Record of Rights: জমির খতিয়ান ও দাগের তথ্য এবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, বড় ঘোষণা Suvendu Adhikari-এর
সকাল সকাল ডেস্ক Record of Rights ও Plot Information অনলাইনে ডাউনলোডে আর লাগবে না কোনও আবেদন বা অথেন্টিকেশন ফি। নবান্নের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্বস্তি কৃষক ও জমির মালিকদের। রাজ্যের সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং জমির মালিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। Record of Rights (জমির খতিয়ান) এবং Plot Information (দাগের তথ্য) এখন থেকে অনলাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। নবান্নের প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জমির ডিজিটাল নথি ডাউনলোড করতে আর কোনও আবেদন ফি বা অথেন্টিকেশন ফি দিতে হবে না। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে নাগরিক পরিষেবা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং সহজ হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি দালালচক্রের দৌরাত্ম্যও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কী পরিবর্তন হল নতুন নিয়মে? নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৯৫৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন-এর ৫৭ নম্বর ধারার অধীনে Bengal Records Manual, 1943-এর 320H এবং 320I বিধি সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যপাল। অর্থ দফতরের সম্মতিক্রমে এই সংশোধিত নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে Record of Rights এবং Plot Information-এর ডিজিটালি স্বাক্ষরিত (Digitally Signed) সফট কপি এখন থেকে অনলাইনে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী যে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১৯৫৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন (West Bengal Land Reforms Act, 1955)-এর ৫৭ নম্বর ধারার আওতায় রাজ্যপাল বেঙ্গল রেকর্ডস ম্যানুয়াল, ১৯৪৩ (Bengal Records Manual, 1943)-এর ৩২০-এইচ এবং ৩২০-আই বিধি সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থ দপ্তরের সম্মতির পর এই নতুন নিয়ম রাজ্যজুড়ে অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। কোন কোন সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ? নতুন নিয়মে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, অনলাইন আবেদনকারীদের আর কোনও আবেদন ফি বা অথেন্টিকেশন ফি দিতে হবে না। নথি এক পাতার হোক বা একাধিক পাতার, ডিজিটাল কপি ডাউনলোড সম্পূর্ণ নিখরচায় হবে। সরকারের মতে, এর ফলে জমির মালিক, কৃষক, ক্রেতা, উত্তরাধিকারী এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার আবেদনকারীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় জমির নথি সংগ্রহ করতে পারবেন। কৃষকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত? গ্রামীণ বাংলার লক্ষ লক্ষ কৃষক নিয়মিতভাবে জমির খতিয়ান ও দাগের তথ্যের প্রয়োজন অনুভব করেন। কৃষিঋণ, সরকারি প্রকল্প, জমি সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া কিংবা মালিকানা যাচাই—প্রায় সব ক্ষেত্রেই Record of Rights অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। এতদিন এই নথি সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হতো। নতুন নিয়মে সেই আর্থিক বোঝা কমবে। একই সঙ্গে অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে দালালের উপর নির্ভরশীলতাও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন। হার্ড কপির ক্ষেত্রে কী নিয়ম থাকবে? সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সুবিধা শুধুমাত্র অনলাইনে ডাউনলোড করা ডিজিটাল কপির জন্য প্রযোজ্য। যদি কোনও নাগরিক জমি রেজিস্ট্রি, আদালত বা অন্য সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য Certified Hard Copy নিতে চান, তাহলে আগের মতোই নির্ধারিত সরকারি ফি দিতে হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ডিজিটাল পরিষেবাকেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। ডিজিটাল ভূমি পরিষেবায় আরও আধুনিক ব্যবস্থা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সমস্ত পুরসভা, নোটিফায়েড এলাকা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন টাউনশিপকে Zone A এবং বাকি গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলকে Zone B হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এই শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত ডিজিটাল পরিষেবাকে আরও কার্যকর ও নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আপনার জমি, আপনার অধিকার, আপনার তথ্য—এখন থেকে মাত্র এক ক্লিকের দূরত্বে।” তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভূমি সংক্রান্ত পরিষেবা আরও দ্রুত এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari বলেন, সরকারের লক্ষ্য হল নাগরিক পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করা। তিনি লেখেন, “আপনার জমি, আপনার অধিকার, আপনার তথ্য এখন থেকে মাত্র এক ক্লিকের আওতায়।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ডিজিটাল সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ—দুই-ই সাশ্রয় হবে এবং ভূমি দফতরের পরিষেবাও আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে। জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, Record of Rights এবং Plot Information-এর ডিজিটালি স্বাক্ষরিত সফট কপি অনলাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। তবে সার্টিফায়েড হার্ড কপির জন্য আগের সরকারি ফি বহাল থাকবে। নাগরিকদের সরকারি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই এই পরিষেবা গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে জমির নথি সংগ্রহের খরচ কমবে এবং কৃষক-সহ লক্ষ লক্ষ জমির মালিক সরাসরি উপকৃত হবেন বলেই প্রশাসনের আশা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ফলে জমির তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং ডিজিটাল নির্ভর হয়ে উঠবে বলে প্রশাসনের আশা।
