ডঃ হেডগেওয়ার, ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি এবং বাংলা : ঐতিহাসিক সংযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক ডঃ পঙ্কজ জগন্নাথ জয়সওয়াল সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলার বিধানসভা নির্বাচন কেবল বিজেপির আরেকটি জয় ছিল না, বরং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিরোধীদের জন্য একটি বড় পরাজয়ও ছিল। এই নির্বাচন কেবল পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলার মানুষ, বিশেষ করে হিন্দুরা, সেই রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যের জন্য প্রশংসার দাবিদার যারা রাজ্যের অখণ্ডতার সাথে আপস করেছে। এই পরিবর্তন জনসংঘের সময় থেকেই রা.স্ব. সংঘ এবং বিজেপির প্রচেষ্টার ফল। কয়েক দশক ধরে করা বড় কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। পশ্চিমবঙ্গ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে সম্পর্ক আজকের রাজনৈতিক পরিবেশে সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্ক সরাসরি সংঘের গঠন এবং জনসংঘের ভিত্তি স্থাপনের আগের সময় থেকে জড়িত। ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের বৈचारिक চিন্তাভাবনা এবং পরবর্তীতে ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির রাজনৈতিক ভূমিকা, উভয়ই পশ্চিমবঙ্গের সাথে যুক্ত ছিল। ১৯১০ সালে যখন তরুণ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার চিকিৎসার পড়াশোনার জন্য কলকাতা (এখন কলকাতা) যান, তখন বাংলা ভারতে বিপ্লবী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল। ডঃ হেডগেওয়ার দেশপ্রেমের চেতনায় ভরপুর ছিলেন, তাই কলকাতা যাওয়ার পর তিনি সেখানকার বিখ্যাত বিপ্লবী সংগঠন ‘অনুশীলন সমিতি’-র সরাসরি সংস্পর্শে আসেন। কলকাতা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময়, তিনি কেবল চিকিৎসার পড়াশোনাই করেননি, বরং সেই সময়ের প্রধান বিপ্লবীদের সাথে দেশ সেবার কাজেও জড়িত ছিলেন। তিনি বিপিন চন্দ্র পাল, পুলিন বিহারী দাস এবং রাস বিহারী বোস-এর মতো নেতাদের विचारों দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। সেই সময়, তিনি বিপ্লবের অনেক গোপন কার্যকলাপে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন। কলকাতার মাটি থেকে ডঃ হেডগেওয়ারের প্রাপ্ত সাংগঠনিক অনুপ্রেরণা এবং ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি দ্বারা রোপিত জনসংঘের বীজ এই ইতিহাসের প্রথম অংশ। তবে, পরবর্তী সময়ে এই ধারণাগুলি বাংলার মাটিতে কীভাবে তাদের দখল মজবুত করেছিল এবং বাম-তৃণমূলের কঠিন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিজেপি সেখানে যে রাজনৈতিক জয় অর্জন করেছিল, তা আধুনিক ভারতের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। কংগ্রেসের তুষ্টিকরণের রাজনীতি: খিলাফত আন্দোলনের সময় কংগ্রেসের ভূমিকা এবং মুসলিম তুষ্টিকরণের সূচনা ডঃ হেডগেওয়ারকে বিচলিত করেছিল। তিনি মনে করতেন যে সমাজের অভ্যন্তরীণ ত্রুটিগুলি, যেমন জাতি-বৈষম্য এবং দুর্বলতা দূর না করে জাতি মজবুতভাবে দাঁড়াতে পারে না। সংঘের প্রতিষ্ঠা (১৯২৫): এই ভেবে যে “স্বাধীনতা পাওয়া যতটা জরুরি, তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সমাজে শৃঙ্খলা, চরিত্র এবং সংগঠনও ততটাই জরুরি,” তিনি বিপ্লবী পথ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে এগিয়ে যান এবং ১৯২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর (বিজয়া দশমী) নাগপুরে ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বাংলায় প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা এবং বৈचारिक মন্থনের ফল ছিল। সংঘ গঠনের কয়েক দশক পর, বাংলা আবারও এই মতাদর্শের সাথে মজবুতভাবে যুক্ত হয় এবং সেই নামটি ছিল ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে তরুণ উপাচার্য এবং কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা ডঃ মুখার্জি বাংলার বিভাজনের সময় হিন্দুদের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি নেহরুর প্রথম মন্ত্রিসভায় শিল্পমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নেহরু-লিয়াকত চুক্তি এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল) এর বিরোধিতায় তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। সেই সময়, তার একটি রাজনৈতিক বিকল্পের প্রয়োজন ছিল যা সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের পক্ষে কথা বলবে। