সকাল সকাল ডেস্ক
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় ৫ শ্রমিকের মৃত্যুর পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ। রাজ্য সরকার, কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভাকে ১৪ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ।
কলকাতার Taratala Building Collapse-এর ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। নির্মীয়মাণ চায়ের গুদাম ভেঙে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা রুজু করেছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। Taratala Building Collapse-এর তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
মানবাধিকার কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে Taratala Building Collapse-এর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের হস্তক্ষেপে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কী ঘটেছিল Taratala Building Collapse-এ?
গত ২৪ জুন কলকাতার তারাতলা এলাকায় একটি বেসরকারি নির্মীয়মাণ চায়ের গুদামে ছাদের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় প্রায় ৪০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই বিশাল লোহার কাঠামো ও কংক্রিটের ছাদ ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর সেনা, NDRF, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ উদ্ধারকাজের পর পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। এছাড়া প্রায় ২০ জন আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে SSKM হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাই এখন Taratala Building Collapse মামলার মূল তদন্তের বিষয়।
NHRC কেন Suo Motu মামলা করল?
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভিত্তি করেই NHRC স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকাশিত তথ্য যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শ্রমিকদের মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।
কমিশনের মতে, কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। যদি সেই দায়িত্ব পালনে গাফিলতি থেকে থাকে, তাহলে তার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ভুল Building Plan-এর অভিযোগে বাড়ছে প্রশ্ন
Taratala Building Collapse-এর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, নির্মীয়মাণ গুদামের অনুমোদিত Building Plan বা নকশায় গুরুতর কারিগরি ত্রুটি থাকতে পারে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কাঠামোগত নকশা এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই অভিযোগ কতটা সত্য, তা রাজ্য সরকারের রিপোর্টে বিস্তারিত জানাতে নির্দেশ দিয়েছে NHRC। পাশাপাশি নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের ভূমিকা সম্পর্কেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
NHRC-র নোটিশে কী জানতে চাওয়া হয়েছে?
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের নোটিশে রাজ্য প্রশাসনের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে—
- দুর্ঘটনার পর দায়ের হওয়া এফআইআর এবং তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি কী?
- নিহত শ্রমিকদের পরিবার ও আহতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কি না?
- দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
- নির্মাণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ কতটা সত্য?
- ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
SIT তদন্তে প্রশাসনের পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্মাণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক
Taratala Building Collapse আবারও নির্মাণক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় নির্মাণ প্রকল্পে নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, অনুমোদিত নকশা অনুসরণ এবং প্রকৌশলগত তদারকি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে নির্মাণ শিল্পে নিরাপত্তা মানদণ্ড আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভাকে ১৪ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে কমিশন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলবে।
No Comment! Be the first one.