Mid-Day Meal মামলায় বিতর্ক! ISKCON-কে দায়িত্ব, ডিমের বদলে রাজমা-ডাল? হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা
সকাল সকাল ডেস্ক সরকারি স্কুলের Mid-Day Meal প্রকল্পে ISKCON-কে দায়িত্ব দেওয়া, ডিম-মাছের বদলে নিরামিষ মেনুর সম্ভাবনা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে শুরু আইনি লড়াই। রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির Mid-Day Meal প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। Mid-Day Meal-এ ডিম ও মাছের পরিবর্তে নিরামিষ খাদ্যতালিকা চালুর সম্ভাবনা এবং রান্না ও সরবরাহের দায়িত্ব ISKCON-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL)। এই মামলায় শিশুদের পুষ্টি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মসংস্থান এবং সরকারি নীতির স্বচ্ছতা—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির জরুরি শুনানির আবেদন করা হলেও, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র প্রস্তুতির জন্য সময় চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। কী অভিযোগ তুলেছেন মামলাকারী? জনস্বার্থ মামলায় মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, Mid-Day Meal-এ ডিম বা অন্যান্য প্রাণিজ প্রোটিন বাদ দেওয়া হলে শিশুদের পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলিতে ডিম মিড-ডে মিলের অন্যতম প্রধান পুষ্টিকর উপাদান হিসেবে দেওয়া হয়ে আসছে। মামলাকারীর বক্তব্য, ডিমের পরিবর্তে শুধুমাত্র রাজমা, ডাল বা নিরামিষ খাদ্য দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় প্রাণিজ প্রোটিন থেকে অনেক পড়ুয়া বঞ্চিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের হাজার হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মহিলা বর্তমানে স্কুলের মিড-ডে মিল রান্নার সঙ্গে যুক্ত। যদি এই দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে অন্য কোনও সংস্থার হাতে চলে যায়, তাহলে তাঁদের কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনও অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম রয়েছে কি না, সেটিও আদালতের নজরে আনার আবেদন করা হয়েছে। West Bengal Budget 2026-এ হয়েছিল ঘোষণা এই বিতর্কের সূত্রপাত West Bengal Budget 2026-এ। বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন, কলকাতা পুরনিগম এলাকার স্কুলগুলিতে Mid-Day Meal ব্যবস্থাকে আরও উন্নত, স্বাস্থ্যসম্মত এবং মানসম্মত করতে ISKCON-এর সহযোগিতা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মিড-ডে মিলের বরাদ্দও বাড়ানো হয়। আগে যেখানে মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল ৬ টাকা ৭৮ পয়সা, তা বৃদ্ধি করে ১০ টাকা করা হয়েছে। যদিও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের বরাদ্দ আগের মতোই ১০ টাকা ৭১ পয়সা রাখা হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ISKCON-এর ভূমিকা নিয়ে কেন প্রশ্ন? সরকারি ঘোষণায় ISKCON-এর সহযোগিতার কথা বলা হলেও, সংস্থাটি ঠিক কীভাবে খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহ করবে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা কী থাকবে কিংবা বর্তমান ব্যবস্থা কতটা পরিবর্তিত হবে—সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। এই অস্পষ্টতাকেই কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সরকারকে সম্পূর্ণ রূপরেখা প্রকাশ করা উচিত, যাতে কোনও বিভ্রান্তি না থাকে। গুজরাত মডেল নিয়ে জল্পনা বিতর্কের অন্যতম কারণ গুজরাতের অভিজ্ঞতা। সেখানে বহু এলাকায় ISKCON দীর্ঘদিন ধরে মিড-ডে মিল সরবরাহ করে থাকে এবং সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা হয়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের মডেল চালু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মামলাকারীরা। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি যে ডিম সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়া হবে বা রাজ্যের সব স্কুলে নিরামিষ মেনু বাধ্যতামূলক করা হবে। ফলে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সরকারি নির্দেশ এখনও প্রকাশিত হয়নি। সরকারি অবস্থান ও আদালতের ভূমিকা এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে বিস্তারিত জবাব দাখিল করা হয়নি। অ্যাডভোকেট জেনারেল সময় চাওয়ার পর আদালত আগামী মঙ্গলবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে। সেই শুনানিতে সরকার প্রকল্পের উদ্দেশ্য, Mid-Day Meal-এর নতুন কাঠামো, ISKCON-এর দায়িত্ব এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বর্তমানে Mid-Day Meal প্রকল্পে ডিম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে—এমন কোনও সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি। একইভাবে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির দায়িত্বও আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি। বিষয়টি এখন বিচারাধীন এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পাশাপাশি সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের দিকেই নজর রয়েছে। আদালতের পরবর্তী শুনানির পর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাকারীর অভিযোগ, এক দিকে আমিষ খাবারের পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে পড়ুয়াদের।
