সকাল সকাল ডেস্ক
গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ বিদায়ের পর উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসার পদত্যাগ। বিদায়বেলায় ফুটবলারদের মানসিকতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর বড় ধাক্কা খেল উরুগুয়ে। Marcelo Bielsa Resigns খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় দলের প্রধান কোচ মার্সেলো বিয়েলসা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু দায়িত্ব ছেড়েই থেমে থাকেননি তিনি, বিদায়বেলায় দলের ফুটবলারদের মানসিকতা এবং নিজের কোচিং দর্শন নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্যও করেছেন।
বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে ড্র করার পর শেষ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে অন্তত এক পয়েন্ট পেলেই নকআউটে ওঠার সুযোগ ছিল উরুগুয়ের। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে পরাজয়ের ফলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে।
Marcelo Bielsa Resigns: সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক মন্তব্য

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ১০০ মিনিটের দীর্ঘ সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন মার্সেলো বিয়েলসা।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দলের ফুটবলাররা কখনও তাঁর ফুটবল দর্শনকে গুরুত্ব দেননি।
বিয়েলসার কথায়, “আমি যা জানি, তা শিখতে কারও আগ্রহ ছিল না। আমি যা শেখানোর চেষ্টা করেছি, তার কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তবে এতে আমি খারাপ কিছু দেখি না। সবাই যে আমার কাছ থেকে শিখতে চাইবে, এমন তো নয়।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই উরুগুয়ের ফুটবল মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, বিশ্বকাপ চলাকালীন কোচ ও ফুটবলারদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল না বলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে
যদিও ফুটবলারদের সমালোচনা করেছেন, তবুও নিজের ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাননি বিয়েলসা।
তিনি বলেন, “যা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় আমার। এই ফলাফলের জন্য কোনও অজুহাত দিতে পারি না। আমার হাতে যে ফুটবলাররা ছিল, তাদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারিনি। আমি, আমার কোচিং স্টাফ এবং ফুটবলাররা সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট, দলের ব্যর্থতার জন্য তিনি নিজেকেও সমানভাবে দায়ী মনে করছেন।
পটভূমি: বড় স্বপ্ন, হতাশার সমাপ্তি
২০২৩ সালের মে মাসে উরুগুয়ের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। আক্রমণাত্মক ফুটবল, উচ্চ-তীব্রতার প্রেসিং এবং কঠোর অনুশীলনের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশন তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। লক্ষ্য ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলা। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিন বছরের প্রকল্প মাঝপথেই শেষ হয়ে গেল।
দলের অন্দরে অশান্তির ইঙ্গিত

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিশ্বকাপ চলাকালীন ধীরে ধীরে ড্রেসিংরুমের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বিয়েলসা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর কঠোর অনুশীলন পদ্ধতি এবং কৌশল নিয়ে একাধিক সিনিয়র ফুটবলার অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনও উরুগুয়ের ব্যর্থতার অন্যতম বড় কারণ।
বিশ্বকাপে কোচ পরিবর্তনের ধারা
শুধু উরুগুয়েই নয়, বিশ্বকাপ শেষে আরও একটি বড় জাতীয় দলে কোচ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। রাউন্ড অব ৩২-এ মেক্সিকোর কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ইকুয়েডরের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসেও পদত্যাগ করেছেন।
বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, “এবার সময় এসেছে এই সুন্দর পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার। গভীর কৃতজ্ঞতা এবং তৃপ্তি নিয়েই আমি সরে দাঁড়াচ্ছি।”
বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর একের পর এক কোচের পদত্যাগ আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সামনে উরুগুয়ের বড় চ্যালেঞ্জ
Marcelo Bielsa Resigns-এর পর এখন উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সবচেয়ে বড় কাজ হবে নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ করা। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠন, তরুণ ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়া এবং নতুন কৌশল নির্ধারণ এখন তাদের অগ্রাধিকার।
সমর্থকরাও চাইছেন, সাম্প্রতিক ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উরুগুয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াক। নতুন কোচের অধীনে দল কতটা দ্রুত নিজেদের হারানো ছন্দ ফিরে পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
No Comment! Be the first one.