সকাল সকাল ডেস্ক
West Bengal Public Safety Bill: সমাজবিরোধী দমনে কড়া আইন, অপরাধীকে আশ্রয় দিলেও হতে পারে ২ বছরের জেল
পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি, বেআইনি জমি দখল, সিন্ডিকেট চক্র এবং অন্যান্য সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। West Bengal Public Safety Bill নামে প্রস্তাবিত নতুন আইনটি সোমবার বিধানসভায় পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের দাবি, বিলটি আইনে পরিণত হলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে আরও কার্যকর আইনি ক্ষমতা থাকবে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অপরাধীকে আশ্রয় দিলেও হতে পারে জেল
West Bengal Public Safety Bill-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শুধু অপরাধী নয়, তাঁকে আশ্রয় দেওয়া বা পালাতে সাহায্য করলেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনে আটকাদেশ বা নির্দিষ্ট এলাকা ত্যাগের নির্দেশ জারি থাকলে এবং সেই তথ্য জেনেও কেউ যদি তাঁকে নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন, আশ্রয় দেন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাত থেকে পালাতে সাহায্য করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

‘গুন্ডা’ শব্দের আইনি সংজ্ঞা
নতুন বিলে প্রথমবারের মতো ‘গুন্ডা’ শব্দটির একটি নির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি এককভাবে অথবা কোনও গোষ্ঠী, গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে যদি নিয়মিত সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁকে এই আইনের আওতায় আনা যাবে। এছাড়াও অস্ত্র আইন, মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত আইন, বিস্ফোরক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হতে পারে।
কোন কোন অপরাধ এই আইনের আওতায়?
West Bengal Public Safety Bill-এ জনশৃঙ্খলা নষ্ট করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, ব্যবসায়িক কার্যকলাপে বাধা, বেআইনি জমি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, অবৈধ খনি, বালি ও পাথর উত্তোলন এবং বনজ সম্পদ ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের মতে, সংগঠিত অপরাধের আধুনিক রূপ মোকাবিলায় এই ধরনের বিস্তৃত আইনি কাঠামো প্রয়োজন।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
গ্রেফতার ও জামিনে কঠোর বিধান
প্রস্তাবিত বিলে সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলিকে কগনিজেবল এবং নন-বেলেবল হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে এবং জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধান কার্যকর হবে। এছাড়া, প্রশাসনের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা থাকলে কোনও ব্যক্তি ভবিষ্যতে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন—এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধমূলকভাবে আটক রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এই বিল কার্যকর হলে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে আইনের যথাযথ ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিধানসভায় আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে রাজ্যের অপরাধ দমন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।
অপব্যবহার রোধে অ্যাডভাইজরি বোর্ড
আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে একটি উচ্চপর্যায়ের অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে। হাইকোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডের কাছে আটক সংক্রান্ত প্রতিটি মামলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে। বোর্ড যদি পর্যাপ্ত কারণ না পায়, তাহলে আটকাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করতে পারবে।
প্রশাসনের হাতে আরও ক্ষমতা
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন জায়গায় তল্লাশি, ব্যক্তি ও যানবাহন পরীক্ষা এবং সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ, নথি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও প্রশাসনকে দেওয়া হতে পারে। সরকারের দাবি, বর্তমান আইনি কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় যথেষ্ট কার্যকর নয়। তাই জননিরাপত্তা জোরদার করতেই West Bengal Public Safety Bill আনা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্ব
নতুন বিলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের আশঙ্কা, প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হলে তার অপব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সরকারের বক্তব্য—এই আইন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংগঠিত অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতেই আনা হচ্ছে। বিলটি বিধানসভায় আলোচনা ও অনুমোদনের পরই এর চূড়ান্ত রূপ স্পষ্ট হবে এবং কার্যকর হলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। প্রস্তাবিত বিলে তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট, বেআইনি খনি, বালি ও বনজ সম্পদ লুট, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধা-সহ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী সব কর্মকাণ্ডকে সমাজবিরোধী অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। অভ্যাসগত অপরাধীদের ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পাবে প্রশাসন। বিরোধীদের দাবি, এটি সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের ‘কালা কানুন’।
No Comment! Be the first one.