শোক থেকে শক্তিতে উত্তরণ: মানভূমের নারী জাগরণের রূপকার নিভা দেবী
সকাল সকাল ডেস্ক দেবরাজ মাহাতোবাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে নারী শিক্ষা এক দীর্ঘ সংগ্রামের নাম। ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণ থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এই যাত্রাপথে বহু মহীয়সী নারী নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইতিহাসে সুপরিচিত, কিন্তু এমন অনেকেই আছেন যাঁরা নিভৃতে থেকে একটি জনপদের অন্ধকার দূর করেছেন। পুরুলিয়ার শিক্ষা মানচিত্রে তেমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন শ্রীমতী নিভা রায়চৌধুরী। ছাত্রছাত্রী ও সহকর্মীদের প্রিয় ‘বড়দিমণি’ কেবল একজন শিক্ষিকা ছিলেন না; তিনি ছিলেন রুক্ষ মানভূমের মাটিতে নারী শিক্ষার বীজ বপনকারী এক দূরদর্শী কারিগর।নিভা রায়চৌধুরীর জন্ম ১৯২০ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল তৎকালীন পূর্ববঙ্গের ঢাকার প্রখ্যাত কাশীপুর জমিদার বাড়িতে। সেই সময়ে জমিদারি আভিজাত্যের সমান্তরালে তাঁদের পরিবারে শিক্ষার এক গভীর ধারা প্রবাহিত ছিল।তাঁর মাতামহ বংশের ইতিহাসও ছিল সমান গৌরবান্বিত। কলকাতার ভবানীপুরের বিখ্যাত ‘মজুমদার বাড়ি’ ছিল তাঁর মামার বাড়ি। নিভা দেবীর মা ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী স্নাতকদের মধ্যে অন্যতম এবং হাইকোর্টের প্রথম ভারতীয় বিচারপতি চন্দ্রমাধব ঘোষের পৌত্রী। এই পারিবারিক ঐতিহ্যই নিভা দেবীর অন্তরে আধুনিক চিন্তা ও শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের জন্ম দিয়েছিল।কলকাতার গোখেল মেমোরিয়াল স্কুলে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা হয়। মেধাবী নিভা দেবী ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অসাধারণ ফল করেন। কিন্তু সেই যুগে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথ নারীদের জন্য মসৃণ ছিল না। তা সত্ত্বেও তিনি ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। এই উচ্চশিক্ষা লাভের পেছনে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ শ্রী হরপ্রসাদ মিত্রের প্রেরণা তাঁকে মানসিকভাবে ঋদ্ধ করেছিল।নিভা দেবীর বিবাহিত জীবন ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। মাত্র ১৯ বছর বয়সে অকাল বৈধব্য তাঁর জীবনের ওপর এক কালো ছায়া ফেলে দেয়। কিন্তু এই শোক তাঁকে স্তব্ধ করতে পারেনি। তাঁর দেওর, বিশিষ্ট পণ্ডিত ডঃ এম. এন. রায়, এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ান। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, নিভা দেবীর মেধা ও কর্মশক্তিকে সমাজের কল্যাণে নিয়োগ করাই হবে শোক থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। ডঃ রায়ের অনুপ্রেরণায় নিভা দেবী সামাজিক কুসংস্কারের শৃঙ্খল ভেঙে শিক্ষার ব্রতে আত্মনিয়োগ করেন।পঞ্চাশের দশকের শুরুতে নিভা রায়চৌধুরী যখন পুরুলিয়ায় আসেন, তখন এই অঞ্চলটি ছিল অত্যন্ত অবহেলিত। তৎকালীন বিহার সরকারের নির্দেশে তিনি ‘শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয়’-এর প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।সেই সময় পুরুলিয়া ছিল মূলত বাঙালি অধ্যুষিত কিন্তু প্রশাসনিকভাবে বিহারের অংশ। নারী শিক্ষার হার ছিল নগণ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল শোচনীয়। রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের স্কুলে পাঠানো ছিল বিলাসিতা মাত্র। নিভা দেবী নিজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অভিভাবকদের বুঝিয়ে ছাত্রীদের স্কুলে আনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।তিনি জানতেন, কেবল অক্ষরজ্ঞানই শিক্ষা নয়। তাঁর নেতৃত্বে স্কুলে চালু হয় নাচ, গান, আবৃত্তি ও বিতর্ক সভা। তিনি বিশ্বাস করতেন বিজ্ঞানমনস্কতা ছাড়া আধুনিক সমাজ গড়া অসম্ভব। তাঁরই প্রচেষ্টায় স্কুলে বিজ্ঞানের পঠন-পাঠন উন্নত হয়।পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের সহযোগিতায় স্কুলের বিজ্ঞান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং ১৯৫৬ সালে রাজ্যপাল পদ্মা নাইডু এর উদ্বোধন করেন।১৯৯৮ সালের ২রা জানুয়ারি এই মহান শিক্ষাব্রতী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তিনি যে দীপশিখা জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন, তা আজও অমলিন। তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান মেলায় ‘নিভা রায়চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রবর্তিত হয়েছে।শ্রীমতী নিভা রায়চৌধুরী কেবল একটি নাম নয়, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। ঢাকার জমিদারি বিলাস বিসর্জন দিয়ে পুরুলিয়ার রুক্ষ মাটিতে শিক্ষার যে ফল্গুধারা তিনি বইয়ে দিয়েছিলেন, তা আজও বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রীদের প্রেরণা জোগায়। প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়, ‘বড়দিমণি’র জীবন তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।তথ্যসূত্র : ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় (পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান আধিকারিক), শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের লেখা
