ভারত টেক্স ২০২৬-এ নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বাঁশ-নির্মিত স্টিলের বোতল ও মগ, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি/রাঁচি: নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ভারত টেক্স ২০২৬-এর তৃতীয় দিনেও ঝাড়খণ্ড প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পূর্ব সিংভূম জেলার বহড়াগোড়ার অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টারের তৈরি বাঁশ-নির্মিত স্টিলের বোতল ও মগ দেশ-বিদেশের ক্রেতা, শিল্প প্রতিনিধিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই পণ্যগুলি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনযাত্রার বার্তা বহন করছে। বাঁশ ও স্টেনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি বিশেষ বোতলটি গরম বা ঠান্ডা পানীয়ের তাপমাত্রা প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে বাঁশ, স্টেনলেস স্টিল এবং খাদ্য-নিরাপদ প্লাস্টিকের ঢাকনা ব্যবহার করে তৈরি মগে পানীয়ের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বজায় থাকে। রাজ্য সরকারের মতে, ‘লোকাল টু গ্লোবাল’ ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ভারত টেক্স ২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তসর রেশম, ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃত পণ্য, হস্ততাঁত, হস্তশিল্প এবং বাঁশ-ভিত্তিক উদ্ভাবনী সামগ্রীর মাধ্যমে ঝাড়খণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পরিচিতি আরও শক্তিশালী করছে। অঞ্জনেয়া বাঁশ ক্লাস্টার শুধু ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পকেই নতুন রূপ দিচ্ছে না, বরং আধুনিক নকশা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যও তৈরি করছে। লেজার কাটিং, লেজার খোদাই, সিএনসি রাউটিং এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ নকশা তৈরির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লাস্টারটি বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রী, আসবাবপত্র ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্য উৎপাদন করছে। এবারের ভারত টেক্স ২০২৬-এ ১৩০টিরও বেশি দেশের ৬ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ব্যবসায়িক দর্শনার্থীর উপস্থিতি ঝাড়খণ্ডের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, কারিগর ও উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি রাজ্যের হস্তশিল্প ও বাঁশ-ভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
দুর্গাপূজাকে পরিবেশ রক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণের সাথে যুক্ত করার আহ্বান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
সকাল সকাল ডেস্ক বর্ধমান : বার্নপুরের মসজিদ রোড এলাকার বিখ্যাত নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের আগামী দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী খুঁটি পুজাের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পূজা-অৰ্চনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দুর্গাপূজাকে পরিবেশ সুরক্ষা, সমাজসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, দুর্গাপূজা কেবল চার-পাঁচ দিনের একটি উৎসব নয়, এটি সমাজকে একসূত্রে বাঁধার এবং মানুষের মধ্যে সেবামূলক মনোভাব গড়ে তোলার এক বড় সুযোগ। তিনি পরামর্শ দেন, পূজা কমিটিগুলির কেবল উৎসবের দিনগুলিতেই নয়, বরং সারা বছর ধরে সমাজের কল্যাণে কাজ করা উচিত। গরিব ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রক্তদান শিবির ও স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন, পাঠাগার স্থাপন এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ড ক্লাবগুলির অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিয়ে তিনি জানান, এই বছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ-বান্ধব দুর্গাপূজাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পূজা মণ্ডপগুলিতে যাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার না করা হয়, প্রতিমা নির্মাণে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ বর্জন করা হয় এবং জলের অপচয় বন্ধ করার পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে পরিচ্ছন্নতা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এর পাশাপাশি মণ্ডপগুলিতে প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের (দিব্যাঙ্গজন) জন্য পৃথক প্রবেশপথের ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখারও পরামর্শ দেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করেন, যে সমস্ত পূজা কমিটি পরিবেশ সুরক্ষার সমস্ত নিয়ম মেনে সবচেয়ে সুন্দর ও দায়িত্বশীলভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করবে, তাদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হবে। তিনি ক্লাবগুলির কাছে আবেদন জানান, তারা যেন সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে এবং মানুষের সুখে-দুঃখে সর্বদা পাশে দাঁড়ায়। এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই ক্লাবগুলির রাজনীতিকরণের তীব্র বিরোধিতা করেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ক্লাবগুলি যেন কোনো রাজনৈতিক দলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কেবল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর কাজ। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, অতীতে বহু জায়গায় ক্লাবগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে তাদের সামাজিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার ক্লাবগুলিকে রাজনীতি থেকে ঊর্ধ্বে উঠে সমাজসেবা, যুবসমাজের বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নিজের বক্তব্যের শেষে তিনি যোগ করেন, দুর্গাপূজা সবার উৎসব এবং এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। ক্লাবগুলির উচিত মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সেবার মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করা। নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে আসন্ন দুর্গাপূজার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তিনি। এদিনের খুঁটি পূজা কর্মসূচিতে ক্লাবের কর্মকর্তা অমিত সিং, শম্ভু আগরওয়াল, দীপক তোদি, সুরজিৎ সিংহ মক্কড়, প্রদীপ মাজি, বিজেপি নেতা পবন কুমার সিং সহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বহুসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মেডিক্যাল ছাত্রীর বেশে মধ্যরাতে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, অব্যবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ
সকাল সকাল ডেস্ক কল্যাণী : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বুধবার গভীর রাতে মেডিক্যাল ছাত্রীর ছদ্মবেশে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতালে আচমকা হানা দিলেন। মুখে মাস্ক থাকায় প্রথমদিকে হাসপাতালের কোনো কর্মীই তাঁকে চিনতে পারেননি। এই সুযোগে তিনি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষেবা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং হস্টেলের (ছাত্রাবাস) পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সেখানে একাধিক অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থা দেখে তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বুধবার রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে কোনো রকম নিরাপত্তা কনভয় ছাড়াই সাধারণ চটি ও পোশাকে হাসপাতালে পৌঁছান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে সাধারণ পোশাকে ছিলেন কেবল একজন মহিলা নিরাপত্তাকর্মী। মুখে মাস্ক থাকায় কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে সাধারণ ছাত্রী বলেই মনে করেছিলেন। এই সুযোগেই তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দেখতে পান, জরুরি বিভাগে কোনো বরিষ্ঠ চিকিৎসক উপস্থিত নেই। এই ঘটনায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর যখন তিনি মুখ থেকে মাস্ক সরান, তখন সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোগীদের পরিজনদের অভাব-অভিযোগের বিষয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক নোংরা-আবর্জনা ও অব্যবস্থা দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাসপাতাল চত্বরে কুকুর-বেড়ালের অবাধ ঘোরাফেরা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, এই সমস্ত বিষয়ের রিপোর্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হবে। সুমনা সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কাছে অভিযোগ আসছিল যে রাত ১০টার পর হাসপাতালে অধিকাংশ সময় কোনো সিনিয়র ডাক্তার থাকেন না। সেই কারণেই তিনি এই আকস্মিক পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রায় সমস্ত বিভাগেই নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়ে রয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাজ্য সরকারের এই মন্ত্রী আরও বলেন, জেএনএম হাসপাতাল ও তার হস্টেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ আসছিল। অতীতে রাজ্যে ঘটে যাওয়া আর জি কর হাসপাতালের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। সেই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রুখতেই রাজ্যজুড়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, এই আকস্মিক পরিদর্শনের বিষয়ে আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছিল এবং মুখ্যমন্ত্রীই তাঁকে একজন মহিলা নিরাপত্তাকর্মী সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি পুরোপুরি ছাত্রীর বেশে রাত সাড়ে বারোটার পর হাসপাতালে ঢুকেছিলাম। জরুরি বিভাগে কোনো সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন না, পুরো কাজটাই কেবল জুনিয়র ডাক্তারদের ভরসায় চলছিল।’’ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের হস্টেলেও যান। সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব দেখেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তিনি বলেন, হস্টেলের অবস্থা খুবই খারাপ, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কোনো বালাই নেই এবং চারপাশ সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সুমনা সরকার বলেন, হস্টেলগুলিতে নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়ে রয়েছে। তিনি চাইলে সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি তা করেননি। তবে হস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের তিনি সতর্ক করার পাশাপাশি আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। হস্টেল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে কারা যাতায়াত করছেন, তার সম্পূর্ণ নথি (রেকর্ড) রাখতে হবে। সেই সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত ছাত্ররা কীভাবে হস্টেলের বাইরে থাকেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে রাজ্য সরকার শীঘ্রই হাসপাতাল ও হস্টেলের এই বর্তমান অব্যবস্থা দূর করতে প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
Calcutta High Court-এর স্বস্তি, Abhishek Banerjee-এর পিএ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আপাতত কড়া পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা
