সকাল সকাল ডেস্ক
Ashoknagar Oil Project-এ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক তেল উত্তোলনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ২০২৭ সালে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য, রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার আশা।
উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে বহু প্রতীক্ষিত Ashoknagar Oil Project অবশেষে বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি দেখাল। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ONGC আগামী জুলাই মাস থেকেই এখানে বাণিজ্যিকভাবে অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের শুরু থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পশ্চিমবঙ্গ দেশের জ্বালানি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জুলাই থেকেই শুরু হবে বাণিজ্যিক তেল উত্তোলন
ONGC সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প এলাকায় ইতিমধ্যেই পাঁচটি উৎপাদনমূলক কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে একটি কূপ থেকে আগামী জুলাই মাসেই অপরিশোধিত তেল উত্তোলন শুরু হবে। একই সঙ্গে বাকি কূপগুলিকেও দ্রুত উৎপাদনের আওতায় আনতে পাইপলাইন, সংরক্ষণাগার, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। Ashoknagar Oil Project-এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিপুল তেল মজুতের সম্ভাবনা
প্রাথমিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক তথ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, অশোকনগরের অপরিশোধিত তেলের গুণমান দেশের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র বম্বে হাইয়ের তেলের সমতুল্য। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এলাকায় প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে Ashoknagar Oil Project শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশের জ্বালানি খাতেও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
রাজ্যের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?
প্রকল্পটি চালু হলে রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রয়্যালটি ও কর বাবদ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোষাগারে প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আসতে পারে। এছাড়া উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ভবিষ্যতে হলদিয়া শোধনাগারে পাঠিয়ে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শিল্পোন্নয়ন, পরিবহণ ব্যবস্থা, লজিস্টিক পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
দীর্ঘ আইনি জট কাটিয়ে গতি পেল প্রকল্প
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ একেবারেই সহজ ছিল না। স্ট্যাম্প ডিউটি, রয়্যালটি, লাইসেন্স এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাজের গতি মন্থর ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সম্প্রতি কেন্দ্রের নতুন Petroleum and Natural Gas Act, 2025 কার্যকর হওয়ার পর একাধিক প্রশাসনিক জটিলতার সমাধান হয়েছে। ফলে Ashoknagar Oil Project-এর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, অশোকনগরের অপরিশোধিত তেলের গুণমান দেশের অন্যতম প্রধান তেলক্ষেত্র বম্বে হাইয়ের সমতুল্য। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এখানে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এই তেল ভাণ্ডার থেকে সরাসরি ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রয়্যালটি ও কর বাবদ যাবে রাজ্যের কোষাগারে। এই অর্থ এবং উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল হলদিয়া শোধনাগারে পাঠানো হবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য সংসদে একাধিকবার বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এই প্রকল্প শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর মতে, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্প, পরিবহণ, সহায়ক পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “জুলাই মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হবে। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্প, সহায়ক পরিষেবা, পরিবহণ পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।”

সাধারণ মানুষের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
Ashoknagar Oil Project সফল হলে পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে। স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সহায়ক শিল্পের প্রসারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় তেল উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
No Comment! Be the first one.