স্বচ্ছ ভোটার তালিকা যে কোনো গণতন্ত্রের ভিত্তি : জ্ঞানেশ কুমার
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এখন চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। এমতাবস্থায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা যে কোনও গণতন্ত্রের ভিত্তি। মঙ্গলবার নতুন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনারদের জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন এস আই আর সম্পর্কে বলতে গিয়ে, জ্ঞানেশ কুমার বলেন, সমস্ত যোগ্য ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় থাকা উচিত এবং অযোগ্যদের নাম বাদ দিতে হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে যাতে সকল যোগ্য ভোটারদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং অযোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া যায়। তিনি বলেন, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল যা, নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, বর্তমানে ১২টি রাজ্যে এসআইআর চলছে এবং এর মধ্যে ১১টি রাজ্য তাদের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন যে, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মধ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের সময় এসেছে।
বোমাতঙ্ক স্তব্ধ দুর্গাপুর আদালত, খালি করা হলো আদালত ভবন
সকাল সকাল ডেস্ক সোমনাথ গুপ্ত , দুর্গাপুরঅন্যান্য দিনের মতোই মঙ্গলবার সকালে স্বাভাবিক ছন্দেই চলছিল আদালতের কাজকর্ম। বিচারক এজলাসে, আইনজীবীরা ব্যস্ত মামলার প্রস্তুতিতে, আর ন্যায়বিচারের আশায় সাধারণ মানুষ অপেক্ষায়— ঠিক সেই সময় আচমকাই ছন্দপতন। সকাল প্রায় ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ আসানসোল জেলা আদালত-এর জেলা বিচারকের দপ্তরে একটি ই-মেল আসে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলা আদালত ও মহকুমা আদালত চত্বরে বোম রাখা হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। আসানসোল আদালতে বোমাতঙ্ক মেল পাওয়ার পরই তৎপর হয় আদালত প্রশাসন। জেলা বিচারকের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গে খালি করে দেওয়া হয় আদালত চত্বর। বিচারক, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ডাকা হয় বম্ব স্কোয়াড। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। জেলা বিচারক দেবপ্রসাদ নাথ জানান, “মনে হচ্ছে এটা ভুয়ো মেল। তবুও আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে বম্ব স্কোয়াডকে ডাকা হয়েছে। পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আনুমানিক সাড়ে এগারোটা সময় মেল আসে, সেখানে লেখা ছিল যে বোম রাখা হয়েছে। সেই কারণেই আপাতত আদালতের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।” খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদালত চত্বরের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেন উদ্বিগ্ন মানুষজন। আইনজীবীদের একাংশ জানান, হঠাৎ করে এভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মামলার শুনানি স্থগিত রাখতে হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেলের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে এটি ভুয়ো হুমকি বলেই মনে করা হচ্ছে, তবুও কোনো রকম ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি কোণায় কোণায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের হুমকি মেল পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে— সত্যিই কি এটি নিছক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য।
মুকুল রায়ের জীবনাবসান, হাসপাতালেই প্রয়াত প্রবীণ নেতা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই নিউ টাউনের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রবীন নেতা। রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ দিন ধরেই কিডনি-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যার কারণে অসুস্থ ছিলেন মুকুল। মাঝে মধ্যেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হত। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন রবিবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল। মৃত্যুর খবর পেয়েই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন মুকুল। তৃণমূল দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। এক সময়ে রাজ্যসভার সদস্য পদের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। জাহাজ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পরে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন মুকুল।
