগন্যাল ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না বলে রেল জানিয়েছে। ফলে তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এখন গেটম্যানের ভূমিকা।
রাঁচি রোটারির নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত পৃথিবী গড়ছে রোটারি’
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, রোটারি ক্লাব অব রাঁচির ৭৩তম পদস্থাপনা অনুষ্ঠান করমটোলি চকের সেলিব্রেশন সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। বিদায়ী সভাপতি অমিত আগরওয়াল এবং সম্পাদক ভাবনা তনেজা, প্রাক্তন গভর্নর তথা ক্লাব ট্রেনার যোগেশ গম্ভীরের উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত সভাপতি ললিত ত্রিপাঠী ও সম্পাদক শালিনী সিংঘানিয়াকে কলার পরিয়ে দায়িত্বভার অর্পণ করেন। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী ভাবেশানন্দজি মহারাজ। তিনি বলেন, সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবকল্যাণে রোটারি যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে, তার ইতিবাচক প্রভাব আগামী প্রজন্মের উপর পড়বে। তাঁর মতে, রোটারি শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি উন্নত পৃথিবী গড়ে তুলছে। তিনি আরও বলেন, রোটারির মূলমন্ত্র ‘সার্ভিস অ্যাবাভ সেলফ’ বা নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ অনুসরণ করে প্রতিটি রোটারিয়ান সমাজসেবায় যে ভূমিকা পালন করছেন, তা ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথকে আরও সুদৃঢ় করবে। বিশিষ্ট অতিথি সরলা বিড়লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জগন্নাথন চোকালিঙ্গম বলেন, রোটারি ক্লাব বরাবরই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর মতে, ভারতের প্রতিভা, দক্ষতা ও সম্পদের কোনো অভাব নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্ন রাখা, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো ছোট ছোট দায়িত্বই একটি উন্নত সমাজ গড়ে তোলে। এই ক্ষেত্রে রোটারিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সহকারী গভর্নর ড. বিনয় ধাঁঢানিয়া বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোটারিয়ানরা মানবসেবার কাজ করে চলেছেন এবং সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিদায়ী সভাপতি অমিত আগরওয়াল ২০২৫-২৬ বর্ষে ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রমের উল্লেখ করে বলেন, সদস্যদের সম্মিলিত ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার ফলেই একাধিক বড় প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। নবনির্বাচিত সভাপতি ললিত ত্রিপাঠী সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, রোটারির লক্ষ্য শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া। আগামী এক বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোটারির ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দের চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই। ২০২৬-২৭ বর্ষে রোটারি রাঁচি আরও বৃহৎ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবে। অনুষ্ঠানে মাস্টার অব সিরেমনি গৌরব বাগারয় বলেন, রোটারির দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলেই পোলিওর মতো দুরারোগ্য ব্যাধি আজ বিশ্ব থেকে প্রায় নির্মূল হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। ক্লাবের নতুন সম্পাদক শালিনী সিংঘানিয়া বলেন, সমাজকল্যাণে রোটারির প্রতিটি পদক্ষেপ যেন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্য নিয়েই তাঁরা কাজ করবেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রাক্তন গভর্নর অজয় ছাবড়া। তিনি বলেন, রোটারি শুধু একটি সেবামূলক সংগঠন নয়, এটি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের চিন্তাধারা গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী মঞ্চ। সংবেদনশীল মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ অজয় মারু, লায়ন্স ক্লাবের প্রাক্তন গভর্নর বি. কে. গদিয়ান, অনিল সিং, রাজীব মোদি, সুমিত আগরওয়াল, সঞ্জয় কাশ্যপ, সুরেশ সাবু, মনোজ তিওয়ারি, দীপক শ্রীবাস্তব, মুকেশ তনেজা, অজয় জৈন, ড. আনন্দ সিনহা, পবন জয়সওয়াল, প্রিয়াঙ্কা ত্রিপাঠী, হিতেশ ভগত, মেঘা জৈন, রোহন সুদ, ড. অনির্বাণ সান্যাল-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এদিন ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ললিত ত্রিপাঠী, সম্পাদক শালিনী সিংঘানিয়া, কোষাধ্যক্ষ গিরিশ আগরওয়াল, সহ-সভাপতি ভাবনা তনেজা, মনোনীত সভাপতি হিতেশ ভগত, ক্লাব ট্রেনার যোগেশ গম্ভীর এবং অন্যান্য পরিচালক ও পদাধিকারীরা দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে রোটারি রাঁচি আগামী দিনে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
ভারত টেক্স ২০২৬-এ নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বাঁশ-নির্মিত স্টিলের বোতল ও মগ, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি/রাঁচি: নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ভারত টেক্স ২০২৬-এর তৃতীয় দিনেও ঝাড়খণ্ড প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পূর্ব সিংভূম জেলার বহড়াগোড়ার অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টারের তৈরি বাঁশ-নির্মিত স্টিলের বোতল ও মগ দেশ-বিদেশের ক্রেতা, শিল্প প্রতিনিধিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই পণ্যগুলি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনযাত্রার বার্তা বহন করছে। বাঁশ ও স্টেনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি বিশেষ বোতলটি গরম বা ঠান্ডা পানীয়ের তাপমাত্রা প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে বাঁশ, স্টেনলেস স্টিল এবং খাদ্য-নিরাপদ প্লাস্টিকের ঢাকনা