Durga Squad উদ্বোধন, 5 মিনিটে পুলিশ পৌঁছানোর টার্গেট বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক Durga Squad, Cyber Help Desk ও মহিলা হেল্পডেস্ক চালু; নারী নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন এবং 112 জরুরি পরিষেবাকে আরও দ্রুত করার রোডম্যাপ ঘোষণা রাজ্যে নারী নিরাপত্তা জোরদার করা, সাইবার অপরাধ রোধ এবং জরুরি পরিষেবাকে আরও কার্যকর করতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। Durga Squad-এর আনুষ্ঠানিক সূচনার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে Cyber Help Desk এবং মহিলা হেল্পডেস্কের উদ্বোধন করে তিনি আগামী এক বছরের মধ্যে ফোন করার মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। Durga Squad-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বার্তাও দেন তিনি। Durga Squad-এর মাধ্যমে নারী নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই Durga Squad গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় মহিলা হেল্পডেস্ক চালু করে নারী ও শিশু সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ এবং আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পকসো আইন, নির্ভয়া কাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আরজি করের ঘটনার মতো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোবে। কোনও অভিযোগ গোপন না রেখে সরাসরি এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী হচ্ছে Cyber Help Desk মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাইবার অপরাধ একটি সামাজিক মহামারীর রূপ নিয়েছে। সরকারি প্রকল্পের আবেদন, অনলাইন লেনদেন কিংবা ব্যাঙ্কিং পরিষেবার সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় Durga Squad-এর পাশাপাশি Cyber Help Desk-কে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্তরে একজন সিনিয়র আধিকারিককে সাইবার অপরাধ দমনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, যিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্যের সব সাইবার থানার কার্যক্রম তদারকি করবেন। আধুনিক প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে সরকার। পুলিশের পরিকাঠামো আধুনিক করার রূপরেখা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, থানাগুলিতে এখনও পরিকাঠামো ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তবে দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণ করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় প্যারা মিলিটারি বাহিনীর সমতুল্য আধুনিক বাহিনীতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট জানান, পুলিশ প্রশাসনের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না। একই সঙ্গে সিনিয়রিটি, শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বাহিনীকে আরও দক্ষ করে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১১২ জরুরি পরিষেবায় ৫ মিনিটের রেসপন্স টাইম লক্ষ্য Durga Squad উদ্বোধনের পাশাপাশি ১১২ জরুরি পরিষেবা নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে গড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগামী এক বছরের মধ্যে সেই সময় মাত্র ৫ মিনিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য পুলিশের ১২ হাজার এবং কলকাতা পুলিশের ৪ হাজার—মোট ১৬ হাজার প্রশিক্ষিত জওয়ানকে মাঠে নামানো হবে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে জরুরি পরিষেবার জন্য আরও নতুন গাড়ি ও আধুনিক সরঞ্জাম বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ তারাতলা বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা সাম্প্রতিক তারাতলা নির্মাণ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা পুলিশ, দমকল, পুরসভা, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। অতীতের পোস্তা, মাঝেরহাট কিংবা গার্ডেনরিচ দুর্ঘটনার তুলনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই রাজ্যের প্রতিটি এলাকায় দ্রুত জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১১২ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রী জানান, অপরাধের তথ্য গোপন না করে প্রতিটি অভিযোগ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। নারী নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন এবং জরুরি পরিষেবাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে রাজ্য পুলিশের দক্ষতা আরও বাড়ানো হবে। তাঁর মতে, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং দ্রুত পরিষেবার সমন্বয়ই ভবিষ্যতের পুলিশিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রাজ্যজুড়ে চালু হওয়া Cyber Help Desk, মহিলা হেল্পডেস্ক এবং Durga Squad-এর মাধ্যমে সাইবার প্রতারণা, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর আগেই পূর্ণাঙ্গ ১১২ জরুরি পরিষেবা কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যেকোনও অপরাধ রোধে পুলিশকে ‘প্রোটোকল মেনে, নিঃসংকোচে’ কাজ করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। তবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে কেউ যদি তার উপর হামলা করে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর।
Taratala Building Collapse মামলায় কড়া পদক্ষেপ, Suo Motu মামলা করল NHRC