সকাল সকাল ডেস্ক গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে সুমিত রায়ের আবেদন, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার মৌখিক নির্দেশ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। Calcutta High Court-এ ফের সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ Abhishek Banerjee-এর ব্যক্তিগত সহায়ক সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মৌখিক নির্দেশে জানান, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে না। ফলে আপাতত গ্রেফতার-সহ কোনও জোরদার ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে। এই নির্দেশের ফলে চলতি মামলায় সাময়িক আইনি সুরক্ষা পেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। শুনানি পিছোল, বহাল থাকল আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ বৃহস্পতিবার Calcutta High Court-এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও রাজ্যের পক্ষের প্রবীণ আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে আগামী সোমবার। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। আদালতের এই মৌখিক নির্দেশ কার্যত তাঁকে সাময়িক আইনি রক্ষাকবচ দিয়েছে। কী এই মামলা? শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। সেই পরোয়ানার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই Calcutta High Court-এর দ্বারস্থ হন তিনি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান বিশ্লেষণ করে সুমিত রায়ের শেষ অবস্থান হিসেবে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনের আশপাশের এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই শালবনি থানার পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালায়। রাজনৈতিক বিতর্কে সরব দুই পক্ষ পুলিশের ওই তল্লাশি অভিযানের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। Abhishek Banerjee-এর শিবির অভিযোগ তোলে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং তদন্তের নামে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে কলকাতা হাইকোর্টে পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে তদন্তের স্বার্থে সিআইডি সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিসও জারি করেছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Background সাম্প্রতিক সময়ে শালবনি থানার মামলাকে কেন্দ্র করে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে পুলিশ ও সিআইডি। তদন্ত চলাকালীন সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। এর আগেও Calcutta High Court তাঁকে সাময়িক সুরক্ষা দিয়েছিল। এবারও সেই আইনি রক্ষাকবচ কিছুদিনের জন্য বহাল রাখল আদালত। Impact হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে আপাতত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতার-সহ কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ স্থগিত থাকছে। একই সঙ্গে মামলাটি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে ঘিরে। আগামী শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ তদন্তের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। Official Statement বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মৌখিক নির্দেশে জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। একই সঙ্গে রাজ্যের পক্ষের আবেদন মেনে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। Public Information মামলার পরবর্তী শুনানিতে গ্রেফতারি পরোয়ানার বৈধতা, তদন্তের অগ্রগতি, সিআইডির পদক্ষেপ এবং সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আদালত বিস্তারিত শুনানি করতে পারে। সেই শুনানির রায়ই নির্ধারণ করবে তদন্তের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
Koel Mallick রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা, BJP-তে যোগদানের জল্পনায় সরগরম বঙ্গ রাজনীতি
সকাল সকাল ডেস্ক রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক, রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ Koel Mallick-এর ইস্তফাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল। রথযাত্রার দিনই আচমকা রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়েন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী তথা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তাঁর উপস্থিতির খবর সামনে আসতেই Koel Mallick-এর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোয়েল মল্লিক বা বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা, বাড়ল রাজনৈতিক জল্পনা বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার সদস্য তালিকায় আর দেখা যায়নি Koel Mallick-এর নাম। সংবাদ সংস্থা এএনআই-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার সাংসদদের তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হল। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। বিদেশ সফর থেকে ফিরে তিনি সাংসদ পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে এই দাবির স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি। ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জোর চর্চা ইস্তফার পরপরই Koel Mallick-কে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দেখা যাওয়ার খবর সামনে আসে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে তিনি শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তবে এখনও পর্যন্ত বিজেপি কিংবা কোয়েল মল্লিক—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা ঘোষণা করেনি। ফলে বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Background চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দলবদল হয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। পরে তাঁদের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থীও করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে Koel Mallick-এর ইস্তফা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। Impact বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ Koel Mallick। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু রাজনীতিতেই নয়, সাংস্কৃতিক ও জনমতের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। যদিও সবটাই নির্ভর করছে তাঁর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের উপর। Official Statement বর্তমান পরিস্থিতিতে Koel Mallick শুধুমাত্র রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। বিজেপি কিংবা কোয়েল মল্লিক—কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। Public Information রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে তা আরও একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সরকারি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাবনা বা জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