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের তৎকালীন সরসংঘচালক শ্রী গুরুজি (মাধব সদাশিব গোলওয়ালকর) এর সাথে কথা বলেন। সংঘ ডঃ মুখার্জিকে সাহায্য করার জন্য তার কিছু প্রধান স্বয়ংসেবক, যাদের মধ্যে অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদবানি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাদের পাঠান। কাশ্মীরের সম্পূর্ণ বিলয়ের জন্য ডঃ মুখার্জির এই ঘোষণা ‘এক দেশে দুই প্রধান, দুই বিধান এবং দুই নিশান হবে না’ ভারতীয় রাজনীতিকে একটি নতুন দিক দিয়েছিল। কাশ্মীরে আন্দোলনের সময় তার রহস্যময় মৃত্যু সারা দেশে জাতীয়তাবাদের একটি जबरदस्त ঢেউ তৈরি করে। ১৯৪৭ সালের বিভাজনের পর, পূর্ব পাকিস্তান (এখন বাংলাদেশ) থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু শরণার্থী পশ্চিমবঙ্গে আসে। সেই অত্যন্ত কঠিন সময়ে, RSS স্বয়ংসেবকরা সীমান্তে এবং কলকাতার ক্যাম্পগুলিতে ত্রাণ শিবির শুরু করে। সাংস্কৃতিক সংযোগ: যদিও বামপন্থার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে বাংলায় খোলাখুলি কাজ করা কঠিন ছিল,”””তবুও সংঘ শিক্ষা ও সেবার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সংঘ শান্তিপূর্ণভাবে বাংলাকে ‘বস্তু পূজক’ থেকে ‘ভারত মাতা পূজক’-এ পরিণত করার কাজ চালিয়ে গেছে। বাংলায় পূজিত ‘শক্তি’ (দুর্গাপূজা) এবং সংঘের ‘রাষ্ট্র শক্তি’-এর মধ্যে সম্পর্ক মানুষের মনে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। 21 অক্টোবর 1951-এ ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ‘ভারতীয় জনসংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজকের ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’-এর পূর্বসূরি সংগঠন। জনসংঘের প্রথম জাতীয় সভাপতি একজন বাঙালি ব্যক্তি ছিলেন; এই ইতিহাস ভোলা যায় না। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির আত্মত্যাগের পরেও বাংলায় জনসংঘের অস্তিত্ব বজায় ছিল। হরিভাউ গোডবোলে এবং অধ্যাপক হরিপদ ভারতীর মতো নেতারা কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁদের আদর্শ ধরে রেখেছিলেন। যদিও, 1977 সালের পর বাংলায় 34 বছর ধরে বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। এই সময়ে সংঘ এবং বিজেপি কর্মীদের অত্যন্ত হিংসাত্মক রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। অনেক কর্মী তাঁদের জীবন হারিয়েছেন কিন্তু তাঁরা তাঁদের আদর্শ ত্যাগ করেননি। 2011 সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বামপন্থীদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। তবে, এর পরে বাংলায় শুরু হওয়া ‘তোষণ নীতি’ এবং বিজেপি-সংঘের সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে (যেমন রামনবমী মিছিল) আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি বাংলার মূল ‘ভদ্রলোক’ (শিক্ষিত মধ্যবিত্ত) এবং গ্রামীণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করতে শুরু করে। যে বাংলা ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন-গণ-মন’ দিয়েছে, সেখানে এই অনুভূতি গেঁথে গিয়েছিল যে জাতীয় পরিচয় দুর্বল করা হচ্ছে। এই ভিত্তিতে বিজেপি বাংলার জনগণকে দেশজুড়ে এবং এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতে তাদের আদর্শিক কাঠামো এবং উন্নয়নমূলক কাজ দেখিয়ে নিজেদেরকে শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 2014 সালের পর, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তৎকালীন সভাপতি অমিত শাহ – বাংলার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন। তাঁরা গর্বের সাথে বাংলার পরিচয় অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির ঐতিহ্যকে পুনরাবৃত্তি করেন। আজ যখন আমরা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এবং সংঘ পরিবারের বিস্তার দেখি, তখন এটি কেবল একটি অস্থায়ী রাজনৈতিক লাভ নয় বরং এর পেছনে একটি শক্তিশালী ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গই সেই ভূমি যেখানে যৌবনে ড. হেডগেওয়ারের আদর্শিক চিন্তাভাবনা বিকশিত হয়েছিল এবং এখান থেকেই ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির রূপে জনসংঘের জন্ম হয়েছিল। তাই, সংঘ এবং বিজেপির ইতিহাসের সুতো বাংলার মাটির সাথে চিরকালের জন্য জড়িয়ে আছে। (লেখক, স্বাধীন মন্তব্যকারী।)
