সকাল সকাল ডেস্ক
Adani Health City প্রকল্পে নিউ টাউনে আসছে ১,০০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও গবেষণা কেন্দ্র; Mayo Clinic-এর কৌশলগত সহযোগিতা
রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয়। Adani Health City প্রকল্পের মাধ্যমে কলকাতার নিউ টাউনে ১,০০০ শয্যার অত্যাধুনিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ এবং গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে আদানি গোষ্ঠী। নবান্ন সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানির বৈঠকে এই প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বাস্তবায়িত হলে Adani Health City পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।
Adani Health City-তে ১,০০০ বেডের আধুনিক হাসপাতাল
প্রস্তাবিত Adani Health City-তে থাকবে ১,০০০ শয্যার মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। এর মধ্যে ৫০০টি বেড মধ্যবিত্ত ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৫০০টি বেড আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা-সহ সাধারণ ও বিদেশি রোগীদের জন্য উপলব্ধ থাকবে।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু উন্নত চিকিৎসা নয়, বরং বিশ্বমানের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা।
Mayo Clinic-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল বিশ্বের অন্যতম সেরা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান Mayo Clinic-এর সহযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাভিত্তিক এই অলাভজনক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হৃদরোগ, ক্যানসার, নিউরোলজি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, অর্থোপেডিকস, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এবং বিরল রোগের চিকিৎসায় আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত।
আদানি গোষ্ঠীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, Mayo Clinic হাসপাতালের সাংগঠনিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল প্রোটোকল, ডিজিটাল হেলথ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোগী পরিষেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কৌশলগত পরামর্শ দেবে। ফলে কলকাতার প্রস্তাবিত Adani Health City আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মেডিক্যাল কলেজ ও গবেষণার নতুন কেন্দ্র
হাসপাতালের পাশাপাশি এই প্রকল্পে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রতি বছর ১৫০ জন এমবিবিএস শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন।

এছাড়াও থাকবে AI-ভিত্তিক গবেষণাগার, বায়োমেডিক্যাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ইউনিট, ৮০-র বেশি রেসিডেন্ট চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ এবং ৪০-র বেশি ফেলোশিপ প্রোগ্রাম। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণাতেও নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু রোগী জটিল চিকিৎসার জন্য চেন্নাই, বেঙ্গালুরু বা মুম্বইয়ে যেতে বাধ্য হন। Adani Health City বাস্তবায়িত হলে কলকাতাই পূর্ব ভারতের অন্যতম আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
এছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের রোগীরাও উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতাকে বেছে নিতে পারবেন। এতে মেডিক্যাল ট্যুরিজম, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
সরকারি অবস্থান
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে নিউ টাউনে উপযুক্ত জমি বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর নির্মাণের সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম খরচে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নতুন মেডিক্যাল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণের ফলে কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবার জন্য দেশের অন্য শহরে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমতে পারে।
No Comment! Be the first one.