বিশ্বকাপে মাতোয়ারা আমেরিকা, কিন্তু মাঠে নেই ট্রাম্প! বাড়ছে জল্পনা
সকাল সকাল ডেস্ক নিউ ইয়র্ক ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তিনি টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচে উপস্থিত থাকতে চান। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্স গঠনের সময় তিনি বলেছিলেন, “এটি বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসর, আমি অবশ্যই এর অংশ হতে চাই।” কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর পর ১১ দিনেরও বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও ম্যাচের গ্যালারিতে দেখা যায়নি ট্রাম্পকে। আর সেই কারণেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিশ্বকাপের আগে ফুটবল নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ ছিল প্রকাশ্য। কখনও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ভিসা নীতি নিয়ে মন্তব্য, কখনও ফিফার বিভিন্ন সিদ্ধান্তে মতামত—সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল তিনি এই টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চলেছেন। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠক হয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের মঞ্চেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ফলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, মার্কিন দলের ম্যাচে নিয়মিত উপস্থিত থাকবেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন ছবি। লস অ্যাঞ্জেলসে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচেও যাননি ট্রাম্প। যদিও ম্যাচের আগে জাতীয় দলের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো এবং অধিনায়ক টিম রিমকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তিনি দলের সাফল্য সম্পর্কে আশাবাদও ব্যক্ত করেছিলেন। ট্রাম্পের এই অনুপস্থিতির কোনও সরকারি ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, ১৪ জুন হোয়াইট হাউসে আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি ও একটি ইউএফসি ইভেন্টের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো তাঁর ব্যস্ত সূচিতে জায়গা পায়নি। যদিও ট্রাম্প মাঠে নেই, তাঁর প্রশাসন কিন্তু বিশ্বকাপ নিয়ে যথেষ্ট সক্রিয়। প্যারাগুয়েকে হারানোর পর হোয়াইট হাউসের সরকারি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়, “আমেরিকা! আমেরিকা! আমেরিকা!”। পরে আরেকটি পোস্টে লেখা হয়, “ফুটবল!!!”। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও মার্কিন দলের সাফল্য উদযাপন করে একাধিক পোস্ট করে। যদিও কিছু পোস্ট বিতর্কের মুখে পড়ে পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়েকে ৪-১ এবং অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে পচেত্তিনোর দল। প্রথম ম্যাচের টেলিভিশন সম্প্রচারই প্রায় ২ কোটি ৭৫ লক্ষ দর্শক টেনেছে, যা ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত। তাহলে ট্রাম্প কবে মাঠে দেখা দেবেন? হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি অবশ্য এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বকাপ যত এগোবে, ততই প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাড়বে। তবে ট্রাম্প নিজে কোন ম্যাচে হাজির হবেন, তা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে। আপাতত বিশ্বকাপের মাঠে নজর কেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল। আর মাঠের বাইরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—যিনি এখনও অনুপস্থিত থেকেও বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত চরিত্র।
এক থেকে একশো, সবার হৃদয়ে মেসি! আর্লিংটনে ধরা পড়ল ‘মেসি-ম্যানিয়া’র অনন্য ছবি
সকাল সকাল ডেস্ক আর্লিংটন ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির জাদু নতুন কিছু নয়। তবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ম্যাচে আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য, যা আরও একবার প্রমাণ করল—মেসির জনপ্রিয়তা বয়সের কোনও সীমারেখা মানে না। একদিকে মায়ের কোলে বসা একরত্তি শিশু, যার বয়স এখনও এক বছরও পূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে গ্যালারিতে উপস্থিত ১০০ বছরের এক বৃদ্ধা। দু’জনের জীবনের দূরত্ব প্রায় এক শতাব্দী, কিন্তু তাঁদের উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু একজনই—লিওনেল মেসি। ম্যাচ চলাকালীন সম্প্রচারকারী সংস্থার ক্যামেরা বারবার ঘুরে যায় দর্শকাসনের দিকে। সেখানে ধরা পড়ে এই দুই বিশেষ সমর্থকের