হার্দিককে অধিনায়ক করতে মরিয়া কেকেআর! রাহানের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা আইপিএল ২০২৬ মরশুম শেষ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। তবে পরবর্তী সংস্করণকে সামনে রেখে এখন থেকেই দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি। এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আর সেই দৌড়ে এবার জোরালোভাবে উঠে এসেছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের নাম। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী মরশুমের জন্য হার্দিককে দলে টানতে আগ্রহী কেকেআর। শুধু দলে নেওয়াই নয়, তাঁকে অধিনায়কের দায়িত্বও দিতে চায় নাইট শিবির। গত দুই মরশুমে অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় নেতৃত্বে পরিবর্তনের ভাবনা শুরু করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিএল শেষ হওয়ার পর থেকেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে কেকেআর। দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। যদিও বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। নাইট শিবিরের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের দাবি, অজিঙ্ক রাহানেকে দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়ক হিসেবে ভাবা হয়নি। তিনি মূলত অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। সেই কারণেই নতুন মরশুমের আগে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হার্দিকের মতো অভিজ্ঞ ও সফল অধিনায়ককে সামনে রেখে ভবিষ্যতের দল গড়ার চিন্তাভাবনা করছে কেকেআর। এছাড়াও জানা গেছে, হার্দিককে দলে নেওয়ার জন্য অল-ক্যাশ ট্রেডের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে কলকাতা। তবে শুধুমাত্র নগদ অর্থের বিনিময়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এই ট্রেডে রাজি হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সূত্রের খবর, মুম্বইয়ের নজরে রয়েছে কেকেআরের কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারও। বিশেষ করে অঙ্গকৃষ রঘুবংশী এবং রামনদীপ সিংয়ের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। তবু হার্দিক পান্ডিয়াকে ঘিরে যে আগামী ট্রান্সফার উইন্ডোতে বড়সড় লড়াই হতে চলেছে, তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে কোনও সন্দেহ নেই। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মুম্বই ইন্ডিয়ান্স হার্দিককে ছাড়তে রাজি হয় কি না এবং কেকেআর তাঁদের অন্যতম বড় লক্ষ্য পূরণ করতে পারে কি না। আগামী আইপিএলের আগে এই ট্রেড-গাথাই যে ক্রিকেটপ্রেমীদের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।
ঘানার রক্ষণে আটকে গেল ইংল্যান্ড, গোলশূন্য ড্রয়ে বাড়ল সমীকরণের জট
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে চার গোলের দুরন্ত জয় তুলে নিয়ে নিজেদের অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে এসে সেই ছন্দের দেখা মিলল না। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ঘানার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখেও গোলের দেখা পেল না টমাস টুখেলের দল। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইংলিশদের। এই ড্রয়ের ফলে দুই ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড ও ঘানা উভয়েরই সংগ্রহ চার পয়েন্ট। নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনও উজ্জ্বল থাকলেও গ্রুপের শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াই আরও জমে উঠেছে। বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে যে আক্রমণাত্মক ও ধারালো ফুটবল ইংল্যান্ড উপহার দিয়েছিল, ঘানার বিপক্ষে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ম্যাচের পরিসংখ্যান অবশ্য ইংল্যান্ডের পক্ষেই কথা বলছে। পুরো ম্যাচে তারা ১৯টি শট নিয়েছে, যেখানে ঘানার শট ছিল মাত্র দুটি। তবে সংখ্যার আধিপত্য গোল এনে দেয়নি। ঘানার সুশৃঙ্খল ও ঘন রক্ষণভাগ ইংল্যান্ডের অধিকাংশ আক্রমণ ভেস্তে দেয়। বক্সের আশপাশে পৌঁছেও কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে হতাশ হতে হয় হ্যারি কেনদের। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে ঘানার ডিফেন্স। ফলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১০-এই আটকে থাকে। ডান প্রান্তে ননি মাদুয়েকে এবং বাঁদিকে অ্যান্টনি গর্ডনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে বুকায়ো সাকা ও অন্যান্য পরিবর্ত খেলোয়াড়দের নামানো হলেও ম্যাচের গতিপথ বদলায়নি। ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারের পারফরম্যান্সও ছিল প্রশংসনীয়। প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগি চোট পাওয়ায় সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। যদিও ইংল্যান্ড তাঁকে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেনি। ডেকলান রাইসের একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। পরে গর্ডনের শট এবং সাকার নিচু প্রচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন আসারে। ম্যাচের সেরা সুযোগটি আসে নিকো ও’রাইলির হেড থেকে, কিন্তু বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধে বিতর্কও তৈরি হয়। ঘানার প্রিন্স আদুর সঙ্গে ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের সংঘর্ষ নিয়ে পেনাল্টির দাবি ওঠে। রিপ্লেতে দেখা গেলেও রেফারি ঘানার আবেদন নাকচ করে উল্টো ইংল্যান্ডের পক্ষে ফ্রি-কিক দেন। পরে আদু আরও একবার ইংল্যান্ড রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ালেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এই ফল ঘানার জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের। নতুন কোচ কার্লোস কুইরোজের অধীনে তারা টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ইতিবাচক ফল পেল। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সামনে রয়ে গেল কিছু প্রশ্ন। বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু বলের দখল নয়, গোল করার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে শেষ ম্যাচের আগে এখনও সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছে ইংল্যান্ড।
কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ বত্রিশে কলম্বিয়া, গ্রুপ শীর্ষে উঠে বাড়াল পর্তুগালের চাপ
সকাল সকাল ডেস্ক খেলার পরিসংখ্যান একরকম গল্প বলছে, স্কোরলাইন বলছে আরেক গল্প। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল কলম্বিয়ার। তবু কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৭৬ মিনিট পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত ড্যানিয়েল মুনোজের একটি ডিফ্লেক্টেড শটই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ডিআর কঙ্গোকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘কে’-র শীর্ষে উঠে এসেছে নেস্তর লরেঞ্জোর দল। ফলে শেষ ম্যাচে পর্তুগালের বিরুদ্ধে একটি ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পৌঁছে যাবে তারা। অন্যদিকে, গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করতে হলে এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে জিততেই হবে। ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল না এলেও মাঠে কলম্বিয়ার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বলের দখল থেকে শুরু করে পাসিং এবং আকাশপথের লড়াই—সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। প্রথম ৪৫ মিনিটে তারা ১৪টি শট নেয়, যেখানে ডিআর কঙ্গোর শট ছিল মাত্র দুটি। কিন্তু গোলের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। ম্যাচের শুরুতেই একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে কলম্বিয়াকে হতাশ করেন তিনি। প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই পাঁচটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দেন এমপাসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৯৮ সালের পর কোনও গোলরক্ষকের ম্যাচের শুরুতে এত দ্রুত পাঁচটি সেভ করার নজির খুব কমই দেখা গেছে। তবে এমপাসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতাও চোখে পড়ার মতো ছিল। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ড্যানিয়েল মুনোজ সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন। ফাঁকা পোস্ট সামনে পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। মাঝমাঠে হামেস রদ্রিগেস বারবার আক্রমণ সাজালেও শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা মিলছিল না। অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গোও লড়াই ছেড়ে দেয়নি। পাঁচজনের রক্ষণভাগ এবং সংগঠিত মিডফিল্ড নিয়ে তারা দীর্ঘ সময় কলম্বিয়ার আক্রমণ সামাল দেয়। যদিও জয়ের মতো বড় সুযোগ খুব একটা তৈরি করতে পারেনি, তবু ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রেখেছিল আফ্রিকার দলটি। ৭৬ মিনিটে অবশেষে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। জন কর্দোবার প্রচেষ্টার পর বল গড়িয়ে আসে মুনোজের সামনে। তাঁর নেওয়া শট ডিফেন্ডার স্টিভ কাপুয়াদির পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক এমপাসিও ভুল দিকে ঝাঁপ দেওয়ায় আর রক্ষা করতে পারেননি। শেষদিকে লুইস দিয়াস দু’বার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে দুটি গোলই বাতিল হয়। অতিরিক্ত সময়ে কঙ্গোর নাথানায়েল এমবুকুর জোরালো শটও রুখে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া। নকআউট নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রুপের শীর্ষস্থানও ধরে রাখে তারা। ফলে শেষ ম্যাচের আগে এখন চাপটা পুরোপুরি পর্তুগালের কাঁধে।
পেনাল্টি শুটআউটের আগে বড় বদলের ভাবনা ফিফার, কয়েন টসে আসতে পারে নতুন নিয়ম
সকাল সকাল ডেস্ক জুরিখ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার আগেই পেনাল্টি শুটআউটের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে ফিফা। টাইব্রেকারের আগে বর্তমানে যে দু’বার কয়েন টস করা হয়, তা কমিয়ে একবারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম নির্ধারণকারী সংস্থা আইএফএবি-র অনুমোদন প্রয়োজন। ফিফার আশা, নকআউট পর্ব শুরুর আগেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পেনাল্টি শুটআউটের আগে রেফারিকে দু’বার কয়েন টস করতে হয়। প্রথম টসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় কোন দল আগে শট নেবে। দ্বিতীয় টসে ঠিক হয় মাঠের কোন প্রান্তে শুটআউট অনুষ্ঠিত হবে। বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই নিয়মই অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে ফিফার নতুন প্রস্তাবে পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও দ্রুত করার কথা বলা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কয়েন টসে জয়ী দল দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারবে। তারা হয় আগে বা পরে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, অথবা কোন প্রান্তে শুটআউট হবে তা নির্ধারণ করবে। বাকি সিদ্ধান্তটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিপক্ষ দলের হাতে চলে যাবে। এর ফলে আর দ্বিতীয়বার কয়েন টসের প্রয়োজন হবে না। ফিফার মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সময় বাঁচবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে কোনও দল একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাবে না। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছিল, যেখানে একটি দল দুই টসেই জয়ী হয়ে আগে শট নেওয়া এবং পছন্দের প্রান্ত বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ফিফার মতে, নতুন নিয়ম চালু হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে। তবে প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত নয়। আইএফএবি অনুমোদন দিলে তবেই নিয়ম পরিবর্তন কার্যকর হবে। এছাড়া নতুন নীতি শুধু বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও ক্লাব প্রতিযোগিতাতেও বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়েও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এখন ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে আইএফএবি-র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য। অনুমোদন মিললে পেনাল্টি শুটআউটের আগে কয়েন টসের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
লেকটাউন থেকে পাটাগোনিয়া, মেসির মূর্তিতে নতুন বিশ্বরেকর্ড! ৮৫ ফুট উচ্চতায় নজির আর্জেন্তিনার