ব্যবহার করে তৈরি মগে পানীয়ের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বজায় থাকে। রাজ্য সরকারের মতে, ‘লোকাল টু গ্লোবাল’ ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ভারত টেক্স ২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তসর রেশম, ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃত পণ্য, হস্ততাঁত, হস্তশিল্প এবং বাঁশ-ভিত্তিক উদ্ভাবনী সামগ্রীর মাধ্যমে ঝাড়খণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পরিচিতি আরও শক্তিশালী করছে। অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টার শুধু ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পকেই নতুন রূপ দিচ্ছে না, বরং আধুনিক নকশা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যও তৈরি করছে। লেজার কাটিং, লেজার খোদাই, সিএনসি রাউটিং এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ নকশা তৈরির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লাস্টারটি বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রী, আসবাবপত্র ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্য উৎপাদন করছে। এবারের ভারত টেক্স ২০২৬-এ ১৩০টিরও বেশি দেশের ৬ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ব্যবসায়িক দর্শনার্থীর উপস্থিতি ঝাড়খণ্ডের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, কারিগর ও উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি রাজ্যের হস্তশিল্প ও বাঁশ-ভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
দুর্গাপূজাকে পরিবেশ রক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণের সাথে যুক্ত করার আহ্বান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
সকাল সকাল ডেস্ক বর্ধমান : বার্নপুরের মসজিদ রোড এলাকার বিখ্যাত নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের আগামী দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী খুঁটি পুজাের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পূজা-অৰ্চনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দুর্গাপূজাকে পরিবেশ সুরক্ষা, সমাজসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, দুর্গাপূজা কেবল চার-পাঁচ দিনের একটি উৎসব নয়, এটি সমাজকে একসূত্রে বাঁধার এবং মানুষের মধ্যে সেবামূলক মনোভাব গড়ে তোলার এক বড় সুযোগ। তিনি পরামর্শ দেন, পূজা কমিটিগুলির কেবল উৎসবের দিনগুলিতেই নয়, বরং সারা বছর ধরে সমাজের কল্যাণে কাজ করা উচিত। গরিব ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রক্তদান শিবির ও স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন, পাঠাগার স্থাপন এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ড ক্লাবগুলির অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিয়ে তিনি জানান, এই বছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ-বান্ধব দুর্গাপূজাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পূজা মণ্ডপগুলিতে যাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার না করা হয়, প্রতিমা নির্মাণে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ বর্জন করা হয় এবং জলের অপচয় বন্ধ করার পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে পরিচ্ছন্নতা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এর পাশাপাশি মণ্ডপগুলিতে প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের (দিব্যাঙ্গজন) জন্য পৃথক প্রবেশপথের ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখারও পরামর্শ দেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করেন, যে সমস্ত পূজা কমিটি পরিবেশ সুরক্ষার সমস্ত নিয়ম মেনে সবচেয়ে সুন্দর ও দায়িত্বশীলভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করবে, তাদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হবে। তিনি ক্লাবগুলির কাছে আবেদন জানান, তারা যেন সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে এবং মানুষের সুখে-দুঃখে সর্বদা পাশে দাঁড়ায়। এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই ক্লাবগুলির রাজনীতিকরণের তীব্র বিরোধিতা করেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ক্লাবগুলি যেন কোনো রাজনৈতিক দলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কেবল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর কাজ। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, অতীতে বহু জায়গায় ক্লাবগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে তাদের সামাজিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার ক্লাবগুলিকে রাজনীতি থেকে ঊর্ধ্বে উঠে সমাজসেবা, যুবসমাজের বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নিজের বক্তব্যের শেষে তিনি যোগ করেন, দুর্গাপূজা সবার উৎসব এবং এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। ক্লাবগুলির উচিত মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সেবার মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করা। নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে আসন্ন দুর্গাপূজার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তিনি। এদিনের খুঁটি পূজা কর্মসূচিতে ক্লাবের কর্মকর্তা অমিত সিং, শম্ভু আগরওয়াল, দীপক তোদি, সুরজিৎ সিংহ মক্কড়, প্রদীপ মাজি, বিজেপি নেতা পবন কুমার সিং সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বহুসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মেডিক্যাল ছাত্রীর বেশে মধ্যরাতে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, অব্যবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ
সকাল সকাল ডেস্ক কল্যাণী : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বুধবার গভীর রাতে মেডিক্যাল ছাত্রীর ছদ্মবেশে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতালে আচমকা হানা দিলেন। মুখে মাস্ক থাকায় প্রথমদিকে হাসপাতালের কোনো কর্মীই তাঁকে চিনতে পারেননি। এই সুযোগে তিনি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষেবা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং হস্টেলের (ছাত্রাবাস) পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সেখানে একাধিক অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থা দেখে তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বুধবার রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে কোনো রকম নিরাপত্তা কনভয় ছাড়াই সাধারণ চটি ও পোশাকে হাসপাতালে পৌঁছান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে সাধারণ পোশাকে ছিলেন কেবল একজন মহিলা নিরাপত্তাকর্মী। মুখে মাস্ক থাকায় কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে সাধারণ ছাত্রী বলেই মনে করেছিলেন। এই সুযোগেই তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দেখতে পান, জরুরি বিভাগে কোনো বরিষ্ঠ চিকিৎসক উপস্থিত নেই। এই ঘটনায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর যখন তিনি মুখ থেকে মাস্ক সরান, তখন সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোগীদের পরিজনদের অভাব-অভিযোগের বিষয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক নোংরা-আবর্জনা ও অব্যবস্থা দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাসপাতাল চত্বরে কুকুর-বেড়ালের অবাধ ঘোরাফেরা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, এই সমস্ত বিষয়ের রিপোর্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হবে। সুমনা সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কাছে অভিযোগ আসছিল যে রাত ১০টার পর হাসপাতালে অধিকাংশ সময় কোনো সিনিয়র ডাক্তার থাকেন না। সেই কারণেই তিনি এই আকস্মিক পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রায় সমস্ত বিভাগেই নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়ে রয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাজ্য সরকারের এই মন্ত্রী আরও বলেন, জেএনএম হাসপাতাল ও তার হস্টেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ আসছিল। অতীতে রাজ্যে ঘটে যাওয়া আর জি কর হাসপাতালের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। সেই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রুখতেই রাজ্যজুড়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, এই আকস্মিক পরিদর্শনের বিষয়ে আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছিল এবং মুখ্যমন্ত্রীই তাঁকে একজন মহিলা নিরাপত্তাকর্মী সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি পুরোপুরি ছাত্রীর বেশে রাত সাড়ে বারোটার পর হাসপাতালে ঢুকেছিলাম। জরুরি বিভাগে কোনো সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন না, পুরো কাজটাই কেবল জুনিয়র ডাক্তারদের ভরসায় চলছিল।’’ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের হস্টেলেও যান। সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব দেখেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তিনি বলেন, হস্টেলের অবস্থা খুবই খারাপ, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কোনো বালাই নেই এবং চারপাশ সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সুমনা সরকার বলেন, হস্টেলগুলিতে নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়ে রয়েছে। তিনি চাইলে সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি তা করেননি। তবে হস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের তিনি সতর্ক করার পাশাপাশি আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। হস্টেল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে কারা যাতায়াত করছেন, তার সম্পূর্ণ নথি (রেকর্ড) রাখতে হবে। সেই সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত ছাত্ররা কীভাবে হস্টেলের বাইরে থাকেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে রাজ্য সরকার শীঘ্রই হাসপাতাল ও হস্টেলের এই বর্তমান অব্যবস্থা দূর করতে প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
Calcutta High Court-এর স্বস্তি, Abhishek Banerjee-এর পিএ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আপাতত কড়া পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা
সকাল সকাল ডেস্ক গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে সুমিত রায়ের আবেদন, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার মৌখিক নির্দেশ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। Calcutta High Court-এ ফের সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ Abhishek Banerjee-এর ব্যক্তিগত সহায়ক সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মৌখিক নির্দেশে জানান, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে না। ফলে আপাতত গ্রেফতার-সহ কোনও জোরদার ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে। এই নির্দেশের ফলে চলতি মামলায় সাময়িক আইনি সুরক্ষা পেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। শুনানি পিছোল, বহাল থাকল আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ বৃহস্পতিবার Calcutta High Court-এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও রাজ্যের পক্ষের প্রবীণ আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে আগামী সোমবার। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। আদালতের এই মৌখিক নির্দেশ কার্যত তাঁকে সাময়িক আইনি রক্ষাকবচ দিয়েছে। কী এই মামলা? শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। সেই পরোয়ানার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই Calcutta High Court-এর দ্বারস্থ হন তিনি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান বিশ্লেষণ করে সুমিত রায়ের শেষ অবস্থান হিসেবে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনের আশপাশের এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই শালবনি থানার পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালায়। রাজনৈতিক বিতর্কে সরব দুই পক্ষ পুলিশের ওই তল্লাশি অভিযানের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। Abhishek Banerjee-এর শিবির অভিযোগ তোলে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং তদন্তের নামে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে কলকাতা হাইকোর্টে পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে তদন্তের স্বার্থে সিআইডি সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিসও জারি করেছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Background সাম্প্রতিক সময়ে শালবনি থানার মামলাকে কেন্দ্র করে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে পুলিশ ও সিআইডি। তদন্ত চলাকালীন সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। এর আগেও Calcutta High Court তাঁকে সাময়িক সুরক্ষা দিয়েছিল। এবারও সেই আইনি রক্ষাকবচ কিছুদিনের জন্য বহাল রাখল আদালত। Impact হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে আপাতত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতার-সহ কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ স্থগিত থাকছে। একই সঙ্গে মামলাটি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে ঘিরে। আগামী শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ তদন্তের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। Official Statement বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মৌখিক নির্দেশে জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। একই সঙ্গে রাজ্যের পক্ষের আবেদন মেনে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। Public Information মামলার পরবর্তী শুনানিতে গ্রেফতারি পরোয়ানার বৈধতা, তদন্তের অগ্রগতি, সিআইডির পদক্ষেপ এবং সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আদালত বিস্তারিত শুনানি করতে পারে। সেই শুনানির রায়ই নির্ধারণ করবে তদন্তের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
Koel Mallick রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা, BJP-তে যোগদানের জল্পনায় সরগরম বঙ্গ রাজনীতি
সকাল সকাল ডেস্ক রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক, রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ Koel Mallick-এর ইস্তফাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল। রথযাত্রার দিনই আচমকা রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়েন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী তথা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তাঁর উপস্থিতির খবর সামনে আসতেই Koel Mallick-এর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোয়েল মল্লিক বা বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা, বাড়ল রাজনৈতিক জল্পনা বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার সদস্য তালিকায় আর দেখা যায়নি Koel Mallick-এর নাম। সংবাদ সংস্থা এএনআই-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার সাংসদদের তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হল। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। বিদেশ সফর থেকে ফিরে তিনি সাংসদ পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে এই দাবির স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি। ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জোর চর্চা ইস্তফার পরপরই Koel Mallick-কে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দেখা যাওয়ার খবর সামনে আসে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে তিনি শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপি কিংবা কোয়েল মল্লিক—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা ঘোষণা করেনি। ফলে বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Background চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দলবদল হয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। পরে তাঁদের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থীও করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে Koel Mallick-এর ইস্তফা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। Impact বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ Koel Mallick। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু রাজনীতিতেই নয়, সাংস্কৃতিক ও জনমতের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। যদিও সবটাই নির্ভর করছে তাঁর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের উপর। Official Statement বর্তমান পরিস্থিতিতে Koel Mallick শুধুমাত্র রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। বিজেপি কিংবা কোয়েল মল্লিক—কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। Public Information রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে তা আরও একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সরকারি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাবনা বা জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।