Suvendu Adhikari: ‘34 বছর সিদ্ধান্ত হয়েছে পার্টি অফিসে’, বিরোধীদের মর্যাদা ফেরানোর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবিরে অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা, গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার ও বিরোধীদের সম্মান দেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী; ওম বিড়লারও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। লোকসভা সচিবালয়ের ‘প্রাইড’ (গণতন্ত্র বিষয়ক সংসদীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত নবনির্বাচিত বিধায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে রাজনৈতিক সৌজন্য, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও নবীন বিধায়কদের সংসদীয় শিষ্টাচার, আচরণ এবং দায়িত্ব সম্পর্কে বিশদ পরামর্শ দেন। ‘৩৪ বছর সিদ্ধান্ত হয়েছে পার্টি অফিসে’— তীব্র সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে Suvendu Adhikari রাজ্যের অতীত রাজনৈতিক সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পার্টি অফিস, বিধানসভার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সীমিত। পাশাপাশি গত ১৫ বছরের শাসনকালেও বিরোধী প্রতিনিধিদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে বিরোধী দলের বিধায়ক কিংবা সাংসদদের প্রশাসনিক গুরুত্ব প্রায় ছিল না বললেই চলে। এমনকি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আচরণ করা হতো বলে তাঁর অভিযোগ। বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে Suvendu Adhikari জানান, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি বিধানসভায় বক্তব্য রাখা থেকে বিরত রাখতে তাঁকে একাধিকবার সাসপেন্ডও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে বর্তমান সরকারের অবস্থান ভিন্ন বলেই তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত দেড় মাসে অনুষ্ঠিত প্রতিটি প্রশাসনিক বৈঠকে দলমত নির্বিশেষে বিরোধী বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তাঁদের এলাকার সমস্যা ও দাবিদাওয়াও গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। নবীন বিধায়কদের দায়িত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দু’দিনের এই প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে Suvendu Adhikari বলেন, বিধানসভার কার্যপ্রণালী, আইন প্রণয়নের পদ্ধতি এবং সংসদীয় আচরণ সম্পর্কে প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের মনোযোগ দিয়ে এই প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করে তিনি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নতুন প্রজন্মের জনপ্রতিনিধিদের সেই ইতিহাস জানা উচিত। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ওম বিড়লার পরিসংখ্যান ও পরামর্শ প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা বর্তমান বিধানসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান বিধানসভায় ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ১৯৪ জন বিধায়ক রয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ১৮১ জনই প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন বিধায়কদের উচিত অতীতের বিধানসভা বিতর্ক, কার্যবিবরণী এবং অভিজ্ঞ আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য নিয়মিত অধ্যয়ন করা। এতে সংসদীয় কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে কার্যকর প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সুবিধা হবে। জনগণের কণ্ঠস্বর হওয়াই জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব ওম বিড়লা আরও বলেন, বিধানসভায় শুধুমাত্র নিজের বক্তব্য রাখাই নয়, অন্য সদস্যদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনাও একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। নিজের এলাকার উন্নয়ন, মানুষের সমস্যা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি নিয়মিতভাবে বিধানসভায় তুলে ধরা উচিত। সরকার কোনও বিষয়ে একমত হোক বা না হোক, জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিধায়কদের দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি জনগণের মতামতকে যথাযথভাবে আইনসভায় তুলে ধরার মধ্যেই নিহিত। বাংলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান বাংলার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে ওম বিড়লা বলেন, একসময় বাংলা গোটা দেশকে পথ দেখিয়েছে। বর্তমান সময়েও দেশের নজর বাংলার দিকে রয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হবে বাংলার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং উন্নয়নের ধারাকে আরও শক্তিশালী করা। সরকারি কর্মসূচির তাৎপর্য লোকসভা সচিবালয় ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নবনির্বাচিত বিধায়কদের সংসদীয় রীতি, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ জনপ্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, এক বিধায়কের থেকে মানুষের আশা, প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে।এক বিধায়কের কী ভূমিকা? এই রাজ্যের কী আইন? রাজ্যবাসীর কী আশা, কী অবস্থা?- সবটা রাজ্যের উন্নয়নের সঙ্গে জুড়ে থাকে।
Suvendu Adhikari White Paper: 15 বছরের শাসনের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন
সকাল সকাল ডেস্ক Suvendu Adhikari White Paper-এর জন্য ক্যাবিনেটের বিশেষ কমিটি; আইনশৃঙ্খলা, নিয়োগ, স্বাস্থ্য, BGBS ব্যয়-সহ ৫ ক্ষেত্রে গভীর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গে পূর্বতন সরকারের আমলের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যকলাপের বিস্তারিত পর্যালোচনায় বড় পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। Suvendu Adhikari White Paper প্রকাশের উদ্দেশ্যে রাজ্য মন্ত্রিসভা একটি বিশেষ মন্ত্রিগোষ্ঠী বা সাব-কমিটি গঠন করেছে। সরকারের দাবি, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রশাসনিক, আর্থিক ও নীতিগত অনিয়ম হয়েছে, তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। Suvendu Adhikari White Paper-কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিশেষ কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সদস্য হিসেবে থাকবেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়-সহ আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। সরকারের মতে, একাধিক দপ্তরের তথ্য ও নথি বিশ্লেষণ করে Suvendu Adhikari White Paper-এর খসড়া তৈরি করা হবে। কোন কোন বিষয় খতিয়ে দেখবে কমিটি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেট রাজ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চক্র এবং