নিষ্ঠুর তৃণমূল সরকার উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিকে শেষ করে দিচ্ছে : নরেন্দ্র মোদী
তৃণমূল কংগ্রেসকে উত্তরবঙ্গ-বিরোধী তকমা দিলেন বিজেপি নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার শিলিগুড়ির নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দার্জিলিং সহ উত্তরবঙ্গের একটি বিরাট অংশ চা-চাষের অঞ্চল।
জনপ্রিয়তা অম্লান, রেডিও আজও প্রাসঙ্গিক
সকাল সকাল ডেস্ক সিদ্ধার্থ রায়, পাটনা সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন এবং স্মার্টফোনের আধিপত্যের এই যুগেও, রেডিও মানুষের জীবনে এক বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে, যা পুরোনো স্মৃতি আর প্রাসঙ্গিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটায়। বহু যুগ ধরে রেডিও তথ্য, শিক্ষা এবং বিনোদনের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। ভোরবেলার ভক্তিগীতি থেকে শুরু করে সংবাদ বুলেটিন এবং আলাপচারিতামূলক অনুষ্ঠান পর্যন্ত, এটি সারা দেশের প্রতিটি ঘরে এক বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে আছে। আজও ছোট ছোট দোকান, অটোরিকশা, পেট্রোল পাম্প এবং শপিং মলে রেডিওর শব্দ শোনা যায়, যা এর গভীর সামাজিক প্রভাবেরই প্রতিফলন।রেডিওর বিশ্বাসযোগ্যতা ও সহজলভ্যতা একে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। বিনোদনের বাইরেও এটি কৃষি, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান এবং সমসাময়িক ঘটনাবলির ওপর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে, যা একে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। দ্রুতগতির আধুনিক জীবনের মাঝে, রেডিও সংযোগ ও সচেতনতার একটি সহজ এবং নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে। টেলিভিশনের প্রতি মুগ্ধ গণমাধ্যম পর্যবেক্ষকেরা আত্মবিশ্বাসের সাথে রেডিওর আসন্ন মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তাদের মতে, বসার ঘরের আরামদায়ক পরিবেশে চলমান ছবি দেখার রোমাঞ্চের সাথে এই মাধ্যমটির তুলনা চলে না। বিগত দশকগুলোর রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে একটি গোটা তরুণ প্রজন্মের বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে ওঠা রক-অ্যান্ড-রোলের আবির্ভাব, রেডিওর জন্য আগের চেয়ে বৃহত্তর শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরি করে এবং অমঙ্গলবাদীদের ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে। হ্যাঁ, রেডিও এখনও প্রাসঙ্গিক। যদিও বিশ্ব ডিজিটাল হয়ে গেছে একথা বলা সহজ, রেডিও কিন্তু মরে যায়নি। আজও, মুম্বাইয়ের সাম্প্রতিক বন্যার মতো দুর্যোগের সময় রেডিওর ভূমিকা অনস্বীকার্য। টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের রমরমা বাজারেও প্রতিটি দশকেই রেডিও টিকে থাকার চূড়ান্ত মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের রুচির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। ১৯৮০ ও ‘৯০-এর দশকে, এটি শ্রোতা-চালিত অনুষ্ঠানের উপর অধিক জোর দেওয়ার মাধ্যমে পার্সোনাল ভিডিও রেকর্ডার এবং ডিজিটাল কমপ্যাক্ট ডিস্কের সৃষ্ট হুমকি মোকাবেলা করেছিল। ‘৯০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০০০-এর দশকের শুরুতে, রেডিও স্টেশনগুলো বিশেষ শ্রোতাগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে নিজেদের নতুন করে সাজিয়ে তুলছিল: নির্দিষ্ট ধরনের বিষয়বস্তুর জন্য নিবেদিত স্টেশন ছিল — যেমন টক রেডিও, পাঙ্ক রক স্টেশন, এমনকি এমন স্টেশনও ছিল যা দিনে ২৪ ঘণ্টা একটিমাত্র ব্যান্ডের গান বাজাত — যা স্পটিফাই এবং আইটিউনসের আবির্ভাবের এক দশক বা তারও বেশি সময় আগে থেকেই অনুমান করা হয়েছিল। বর্তমানে ভারতজুড়ে ১৮০টিরও বেশি কমিউনিটি রেডিও স্টেশন রয়েছে, যেগুলো বুন্দেলখণ্ডী, গাড়োয়ালি, অবধী এবং সাঁওতালির মতো ভাষায় সম্প্রচার করে—যে ভাষাগুলো সাধারণত টেলিভিশনে খুব কম বা একেবারেই জায়গা পায় না। দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের সময়েও রেডিওই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৪ সালের সুনামি এবং ২০১৩ সালের উত্তরাখণ্ডের বন্যার মতো পরিস্থিতিতে, যখন অন্যান্য মাধ্যমগুলো দুর্গম হয়ে পড়েছিল, তখন ত্রাণকার্য, সাহায্য এবং পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রেডিও এক অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মাসিক অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে এই মাধ্যমটির প্রতি আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত করার কৃতিত্বের অধিকারী। এই উদ্যোগটি রেডিওকে জাতীয় আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে এবং পরিবার ও সম্প্রদায়কে একসঙ্গে এটি শোনার জন্য উৎসাহিত করেছে। ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র মতো অনুষ্ঠানগুলো তরুণ শ্রোতাদের এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আরও সংযুক্ত করেছে, যার ফলে এর শ্রোতা সংখ্যা প্রসারিত হয়েছে। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও সারাদেশে টেলিভিশন সংযোগ উপলব্ধ নয়, কিন্তু রেডিও ৯৯ শতাংশেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য রেডিওকে বেছে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে মাদকাসক্তি, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সমস্যার মতো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রেডিও শ্রোতাদের অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তিগত করে তোলে এবং ঘটে চলা ঘটনা অনুধাবন করতে তাদের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগাতে উদ্বুদ্ধ করে। “টিভি প্রত্যেককে একটি প্রতিচ্ছবি দেয়, কিন্তু রেডিও লক্ষ লক্ষ মস্তিষ্কে লক্ষ লক্ষ প্রতিচ্ছবির জন্ম দেয়,” লিখেছিলেন আমেরিকান লেখিকা মার্গারেট ‘পেগি’ নুনান। এমন এক যুগে যেখানে ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী তৈরি বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাঁর এই পঙক্তিগুলো এই মাধ্যমটির অপরিসীম নমনীয়তা এবং অবিচ্ছিন্ন প্রাসঙ্গিকতার এক নিখুঁত সারসংক্ষেপ তুলে ধরে।রেডিও এমন একটি যন্ত্র যা সঙ্গে নিয়ে ঘোরা যায়, যার জন্য ডেটা স্ট্রিমিং বা ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হয় না এবং এটি বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ১৯৯৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়, যা বেতার তরঙ্গকে জনসাধারণের সম্পত্তি হিসাবে ঘোষণা করে, ভারতকে একটি ‘সাংস্কৃতিক সম্প্রচার ব্যবস্থার’ সম্ভাবনার কাছাকাছি নিয়ে আসে যা ‘এটি যে সম্প্রদায়ের সেবা করে তাদের স্বার্থ এবং চাহিদা প্রতিফলিত করার জন্য পুরোপুরি খাপ খায় এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে এবং সাংস্কৃতিকভাবে নিজেদের প্রকাশ করার সুযোগ দেয। যদিও এই রায়ের ফলে অবিলম্বে ভারত জুড়ে কমিউনিটি রেডিও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবে এটি সম্প্রচার মাধ্যমের উপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে দিয়ে অ-রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলিকে এই ক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। ১৯৯৯ সালে, ভারত সরকার বেসরকারি বাণিজ্যিক রেডিও স্টেশন স্থাপনের অনুমতি দেয় এবং পরে, ২০০৩ সালে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের ক্যাম্পাস থেকে সম্প্রচার করার অনুমতি দিয়ে এই পরিধি আরও প্রসারিত করা হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রায় এক দশক পর, ২০০৬ সালে, ভারত সরকার একটি কমিউনিটি রেডিও নীতি ঘোষণা করে, যা অবশেষে সম্প্রদায়-ভিত্তিক সংস্থা এবং বেসরকারি সংস্থাগুলিকে তাদের নিজস্ব রেডিও স্টেশন স্থাপন ও পরিচালনা করার অনুমতি দেয়। ২০০৬ সালের নীতিমালা সেইসব জনগোষ্ঠীর জন্য বেতার সম্প্রচারের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়, যাদের পূর্বে এই ধরনের গণমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ ছিল না।
জনজোয়ারে ভাসল পুরুলিয়া: সুজয় ব্যানার্জির সমর্থনে দেবের মেগা রোড শো
সকাল সকাল ডেস্ক শেফালী মাহাতো, পুরুলিয়া:আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার প্রচারের পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন ঘাটালের সাংসদ তথা টলিউড সুপারস্টার দীপক অধিকারী ওরফে দেব। পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় ব্যানার্জির সমর্থনে এক বর্ণাঢ্য রোড শো-তে অংশ নিলেন তিনি।এদিন রোড শো-টি শুরু হয় পুরুলিয়ার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বড় হাটের মোড় থেকে। হুডখোলা গাড়িতে সুজয় ব্যানার্জিকে পাশে নিয়ে যখন দেব যাত্রা শুরু করেন, তখন রাস্তার দু’ধারে মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিলটি শহর পরিক্রমা করে গৌসালা মোড়েগিয়ে শেষ হয়।