সকাল সকাল ডেস্ক তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় ৫ শ্রমিকের মৃত্যুর পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ। রাজ্য সরকার, কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভাকে ১৪ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ। কলকাতার Taratala Building Collapse-এর ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। নির্মীয়মাণ চায়ের গুদাম ভেঙে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা রুজু করেছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। Taratala Building Collapse-এর তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। মানবাধিকার কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে Taratala Building Collapse-এর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের হস্তক্ষেপে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কী ঘটেছিল Taratala Building Collapse-এ? গত ২৪ জুন কলকাতার তারাতলা এলাকায় একটি বেসরকারি নির্মীয়মাণ চায়ের গুদামে ছাদের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় প্রায় ৪০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই বিশাল লোহার কাঠামো ও কংক্রিটের ছাদ ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনার খবর পাওয়ার পর সেনা, NDRF, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ উদ্ধারকাজের পর পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। এছাড়া প্রায় ২০ জন আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে SSKM হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাই এখন Taratala Building Collapse মামলার মূল তদন্তের বিষয়। NHRC কেন Suo Motu মামলা করল? সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভিত্তি করেই NHRC স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকাশিত তথ্য যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শ্রমিকদের মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। কমিশনের মতে, কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। যদি সেই দায়িত্ব পালনে গাফিলতি থেকে থাকে, তাহলে তার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ভুল Building Plan-এর অভিযোগে বাড়ছে প্রশ্ন Taratala Building Collapse-এর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, নির্মীয়মাণ গুদামের অনুমোদিত Building Plan বা নকশায় গুরুতর কারিগরি ত্রুটি থাকতে পারে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কাঠামোগত নকশা এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই অভিযোগ কতটা সত্য, তা রাজ্য সরকারের রিপোর্টে বিস্তারিত জানাতে নির্দেশ দিয়েছে NHRC। পাশাপাশি নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের ভূমিকা সম্পর্কেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ NHRC-র নোটিশে কী জানতে চাওয়া হয়েছে? জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের নোটিশে রাজ্য প্রশাসনের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে— SIT তদন্তে প্রশাসনের পদক্ষেপ দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের বিষয়েও আলোচনা চলছে। শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক Taratala Building Collapse আবারও নির্মাণক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় নির্মাণ প্রকল্পে নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ এবং প্রকৌশলগত তদারকি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে নির্মাণ শিল্পে নিরাপত্তা মানদণ্ড আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভাকে ১৪ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে কমিশন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলবে।
Debraj Chakraborty-কে Barasat Court-এ ঘিরে ‘ডিম থেরাপি’ চেষ্টা, পুলিশের তৎপরতায় বড় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো গেল
সকাল সকাল ডেস্ক আদালত চত্বরে উত্তেজনা, ডিম হাতে বিক্ষোভকারীদের ভিড়; পুলিশের অনুরোধে থামল হামলার চেষ্টা, হাইকোর্টের নজরেও ‘ডিম থেরাপি’ বিতর্ক। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর Debraj Chakraborty-কে বৃহস্পতিবার Barasat Court-এ হাজির করানোকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আগে থেকেই তাঁর আদালতে আনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সকাল থেকেই বহু মানুষ আদালত চত্বরে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে ডিমও ছিল। Debraj Chakraborty-কে পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ডিম ছোড়ার চেষ্টা হলেও পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। ডিম ছোড়ার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত Debraj Chakraborty-র গায়ে না লাগলেও পুলিশ ও পুলিশি গাড়িকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মানবঢাল তৈরি করে অভিযুক্তকে দ্রুত আদালতের ভিতরে নিয়ে যায়। ঘটনাকে ঘিরে আদালত চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। Barasat Court-এ কী ঘটল? পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর বৃহস্পতিবার Debraj Chakraborty-কে বারাসত আদালতে হাজির করা হয়। আদালত চত্বরে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষ অপেক্ষা করছিলেন। অভিযুক্তকে পুলিশি গাড়ি থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু বিক্ষোভকারী ডিম ছোড়ার চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা দ্রুত অভিযুক্তকে ঘিরে ফেলেন এবং তাঁকে নিরাপদে আদালতের ভিতরে নিয়ে যান। ফলে ডিম তাঁর গায়ে না লেগে পুলিশ ও পুলিশের গাড়িতে গিয়ে লাগে। পুলিশের অনুরোধে থামল পরিস্থিতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক মহিলা ডিম হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি নিজেকে ২০২১ সালের উত্তর দমদম বিধানসভা এলাকার তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের প্রাক্তন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী বলে দাবি করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেনি। এদিন কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মী তাঁকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “অনুরোধ করছি, এটা করবেন না। পুলিশ পুলিশের কাজ করছে।” পুলিশের এই সংযত আচরণ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া থেকে অনেকটাই রক্ষা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের মত। ‘ডিম থেরাপি’ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন জানান, তাঁরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই ডিম নিয়ে এসেছিলেন। এক মহিলা দাবি করেন, কম দামে ডিম কিনে তাঁরা আদালত চত্বরে এসেছেন এবং এটিকে তিনি “ডিম থেরাপি” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বহু মানুষের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ হাইকোর্টের নজরে ‘ডিম থেরাপি’ বিতর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ধৃত রাজনৈতিক নেতাদের আদালতে আনার সময় ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই Calcutta High Court-এ একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, আদালত চত্বরে এ ধরনের ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্টও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচারাধীন ব্যক্তির নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ একদিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংযত আচরণও করেছে। প্রশাসনের মতে, আদালত চত্বরে কোনও ধরনের হিংসাত্মক বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হতে পারে। জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদালত চত্বরে বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রেও আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বিচারাধীন মামলার অভিযুক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কোনও ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
Ritabrata Banerjee বললেন, ‘আসল Trinamool Congress আমরাই’, নির্বাচন কমিশনে বৈঠকের পর বিস্ফোরক দাবি
সকাল সকাল ডেস্ক জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে এবং দলকে ‘পারিবারিক সম্পত্তি’ বানানোর বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই চলবে। Ritabrata Banerjee-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একাংশ বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁরা কোনও নতুন দাবি জানাতে নির্বাচন কমিশনে যাননি, কারণ তাঁরাই প্রকৃত Trinamool Congress-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দলকে দীর্ঘদিন ধরে একনায়কতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করা হয়েছে এবং সেটিকে একটি পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী Ritabrata Banerjee বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের শিবিরের কার্যনির্বাহী কমিটির দশ সদস্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। তাঁর দাবি, দলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি জনপ্রতিনিধি তাঁদের পাশে রয়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক, পুরসভার কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য এবং জেলা পরিষদের সভাপতিরা তাঁদের সমর্থন করছেন বলেও তিনি দাবি করেন। ঋতব্রত বলেন, ২২ তারিখে নিয়ম মেনে বিশেষ প্রতিনিধি অধিবেশন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই নির্বাচন কমিশনের কাছে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছিল। কমিশন সেই আবেদন গ্রহণ করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, কমিশন সমস্ত নথি পরীক্ষা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। H2: নির্বাচন কমিশনে কী জানাল Ritabrata Banerjee? নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে Ritabrata Banerjee-এর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল সংগঠনের সাংগঠনিক পরিবর্তন, প্রতিনিধি অধিবেশনের নথি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয় বলে জানা গেছে। ঋতব্রত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁরা কোনও প্রতীক বা দলের স্বীকৃতি দাবি করতে যাননি। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা বিশ্বাস করেন যে প্রকৃত Trinamool Congress তাঁদেরই এবং কমিশন তথ্য ও নথির ভিত্তিতে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে। H2: দল ‘হাইজ্যাক’ হওয়ার অভিযোগ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় দলের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। কারও নাম না করেই তিনি অভিযোগ করেন, একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’-এর প্রভাবের কারণে দল গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়ে ফেলেছিল। তাঁর কথায়, একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক দল ধীরে ধীরে পারিবারিক সম্পত্তি এবং প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির রূপ নিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং ব্যক্তিপূজার রাজনীতির বিরুদ্ধে। দলকে আবার গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ H2: প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের সমর্থনের দাবি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দলের একাধিক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বর্ষীয়ান নেতা তাঁদের পাশে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান অরূপ রায়, জাভেদ আহমেদ খান-সহ একাধিক প্রবীণ নেতা এই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রাক্তন মন্ত্রী ও অন্যান্য অভিজ্ঞ নেতারাও এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, এই আন্দোলন কোনও ব্যক্তিকে সামনে রেখে নয়, বরং সম্মিলিত নেতৃত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। তাই দলের মূল দর্শনকে পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যেই তাঁরা এগোচ্ছেন। H2: দুর্নীতি ইস্যুতেও কড়া বার্তা Ritabrata Banerjee দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ দুর্নীতির অভিযোগ। তিনি বলেন, বালি, কয়লা, ডলোমাইট ও গোরু পাচারের মতো বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে সংগঠনের ভিতরে এবং প্রশাসনিক স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। H2: আদালতে যাবে কি বিরোধ? নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, আপাতত তাঁদের লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখা। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেই আগামী দিনে এই বিরোধ নতুন আইনি বা সাংগঠনিক মোড় নিতে পারে। জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নথি এবং সাংগঠনিক দাবিগুলি এখন কমিশনের পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে দলীয় স্বীকৃতি, সাংগঠনিক অবস্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকনির্দেশ। ফলে আগামী কয়েকদিনের সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Utsashree Portal Reopens: আজ থেকেই চালু উৎসশ্রী, স্কুল শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বদলির আবেদন শুরু
