১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছবে অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় উদ্যোগ ঝাড়খণ্ড সরকারের
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৫ জুলাই: জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল ঝাড়খণ্ড সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ইরফান আনসারি জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হল যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ১৫ মিনিটের মধ্যে রোগীর কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে দেওয়া। এতে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে এবং বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো যাবে। শনিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও কার্যকর করতে ৭২০টি নতুন অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু হলে সড়ক দুর্ঘটনা, গর্ভবতী মহিলা, হৃদ্রোগ, স্ট্রোকসহ অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত ৭২০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৫০টি অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট (এএলএস), ২৭০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) এবং ৪০০টি পেশেন্ট ট্রান্সপোর্ট ভেহিকল (পিটিভি) থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পিটিভি অ্যাম্বুলেন্সগুলি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার (সিএইচসি) ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিএইচসি) মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে, এএলএস অ্যাম্বুলেন্স জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে রাখা হবে। ড. আনসারি বলেন, ঝাড়খণ্ডের দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ছোট আকারের আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, বাকি ৬৯০টি অ্যাম্বুলেন্সের টেন্ডার প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে, যাতে দ্রুত সেগুলি পরিষেবায় যুক্ত করা যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েতে ছোট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ঝাড়খণ্ডের কোনও নাগরিক যেন জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং সময়মতো প্রত্যেকের কাছে জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যায়।
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে প্রস্তুতি পর্যালোচনা, ভিআইপি-ভিভিআইপি দর্শনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
সকাল সকাল ডেস্ক দেওঘর, ২৫ জুলাই: আগামী ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা রাজ্য সরকারি শ্রাবণী মেলা ২০২৬-কে সামনে রেখে শনিবার দেওঘর সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঝাড়খণ্ডের নগর উন্নয়ন, উচ্চ ও প্রযুক্তি শিক্ষা, পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী সুদিব্য কুমার। বৈঠকে দেওঘরের জেলা প্রশাসক সৌরভ কুমার ভুবানিয়া এবং দুমকার জেলা প্রশাসক অভিজিৎ সিনহা বিভাগভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী সুদিব্য কুমার বলেন, মেলা শুরুর আগেই ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে হবে। তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে জলাভিষেক করতে পারেন এবং বাবা বৈদ্যনাথ ধাম থেকে সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রাবণী মেলা চলাকালীন আউট অব টার্ন দর্শন, ভিআইপি ও ভিভিআইপি দর্শন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এতে সাধারণ ভক্তদের দর্শনে কোনও অসুবিধা হবে না। আগামী ২৯ জুলাই ফের দেওঘর ও দুমকার তীর্থযাত্রী পরিষেবার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে মেলা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, ট্রাফিক পোস্ট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, মাতৃত্ব বিশ্রামগৃহ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনটি টেন্ট সিটিতে আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পানীয় জল, শৌচাগার, স্নানাগার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গরম ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখে মিস্ট কুলিং ব্যবস্থা এবং ‘ইন্দ্র বর্ষা’ স্প্রে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেওঘর ও বাসুকীনাথের মধ্যে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সমন্বিত মেলা কন্ট্রোল রুম, এআই ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা, যানবাহন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ডিজিটাল