প্রিয় অভিনেতাকে একবার চোখের দেখা দেখতে এবং সেলফি তোলার আবদারে রাস্তার দু’পাশে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ভিড় সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।সুজয় ব্যানার্জির সমর্থনে এবং দেবের নামে কর্মী-সমর্থকদের গগণবিদারী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।সুজয় ব্যানার্জি জানান, দেবের এই উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে এবং আগামী নির্বাচনে এই জনসমর্থনই ব্যালট বক্সে প্রতিফলন ঘটাবে।পুরুলিয়ার রাজপথে এদিন শুধুই ছিল মানুষের ভিড় আর ঘাসফুল শিবিরের দাপট। দেবের এই হাই-ভোল্টেজ প্রচার বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের হাতকে আরও শক্ত করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভোটের কাজে সিভিক ও গ্রিন পুলিশে নিষেধাজ্ঞা, কড়া নির্দেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ কিংবা স্টুডেন্ট পুলিশ ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। উপ-সচিব শক্তি শর্মা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের দফতরে সবিস্তারে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সাধারণ নির্বাচনের কোনো কাজেই এই বাহিনীকে যুক্ত করা যাবে না। শুধু তাই নয়, ভোটগ্রহণের দিন ছাড়াও তার আগের ও পরের দিন—অর্থাৎ মোট তিন দিন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ত্রিসীমানায় যেন তাঁদের দেখা না যায়, সেই বিষয়েও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ সম্পর্কে প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলিকে বিশদে অবহিত করার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এর আগেও দুই দফায় এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক চিঠিতে সেই পূর্ববর্তী নির্দেশিকার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে কমিশনের অবস্থান আরও একবার দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করা হলো। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নাকা তল্লাশিতে উদ্ধার ৯০ হাজার টাকা
সকাল সকাল ডেস্ক পুরুলিয়া: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে জেলায় কড়া নজরদারি চলাকালীন নাকা তল্লাশিতে উদ্ধার হলো নগদ টাকা। পুরুলিয়া মফস্বল থানার রুদ্রা গ্রামের বাসিন্দা অমর পাণ্ডে নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে না পারায় সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, অমর পাণ্ডে পেশায় একজন ঠিকাদার। বৃহস্পতিবার তিনি তার কাজের শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারি দল এবং পুলিশের যৌথ নাকা তল্লাশি চলছিল। অমরবাবুর গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালানো হলে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে নগদ টাকা বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা এবং বৈধ নথিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঘটনাস্থলে অমরবাবু ওই টাকার সপক্ষে কোনো যুৎসই প্রমাণ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এর পরেই কমিশনের আধিকারিকরা নিয়ম মেনে পুরো টাকাটি সিজ (Seize) করেন। টাকা বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর ঠিকাদার অমর পাণ্ডে দাবি করেন, শ্রমিকদের মজুরি মেটানোর জন্যই তিনি ব্যাংক থেকে এই টাকা তুলে আনছিলেন। হঠাৎ নাকা চেকিংয়ের মুখে পড়ে তিনি অপ্রস্তুত হয়ে যান এবং সেই মুহূর্তে সমস্ত নথি পেশ করতে পারেননি।পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সঠিক প্রমাণপত্র জমা দিতে পারলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে টাকা ফেরতের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে জেলায় এই ধরণের চেকিং অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক কৃষক ও ভাগচাষিকে দ্রুত ত্রাণ, ক্ষতিপূরণ দিতে দেরি করা হবে না: মুখ্যমন্ত্রী যোগী
সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : অকাল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কৃষক ও ভাগচাষিদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, এতে কোনও বিলম্ব করা হবে না। বুধবার সকালে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক এবং সরকার সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতার সঙ্গে তাদের পাশে রয়েছে। তিনি নির্দেশ দেন, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতির নির্ভুল ও দ্রুত সমীক্ষা করে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। জেলা প্রশাসনকে রাজস্ব, কৃষি-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সমন্বয়ে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ত্রাণ বিতরণে দেরি না হয়। পাশাপাশি ফসল বিমা সংক্রান্ত দাবিগুলিও দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের বিপর্যয় ত্রাণ তহবিল থেকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে ত্রাণ শিবির খোলা এবং মান্ডি বা বাজার কমিটির মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি নির্দেশ দেন, প্রাণহানি বা গবাদিপশুর ক্ষতি হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে সরকারি আবাস যোজনার সুবিধাও দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার থেকেই উত্তর প্রদেশের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি চলছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে।
আরামবাগে নির্বাচনী প্রচার মমতার, তোপ এসআইআর ইস্যুতে
সকাল সকাল ডেস্ক হুগলি : আরামবাগে বুধবার জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এসআইআর ইস্যুতে কমিশনকে নিশানা করেন। জানান, অনেক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। অনেক মানুষের নাম তোলা বাকি আছে। মরে যাব তবু শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। আবার আদালতে যাওয়া উচিত। এসআইআর ইস্যুতে কমিশনকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোট কেটে তৃণমূলকে হারানো যাবে না। তিনি এও বলেন, সবার নাম উঠবে, আজ নয় কাল। ৩২ লক্ষ নাম আমি নিজে গিয়ে কেস করে তুলে দিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টই বলেছিল বিচারকেরা যে নামগুলো ক্যান্সেল করেছে, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা যাবে। কিন্তু তার আগে কেন ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দিল আমার মাথায় ঢুকল না। তাই আমার মনে হয় আবার কোর্টে যাওয়া উচিত। আরামবাগের সভা থেকে মমতা বলেন, আমার কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের নাম বাদ। তাতেও কোনও ফারাক পড়বে না। একটা ভোট থাকলেও তৃণমূলের বাক্সেই পড়বে। বিজেপির বাক্সে বা অন্য কোনও দলের বাক্সে পড়বে না। ভোট কেটে কিছু করতে পারবে না।
দেশের প্রকৃত শক্তি জনগণের জ্ঞান, মূল্যবোধের মধ্যেই নিহিত থাকে : উপরাষ্ট্রপতি
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন মঙ্গলবার বলেছেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি জনগণের জ্ঞান, মূল্যবোধ এবং সক্ষমতার মধ্যেই নিহিত থাকে। তিনি বলেন, ইগনু-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বৃত্তিমূলক শংসাপত্র এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করে জাতীয় দক্ষতা পরিমণ্ডলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপরাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইগনু-র ৩৯-তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাধাকৃষ্ণন বলেন, ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়- ইগনু সহজলভ্য শিক্ষার মাধ্যমে সমগ্র দেশকে সংযুক্ত করে এবং শিক্ষার পরিমণ্ডলকে রূপান্তরিত করে দেশকে গর্বিত করেছে। উপরাষ্ট্রপতি ইগনু-কে দেশের মুক্ত ও দূরশিক্ষণ পরিমণ্ডলের একটি স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং উল্লেখ করেন, এটি শিক্ষাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে এসেছে, বিশেষ করে তাদের কাছে যারা শৈশবে সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি কর্মজীবী ব্যক্তি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, আর্থিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী এবং নারীদের কাছে উচ্চশিক্ষা পৌঁছে দিয়ে একটি রূপান্তরমূলক ভূমিকা পালন করেছে। রাধাকৃষ্ণন বলেন, ৩ লক্ষ ২৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে, যা এটিকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম স্নাতক অনুষ্ঠান করে তুলেছে।
একসাথে নিয়োগের দাবিতে রাস্তায় টেট-২ উত্তীর্ণরা, আটক বহু চাকরিপ্রার্থী
