সকাল সকাল ডেস্ক
মেসির দুরন্ত দুই অ্যাসিস্টে শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল নিশ্চিত করল আর্জেন্তিনা।
আর্জেন্তিনার ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করলেন Lionel Messi। গোল না করেও ম্যাচের সেরা নায়ক হয়ে উঠলেন তিনি। তাঁর জোড়া অ্যাসিস্টে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ জায়গা করে নিল আর্জেন্তিনা। এখন বিশ্ব ফুটবলের নজর ২০ জুলাইয়ের মহারণে, যেখানে Lionel Messi-র নেতৃত্বাধীন আর্জেন্তিনার সামনে প্রতিপক্ষ স্পেন।
England-এর দাপটে শুরু, Gordon-এর গোলে এগিয়ে যায় ইংরেজরা
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা মেলেনি। মাঝমাঠের লড়াই, একের পর এক ফাউল এবং হলুদ কার্ডে জমে ওঠে সেমিফাইনাল। এলিয়ট অ্যান্ডারসন, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোসহ একাধিক ফুটবলার সতর্ক হন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল করে ইংল্যান্ড। মর্গান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশ করে দলকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। গোলের পর ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল দলকে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
Lionel Messi-র জাদুতে বদলে যায় ম্যাচ
এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্তিনা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে নিকোলাস ওতামেন্দি ও রদ্রিগো দে পলকে মাঠে নামান। এরপরই নিজের অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ ভিশনের পরিচয় দেন Lionel Messi।
৬৬ মিনিটে তাঁর ভাসানো বল থেকে নিকো গনসালেসের হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন জর্ডন পিকফোর্ড। যদিও সেটিই ছিল আর্জেন্তিনার আক্রমণের পূর্বাভাস।
Enzo Fernandez-এর সমতা, Lautaro Martinez-এর জয়সূচক গোল
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আসে সমতার গোল। কর্নার থেকে ছোট পাস পেয়ে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন Lionel Messi। চেলসির মিডফিল্ডার শক্তিশালী শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির জাদু। মাঝমাঠ থেকে তাঁর নিখুঁত থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড শিবির, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্তিনা সমর্থকরা।
টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ Argentina
এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বার World Cup Final-এ জায়গা করে নিল আর্জেন্তিনা। ১৯৮৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল লা আলবিসেলেস্তে। গোলদাতাদের তালিকায় নাম না থাকলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন Lionel Messi। বয়স বাড়লেও তাঁর খেলার মান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা যে এখনও বিশ্বসেরা, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
Background
বর্তমান বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্তিনা। নকআউট পর্বে ধারাবাহিক সাফল্যের পর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল স্কালোনির দল। অন্যদিকে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ডও দুর্দান্ত ফর্মে ছিল। তাই এই ম্যাচকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
Impact
এই জয় আর্জেন্তিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের আরও কাছে নিয়ে গেল। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষাও আরও দীর্ঘ হলো। মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল, বড় ম্যাচে তিনিই এখনও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা।
Official Statement
ম্যাচ শেষে আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি দলের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড শিবির স্বীকার করেছে, দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলই তাদের বিপদ ডেকে এনেছে।
Public Information
আগামী ২০ জুলাই নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে World Cup Final। ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা ও স্পেন। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের নজর থাকবে এই মহারণে, যেখানে Lionel Messi-র সামনে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি।
No Comment! Be the first one.