সকাল সকাল ডেস্ক দীর্ঘ প্রায় চার বছরের অপেক্ষার অবসান। Utsashree Portal Reopens-এর মাধ্যমে ১ জুলাই থেকে আবারও অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। রাজ্যের স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে Utsashree Portal Reopens। বুধবার, ১ জুলাই থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহুল আলোচিত অনলাইন বদলি পোর্টাল ‘উৎসশ্রী’ ফের চালু হয়েছে। ফলে WB School Teacher Transfer 2026-এর জন্য যোগ্য শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীরা আবারও অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর মধ্যে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বদলির সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। কেন গুরুত্বপূর্ণ Utsashree Portal Reopens? Utsashree Portal Reopens হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি থেকে বহু দূরে কর্মরত, পারিবারিক বা স্বাস্থ্যজনিত কারণে বদলি চাইছিলেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকেই অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। সমস্ত আবেদন নির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন এতদিন বন্ধ ছিল উৎসশ্রী? উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে বদলির আবেদন ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সরকারি সূত্রে জানা যায়, সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক, গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা এড়াতে বদলি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কেন ফের চালু হল পোর্টাল? শিক্ষা দফতরের মতে, বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটাই স্থিতিশীল। ফলে উৎসশ্রী পোর্টাল বন্ধ রাখার আর প্রয়োজন নেই। এই কারণেই পূর্ববর্তী সমস্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে Utsashree Portal Reopens করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া আবার নিয়মিতভাবে চালানো সম্ভব হবে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ কারা আবেদন করতে পারবেন? সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের যোগ্য শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীরাই এই পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। বদলি প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে West Bengal School Service Commission (General Transfer, Transfer on Special Ground and Reallocation) Rules, 2015 অনুযায়ী। অর্থাৎ সাধারণ বদলি, বিশেষ কারণজনিত বদলি এবং পুনর্বিন্যাস—সব ক্ষেত্রেই ২০১৫ সালের বিধি অনুসরণ করা হবে। যোগ্যতার সমস্ত শর্ত পূরণ করলেই আবেদনকারীরা অনলাইনে নিজেদের আবেদন নথিভুক্ত করতে পারবেন। কীভাবে আবেদন করবেন? Utsashree Portal Reopens হওয়ার পর আবেদনকারীদের সরকারি উৎসশ্রী পোর্টালে লগ-ইন করে নির্ধারিত তথ্য পূরণ করতে হবে। আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য, কর্মস্থলের বিবরণ এবং বদলির কারণ উল্লেখ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন জমা পড়ার পর শিক্ষা দফতর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। শিক্ষামন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য উৎসশ্রী চালু হওয়ার আগে শিক্ষক বদলি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাতের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। অনেক গ্রামীণ স্কুলে ছাত্রসংখ্যা বেশি হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। আবার বহু শহুরে স্কুলে শিক্ষক বেশি থাকলেও ছাত্রসংখ্যা কম। মন্ত্রী জানান, এই ভারসাম্য দূর করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে। শিক্ষক সমাজে স্বস্তির বার্তা দীর্ঘদিন ধরে বদলি বন্ধ থাকায় বহু শিক্ষক ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। অনেকেই বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে কর্মরত ছিলেন। Utsashree Portal Reopens হওয়ার ফলে তাঁদের কাছে নতুন করে বদলির সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মহলের মতে, এতে শুধু শিক্ষকদের সুবিধাই হবে না, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক বণ্টনের ভারসাম্যও অনেকটাই উন্নত হবে। সাধারণ মানুষের জন্য কী জানা জরুরি? যাঁরা বদলির জন্য আবেদন করতে চান, তাঁদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে হবে এবং শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা মেনেই সমস্ত আবেদন যাচাই করা হবে। শিক্ষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করতে।
Trinamool Congress Crisis: ‘আসল তৃণমূল’ কারা? নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে কাল ঋতব্রত শিবির