সকাল সকাল ডেস্ক আগরতলা : টেট-২ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের একসাথে নিয়োগের দাবিতে মঙ্গলবার আগরতলায় উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের সরকারি বাসভবনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শতাধিক চাকরিপ্রার্থী। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিক্ষোভকারীদের আটক করে এডিনগরস্থিত পুলিশ মাঠে নিয়ে যায়। জানা যায়, ২০২৫ সালের টেট-২ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই একযোগে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি রাজ্য সরকার টেট-২ উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ১০২০ জনকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রোস্টার পদ্ধতি অনুসরণ করায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের। আন্দোলনকারীদের দাবি, সংরক্ষণ নীতিমালা মেনে নিয়োগ করা হলে বাস্তবে প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০টি পদ পূরণ হবে। ফলে বাকি পদগুলো শূন্য থেকে যাবে এবং মোট উত্তীর্ণদের প্রায় অর্ধেকই বঞ্চিত হবেন। অথচ মোট ১৪৮৮ জন পরীক্ষার্থী টেট-২ উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং শূন্যপদের সংখ্যা তার থেকেও বেশি বলে দাবি তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এদিন সকালে আগরতলায় সিটি সেন্টারের সামনে জড়ো হন টেট-২ উত্তীর্ণরা। সেখানে স্লোগান তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর তাঁরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের সরকারি বাসভবনের সামনে পৌঁছে বিক্ষোভে সামিল হয়। বিক্ষোভস্থল থেকে জনৈক চাকরিপ্রার্থী জানান, “আমরা ১৪৮৮ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কিন্তু সরকার মাত্র ১০২০ জনকে নিয়োগের কথা বলছে। সংরক্ষণ নীতি মেনে চললে তারও অর্ধেকের মতো চাকরি পাবেন। তাহলে বাকিদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমরা সবাই একসাথে নিয়োগ চাই এবং বাকি নিয়োগ কবে হবে তার স্পষ্ট সময়সীমা জানতে চাই।” এদিকে বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি রানা চ্যাটার্জির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রথমে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে এলাকা ছেড়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানতে অস্বীকার করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে এবং তাঁদের এডিনগরস্থিত পুলিশ মাঠে নিয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগরতলায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
“এবার টিটিএএডিসিতে পদ্ম ফুটবেই”—বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে রাজীবের দৃঢ় প্রত্যয়
সকাল সকাল ডেস্ক আগরতলা : বিজেপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের মধ্যেই আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। সোমবার আগরতলায় প্রদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এবার টিটিএএডিসিতে ভারতীয় জনতা পার্টির পদ্ম ফুল ফুটতে চলেছে, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।” সোমবার সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরায়ও যথাযোগ্য মর্যাদায় ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়। এই উপলক্ষ্যে আগরতলায় প্রদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন রাজীব ভট্টাচার্য। এরপর কার্যালয়ের অভ্যন্তরে ভারত মাতা, জনসংঘের দুই প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দলের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা হয়। এর আগে ১৯৫১ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, “জনসংঘ থেকে বিজেপি-র পথচলার ইতিহাস প্রতিটি কার্যকর্তার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজীব ভট্টাচার্য আত্মবিশ্বাসী সুরে জানান, জনগণের সমর্থন নিয়ে এবার টিটিএএডিসিতেও বিজেপি সাফল্য অর্জন করবে। তাঁর দাবি, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনমুখী নীতির উপর ভর করেই এই সাফল্য আসবে। এদিকে, শুধু প্রদেশ কার্যালয়েই নয়, আগরতলায় বিভিন্ন মণ্ডল এবং বুথ এলাকায়ও দিনভর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করা হয়। পতাকা উত্তোলন, প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে দলীয় কর্মীরা দিনটি পালন করেন। একইভাবে রাজ্যের সব মহকুমা, জেলা এবং মণ্ডল কমিটির উদ্যোগেও যথাযথ মর্যাদায় বিজেপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত হয়েছে।