নারী-নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনাগুলির সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম শিক্ষা, পুর, স্বরাষ্ট্র, সমবায়-সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ ও অনিয়মের নথি পরীক্ষা করা হবে। BGBS ব্যয়ের হিসাব বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজনের প্রকৃত ব্যয় এবং সরকারি নথিতে উল্লেখিত ব্যয়ের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল্যায়ন সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার অবস্থা, হাসপাতাল পরিচালনা এবং আরজি কর হাসপাতালের ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলিও পর্যালোচনার আওতায় থাকবে। নবান্নের প্রশাসনিক কার্যক্রম নবান্নের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নীতি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন অভিযোগের তথ্যও বিশ্লেষণ করবে কমিটি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ White Paper কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ White Paper বা শ্বেতপত্র হল একটি সরকারি নীতিগত দলিল, যেখানে কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য, পরিসংখ্যান, বিশ্লেষণ এবং সরকারি অবস্থান তুলে ধরা হয়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তি ব্যাখ্যা করার জন্য এই ধরনের দলিল প্রকাশ করা হয়। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ক্ষমতায় এসে পূর্ববর্তী সরকারের প্রশাসনিক বা আর্থিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার ইউপিএ আমলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল। তেলেঙ্গানায় সরকার পরিবর্তনের পরও রাজ্যের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়। স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলির একীকরণ নিয়েও ঐতিহাসিক শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে Suvendu Adhikari White Paper-ও রাজ্যের প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে সামনে আসতে পারে। সরকারি বক্তব্য সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য তথ্য-ভিত্তিক পর্যালোচনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বিভিন্ন দপ্তরের নথি, সরকারি তথ্য এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে শ্বেতপত্র প্রস্তুত করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জনসাধারণের জন্য গুরুত্ব শ্বেতপত্র প্রকাশিত হলে রাজ্যের প্রশাসনিক, আর্থিক ও নীতিগত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষ সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি এবং তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ জানতে পারবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও এই রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Adani Health City নিউ টাউনে! 1000 বেডের মেগা হাসপাতাল, পার্টনার Mayo Clinic
সকাল সকাল ডেস্ক Adani Health City প্রকল্পে নিউ টাউনে আসছে ১,০০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও গবেষণা কেন্দ্র; Mayo Clinic-এর কৌশলগত সহযোগিতা রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয়। Adani Health City প্রকল্পের মাধ্যমে কলকাতার নিউ টাউনে ১,০০০ শয্যার অত্যাধুনিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ এবং গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে আদানি গোষ্ঠী। নবান্ন সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানির বৈঠকে এই প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বাস্তবায়িত হলে Adani Health City পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। Adani Health City-তে ১,০০০ বেডের আধুনিক হাসপাতাল প্রস্তাবিত Adani Health City-তে থাকবে ১,০০০ শয্যার মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। এর মধ্যে ৫০০টি বেড মধ্যবিত্ত ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৫০০টি বেড আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা-সহ সাধারণ ও বিদেশি রোগীদের জন্য উপলব্ধ থাকবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু উন্নত চিকিৎসা নয়, বরং বিশ্বমানের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা। Mayo Clinic-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল বিশ্বের অন্যতম সেরা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান Mayo Clinic-এর সহযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাভিত্তিক এই অলাভজনক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হৃদরোগ, ক্যানসার, নিউরোলজি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, অর্থোপেডিকস, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এবং বিরল রোগের চিকিৎসায় আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। আদানি গোষ্ঠীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, Mayo Clinic হাসপাতালের সাংগঠনিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল প্রোটোকল, ডিজিটাল হেলথ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোগী পরিষেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কৌশলগত পরামর্শ দেবে। ফলে কলকাতার প্রস্তাবিত Adani Health City আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ ও গবেষণার নতুন কেন্দ্র হাসপাতালের পাশাপাশি এই প্রকল্পে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রতি বছর ১৫০ জন এমবিবিএস শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন। এছাড়াও থাকবে AI-ভিত্তিক গবেষণাগার, বায়োমেডিক্যাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ইউনিট, ৮০-র বেশি রেসিডেন্ট চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ এবং ৪০-র বেশি ফেলোশিপ প্রোগ্রাম। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণাতেও নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু রোগী জটিল চিকিৎসার জন্য চেন্নাই, বেঙ্গালুরু বা মুম্বইয়ে যেতে বাধ্য হন। Adani Health City বাস্তবায়িত হলে কলকাতাই পূর্ব ভারতের অন্যতম আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের রোগীরাও উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতাকে বেছে নিতে পারবেন। এতে মেডিক্যাল ট্যুরিজম, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সরকারি অবস্থান নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে নিউ টাউনে উপযুক্ত জমি বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর নির্মাণের সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম খরচে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নতুন মেডিক্যাল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণের ফলে কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবার জন্য দেশের অন্য শহরে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমতে পারে।