সকাল সকাল ডেস্ক Trinamool Congress-এ নেতৃত্ব ও প্রতীক নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে নিজেদের দাবির পক্ষে সওয়াল করবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়। Trinamool Congress Crisis আরও তীব্র হয়ে উঠেছে নেতৃত্ব এবং দলীয় স্বীকৃতি ঘিরে। ‘আসল তৃণমূল’ কারা— সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার বিষয়টি পৌঁছতে চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে যাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ফলে Trinamool Congress Crisis এখন রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে ঋতব্রত শিবির সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী প্রতিনিধিরা। বৈঠকে তাঁরা দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দলের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠনের বড় অংশ তাঁদের পাশে রয়েছে। তাই তাঁরাই প্রকৃত Trinamool Congress-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন। কীভাবে শুরু হল Trinamool Congress Crisis? কয়েক দিন আগে নিউটাউনের একটি বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাধিক নেতা দলীয় সাংগঠনিক পরিবর্তনের ঘোষণা করেন। সেই বৈঠকে দলীয় সভাপতির পদে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যত দলের অভ্যন্তরে বড় রাজনৈতিক সংঘাতের সূচনা করে। এরপরই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রাজ্যের নির্বাচন দফতরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি জমা দেন এবং পরে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে কী দাবি? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, নতুন কমিটির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোই তাঁদের উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, “আমরাই আসল তৃণমূল। আলাদা করে প্রতীক দাবি করার প্রশ্নই নেই।” বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। সেই কারণেই সংগঠনের বৈধ প্রতিনিধিত্ব তাঁদের হাতেই রয়েছে বলে তাঁরা কমিশনের সামনে দাবি জানাতে চলেছেন। মমতা শিবিরের পাল্টা পদক্ষেপ অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘোষণার পরপরই নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকায় দলীয় চেয়ারপার্সন হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। ফলে একই রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক সাংগঠনিক তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছেছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় আইনি প্রশ্ন একই দলের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক দাবি জমা পড়ায় নির্বাচন কমিশনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কমিশনকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন পক্ষকে দলীয় বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার কার হাতে থাকবে। নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধ অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে দেখা গিয়েছে। সেই ধরনের মামলায় সাধারণত সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন, সাংগঠনিক নথি, দলীয় সংবিধান এবং আইনগত প্রমাণ বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, Trinamool Congress Crisis আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও জটিল আকার নিতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে দলীয় সংগঠনের ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত প্রশ্ন। যদি কোনও পক্ষ কমিশনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়, তাহলে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে এই বিরোধ শুধু দলীয় রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রভাব ভবিষ্যতের নির্বাচন, দলীয় সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের উপর পড়তে পারে। রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের বিরোধ কীভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, এই ঘটনাও তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর বৃহস্পতিবারের দিল্লি বৈঠকের দিকে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে দুই পক্ষের দাবি-দাওয়া এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই বহুল আলোচিত Trinamool Congress Crisis-এর পরবর্তী অধ্যায়।
Annapurna Yojana: 1.09 কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা, Dial 112 ও মহিলা Help Desk চালুর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক Annapurna Yojana উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে নারী নিরাপত্তা, Dial 112 পরিষেবা, মহিলা Help Desk এবং 1.09 কোটি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে চালু হওয়া Annapurna Yojana-র আনুষ্ঠানিক সূচনা করল রাজ্য সরকার। বুধবার কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন Annapurna Yojana-র আওতায় কোটি কোটি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ঘোষণা করেন, তেমনই নারী নিরাপত্তা জোরদার করতে Dial 112 পরিষেবা এবং প্রতিটি থানায় পৃথক মহিলা Help Desk চালুর কথাও জানান। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করবে। Annapurna Yojana-র আওতায় ১.০৯ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে অর্থ মুখ্যমন্ত্রী জানান, Annapurna Yojana-র জন্য ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি মহিলা ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কালেকশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। সমস্ত আবেদন ডিজিটাল পোর্টালে আপলোড করে পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই এবং ডিজিটাল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যাচাইয়ের পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাকি আবেদনগুলির মধ্যে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জন মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বুধবার দুপুর ১টা থেকে অর্থ পাঠানো শুরু হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ি এলাকার ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬২৮ জন মহিলাও এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ‘এটা কোনও দলের টাকা নয়, সরকারের টাকা’ Annapurna Yojana নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটা কোনও ব্যক্তি বা দলের টাকা নয়, এটা সরকারের টাকা। তাই প্রকৃত উপযুক্ত মানুষই এই সুবিধা পাবেন।” তিনি আরও বলেন, সরকার কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে উপভোক্তাদের নির্বাচন করেছে। তাঁর মতে, ডিজিটাল যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। নারী নিরাপত্তায় Dial 112 ও মহিলা Help Desk Annapurna Yojana-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই নারী নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যের প্রতিটি থানায় পৃথক মহিলা Help Desk চালু করা হবে। একই সঙ্গে চালু হচ্ছে Dial 112 জরুরি পরিষেবা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশি সাড়া নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, দেশের কয়েকটি রাজ্যে পুলিশ গড়ে ৯ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়, অথচ বাংলায় এই সময় অনেক বেশি। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ অতীতের ঘটনাগুলিরও তদন্তের আশ্বাস নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আরজি কর থেকে বগটুই—এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতেই হবে।” তিনি পার্ক স্ট্রিট এবং কামদুনির মতো বহুচর্চিত ঘটনাগুলিরও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, অতীতে বিচার না পাওয়া ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পুনরায় খতিয়ে দেখতে আলাদা কমিশন গঠন করা হয়েছে। পুরনো মামলার ক্ষেত্রেও অভিযোগ জমা পড়লে তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। আবেদন যাচাইয়ে ডিজিটাল প্রক্রিয়ার উপর জোর মুখ্যমন্ত্রী জানান, Annapurna Yojana-য় আবেদনকারীদের তথ্য সংগ্রহের পর দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য যাচাই করা হয়েছে। একাধিক স্তরে ডিজিটাল ভেরিফিকেশন করা হয়েছে যাতে ভুয়ো আবেদনকারীরা সুবিধা না পান। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলিতে বহু অনিয়ম ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তি বা একই ব্যক্তির একাধিক নামে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার তথ্য যাচাইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। CAA আবেদনকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে ভারতে এসে CAA-তে আবেদন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিকভাবে ভাতা বন্ধ করা হবে না। একইভাবে যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত Annapurna Yojana-র সুবিধা চালু থাকবে। সরকারের মতে, চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনও উপযুক্ত আবেদনকারীকে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, Annapurna Yojana শুধু একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নয়; এটি নারী ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল স্বচ্ছতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বৃহত্তর উদ্যোগ। পাশাপাশি Dial 112 পরিষেবা ও মহিলা Help Desk চালুর মাধ্যমে নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। উপভোক্তাদের উদ্দেশে প্রশাসনের বার্তা, যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পর্যায়ক্রমে অর্থ জমা হবে। কোনও সমস্যা হলে স্থানীয় প্রশাসন অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Building Audit Kolkata: তারাতলা বিপর্যয়ের পর ছ’তলা বা তার বেশি ভবনে কড়া অডিট, তদন্তে ‘দালাল চক্র’-এর বিস্ফোরক তথ্য
সকাল সকাল ডেস্ক তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের মর্মান্তিক ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে বহুতল নির্মাণের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে প্রশাসন। Building Audit Kolkata-এর মাধ্যমে কলকাতা পুরসভা ছ’তলা বা তার বেশি উচ্চতার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে তারাতলা দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে পুরসভার অনুমোদন ঘিরে কমিশন-ভিত্তিক একটি প্রভাবশালী দালাল চক্রের অভিযোগ, যা গোটা নির্মাণ ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কেন শুরু হচ্ছে Building Audit Kolkata? তারাতলার দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে কলকাতা-সহ রাজ্যের ১৩টি পুরসভা এলাকায় আপাতত নতুন নির্মাণকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি Building Audit Kolkata-এর প্রথম ধাপে প্রতিটি ওয়ার্ডে কতগুলি ছ’তলা বা তার বেশি ভবন রয়েছে এবং কোথায় নির্মাণকাজ চলছে, তার বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্মীয়মাণ ও সম্পূর্ণ হওয়া বহুতলগুলির পৃথক তথ্য সংগ্রহ করতে। প্রশাসনের মতে, এই তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে পরবর্তী প্রযুক্তিগত অডিট দ্রুত ও আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কীভাবে হবে বহুতলের নিরাপত্তা পরীক্ষা? রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের অডিট কমিটি গঠন করেছে। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভা বরোভিত্তিক যৌথ পরিদর্শন দল গঠন করছে। এই দলে থাকবেন— Building Audit Kolkata-এর মূল লক্ষ্য হবে ভবনের কাঠামোগত স্থায়িত্ব, নির্মাণের গুণমান এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ডেভেলপারদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে বিস্তারিত তথ্য সমীক্ষাকে আরও নির্ভুল করতে কলকাতা পুরসভা একটি বিশেষ তথ্যপত্র চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার বা নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে জমা দিতে হবে— এই তথ্য পুরসভার নিজস্ব ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য অসঙ্গতি বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হবে। শুধু ডেভেলপারদের নথিই নয়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিল্ডিং সার্ভেয়ার, স্থপতি এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকেও নকশা ও অনুমোদনের কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারাতলা তদন্তে সামনে এল ‘দালাল চক্র’-এর অভিযোগ এদিকে তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, পুরসভার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নামে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র সক্রিয় ছিল। অভিযোগ, প্রতি বর্গফুট নির্মাণের জন্য ২২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হত। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আবদুল হামিদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, তিনি গোডাউনের মালিকপক্ষের কাছ থেকে প্রতি বর্গফুটে ২০০ টাকারও বেশি কমিশন নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। প্রাক্তন মেয়রের ঘনিষ্ঠের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে SIT লালবাজার সূত্রে খবর, তদন্তে পুরসভার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে জমা পড়া নথি দ্রুত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হত। এই ঘটনায় প্রাক্তন মেয়রের এক ঘনিষ্ঠ সহায়কের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁর শিবপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে— উদ্ধার করেছে তদন্তকারী দল। পাশাপাশি তাঁর ব্যাঙ্ক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকল ছাড়পত্র ও Soil Test নিয়েও প্রশ্ন তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, গোডাউন নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় দমকলের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না। একইসঙ্গে মাটির ধারণক্ষমতা পরীক্ষার (Soil Test) রিপোর্ট সংগ্রহ করতে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মূল বিল্ডিং প্ল্যানও চাওয়া হয়েছে কলকাতা পুরসভার কাছ থেকে। এ পর্যন্ত ছয়জন গ্রেফতার হয়েছেন। আরও পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুরসভার দুই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিল্ডিং সার্ভেয়ার। সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা? প্রশাসনের দাবি, Building Audit Kolkata-এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে তারাতলার মতো দুর্ঘটনা এড়ানোই মূল লক্ষ্য। নির্মাণে স্বচ্ছতা, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি এবং নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্ট্রাকচারাল অডিট, অনুমোদিত নকশা মেনে নির্মাণ এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শহরের বহুতল নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
Dharmatala Ban: 60 দিনের নিষেধাজ্ঞা, 21 জুলাইয়ের সভাতেও অনুমতি নয় কলকাতা পুলিশের
সকাল সকাল ডেস্ক Dharmatala Ban জারি করে ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত মিছিল, সভা, ধর্না ও পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতেও না দুই তৃণমূল শিবিরকে। কলকাতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ধর্মতলায় আগামী ৬০ দিনের জন্য কড়া বিধিনিষেধ জারি করল কলকাতা পুলিশ। Dharmatala Ban-এর আওতায় ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সভা, ধর্না, বিক্ষোভ এবং অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে ২১ জুলাইয়ের ঐতিহ্যবাহী শহিদ দিবসের সভার অনুমতিও দেওয়া হয়নি তৃণমূলের দুই শিবিরকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে লালবাজার। কেন জারি হল Dharmatala Ban? কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারার অধীনে এই নির্দেশ জারি করেছেন। পুলিশের দাবি, নির্ভরযোগ্য সূত্রে সম্ভাব্য হিংসাত্মক বিক্ষোভ, জনশৃঙ্খলা ভাঙন এবং যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার তথ্য পাওয়া গেছে। ধর্মতলা শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলির একটি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই এলাকা ব্যবহার করেন। তাই সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে Dharmatala Ban কার্যকর করা হয়েছে। কোন কোন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এই নির্দেশ বউবাজার থানা, হেয়ার স্ট্রিট থানা এবং সদর ট্র্যাফিক গার্ডের অধীন নির্দিষ্ট এলাকায় কার্যকর থাকবে। কেসি দাস মোড় থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস (সিইএসসি ভবন) পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তবে বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী— ২১ জুলাইয়ের সভা নিয়েও পুলিশের স্পষ্ট অবস্থান Dharmatala Ban ঘোষণার পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এ বছরের ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে ধর্মতলায় সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রতি বছরের মতো ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার আবেদন করেছিল কালীঘাট শিবির। একই জায়গায় সভার আবেদন করেছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল গোষ্ঠীও। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা এবং যান চলাচলের স্বার্থে দুই আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে লালবাজার। প্রশাসনের মতে, একই দিনে একই এলাকায় দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পৃথক কর্মসূচি হলে উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ পটভূমি: কেন বাড়ল প্রশাসনের সতর্কতা সম্প্রতি ধর্মতলাকে কেন্দ্র করে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং পাল্টা কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। গত রবিবার কালীঘাট শিবিরের কয়েকজন নেতা-কর্মী সম্ভাব্য সভাস্থলের প্রস্তুতি নিতে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে যান। অভিযোগ, সেই সময় ব্যস্ত রাস্তায় যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। পরের দিন বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর পুলিশ সক্রিয় হয়ে রাস্তা অবরোধ ও জনদুর্ভোগের অভিযোগে দোলা সেন, কুণাল ঘোষ-সহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এর পরদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ২১ জুলাইয়ের সভার জন্য