প্যাভিলিয়ন এবং কিউআর কোডভিত্তিক অভিযোগ ও মতামত গ্রহণ ব্যবস্থা চালু থাকবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে ভক্তরা সরাসরি প্রশাসনকে অভিযোগ বা পরামর্শ জানাতে পারবেন, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়। বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের সচিব, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের আশা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত পরিকাঠামো এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের শ্রাবণী মেলা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ভক্তবান্ধব হবে।
ধর্মতলা হিংসায় যুক্ত চার কুখ্যাত অপরাধীর নাম বিধানসভায় প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ককলকাতা : ধর্মতলায় শুক্রবার ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসা ছড়ানো এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার বিধানসভায় চার নামকরা অপরাধীর নাম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এরা কোনো ছাত্র নয়, বরং সংগঠিত উপদ্রবী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পাস হওয়া পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট (জননিরাপত্তা আইন)-এর অধীনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭০ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এদের মধ্যে রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, ইকবালপুরের তানভীর এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এরা কেউই ছাত্র নয়; হিংসা ছড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই এরা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল। তিনি জানান, ধর্মতলার হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মোট সাতটি প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং সবকটি মামলাতেই পাবলিক সেফটি অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো দুষ্কৃতীকে রেহাই দেবে না। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গুন্ডাদমন আইন এজন্যই তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ধরনের সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আমরা এমন পদক্ষেপ নেব যে একটা নয়, ওদের তিন প্রজন্ম তা মনে রাখবে। এখন রাজ্যের সাধারণ মানুষও দেখতে পাবেন এই আইনের প্রয়োজন কতটা ছিল।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশকে আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত যেন বলপ্রয়োগ না করা হয়। কর্তব্যে কর্মরত পুলিশকর্মীদের সংযমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উসকানি সত্ত্বেও পুলিশ ধৈর্য বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
সেবাশ্রয় শিবির মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে আরও একটি প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে। পৈলানের একটি রিসোর্টে জোরপূর্বক স্বাস্থ্য শিবির আয়োজনের ঘটনার সঙ্গে মামলাটি সম্পর্কিত। রিসোর্টের প্রতিনিধি সমীরণ রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর থানায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায় এবং বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ অনুসারে, ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির জন্য রিসোর্টটিকে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এই সময়কালে ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক ও কর্মীর থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকেই করতে হয়েছিল। অভিযোগ, পুরো আয়োজনের খরচও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে পর্যটন মরসুমে রিসোর্টটিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল এবং সুমিত রায় রিসোর্টের মালিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। স্থানীয় শিবির পরিচালনার নামে অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হয়। টাকা না দিলে রিসোর্টে ভাঙচুর চালানো এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। খবর অনুযায়ী, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ কর্মসূচির কারণে রিসোর্টটির ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রিসোর্টের পক্ষ থেকে অভিযোগকারী সমীরণ রায় জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযুক্তই প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় ভয়ে এতদিন তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাহস সঞ্চয় করে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তোলাবাজি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন স্থানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এই সমস্ত মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন, তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তাকে সার্বিকভাবে কোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব নয়।