Lionel Messi-এর জোড়া অ্যাসিস্টে England-কে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ Argentina
সকাল সকাল ডেস্ক মেসির দুরন্ত দুই অ্যাসিস্টে শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল নিশ্চিত করল আর্জেন্তিনা। আর্জেন্তিনার ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করলেন Lionel Messi। গোল না করেও ম্যাচের সেরা নায়ক হয়ে উঠলেন তিনি। তাঁর জোড়া অ্যাসিস্টে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ জায়গা করে নিল আর্জেন্তিনা। এখন বিশ্ব ফুটবলের নজর ২০ জুলাইয়ের মহারণে, যেখানে Lionel Messi-র নেতৃত্বাধীন আর্জেন্তিনার সামনে প্রতিপক্ষ স্পেন। England-এর দাপটে শুরু, Gordon-এর গোলে এগিয়ে যায় ইংরেজরা ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা মেলেনি। মাঝমাঠের লড়াই, একের পর এক ফাউল এবং হলুদ কার্ডে জমে ওঠে সেমিফাইনাল। এলিয়ট অ্যান্ডারসন, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোসহ একাধিক ফুটবলার সতর্ক হন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল করে ইংল্যান্ড। মর্গান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশ করে দলকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। গোলের পর ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল দলকে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। Lionel Messi-র জাদুতে বদলে যায় ম্যাচ এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্তিনা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে নিকোলাস ওতামেন্দি ও রদ্রিগো দে পলকে মাঠে নামান। এরপরই নিজের অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ ভিশনের পরিচয় দেন Lionel Messi। ৬৬ মিনিটে তাঁর ভাসানো বল থেকে নিকো গনসালেসের হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন জর্ডন পিকফোর্ড। যদিও সেটিই ছিল আর্জেন্তিনার আক্রমণের পূর্বাভাস। Enzo Fernandez-এর সমতা, Lautaro Martinez-এর জয়সূচক গোল ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আসে সমতার গোল। কর্নার থেকে ছোট পাস পেয়ে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন Lionel Messi। চেলসির মিডফিল্ডার শক্তিশালী শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির জাদু। মাঝমাঠ থেকে তাঁর নিখুঁত থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড শিবির, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্তিনা সমর্থকরা। টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ Argentina এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ জায়গা করে নিল আর্জেন্তিনা। ১৯৮৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল লা আলবিসেলেস্তে। গোলদাতাদের তালিকায় নাম না থাকলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন Lionel Messi। বয়স বাড়লেও তাঁর খেলার মান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা যে এখনও বিশ্বসেরা, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Background বর্তমান বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্তিনা। নকআউট পর্বে ধারাবাহিক সাফল্যের পর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল স্কালোনির দল। অন্যদিকে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ডও দুর্দান্ত ফর্মে ছিল। তাই এই ম্যাচকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছিল। Impact এই জয় আর্জেন্তিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের আরও কাছে নিয়ে গেল। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষাও আরও দীর্ঘ হলো। মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল, বড় ম্যাচে তিনিই এখনও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। Official Statement ম্যাচ শেষে আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি দলের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড শিবির স্বীকার করেছে, দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলই তাদের বিপদ ডেকে এনেছে। Public Information আগামী ২০ জুলাই নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে World Cup Final। ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা ও স্পেন। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের নজর থাকবে এই মহারণে, যেখানে Lionel Messi-র সামনে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি।