ধর্মতলায় কোনও রাজনৈতিক দলকে অনুমতি দেওয়া হবে না। আইনি দিক ও প্রশাসনের বক্তব্য পুলিশ জানিয়েছে, পৃথকভাবে প্রত্যেককে নোটিস দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আইন অনুযায়ী একতরফাভাবে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি সংবাদমাধ্যম, কলকাতা পুলিশ গেজেট এবং সংশ্লিষ্ট থানার নোটিস বোর্ডে প্রকাশ করা হবে। এদিকে ২০১৮ সালের একটি মামলার সূত্র ধরে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টেও বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। ফলে প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত ধর্মতলার নির্দিষ্ট এলাকায় কোনও রাজনৈতিক জমায়েত, মিছিল বা বিক্ষোভে অংশ নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সাধারণ মানুষকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার এবং পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, জননিরাপত্তা, যান চলাচল সচল রাখা এবং সম্ভাব্য অশান্তি এড়ানোই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বিকল্প স্থান বেছে নেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Hul Diwas 2026: মুকুটমণিপুরে জনজাতি সম্মান ও ক্ষমতায়নের বার্তা, অটলবিহারীর অবদান স্মরণ শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক হুল দিবসের মঞ্চ থেকে জনজাতি সমাজের আত্মত্যাগ, ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, উন্নয়ন ও ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঁকুড়া: Hul Diwas 2026 উপলক্ষে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে আয়োজিত রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে জনজাতি সমাজের আত্মত্যাগ, অধিকার আন্দোলন এবং ক্ষমতায়নের বার্তা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বাঁকুড়া সফরে এসে তিনি সিধু-কানু, চাঁদ-ভৈরব, ভগবান বিরসা মুন্ডা-সহ হুল বিদ্রোহের অমর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘গড় জোহাড়’ জানিয়ে জনজাতি সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানান তিনি। Hul Diwas 2026-এর এই অনুষ্ঠানে জনজাতি সমাজের ইতিহাস, ভাষা ও উন্নয়ন ছিল মূল আলোচ্য বিষয়। হুল বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হুল বিদ্রোহ শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক আন্দোলন নয়, বরং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর মতে, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের যে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত আরও শক্তিশালী করেছিল। তিনি বলেন, জল, জঙ্গল ও জমির অধিকার রক্ষার যে সংগ্রাম থেকে হুল বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল, সেই চেতনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়েও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও জনজাতিদের সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে এই ইতিহাস নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগায়। জনজাতি কৃতীদের হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হল Hul Diwas 2026-এর অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা জনজাতি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। লোকশিল্পী, শিক্ষক, চিকিৎসক, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের হাতে সম্মান তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজের মূল স্রোতে জনজাতি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাঁওতালি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতিতে অটলবিহারী বাজপেয়ীকে স্মরণ ভাষণে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর প্রবর্তিত অলচিকি লিপিতে লেখা সাঁওতালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করেছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের জনজাতি আন্দোলনের দাবিকে সম্মান জানিয়ে ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের সিদ্ধান্তও তাঁর সরকারের সময় বাস্তবায়িত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই দুটি সিদ্ধান্ত দেশের জনজাতি সমাজের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। জনজাতি নেতৃত্বের উত্থান তুলে ধরলেন শুভেন্দু বর্তমান সময়ে জনজাতি সমাজের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আজ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনজাতি কন্যা দ্রৌপদী মুর্মু। পাশাপাশি ছত্তীসগড়ে বিষ্ণু দেব সাই এবং ওড়িশায় মোহনচরণ মাঝির মতো জনজাতি নেতাদের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঘটনাও দেশের গণতন্ত্রের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভাতেও খুদিরাম টুডু, জুয়েল মুর্মু ও বিশাল লামার মতো জনজাতি প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা জনজাতি সমাজের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করেছে। ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে আহ্বান ভাষণের শেষ পর্যায়ে Hul Diwas 2026-এর মঞ্চ থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে জনজাতি সমাজকে উন্নয়নের মূল ধারায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নয়নের পথে কোনও সম্প্রদায়কে পিছনে রেখে নয়, বরং সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করেই এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ভাষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনজাতি সমাজ দেশের উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী খুদিরাম টুডু, দিবাকর ঘরামি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাত-সহ বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার একাধিক জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তাঁদের উপস্থিতিতে Hul Diwas 2026 উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি জনজাতি সমাজের ঐতিহ্য, অধিকার ও উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।