ধর্মতলায় সাংবাদিক নিগ্রহে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হবে গুন্ডা দমন আইন
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ধর্মতলায় বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিধানসভায় কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজ্যের গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হবে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি কলকাতা পুলিশের সংযমেরও প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত প্ররোচনা সত্ত্বেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে এবং অযথা বলপ্রয়োগ করেনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং সেগুলিতে গুন্ডা দমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের অনেকেই ছাত্র বা নিট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেন তিনি। আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামাল নামে কয়েকজনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যা তারা “তিন পুরুষ মনে রাখবে”। শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, তিনি নিজে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সকলের রয়েছে, কিন্তু সেই অধিকারকে সামনে রেখে সাংবাদিক বা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক এনে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল এবং পরে সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। এদিকে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় কলকাতা প্রেস ক্লাবও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে ক্লাব জানায়, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের আক্রমণে প্ররোচনার অভিযোগে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে প্রেস ক্লাব, কলকাতায় প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের একাংশও পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, তাঁরা রাজ্যপালের সঙ্গেও দেখা করে গোটা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ এবং ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
কান্তকবি রজনীকান্ত সেনঃ বাংলার কাব্য ও সঙ্গীত জগতে একটি অবিস্মরণীয় নাম
সকাল সকাল ডেস্ক তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে, মলিন মর্ম মুছায়ে,তব পূণ্যকিরণ দিয়ে যাক, মোর মোহ কালিমা ঘুচায়ে।উপরিউক্ত গানটির বর্ণে বর্ণে ঈশ্বর প্রেমের ভাবনা পরিস্ফুট। কবি ঈশ্বরের কাছে তাঁর মনের গোপনে নিভৃত ভবনে লুকিয়ে থাকা গভীর আকুতি গানের মাধ্যমে ব্যক্ত করার অনবদ্য প্রয়াস করেছেন। তিনি তাঁর করযুগল বদ্ধ করে ঈশ্বরের কাছে যে আকুতি নিবেদন করেছেন তিনি নিজের মঙ্গলার্থে করেন নি। কারণ তিনি চেয়েছেন যে, সকল মানুষের মনের কালিমা যেন মঙ্গলময়ের কৃপায় ধূয়ে মুছে শেষ হয়ে যায়। তাঁর প্রার্থনা মন্ত্র এটাই প্রমাণ করে যে, কৃপাময়ের কৃপায় মানবমনের সমস্ত কালিমা নিমিষে শেষ হয়ে যায়। তিনি আরো বলেছেন যে, তাঁর পূণ্য কিরণের স্পর্শে মনের মলিনতা, কল্মষতা অচিরেই দূর হয়ে যায়। তাঁরই আলোয় আলোকিত মন মানুষকে আধ্যাত্মিকতার পথ অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করে। কারণ ঈশ্বরের প্রকাশিকা শক্তির তুলনায় সমস্ত উজ্জ্বল বস্তুই নিষ্প্রভ। তাঁর এই অতুলনীয় প্রকাশিকা শক্তির মহিমা বর্ণন করতে গিয়ে কঠোপনিষদ গ্রন্থে বলা হয়েছে:–” ন তত্র সূর্যো ভাতি ন চন্দ্রতারকাঃনেমা বিদ্যুতো ভান্তি কুতোহয়মগ্নিঃ।তমেব ভান্তমনুভাতি সর্বংতস্য ভাসা সর্বমিদং বিভাতি।।”অর্থাৎ এই মহাবিশ্বের সমস্ত প্রকাশিকা শক্তি পরমপিতা পরমেশ্বরের মধ্যেই নিহিত। সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ-তারা, নক্ষত্রমণ্ডল সবই তাঁরই আলোকে আলোকিত।যাই বা হোক রজনীকান্ত সেন বাংলার সাহিত্য জগতে একজন ক্ষণজন্মা প্রতিভা সম্পন্ন ব্যষ্টি ছিলেন, একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। অতএব তাঁর মূল্যবান কৃতিত্ব ও অবদানের কথা ইতিহাসের পাতায় চিরতরে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েই থাকবে।