লেকটাউন ছাত্রমৃত্যু মামলায় ৭ বড় দাবি! ‘দেখব, ভাবব না, কাজ করব’- জনতার দরবারে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক লেকটাউনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগের পর জনতার দরবারে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত, বিচার এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন তিনি। কলকাতা: লেকটাউনের বহুল আলোচিত ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিজেপির জনতার দরবারে হাজির হন তাঁর বাবা যদু দে। অভিযোগ শোনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি শুধু আশ্বাসে নয়, কাজে বিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “দেখব, ভাবব না, কাজ করব।” ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল লেকটাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সৃঞ্জয় দে-র নিথর দেহ। ময়নাতদন্তের পর পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সৃঞ্জয়ের বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ জনতার দরবারে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন সৃঞ্জয়ের বাবা যদু দে। তাঁর দাবি, ছেলে বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে বক্তব্য রাখত। সেই কারণেই রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তিনি তৎকালীন মন্ত্রী সুজিত বসুর দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। যদু দে-র অভিযোগ, প্রথম থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তাই তিনি নতুন করে তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ‘দেখব, ভাবব না, কাজ করব’—মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা লেকটাউন ছাত্রমৃত্যুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জনতার দরবার শুধুমাত্র অভিযোগ শোনার কর্মসূচি নয়। এখানে আসা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, “আমি যা বলি, তা কাজে পরিণত হয়। মানুষ এখানে বুকভরা আশা নিয়ে আসেন। আমরা শুধু দেখব বা ভাবব বলি না, আমরা কাজ করি।” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত পাঁচ থেকে ছয়টি জনতার দরবারে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন দলীয় নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আশি শতাংশ সমস্যার সমাধানের দাবি মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, জনতার দরবারে আসা প্রায় আশি শতাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তিনি নিজে প্রতিটি অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান। তাঁর মতে, মানুষের আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ হল দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাতেও আশ্বাস বুধবারের জনতার দরবারে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত একটি পরিবারও উপস্থিত ছিল। তারা জানায়, অতীতেও বিজেপির পক্ষ থেকে সহায়তা পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই স্থানীয় পুলিশ তড়িঘড়ি চার্জশিট জমা দিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। তিনি আরও জানান, সুবিচারের স্বার্থে নতুন আবেদন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ব্যাকগ্রাউন্ড ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে লেকটাউনের একটি আবাসন থেকে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ আত্মহত্যার তত্ত্ব সামনে আনলেও পরিবারের দাবি ছিল, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে পরিবার। অন্যদিকে, বিজেপির জনতার দরবার কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ নানা অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করছে। প্রভাব রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লেকটাউন ছাত্রমৃত্যু মামলাটি আবারও আলোচনায় উঠে আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে। পরিবারের অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে। অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা শুধু দেখব বা ভাবব—এই নীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা কাজ করি। জনতার দরবারে আসা অধিকাংশ অভিযোগের সমাধান হয়েছে এবং প্রতিটি বিষয় আমি নিজে পর্যবেক্ষণ করছি।” পাবলিক ইনফরমেশন জনতার দরবারে জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে অভিযোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনে অভিযোগকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানানো হয়।
মদন মিত্র: ৭ বড় বার্তা! ‘সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়া’, শিবির বদলেও তৃণমূলেই থাকার দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক মদন মিত্র কালীঘাট শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিলেও জানালেন, দল ছাড়েননি। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইপ্যাককে কটাক্ষ করে দিলেন একাধিক রাজনৈতিক বার্তা। কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মদন মিত্র। দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক এবার কালীঘাট শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। তবে শিবির পরিবর্তনের পরও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দল ছাড়েননি। তাঁর কথায়, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম।” নতুন শিবিরে যোগ দিয়ে কী বললেন মদন মিত্র? মঙ্গলবার রাত থেকেই মদন মিত্রকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল। এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে তাঁর দীর্ঘ বৈঠকের খবর সামনে আসতেই নানা আলোচনা শুরু হয়। বুধবার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে উপস্থিত হয়ে তিনি কালীঘাট শিবিরের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এরপরই স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁর নতুন রাজনৈতিক অবস্থান। শিবির বদলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মদন মিত্র বলেন, “ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।” তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। একইসঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন তিনি তাঁর পাশে ছিলেন এবং সেই সম্পর্ককে তিনি আজও সম্মান করেন। তিনি আরও বলেন, তিনি শুধু তৃণমূলের বিধায়ক নন, গোটা বাংলার মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধি। অভিষেক ও আইপ্যাককে কটাক্ষ নিজের বক্তব্যে মদন মিত্র প্রত্যক্ষভাবে আইপ্যাক এবং পরোক্ষভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “অভিষেক আর যাই হোক তৃণমূলের মুখ নয়। আর আইপ্যাক খায় না মাথায় দেয়, সেটাও বোঝা যায়নি।” এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যে দল একসময় ২১৩টি আসন