সকাল সকাল ডেস্ক
জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে এবং দলকে ‘পারিবারিক সম্পত্তি’ বানানোর বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই চলবে।
Ritabrata Banerjee-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একাংশ বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁরা কোনও নতুন দাবি জানাতে নির্বাচন কমিশনে যাননি, কারণ তাঁরাই প্রকৃত Trinamool Congress-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দলকে দীর্ঘদিন ধরে একনায়কতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করা হয়েছে এবং সেটিকে একটি পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছিল।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী Ritabrata Banerjee
বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের শিবিরের কার্যনির্বাহী কমিটির দশ সদস্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। তাঁর দাবি, দলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি জনপ্রতিনিধি তাঁদের পাশে রয়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক, পুরসভার কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য এবং জেলা পরিষদের সভাপতিরা তাঁদের সমর্থন করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
ঋতব্রত বলেন, ২২ তারিখে নিয়ম মেনে বিশেষ প্রতিনিধি অধিবেশন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই নির্বাচন কমিশনের কাছে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছিল। কমিশন সেই আবেদন গ্রহণ করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, কমিশন সমস্ত নথি পরীক্ষা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।
H2: নির্বাচন কমিশনে কী জানাল Ritabrata Banerjee?
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে Ritabrata Banerjee-এর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল সংগঠনের সাংগঠনিক পরিবর্তন, প্রতিনিধি অধিবেশনের নথি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয় বলে জানা গেছে।
ঋতব্রত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁরা কোনও প্রতীক বা দলের স্বীকৃতি দাবি করতে যাননি। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা বিশ্বাস করেন যে প্রকৃত Trinamool Congress তাঁদেরই এবং কমিশন তথ্য ও নথির ভিত্তিতে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।
H2: দল ‘হাইজ্যাক’ হওয়ার অভিযোগ

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় দলের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। কারও নাম না করেই তিনি অভিযোগ করেন, একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’-এর প্রভাবের কারণে দল গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়ে ফেলেছিল। তাঁর কথায়, একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক দল ধীরে ধীরে পারিবারিক সম্পত্তি এবং প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির রূপ নিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং ব্যক্তিপূজার রাজনীতির বিরুদ্ধে। দলকে আবার গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
H2: প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের সমর্থনের দাবি
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দলের একাধিক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বর্ষীয়ান নেতা তাঁদের পাশে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান অরূপ রায়, জাভেদ আহমেদ খান-সহ একাধিক প্রবীণ নেতা এই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রাক্তন মন্ত্রী ও অন্যান্য অভিজ্ঞ নেতারাও এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন বলে তিনি জানান।
তাঁর দাবি, এই আন্দোলন কোনও ব্যক্তিকে সামনে রেখে নয়, বরং সম্মিলিত নেতৃত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। তাই দলের মূল দর্শনকে পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যেই তাঁরা এগোচ্ছেন।
H2: দুর্নীতি ইস্যুতেও কড়া বার্তা
Ritabrata Banerjee দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ দুর্নীতির অভিযোগ। তিনি বলেন, বালি, কয়লা, ডলোমাইট ও গোরু পাচারের মতো বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে সংগঠনের ভিতরে এবং প্রশাসনিক স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
H2: আদালতে যাবে কি বিরোধ?
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, আপাতত তাঁদের লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখা। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেই আগামী দিনে এই বিরোধ নতুন আইনি বা সাংগঠনিক মোড় নিতে পারে।
জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নথি এবং সাংগঠনিক দাবিগুলি এখন কমিশনের পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে দলীয় স্বীকৃতি, সাংগঠনিক অবস্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকনির্দেশ। ফলে আগামী কয়েকদিনের সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
No Comment! Be the first one.