সকাল সকাল ডেস্ক
Karachi Terror Attack-এ সিন্ধ রেঞ্জার্স সদর দফতরে ভয়াবহ হামলা, দীর্ঘ গুলির লড়াইয়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী
পাকিস্তানের করাচিতে ভয়াবহ Karachi Terror Attack-এর ঘটনায় ফের সামনে এল দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট। শনিবার সকালে করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় অবস্থিত সিন্ধ রেঞ্জার্সের গুরুত্বপূর্ণ ভিট্টাই উইং সদর দফতরে সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা তীব্র গুলির লড়াইয়ের পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ৬ জন জঙ্গিকে নিকেশ করার দাবি করেছে। তবে এই সংঘর্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। Karachi Terror Attack ঘিরে গোটা পাকিস্তানজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হামলার শুরুতেই বিস্ফোরণ, তারপর এলোপাথাড়ি গুলি
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, শনিবার সকালে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত একদল জঙ্গি সিন্ধ রেঞ্জার্সের ভিট্টাই উইং সদর দফতরে আচমকা হামলা চালায়। প্রথমেই তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করে। বিস্ফোরণের পরপরই স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে হামলাকারীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলার ঘটনা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলার ছক কষা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই আক্রমণ চালানো হয়।
আচমকা এই হামলায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন এবং আশপাশের এলাকায় জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
৯০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস এনকাউন্টার
হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী, সিন্ধ রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাল্টা অভিযান শুরু করেন। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত হামলাকারীদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।
এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে তীব্র গুলির লড়াই। Karachi Terror Attack চলাকালীন গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি রোডের মেটিওরোলজিক্যাল চৌরঙ্গির কাছেও বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পালানোর চেষ্টা করা কয়েকজন জঙ্গিকেও লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয় বলে নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
৬ জঙ্গি নিহত, প্রাণ হারালেন ৪ পাক সেনা
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে মোট ৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে এই অভিযানে সেনাবাহিনীর ৪ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আহত নিরাপত্তাকর্মীদের দ্রুত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
নিহত সেনাদের পরিচয় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পটভূমি
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং সিন্ধ প্রদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলির সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
করাচি পাকিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শহরগুলির অন্যতম। সেই শহরেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দফতরে হামলা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। Karachi Terror Attack এই কারণেই আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্ব পেয়েছে।

তদন্তে নেমেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি
ঘটনার পর গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। করাচির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযানও শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীরা হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং হামলার পরিকল্পনার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এটি ছিল সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা।
সরকারি বিবৃতি
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রুখতে করাচি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
প্রভাব ও জনসাধারণের জন্য তথ্য
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, Karachi Terror Attack পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তি বা কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
আগামী কয়েকদিন করাচি এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
No Comment! Be the first one.