পেয়েছিল, একজনের জন্য সেই শক্তিশালী অবস্থান শেষ হয়ে গেছে। যদিও তিনি কার কথা বলেছেন তা স্পষ্ট করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তাঁর ইঙ্গিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই। ব্যাকগ্রাউন্ড ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে বিভাজন তৈরি হয়েছে। কালীঘাট শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির—এই দুই ভাগে দলের একাধিক নেতা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ইতিমধ্যেই বহু হেভিওয়েট নেতা নতুন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র এতদিন নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ইডির নোটিসের পর বাড়ল জল্পনা সম্প্রতি পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। এই আবহেই তিনি স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর থেকেই শিবির পরিবর্তনের জল্পনা আরও জোরালো হয়। বুধবার তাঁর ঘোষণার মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটে। প্রভাব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মদন মিত্রর মতো পরিচিত নেতার শিবির পরিবর্তন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা এবং শহরতলির রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দিনে আরও কোনও নেতা এই পথে হাঁটেন কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র বলেন, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়া বেছে নিয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি এখনও সম্মান করি।” পাবলিক ইনফরমেশন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মদন মিত্র দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেননি। তিনি কেবল কালীঘাট শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আগামী দিনে এই পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রভাব কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে।
Aranya Saptaha: বনভূমি ধ্বংস নিয়ে পূর্বতন সরকারকে তোপ, ৭.২০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক Aranya Saptaha-র সূচনায় বন সংরক্ষণ, গাছ পাচার রোধ, বনকর্মী নিয়োগ ও সবুজায়নে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী Aranya Saptaha-র সূচনায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনভূমি রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার স্কুলপড়ুয়াদের হাতে চারাগাছ তুলে দেওয়া এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে Aranya Saptaha কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বনদফতরের নবনিযুক্ত নেতৃত্বকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তিনি বনভূমি ধ্বংস, অবৈধ গাছ কাটা এবং পরিবেশগত অবহেলার জন্য পূর্বতন সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বন প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি, মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল, বনদফতরের প্রধান সচিব মণীশ জৈন এবং প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। হেলিকপ্টার থেকে বনভূমির অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হেলিকপ্টারে যাতায়াতের সময় ওপর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন বনাঞ্চলের বর্তমান চিত্র দেখে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁর কথায়, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, তরাই-ডুয়ার্স এবং জলদাপাড়ার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের বহু অংশ ধ্বংসের মুখে। অবৈধভাবে গাছ কেটে বনভূমি নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পূর্বতন সরকারের আমলে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শহরাঞ্চলে পরিকল্পনাহীন নির্মাণের ফলে সবুজের পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিল্ডিং নির্মাণে নির্ধারিত সবুজ এলাকার নিয়ম বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। Background: পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা Aranya Saptaha উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী দেশের পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছ ভারত’, ‘নমামি গঙ্গে’, ‘যোগ’ এবং ‘খেলো ইন্ডিয়া’র মতো কর্মসূচির পাশাপাশি ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ অভিযানও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের প্রতিদিন অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাসের কথাও উল্লেখ করেন এবং এটিকে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Official Statement: ৭.২০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যে প্রশাসনকে নির্দেশ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নির্ধারিত ৭ কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পূরণে প্রশাসনকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান— মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গাছ লাগিয়ে ছবি তোলাই শেষ লক্ষ্য নয়, চারাগাছকে বাঁচিয়ে রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। Impact: বন সংরক্ষণে জনপ্রতিনিধিদের প্রতিযোগিতার আহ্বান সবুজায়নের লক্ষ্যে রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদেরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রস্তাব দেন— তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে ২৬ কোটি এবং গুজরাতে ১.