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতার লেকটাউনে স্থাপিত ৭০ ফুট উচ্চতার লিওনেল মেসির মূর্তি একসময় ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সম্প্রতি সেই মূর্তিটি ক্রেনের সাহায্যে নামিয়ে ফেলা হয়। এতে অনেক মেসিভক্তের মন খারাপ হলেও সেই হতাশা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ, কলকাতার মূর্তি নামার অল্প সময়ের মধ্যেই আর্জেন্তিনার পাটাগোনিয়া অঞ্চলে উন্মোচিত হয়েছে আরও বৃহৎ এক মেসি-মূর্তি, যার উচ্চতা ৮৫ ফুট। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মেসি-মূর্তির স্বীকৃতি এখন আর্জেন্তিনার দখলে। পাটাগোনিয়ার তেলসমৃদ্ধ শহর কুত্রাল কো-তে ১৬ জুন এই বিশাল ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়। আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ অভিযানের সূচনাদিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয় মূর্তিটি। প্রায় ৭০ টন ইস্পাত দিয়ে তৈরি এই শিল্পকর্মের উচ্চতা সাড়ে ২৫ মিটার বা প্রায় ৮৫ ফুট। ভাস্কর ৬১ বছর বয়সি আলদো বেরোইসা স্বীকার করেছেন, মূর্তিটি হয়তো শতভাগ মেসির মুখাবয়বের সঙ্গে মেলে না, তবে আকারের দিক থেকে এটিই এখন বিশ্বের বৃহত্তম মেসি-মূর্তি। এই ভাস্কর্যের বিশেষত্ব শুধু উচ্চতায় নয়, এর ভঙ্গিমাতেও। এখানে মেসিকে দাঁড়িয়ে নয়, হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্তিনার জয়ের পর লুসাইল স্টেডিয়ামে মেসির সেই আবেগঘন মুহূর্তকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এক হাতে জার্সি আঁকড়ে ধরা এবং অন্য হাতের তর্জনী আকাশের দিকে তোলা—যা ছিল তাঁর প্রয়াত দিদিমার প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। ভাস্কর আলদো বেরোইসা জানান, এই মূর্তি নির্মাণে তাঁর প্রায় ১৮ মাস সময় লেগেছে। তাঁর মতে, মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আর্জেন্তিনার পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। তাই এই কাজ তাঁর কাছে শিল্পচর্চার পাশাপাশি জাতীয় গর্বের বিষয়ও। এদিকে কলকাতার লেকটাউনের মূর্তিটি ধ্বংস করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেটিকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে। যদিও উচ্চতার বিশ্বরেকর্ড আর কলকাতার দখলে নেই, তবু ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে সেই মূর্তির গুরুত্ব অটুট রয়েছে। মেসিকে ঘিরে উন্মাদনা বিশ্বজুড়েই অব্যাহত। মাঠে তাঁর সাফল্য যেমন আলোচনায়, তেমনই মূর্তি, ম্যুরাল ও স্মারকের মাধ্যমে ভক্তদের হৃদয়ে তিনি ক্রমেই আরও বড় হয়ে উঠছেন।
আইপিএলে মেগা ট্রেড! দিল্লিতে ফিরলেন পন্থ, লখনৌয়ে যোগ দিলেন কুলদীপ
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বাই আইপিএলের অন্যতম বড় ট্রেড ডিলের সাক্ষী থাকল ক্রিকেটবিশ্ব। বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, আর মঙ্গলবার সেই জল্পনাই বাস্তবে পরিণত হলো। ভারতের তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পন্থ লখনৌ সুপার জায়ান্টস ছেড়ে ফিরে গেলেন তাঁর পুরোনো দল দিল্লি ক্যাপিটালসে। অন্যদিকে দিল্লির অন্যতম সেরা স্পিনার কুলদীপ যাদব যোগ দিলেন লখনৌ সুপার জায়ান্টসে। ২০১৬ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সিতেই আইপিএলে অভিষেক হয়েছিল ঋষভ পন্থের। দীর্ঘ নয় বছর দলের হয়ে খেলেছেন তিনি এবং ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্বও সামলেছেন। তবে নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে ২০২৫ মরশুমের আগে দিল্লি ছেড়ে লখনৌ সুপার জায়ান্টসে যোগ দেন। ২৭ কোটি টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু লখনৌ অধ্যায়টা প্রত্যাশামতো সফল হয়নি। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা ছিল না, বিভিন্ন ব্যাটিং পজিশনে সুযোগ পেলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। অধিনায়ক হিসেবেও দলকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিতে পারেননি। ফলে মাত্র দুই মরশুমের মধ্যেই ফের পুরোনো ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন পন্থ। তবে এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে রয়েছে বড় আর্থিক পরিবর্তনও। লখনৌয়ে যেখানে তিনি বছরে ২৭ কোটি টাকা পেতেন, সেখানে দিল্লি ক্যাপিটালসে ফিরে তাঁর পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি টাকার বেতন কমিয়ে পুরোনো দলে ফিরেছেন ভারতীয় তারকা। অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে গত কয়েক বছরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন কুলদীপ যাদব। ২০২২ সালে দলে যোগ দেওয়ার পর ৬৫ ম্যাচে ৭২ উইকেট তুলে নিজেকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দলেরও অন্যতম ভরসার নাম তিনি। এবার নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে লখনৌ সুপার জায়ান্টসে যোগ দিচ্ছেন কুলদীপ। দিল্লিতে তিনি বছরে ১৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। নতুন দলে সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।এই ট্রেডের ফলে দুই দলই নিজেদের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনল। দিল্লি ফিরে পেল তাদের প্রাক্তন অধিনায়ক ও তারকা ব্যাটারকে, আর লখনৌ শক্তিশালী করল তাদের স্পিন আক্রমণ। এখন দেখার, নতুন পরিবেশে কুলদীপ কতটা সফল হন এবং পুরোনো দলে ফিরে ঋষভ পন্থ আবার তাঁর সেরা ছন্দ খুঁজে পান কি না।