Durga Squad উদ্বোধন, 5 মিনিটে পুলিশ পৌঁছানোর টার্গেট বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক Durga Squad, Cyber Help Desk ও মহিলা হেল্পডেস্ক চালু; নারী নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন এবং 112 জরুরি পরিষেবাকে আরও দ্রুত করার রোডম্যাপ ঘোষণা রাজ্যে নারী নিরাপত্তা জোরদার করা, সাইবার অপরাধ রোধ এবং জরুরি পরিষেবাকে আরও কার্যকর করতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। Durga Squad-এর আনুষ্ঠানিক সূচনার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে Cyber Help Desk এবং মহিলা হেল্পডেস্কের উদ্বোধন করে তিনি আগামী এক বছরের মধ্যে ফোন করার মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। Durga Squad-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বার্তাও দেন তিনি। Durga Squad-এর মাধ্যমে নারী নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই Durga Squad গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় মহিলা হেল্পডেস্ক চালু করে নারী ও শিশু সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ এবং আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পকসো আইন, নির্ভয়া কাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আরজি করের ঘটনার মতো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোবে। কোনও অভিযোগ গোপন না রেখে সরাসরি এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী হচ্ছে Cyber Help Desk মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাইবার অপরাধ একটি সামাজিক মহামারীর রূপ নিয়েছে। সরকারি প্রকল্পের আবেদন, অনলাইন লেনদেন কিংবা ব্যাঙ্কিং পরিষেবার সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় Durga Squad-এর পাশাপাশি Cyber Help Desk-কে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্তরে একজন সিনিয়র আধিকারিককে সাইবার অপরাধ দমনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, যিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্যের সব সাইবার থানার কার্যক্রম তদারকি করবেন। আধুনিক প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে সরকার। পুলিশের পরিকাঠামো আধুনিক করার রূপরেখা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, থানাগুলিতে এখনও পরিকাঠামো ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তবে দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণ করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় প্যারা মিলিটারি বাহিনীর সমতুল্য আধুনিক বাহিনীতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট জানান, পুলিশ প্রশাসনের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না। একই সঙ্গে সিনিয়রিটি, শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বাহিনীকে আরও দক্ষ করে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১১২ জরুরি পরিষেবায় ৫ মিনিটের রেসপন্স টাইম লক্ষ্য Durga Squad উদ্বোধনের পাশাপাশি ১১২ জরুরি পরিষেবা নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে গড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগামী এক বছরের মধ্যে সেই সময় মাত্র ৫ মিনিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য পুলিশের ১২ হাজার এবং কলকাতা পুলিশের ৪ হাজার—মোট ১৬ হাজার প্রশিক্ষিত জওয়ানকে মাঠে নামানো হবে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে জরুরি পরিষেবার জন্য আরও নতুন গাড়ি ও আধুনিক সরঞ্জাম বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ তারাতলা বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা সাম্প্রতিক তারাতলা নির্মাণ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা পুলিশ, দমকল, পুরসভা, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। অতীতের পোস্তা, মাঝেরহাট কিংবা গার্ডেনরিচ দুর্ঘটনার তুলনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই রাজ্যের প্রতিটি এলাকায় দ্রুত জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১১২ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রী জানান, অপরাধের তথ্য গোপন না করে প্রতিটি অভিযোগ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। নারী নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন এবং জরুরি পরিষেবাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে রাজ্য পুলিশের দক্ষতা আরও বাড়ানো হবে। তাঁর মতে, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং দ্রুত পরিষেবার সমন্বয়ই ভবিষ্যতের পুলিশিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রাজ্যজুড়ে চালু হওয়া Cyber Help Desk, মহিলা হেল্পডেস্ক এবং Durga Squad-এর মাধ্যমে সাইবার প্রতারণা, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর আগেই পূর্ণাঙ্গ ১১২ জরুরি পরিষেবা কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যেকোনও অপরাধ রোধে পুলিশকে ‘প্রোটোকল মেনে, নিঃসংকোচে’ কাজ করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। তবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে কেউ যদি তার উপর হামলা করে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর।