দেশপ্রেমের গভীর ভাবনায় আপ্লুত রজনীকান্ত সেন পরাধীনতাকে মানব জীবনের চরম অভিশাপ বলেই মনে করতেন। তাই তিনি স্বাধীনতার সুখ কবিতায় একটি বাবুই পাখি ও চড়ুই পাখির কথোপকথনের মাধ্যমে অতি সহজ ভাবে স্বাধীনতার মহত্ত্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি একটি স্তবকে লিখেছেন:–” বাবুই হাসিয়া কয়, সন্দেহ কী তায়?কষ্ট পাই, তবু থাকি, নিজের বাসায়।পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,নিজ হাতে গড়া মোর, কাঁচা ঘর খাসা।।”অর্থাৎ অপরের নির্মিত রাজপ্রাসাদের তুলনায় স্বনির্মিত পর্ণকুটীর শতগুণ শ্রেয়। কারণ ঐ কুঁড়ে ঘরে স্বাধীনতা আছে, স্বতন্ত্রতা আছে, আর সেই সঙ্গে স্বাভিমানের মতো মস্ত বড় আত্মনির্ভরতার দৃষ্টান্ত আছে। কারণ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষের মনে সব সময় হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়, যা মানুষের মন থেকে মানবীয় মূল্যবোধ কেড়ে নেয়। সুতরাং মনে রাখা দরকার — স্বাধীনতা হীনতায় কেউ বাঁচতে চায় না। কারণ পরাধীনতার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরমুখী প্রাণীনতা জাগ্রত হয় না। আর ঈশ্বরমুখী প্রাণীনতা ছাড়া কেউ বলতে পারে না —“আমরাই জয় করিব ভূবন,রণমুখী নয়, হরিমুখী করি মন।”বিশ্বজয় করতে হলে প্রথমে মানুষের মন জয় করতে হবে। কারণ তরবারির জয় দুদিনের যা তরবারিতে মরচে ধরার আগেই শেষ হয়ে যায়।মানবজীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য স্বাধীনতা একান্তই প্রয়োজন। কিন্তু স্বাধীনতা শব্দের অপপ্রয়োগ মানুষের অগ্রগতিকে অবরুদ্ধ করে। কারণ স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতা সমার্থক নয়। অতএব স্বাধীনতা মানে যদিচ্ছা পথ চলা নয় — স্বাধীনতা মানে অনুশাসন মেনে প্রগতির পথে, বিকাশের পথে, স্বাবলম্বিতার পথে তেজস্বিতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া। অনুশাসনহীনতা মানুষকে প্রগতির পথে নয় অধোগতির পথেই নিয়ে যায়। সুতরাং সামঞ্জস্য পূর্ণ সমাজ নির্মাণ কল্পে অনুশাসনকে মোটেই অবহেলা করা চলে না। অনুশাসন সম্বন্ধে আলোচনা প্রসঙ্গে বিংশ শতাব্দীর মহান দার্শনিক ও সত্যদ্রষ্টা ঋষি শ্রী শ্রী আনন্দমূর্তিজী তাঁর রচিত ” নমঃ শিবায় শান্তায়” গ্রন্থে বলেছেন:–“হিতার্থে শাসনমিতি অনুশাসনম্” — অর্থাৎ স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে নিয়মানুবর্তিতার যে শাসন, উচ্ছৃঙ্খলতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলার যে শাসন, দুশ্চরিত্রতার বিরুদ্ধে চারিত্রিক স্থৈর্যের যে শাসন, অধোগামিতার বিরুদ্ধে উৎগামিতার যে শাসন — এই ধরণের সর্বপ্রকার নিম্নগ ও বহু বিশ্লেষণাত্মক গতির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বগ ও সংশ্লেষণাত্মিকা গতির যে শাসন তাই অনুশাসন।”উপরিউক্ত বক্তব্যটিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে যে, সুসংবদ্ধ ও সুসামঞ্জস্য পূর্ণ সমাজ নির্মাণ কল্পে অনুশাসনকে মোটেই অবহেলা করা চলে না, চলবে না। কারণ অনুশাসন হচ্ছে — অগ্রগতির দ্যোতক, সামাজিক উন্নয়নের অগ্রদূত। যাই বা হোক ধান ভানতে গিয়ে অনেকটাই শিবের গীত গাওয়া হলো। অবশ্য এই শিবের গীত মোটেই অপ্রয়োজনীয় নয়, কারণ ন্যায় নীতির শাসন ব্যতিরেকে সমাজের অগ্রগতি রুদ্ধ হয়। সুতরাং সময় পেলেই যৎকিঞ্চিৎ আধ্যাত্মিক আলোচনা একান্তই কাম্য। হ্যাঁ, আবার ফিরে আসি আজকের আলোচ্য বিষয়ে ।রবীন্দ্র যুগের সমসাময়িক কবি হিসেবে রজনীকান্ত সেনের নাম অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। কারণ তিনি ছিলেন একজন স্বনামধন্য দেশপ্রেমিক ও খ্যাতনামা সুকবি ও সুগায়ক। তবে অতিশয় দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, ১৯১০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর তিনি মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে ইহলোকের সমস্ত মায়া পরিত্যাগ করে মৃত্যু বরণ করেন — এটা অবশ্যই অভাবনীয় শোকবার্তা যা প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে ব্যাকুল করে দেয়। কিন্তু প্রকৃতির বাঁধা ধরা নিয়ম হচ্ছে – যে আসে সে যায়।সুতরাং তিনি অবশ্যই প্রকৃতির নিয়ম মেনেই বাংলার সাহিত্য প্রেমী জনগণকে অনাথ করে এক অদৃশ্য জগৎপানে চলে গেছেন। যে পাঁচজন কবির নাম এই প্রবন্ধে উল্লিখিত হয়েছে, তাঁদের কেউই ভৌতিক শরীর নিয়ে বেঁচে নেই কিন্তু পাঠক বর্গের হৃদয়ে তাঁরা আজো চির স্মরণীয় হয়ে আছেন ও থাকবেন। তাই আলোচনা শেষ করার আগে তাঁদের সবাইকে জানাই শতকোটি প্রণাম ও আন্তরিক শ্রদ্ধা।অয়মস্তু।
বাচিক মঞ্জরী’র কবিতা ও শ্রুতি নাটকে মুখর ‘বর্ষা মঙ্গল’ অনুষ্ঠান