ঝাড়খণ্ড পুর নির্বাচনে ভোট দিলেন সঞ্জয় শেঠ, ভাগ্যপরীক্ষা ৬১২৪ জন প্রার্থীর
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি : ঝাড়খণ্ড পৌর নির্বাচনের জন্য ভোট দিলেন প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ। সোমবার সকালে রাঁচির একটি বুথে গিয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। ভোট দেওয়ার পর প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ বলেন, “এখানে উৎসাহ দেখে আমাদের মনে হচ্ছে আগের রেকর্ড ভেঙে যাবে। ভোটের শতাংশ কমানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যখন আমি ভোট দিতে গিয়েছিলাম, তখন আমাদের প্রায় ১৫ মিনিট সময় লেগেছিল। আমরা প্রথমবারের মতো দেখছি, একই ব্যালট বাক্সে দুজনের (কাউন্সিলর এবং মেয়র) ভোট দেওয়া হচ্ছে। দু’টি ব্যালট বাক্স রাখা কি সম্ভব ছিল না? এটা ভুল। মেয়র এবং কাউন্সিলরের ব্যালট বাক্স আলাদা হওয়া উচিত। এটা নির্বাচন কমিশনের একটি ভুল।” সোমবার ঝাড়খণ্ডের ৪৮টি পুরসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৪,৩৩,৫৭৪ জন ভোটার ৬,১২৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪,৩০৪টি। মেয়র, চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের জন্য ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। মহিলারাও বিপুল সংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভারত ট্যাক্সি চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার নতুন দিল্লিতে ভারত ট্যাক্সি চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ভারত ট্যাক্সি চালকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “আপনাকে কেবল ৫০০ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তিন বছর পর কী হবে? ধরুন ভারত ট্যাক্সি ২৫ কোটি টাকা আয় করে, তাহলে এই ২৫ কোটি টাকার ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫ কোটি টাকা, আপনার মূলধন হিসেবে ভারত ট্যাক্সির অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং ৮০ শতাংশ আপনার অ্যাকাউন্টে ফেরত জমা হবে, ট্যাক্সিটি কত কিলোমিটার চালিয়েছে তার উপর নির্ভর করে। এখন, আপনি নির্দিষ্ট ভাড়া পাবেন। কিন্তু আপনি মালিক, তাই লাভের অংশও আপনার থাকা উচিত। তাই এই অংশটি আসবে, তবে আপনাকে প্রথম তিন বছর ধৈর্য ধরতে হবে।” উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ গত ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ভারতের প্রথম সমবায়-ভিত্তিক রাইড-হেলিং প্ল্যাটফর্ম, “ভারত ট্যাক্সি” চালু করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ এদিন আরও বলেন, “ধারণাটি হল, যে কঠোর পরিশ্রম করছে, যে পরিশ্রম করছে, তারই লাভ হওয়া উচিত, কোনও ধনী ব্যক্তির নয়। আমরা কেন ভারত ট্যাক্সির ধারণাটি নিয়ে এসেছি? আপনারা বলেছিলেন, অনেক অভিযোগ ছিল, ৩০ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছিল, এবং কোনও নিশ্চিয়তা ছিল না… ওই কোম্পানিগুলি পরিচালনার উদ্দেশ্য হল মালিকদের ধনী করা। আমাদের উদ্দেশ্যও মালিকদের ধনী করা। পার্থক্য কেবল এই যে আপনিই মালিক।”
আসানসোলে লিওনেল মেসির পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন : ফুটবল জ্বরে কাঁপছে শিল্পাঞ্চল
সকাল সকাল ডেস্ক আসানসোল : কলকাতার পর এবার শিল্পশহর আসানসোলে ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হলো। রবিবার সন্ধ্যায় আসানসোলের মহীশিলা এলাকায় আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলারের একটি অত্যন্ত জীবন্ত মোমের মূর্তি উন্মোচন করেন রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। আসানসোলের প্রখ্যাত ভাস্কর সুশান্ত রায় দীর্ঘ দু’মাসের কঠোর পরিশ্রমে মেসির এই মোমের প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছেন। মূর্তির সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং মুখের অভিব্যক্তির নিখুঁত শৈলী সাধারণ মানুষের নজর কাড়ছে। শহরবাসীর জন্য এটি একটি বিশেষ উপহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মেসির প্রতি উন্মাদনার শুরু হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে। গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কলকাতার লেক টাউন শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব একটি ৭০ ফুট উঁচু লোহার বিশালাকার মেসির মূর্তি স্থাপন করেছিল। ওই মূর্তিতে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে তুলে ধরা হয়েছিল। স্বয়ং লিওনেল মেসি তাঁর ‘গো অ্যাট ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৫’ চলাকালীন ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার সেই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন। কলকাতার মূর্তিটি বিশালাকার হলেও, আসানসোলের এই মোমের মূর্তিটি তার সজীবতার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে। ভাস্কর সুশান্ত রায় জানিয়েছেন, মাত্র দুই মাসে তিনি এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেছেন। উন্মোচনের পর থেকেই ফুটবল প্রেমীদের ঢল নেমেছে মহীশিলায়। প্রিয় তারকার মূর্তির সঙ্গে সেলফি তুলতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরণের উদ্যোগের ফলে আসানসোলের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াপ্রেমী পরিচয় আরও দৃঢ় হবে। আয়োজকদের দাবি, এই মূর্তি উন্মোচনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। কলকাতার রেশ ধরে আসানসোলের এই আয়োজন প্রমাণ করল যে, বাংলায় ফুটবল এবং মেসির প্রতি আবেগ আজও অমলিন।
পুরুলিয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির, এনআইএ তদন্তের দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : পুরুলিয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। এই ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সমাজ মাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে পশ্চিমবঙ্গে “বোমা শিল্পই একমাত্র উন্নতি করছে।” পুরুলিয়ার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুর বাগান এলাকায় একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার পরেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মালব্য দাবি করেছেন, ওই জায়গায় অবৈধভাবে বোমা তৈরির কাজ চলছিল। বিস্ফোরণে অন্তত তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য স্পষ্ট জানান, পুরুলিয়ার সাধারণ মানুষের এই ঘটনার নেপথ্যের সত্য তথ্য জানার অধিকার আছে। বিজেপি নেতা জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ইতিমধ্যেই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মালব্য প্রশ্ন তুলেছেন যে, স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী কি এবারও “প্রযুক্তিগত কারণ” দেখিয়ে সত্য আড়াল করার চেষ্টা করবেন? তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা চলবে না এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পুরুলিয়ায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আমডাঙার যুবক খুনের কিনারা, মূল অভিযুক্ত মুম্বই থেকে গ্রেফতার: জানালেন পুলিশ সুপার
সকাল সকাল ডেস্ক বারাসাত, উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা এলাকায় যুবক খুনের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। ঘটনার ১৮ দিন পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে খুনের কিনারা করেছে তদন্তকারীরা। এই নিয়ে মোট দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।গত ৩০ জানুয়ারি আমডাঙার রামপুর বাজার এলাকায় একটি ঘরের ভিতর থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে আমডাঙা থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তদন্ত শুরু হয়। একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ মূল অভিযুক্তের খোঁজ পায় এবং তাকে মুম্বই থেকে গ্রেফতার করে আনে।শুক্রবার বারাসাত-এ আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পিতভাবেই ওই যুবককে খুন করা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও বারাসাত এবং আমডাঙা থানার অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। ধৃতদের আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কমিশনের ‘নির্দেশিকা’ জারির প্রমাণ পেশ অভিষেকের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : নির্বাচন কমিশনকে তোপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এক্স পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রকাশ্যে অমান্য করা যেতে পারে? দেশের সর্বোচ্চ আদালত বারবার স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং সরকারি যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে। অথচ আমরা দেখছি, আনুষ্ঠানিক, অনুসরণযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ জারি করা হচ্ছে।’ অভিষেক একাধিক প্রমাণ উত্থাপন করে এক্স মাধ্যমে অভিযোগ করেন, “আরও বেশি উদ্বেগজনক হল, স্পেশাল রোল অবজারভার সি. মুরুগান, একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সরাসরি মাইক্রো অবজারভারদের কাছে জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করেন, যাতে সংখ্যা মুছে ফেলার সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। আমি কি নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকাটি মনে করিয়ে দিতে পারি যে, মাইক্রো-অবজারভারদের ভূমিকা কঠোরভাবে সহায়ক হতে হবে? তাহলে কেন আইনগত পদ্ধতি উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং কার নির্দেশে?