হালান্ডের জোড়া গোলের ঝড়! সেনেগালকে হারিয়ে শেষ বত্রিশে নরওয়ে
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার খেলতে নেমেই গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন আর্লিং হালান্ড। দুই ম্যাচে চার গোল, টানা দুইবার ম্যাচসেরা এবং দলের নকআউট নিশ্চিতকরণ—সব মিলিয়ে নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত নাম। তাঁর জোড়া গোলের সৌজন্যে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের স্কোরলাইন যতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে হয়, বাস্তবে নরওয়ের আধিপত্য ছিল অনেক বেশি। সেনেগাল দু’বার ব্যবধান কমালেও ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নিয়ন্ত্রণ ছিল স্টালে সোলবাক্কেনের দলের হাতেই। প্রথমার্ধে খেলা ছিল কিছুটা এলোমেলো। তবে ৪৩ মিনিটে সেনেগাল অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির ভুল থেকে এগিয়ে যায় নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ডের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল জায়গায় বল পৌঁছে দেন তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন মার্কাস পেডারসেন। বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেই গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এই ডিফেন্ডার। বিরতির পর মাঠে নেমেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে শুরু করেন হালান্ড। ৪৮ মিনিটে ওডেগার্ডের দুর্দান্ত থ্রু-পাস ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এই গোলের সুবাদে নরওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের নামে করে নেন ২৫ বছর বয়সি তারকা। ৫৩ মিনিটে ইসমাইলা সার গোল করে সেনেগালকে কিছুটা আশা দেখান। কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। মাত্র পাঁচ মিনিট পর প্যাট্রিক বার্গের পাস থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হালান্ড। বল ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে পড়ে, আর কার্যত সেখানেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। হালান্ডের ধারাবাহিকতা এখন অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। টানা ১২টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই জোড়া গোল করে তিনি গত পাঁচ দশকের অন্যতম বিরল কীর্তির মালিক হয়েছেন। ম্যাচের শেষদিকে সেনেগাল অবশ্য লড়াই চালিয়ে যায়। সংযোজিত সময়ে সার নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর সুযোগও এসেছিল তাঁর সামনে, কিন্তু হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আফ্রিকান দলটি।দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে নরওয়ে এখন শেষ বত্রিশে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। সেই ম্যাচে মুখোমুখি হবেন বিশ্বকাপের দুই দুর্ধর্ষ গোলদাতা—আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য যা হতে চলেছে এক মহারণ।
গিনেস রেকর্ডে মেসির ঝড়! এক ম্যাচেই চার বিশ্বরেকর্ড, ইতিহাস নতুন করে লিখছেন লিও
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়া লিওনেল মেসির কাছে নতুন কিছু নয়। তবে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ২-০ জয়ের ম্যাচটি তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। কারণ এই এক ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের চারটি বড় রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সেই কীর্তির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন মেসি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেন এই মহাতারকা। এর আগে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুটি গোল করে সেই রেকর্ড পেরিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে পৌঁছে দেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনও ফুটবলারের এত গোল নেই। শুধু গোলের রেকর্ড নয়, আরও তিনটি বিভাগেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৮টি জয়ের মালিকও এখন মেসি। মাঠে কাটানো সময়ের হিসেবেও তিনি সবার উপরে। বিশ্বকাপে মোট ২,৪৮৯ মিনিট খেলে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃত চারটি নতুন রেকর্ড:• বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল – ১৮• বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ – ২৮• বিশ্বকাপে সর্বাধিক জয় – ১৮• বিশ্বকাপে সর্বাধিক মিনিট মাঠে থাকা – ২,৪৮৯ তবে ম্যাচের শুরুটা মেসির জন্য সুখকর ছিল না। নবম মিনিটে ভিএআরের সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি মিস করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় পেনাল্টি ব্যর্থতা। কিন্তু সেই হতাশা দ্রুত কাটিয়ে উঠে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “এই জয় আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন ম্যাচ ছিল, তবে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে ওঠা স্বস্তিদায়ক।” সতীর্থ হুলিয়ান আলভারেসও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন অধিনায়ককে। তাঁর মতে, “লিও শুধু এই সময়ের নয়, ইতিহাসেরও সেরা ফুটবলার।” ৩৯ বছর বয়সেও মেসি যেন থামার নাম নিচ্ছেন না। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাস নতুন করে লিখে চলেছেন।
মেসি-এমবাপে-হালান্ডের ত্রিমুখী লড়াই! বিশ্বকাপে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের মহারণ
সকাল সকাল ডেস্ক নিউ ইয়র্ক ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মাত্র দুই রাউন্ড শেষ হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। শুধু জমে ওঠাই নয়, পরিসংখ্যান বলছে, এবারের প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোলস্কোরিং দ্বৈরথে পরিণত হতে পারে। কারণ শীর্ষে থাকা তিন তারকার পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছেন। তাঁর ঠিক পিছনেই রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। দু’জনেরই ঝুলিতে রয়েছে চারটি করে গোল। ফলে বিশ্বসেরাদের এই লড়াই এখন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে তিনজন ফুটবলারের চার বা তার বেশি গোল করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগে এমন নজির দেখা গিয়েছিল ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। দীর্ঘ ৭২ বছর পর আবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। আর তার কেন্দ্রে রয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের তিন মহাতারকা। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচে দলের করা পাঁচটি গোলই এসেছে তাঁর পা থেকে। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ১৮, যা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন এমবাপে। নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা ১৬-তে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। এতে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান ফরাসি অধিনায়ক। তাঁর মতে, মেসির সঙ্গে তুলনা নয়, বরং দলের জন্য অবদান রাখাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। হালান্ডও পিছিয়ে নেই। সেনেগালের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নরওয়েকে শেষ বত্রিশে তুলেছেন তিনি। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই দুটি করে গোল করেছেন এই গোলমেশিন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর পরিসংখ্যান আরও চমকপ্রদ—৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তাঁকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনও রয়েছেন এই দৌড়ে। বর্তমানে তাঁর গোলসংখ্যা দুই। ঘানার বিরুদ্ধে গোল পেলে তিনিও শীর্ষ লড়াইয়ে আরও শক্তভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বাধিক ১৩ গোল করার রেকর্ড রয়েছে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেনের। ১৯৫৮ সালে গড়া সেই রেকর্ড এখনও অক্ষত। তবে মেসি, এমবাপে এবং হালান্ড যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে বহু দশকের সেই রেকর্ডও এবার হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলের এই মহারণ এখন ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।