সকাল সকাল ডেস্ক চিত্রদীপ ভট্টাচার্য জামশেদপুর: শহরের অন্যতম বাচিক শিল্পীদের সংগঠন ‘বাচিক মঞ্জরী’-র উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হল বর্ষাকে কেন্দ্র করে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বর্ষা মঙ্গল’। কবিতা আবৃত্তি, শ্রুতি নাটক এবং বর্ষার আবহে সাজানো মনোজ্ঞ পরিবেশনায় দর্শকদের মন জয় করে নেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শিশুদের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। এরপর স্বপ্না চ্যাটার্জি ও বিটপী দাশগুপ্ত পরিবেশন করেন ‘আষাঢ়’ কবিতা। সুস্মিতা গাঙ্গুলীর আবৃত্তি ‘বানভাসি’ মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করেন। অমিত রায় ও মুনমুন রায় পরিবেশন করেন একটি শ্রুতি নাটক, যা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। মিঠু মণ্ডল আবৃত্তি করেন ‘আজ যেন খুব মেঘ করেছে’, পূরবী ঘোষ শোনান ‘বর্ষার দিনে’ এবং কেকা সরকার, সুমিতা ঘোষ তাঁদের আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন। চন্দ্রা দেব, সরস্বতী দাস ও অনুমিত্রা রায় যৌথভাবে পরিবেশন করেন ‘বৃষ্টি নামল যখন’। শ্রাবণী মিত্র ও ইতি সেনগুপ্ত তাঁদের আবৃত্তি দিয়ে বর্ষার আবেগকে আরও গভীর করে তোলেন। অরূপ ঘোষ, সোনালী মিত্র ও দোলন ভট্টাচার্য পরিবেশন করেন ‘শ্রাবণের ধারার মতো’। মৌসুমী ঘোষ হাজরা আবৃত্তি করেন আঞ্চলিক কবিতা ‘আশা’। এরপর মিঠু মণ্ডল, রিংকু নন্দী, চম্পা ধর ও রুমা মুখার্জির পরিবেশনাও দর্শকদের মুগ্ধ করে। মলয় আচার্য আবৃত্তি করেন ‘কোলাজ’ ও ‘বৃষ্টি যখন নামে’। শ্রাবণী চৌধুরী, চৈতালি পানি ও আন্না গাঙ্গুলী পরিবেশন করেন ‘নব বর্ষা’। কমলা মুখার্জী, দেবশ্রী সেনগুপ্ত, মনীষা ঘোষ, সোমা ব্যানার্জি ও রূপা লাহিড়ী যৌথভাবে পরিবেশন করেন ‘কবিতা কোলাজ’। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে বিশিষ্ট শিক্ষক ও আবৃত্তিকার সব্যসাচী চন্দ্র তাঁর স্বকীয় ভঙ্গিতে কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতির আবেদন এবং বাংলা কবিতার আবেগময় পরিবেশনায় ‘বর্ষা মঙ্গল’ হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
কুমিরমুড়ি গ্রামের ছেলে থেকে জাতীয় পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা, রবি রাজ মুর্মুর সাফল্যের গল্প
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি, ২৪ জুলাই: ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার জাদুগোড়ার কুমিরমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা রবি রাজ মুর্মু আজ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সম্পাদক। ছোট্ট গ্রাম থেকে বড় স্বপ্ন দেখার যে যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন, সেই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী ছিল টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন। ২০০৮ সালে জ্যোতি ফেলোশিপ-এর জন্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে রবির পথচলা শুরু হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি পড়াশোনায় সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ পান। পরে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ভিডিও প্রোডাকশনে বিশেষজ্ঞ হন। সেই সময় টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ‘সমুদায় কে সাথ (এসকেএস)’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, যা সিনেমার মাধ্যমে আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের গল্প বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরে। এসকেএস-এর অধীনে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের জন্য কমিউনিটি বিভাগে পুরস্কার পান রবি। এই স্বীকৃতি তাঁকে চলচ্চিত্র নির্মাণকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করে। পরে তিনি শুধু অংশগ্রহণকারী নন, বরং এসকেএস-এর মেন্টর হিসেবেও কাজ করেন। এর ফলে দেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। টাটা স্টিল রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, বর্তমানে টাটা স্টিল ফাউন্ডেশন, এ ইন্টার্নশিপের সময় তিনি বিভিন্ন গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ নথিবদ্ধ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করায় যে, মানুষের গল্পই সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনকে সামনে আনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। টাটা স্টিল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় রবি পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)-এ চলচ্চিত্র নির্মাণে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি তথ্যচিত্র, গবেষণাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন, প্রচারচিত্র