Taratala Building Collapse মামলায় কড়া পদক্ষেপ, Suo Motu মামলা করল NHRC
সকাল সকাল ডেস্ক তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় ৫ শ্রমিকের মৃত্যুর পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ। রাজ্য সরকার, কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভাকে ১৪ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ। কলকাতার Taratala Building Collapse-এর ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। নির্মীয়মাণ চায়ের গুদাম ভেঙে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা রুজু করেছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। Taratala Building Collapse-এর তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। মানবাধিকার কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে Taratala Building Collapse-এর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের হস্তক্ষেপে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কী ঘটেছিল Taratala Building Collapse-এ? গত ২৪ জুন কলকাতার তারাতলা এলাকায় একটি বেসরকারি নির্মীয়মাণ চায়ের গুদামে ছাদের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় প্রায় ৪০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই বিশাল লোহার কাঠামো ও কংক্রিটের ছাদ ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনার খবর পাওয়ার পর সেনা, NDRF, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ উদ্ধারকাজের পর পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। এছাড়া প্রায় ২০ জন আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে SSKM হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাই এখন Taratala Building Collapse মামলার মূল তদন্তের বিষয়। NHRC কেন Suo Motu মামলা করল? সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভিত্তি করেই NHRC স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকাশিত তথ্য যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শ্রমিকদের মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। কমিশনের মতে, কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। যদি সেই দায়িত্ব পালনে গাফিলতি থেকে থাকে, তাহলে তার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ভুল Building Plan-এর অভিযোগে বাড়ছে প্রশ্ন Taratala Building Collapse-এর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, নির্মীয়মাণ গুদামের অনুমোদিত Building Plan বা নকশায় গুরুতর কারিগরি ত্রুটি থাকতে পারে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কাঠামোগত নকশা এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই অভিযোগ কতটা সত্য, তা রাজ্য সরকারের রিপোর্টে বিস্তারিত জানাতে নির্দেশ দিয়েছে NHRC। পাশাপাশি নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের ভূমিকা সম্পর্কেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ NHRC-র নোটিশে কী জানতে চাওয়া হয়েছে? জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের নোটিশে রাজ্য প্রশাসনের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে— SIT তদন্তে প্রশাসনের পদক্ষেপ দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের বিষয়েও আলোচনা চলছে। শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক Taratala Building Collapse আবারও নির্মাণক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় নির্মাণ প্রকল্পে নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ এবং প্রকৌশলগত তদারকি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে নির্মাণ শিল্পে নিরাপত্তা মানদণ্ড আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভাকে ১৪ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে কমিশন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলবে।
Debraj Chakraborty-কে Barasat Court-এ ঘিরে ‘ডিম থেরাপি’ চেষ্টা, পুলিশের তৎপরতায় বড় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো গেল
সকাল সকাল ডেস্ক আদালত চত্বরে উত্তেজনা, ডিম হাতে বিক্ষোভকারীদের ভিড়; পুলিশের অনুরোধে থামল হামলার চেষ্টা, হাইকোর্টের নজরেও ‘ডিম থেরাপি’ বিতর্ক। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর Debraj Chakraborty-কে বৃহস্পতিবার Barasat Court-এ হাজির করানোকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আগে থেকেই তাঁর আদালতে আনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সকাল থেকেই বহু মানুষ আদালত চত্বরে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে ডিমও ছিল। Debraj Chakraborty-কে পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ডিম ছোড়ার চেষ্টা হলেও পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। ডিম ছোড়ার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত Debraj Chakraborty-র গায়ে না লাগলেও পুলিশ ও পুলিশি গাড়িকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মানবঢাল তৈরি করে অভিযুক্তকে দ্রুত আদালতের ভিতরে নিয়ে যায়। ঘটনাকে ঘিরে আদালত চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। Barasat Court-এ কী ঘটল? পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর বৃহস্পতিবার Debraj Chakraborty-কে বারাসত আদালতে হাজির করা হয়। আদালত চত্বরে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষ অপেক্ষা করছিলেন। অভিযুক্তকে পুলিশি গাড়ি থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু বিক্ষোভকারী ডিম ছোড়ার চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা দ্রুত অভিযুক্তকে ঘিরে ফেলেন এবং তাঁকে নিরাপদে আদালতের ভিতরে নিয়ে যান। ফলে ডিম তাঁর গায়ে না লেগে পুলিশ ও পুলিশের গাড়িতে গিয়ে লাগে। পুলিশের অনুরোধে থামল পরিস্থিতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক মহিলা ডিম হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি নিজেকে ২০২১ সালের উত্তর দমদম বিধানসভা এলাকার তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের প্রাক্তন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী বলে দাবি করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেনি। এদিন কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মী তাঁকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “অনুরোধ করছি, এটা করবেন না। পুলিশ পুলিশের কাজ করছে।” পুলিশের এই সংযত আচরণ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া থেকে অনেকটাই রক্ষা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের মত। ‘ডিম থেরাপি’ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন জানান, তাঁরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই ডিম নিয়ে এসেছিলেন। এক মহিলা দাবি করেন, কম দামে ডিম কিনে তাঁরা আদালত চত্বরে এসেছেন এবং এটিকে তিনি “ডিম থেরাপি” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বহু মানুষের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ হাইকোর্টের নজরে ‘ডিম থেরাপি’ বিতর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ধৃত রাজনৈতিক নেতাদের আদালতে আনার সময় ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই Calcutta High Court-এ একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, আদালত চত্বরে এ ধরনের ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্টও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচারাধীন ব্যক্তির নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ একদিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংযত আচরণও করেছে। প্রশাসনের মতে, আদালত চত্বরে কোনও ধরনের হিংসাত্মক বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হতে পারে। জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদালত চত্বরে বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রেও আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বিচারাধীন মামলার অভিযুক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কোনও ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
Ritabrata Banerjee বললেন, ‘আসল Trinamool Congress আমরাই’, নির্বাচন কমিশনে বৈঠকের পর বিস্ফোরক দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে এবং দলকে ‘পারিবারিক সম্পত্তি’ বানানোর বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই চলবে। Ritabrata Banerjee-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একাংশ বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁরা কোনও নতুন দাবি জানাতে নির্বাচন কমিশনে যাননি, কারণ তাঁরাই প্রকৃত Trinamool Congress-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দলকে দীর্ঘদিন ধরে একনায়কতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করা হয়েছে এবং সেটিকে একটি পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী Ritabrata Banerjee বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের শিবিরের কার্যনির্বাহী কমিটির দশ সদস্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। তাঁর দাবি, দলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি জনপ্রতিনিধি তাঁদের পাশে রয়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক, পুরসভার কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য এবং জেলা পরিষদের সভাপতিরা তাঁদের সমর্থন করছেন বলেও তিনি দাবি করেন। ঋতব্রত বলেন, ২২ তারিখে নিয়ম মেনে বিশেষ প্রতিনিধি অধিবেশন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই নির্বাচন কমিশনের কাছে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছিল। কমিশন সেই আবেদন গ্রহণ করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, কমিশন সমস্ত নথি পরীক্ষা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। H2: নির্বাচন কমিশনে কী জানাল Ritabrata Banerjee? নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে Ritabrata Banerjee-এর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল সংগঠনের সাংগঠনিক পরিবর্তন, প্রতিনিধি অধিবেশনের নথি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয় বলে জানা গেছে। ঋতব্রত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁরা কোনও প্রতীক বা দলের স্বীকৃতি দাবি করতে যাননি। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা বিশ্বাস করেন যে প্রকৃত Trinamool Congress তাঁদেরই এবং কমিশন তথ্য ও নথির ভিত্তিতে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে। H2: দল ‘হাইজ্যাক’ হওয়ার অভিযোগ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় দলের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। কারও নাম না করেই তিনি অভিযোগ করেন, একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’-এর প্রভাবের কারণে দল গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়ে ফেলেছিল। তাঁর কথায়, একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক দল ধীরে ধীরে পারিবারিক সম্পত্তি এবং প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির রূপ নিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং ব্যক্তিপূজার রাজনীতির বিরুদ্ধে। দলকে আবার গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ H2: প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের সমর্থনের দাবি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দলের একাধিক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বর্ষীয়ান নেতা তাঁদের পাশে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান অরূপ রায়, জাভেদ আহমেদ খান-সহ একাধিক প্রবীণ নেতা এই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রাক্তন মন্ত্রী ও অন্যান্য অভিজ্ঞ নেতারাও এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, এই আন্দোলন কোনও ব্যক্তিকে সামনে রেখে নয়, বরং সম্মিলিত নেতৃত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। তাই দলের মূল দর্শনকে পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যেই তাঁরা এগোচ্ছেন। H2: দুর্নীতি ইস্যুতেও কড়া বার্তা Ritabrata Banerjee দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ দুর্নীতির অভিযোগ। তিনি বলেন, বালি, কয়লা, ডলোমাইট ও গোরু পাচারের মতো বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে সংগঠনের ভিতরে এবং প্রশাসনিক স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। H2: আদালতে যাবে কি বিরোধ? নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, আপাতত তাঁদের লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখা। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেই আগামী দিনে এই বিরোধ নতুন আইনি বা সাংগঠনিক মোড় নিতে পারে। জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নথি এবং সাংগঠনিক দাবিগুলি এখন কমিশনের পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে দলীয় স্বীকৃতি, সাংগঠনিক অবস্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকনির্দেশ। ফলে আগামী কয়েকদিনের সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Utsashree Portal Reopens: আজ থেকেই চালু উৎসশ্রী, স্কুল শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বদলির আবেদন শুরু
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘ প্রায় চার বছরের অপেক্ষার অবসান। Utsashree Portal Reopens-এর মাধ্যমে ১ জুলাই থেকে আবারও অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। রাজ্যের স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে Utsashree Portal Reopens। বুধবার, ১ জুলাই থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহুল আলোচিত অনলাইন বদলি পোর্টাল ‘উৎসশ্রী’ ফের চালু হয়েছে। ফলে WB School Teacher Transfer 2026-এর জন্য যোগ্য শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীরা আবারও অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর মধ্যে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বদলির সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কেন গুরুত্বপূর্ণ Utsashree Portal Reopens? Utsashree Portal Reopens হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি থেকে বহু দূরে কর্মরত, পারিবারিক বা স্বাস্থ্যজনিত কারণে বদলি চাইছিলেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকেই অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। সমস্ত আবেদন নির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন এতদিন বন্ধ ছিল উৎসশ্রী? উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে বদলির আবেদন ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সরকারি সূত্রে জানা যায়, সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক, গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা এড়াতে বদলি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কেন ফের চালু হল পোর্টাল? শিক্ষা দফতরের মতে, বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটাই স্থিতিশীল। ফলে উৎসশ্রী পোর্টাল বন্ধ রাখার আর প্রয়োজন নেই। এই কারণেই পূর্ববর্তী সমস্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে Utsashree Portal Reopens করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া আবার নিয়মিতভাবে চালানো সম্ভব হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ কারা আবেদন করতে পারবেন? সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের যোগ্য শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীরাই এই পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। বদলি প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে West Bengal School Service Commission (General Transfer, Transfer on Special Ground and Reallocation) Rules, 2015 অনুযায়ী। অর্থাৎ সাধারণ বদলি, বিশেষ কারণজনিত বদলি এবং পুনর্বিন্যাস—সব ক্ষেত্রেই ২০১৫ সালের বিধি অনুসরণ করা হবে। যোগ্যতার সমস্ত শর্ত পূরণ করলেই আবেদনকারীরা অনলাইনে নিজেদের আবেদন নথিভুক্ত করতে পারবেন। কীভাবে আবেদন করবেন? Utsashree Portal Reopens হওয়ার পর আবেদনকারীদের সরকারি উৎসশ্রী পোর্টালে লগ-ইন করে নির্ধারিত তথ্য পূরণ করতে হবে। আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য, কর্মস্থলের বিবরণ এবং বদলির কারণ উল্লেখ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন জমা পড়ার পর শিক্ষা দফতর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। শিক্ষামন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য উৎসশ্রী চালু হওয়ার আগে শিক্ষক বদলি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাতের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। অনেক গ্রামীণ স্কুলে ছাত্রসংখ্যা বেশি হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। আবার বহু শহুরে স্কুলে শিক্ষক বেশি থাকলেও ছাত্রসংখ্যা কম। মন্ত্রী জানান, এই ভারসাম্য দূর করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে। শিক্ষক সমাজে স্বস্তির বার্তা দীর্ঘদিন ধরে বদলি বন্ধ থাকায় বহু শিক্ষক ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। অনেকেই বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে কর্মরত ছিলেন। Utsashree Portal Reopens হওয়ার ফলে তাঁদের কাছে নতুন করে বদলির সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মহলের মতে, এতে শুধু শিক্ষকদের সুবিধাই হবে না, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক বণ্টনের ভারসাম্যও অনেকটাই উন্নত হবে। সাধারণ মানুষের জন্য কী জানা জরুরি? যাঁরা বদলির জন্য আবেদন করতে চান, তাঁদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে হবে এবং শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা মেনেই সমস্ত আবেদন যাচাই করা হবে। শিক্ষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করতে।