২০ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গও অন্তত ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোতে পারে। গাছ পাচার রোধে যৌথ অভিযান, বনকর্মী নিয়োগে বড় ঘোষণা বনদফতরকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অবৈধভাবে গাছ কাটা, কাঠ পাচার এবং বেআইনি কাঠের মিলের বিরুদ্ধে বনদফতর ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাবে। দীর্ঘদিন ধরে বনদফতরে থাকা শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (পিআরবি)-এর মাধ্যমে বনকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কর্মরত অবস্থায় মৃত বনকর্মীদের পরিবারের অনুকম্পামূলক চাকরির ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। Public Information: হাতি সংরক্ষণ ও বনদফতর আধুনিকীকরণে জোর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গলমহলে হাতির সুরক্ষা এবং হাতির হানায় মানুষের প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষতি কমাতে ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের সফল মডেল অনুসরণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বনদফতরে পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করে পশ্চিমবঙ্গের বন প্রশাসনকে দেশের অন্যতম সেরা দফতরে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগোচ্ছে। Aranya Saptaha উপলক্ষে ঘোষিত এই কর্মসূচিগুলি বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি রক্ষা এবং সবুজায়নের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
Baruipur Case: ধর্ষণ-খুন মামলায় তিন অভিযুক্তকে নিয়ে ফের ঘটনার পুনর্নির্মাণ, নমুনা সংগ্রহ করল ফরেন্সিক দল
সকাল সকাল ডেস্ক Baruipur Case তদন্তে নতুন অগ্রগতি, ঘটনাস্থলে তিন অভিযুক্তকে নিয়ে পুনর্নির্মাণ; ফরেন্সিক রিপোর্টে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ Baruipur Case-এ নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের তদন্তে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)। মঙ্গলবার ধৃত তিন অভিযুক্ত কবীর মোল্লা, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। তদন্তকারীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দলও। তারা ঘটনাস্থল থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছে, যা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, Baruipur Case-এর প্রকৃত ঘটনা ও প্রমাণ আরও স্পষ্ট করতে এই পুনর্নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার পুনর্নির্মাণে কী কী খতিয়ে দেখা হল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, সেই স্থানেই তিন অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁদের উপস্থিতিতে অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার প্রতিটি ধাপ পুনর্গঠন করেন। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল বলে অভিযোগ, তা পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকে, সেই কারণে পুনর্নির্মাণের সময় দু’জন সাক্ষীকেও উপস্থিত রাখা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ফরেন্সিক দলের ভূমিকা হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। মাটি, সম্ভাব্য জৈব নমুনা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক উপাদান পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ফরেন্সিক রিপোর্ট Baruipur Case-এর তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। শুধু অভিযুক্তদের বয়ান নয়, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যও তদন্তকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে পুলিশ। আদালতে চার্জশিট পেশের সময় এই রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। Background: প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে আগের পুনর্নির্মাণে বিতর্ক এর আগেও এই মামলায় একবার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা হয়েছিল। গত সপ্তাহে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু সেই সময় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রভাস এক তদন্তকারী আধিকারিকের সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং একটি গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রভাস মণ্ডলের। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সেই ঘটনার এক সপ্তাহ পর বাকি তিন অভিযুক্তকে নিয়ে ফের পুনর্নির্মাণ করায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ Official Statement: প্রমাণ সংগ্রহে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ তদন্তকারীরা তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মামলার প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া নমুনা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ঘটনাক্রম আরও স্পষ্ট করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপনে তা সহায়ক হবে। Impact: রাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে Baruipur Case-এ এই ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে। গত শনিবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আশ্বাস দেন, পুরো তদন্ত তাঁর প্রত্যক্ষ নজরদারিতে চলছে এবং ভবিষ্যতে এই মামলার তদন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশাসনের ওপর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। Public Information: চারটি পৃথক মামলায় এগোচ্ছে তদন্ত পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট চারটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথম মামলাটি নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে। দ্বিতীয়টি প্রতিবাদ চলাকালীন গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তৃতীয় মামলায় পুলিশের উপর হামলা, রাস্তা অবরোধ এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। চতুর্থ মামলাটি রেল অবরোধ এবং রেলের সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রতিটি মামলার তদন্ত আলাদাভাবে এগিয়ে চলেছে। এখন ফরেন্সিক পরীক্ষার ফলাফল, পুনর্নির্মাণে পাওয়া তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। Baruipur Case-এর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর প্রশাসন, আদালত এবং সাধারণ মানুষের।