এবং বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করেন। পাশাপাশি নেটফ্লিক্স, জিও হটস্টার এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও-র বিভিন্ন প্রকল্পে অ্যাসোসিয়েট এডিটর ও ট্রেলার এডিটর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৬ সালে তাঁর আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতিনির্ভর চলচ্চিত্র ‘অঙ্গেন’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এই সম্মান শুধু রবির সাফল্যই নয়, ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী গল্প বলার ঐতিহ্যকেও জাতীয় স্তরে নতুন পরিচিতি দেয়। রবির লক্ষ্য এখন আদিবাসী সমাজের জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং ঝাড়খণ্ডের মৌলিক গল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে একটি নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলা। তাঁর সাফল্যের এই যাত্রা প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায় ও সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণও জাতীয় পর্যায়ে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারেন।
মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রয়াণদিবসে শ্রদ্ধা, জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একাধিক পরিকল্পনার ঘোষণা
সকাল সকাল ডেস্ক বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তমকুমারের ৪৭তম প্রয়াণবার্ষিকীতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মহানায়কের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে এবং আগামী জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর একটি ফাইবারের আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রয়াণবার্ষিকীর পর মহানায়কের বাড়িতেও গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের মন্ত্রী তাপস রায়, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক সেলের কনভেনর রুদ্রনীল ঘোষ, বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং মহানায়কের পরিবারের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন। সেই উপলক্ষে ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে এই কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে মহানায়ক উত্তমকুমারের নামে কলকাতায় একটি আধুনিক ফিল্ম সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার অধীন উত্তম মঞ্চের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের কাজও হাতে নেওয়া হবে। এছাড়া নন্দন বা রবীন্দ্র সদনে একটি প্রস্তুতি সভা আয়োজন করে জন্মশতবর্ষ উদযাপনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, মহানায়কের পরিবারের মতামত ও সম্মতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সমস্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উত্তমকুমারের জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। তাঁর জন্মশতবর্ষকে ঘিরে সরকারের এই উদ্যোগ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন সংস্কৃতিমহল।
ধর্মতলায় মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ; লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসে ছত্রভঙ্গ বিক্ষোভকারীরা
সকাল সকাল ডেস্ক নিট-ইউজি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে মিছিল শেষ হওয়ার পর আচমকাই বিক্ষোভকারীদের একাংশ এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, অবস্থান-বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল-সহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়েন। কয়েকজন পুলিশকর্মীর গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। এদিনের মিছিলে বাম ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থকরাও অংশ নেন। পৃথক মিছিলের অনুমতি না পাওয়ায় তারা মূল কর্মসূচিতেই যোগ দেয়। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার পথে মিছিল এগোনোর সময় বহু ছাত্রছাত্রী ও আন্দোলনকারী এতে সামিল হন। কারও হাতে ছিল প্রতিবাদী পোস্টার, কারও মুখে স্লোগান, আবার কেউ মুখোশ পরে মিছিলে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন শুধু রাজধানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে কলকাতার রাজপথেও প্রতিবাদে নেমেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, প্রশাসন শুরু থেকেই সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। সংঘর্ষের পর ধর্মতলা ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না বা কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।