ছবি। মুহূর্তের মধ্যে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ‘মেসি-ম্যানিয়া’র এই অনন্য রূপ। শতবর্ষী সমর্থক পলিন কানা, যিনি সামাজিক মাধ্যমে ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে পরিচিত, ছিলেন গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণ। ১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া পলিন নাতি রস স্মিথের সঙ্গে কৌতুকধর্মী ভিডিও তৈরি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নাম তুলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন মেসির একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবেও। ইন্টার মায়ামি থেকে আর্জেন্টিনা—মেসির প্রতিটি ম্যাচই নিয়মিত অনুসরণ করেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও নীল-সাদা জার্সি পরে হাজির ছিলেন স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে, গ্যালারির আরেক প্রান্তে দেখা যায় মায়ের কোলে বসা এক শিশু সমর্থককে। স্টেডিয়ামের প্রচণ্ড শব্দ থেকে রক্ষা করতে তার কানে পরানো হয়েছিল বড় হেডফোন। তবুও মাঠের দিকে ছিল তার কৌতূহলী দৃষ্টি। তবে দর্শকাসনের এই আবেগঘন ছবিগুলোকেও ছাপিয়ে ম্যাচের নায়ক ছিলেন মেসিই। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ জয়ে দুটি গোল করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। প্রথম গোলটি আসে ৩৮ মিনিটে, ফাকুন্দো মেদিনার পাস থেকে। যোগ করা সময়ে করেন দ্বিতীয় গোল। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও ছন্দ হারাননি তিনি। এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেন মেসি। তাঁর মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৮-তে। পেছনে পড়ে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজে। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই ১৮ গোলের মধ্যে ১১টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়স পার করার পর।এক শতবর্ষী বৃদ্ধা থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু—প্রজন্ম বদলায়, সময় বদলায়, কিন্তু মেসির প্রতি ভালোবাসা যেন একই থাকে।
জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেমের মহানায়ক ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি
যেখানে মুখার্জি বলিদান হয়েছিলেন, সেই কাশ্মীর আমাদের। সকাল সকাল ডেস্ক ইতিহাসের পাতায় কিছু নাম এমনভাবে খোদাই করা থাকে যা কোনো একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি ধারণা, একটি সংকল্প এবং একটি সমগ্র যুগের গল্প বলে। ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি এমনই একজন যুগপুরুষ ছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ দিবস কেবল একজন মহান নেতার স্মরণ নয়, বরং ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের সেই লক্ষ্যকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়, যার জন্য তিনি নিজের সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন। ড. মুখার্জির জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তাঁর পিতা স্যার আশুতোষ মুখার্জি দেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞ ছিলেন। শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বের ঝলক দেখা গিয়েছিল। শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক কীর্তি স্থাপন করে তিনি মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হন — যা আজও ভারতীয় শিক্ষা জগতে অতুলনীয় বলে বিবেচিত হয়। ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির দৃষ্টিতে রাজনীতি ক্ষমতার নয়, সেবার মাধ্যম ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির জীবন কেবল বৌদ্ধিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি জাতির চ্যালেঞ্জগুলো কাছ থেকে দেখেছিলেন এবং রাজনীতিকে ক্ষমতার নয়, সেবার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। যখন দেশ বিভাজনের ট্র্যাজেডির শিকার হচ্ছিল, তখন তিনি বাংলার লক্ষ লক্ষ হিন্দুর স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জন্য নির্ণায়ক সংগ্রাম করেছিলেন। যদি সেই সময়ে ড. মুখার্জি এই দৃঢ়তা না দেখাতেন, তাহলে আজ পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় অংশ ভারতের অঙ্গ থাকত না। পাঞ্জাবের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোকে ভারতে ধরে রাখতেও তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয় ছিল। দেশের শিল্পের ভিত্তি স্থাপনকারী প্রথম শিল্পমন্ত্রী ডাক্তার মুখার্জি স্বাধীনতা লাভের পরপরই দেশের শিল্পের রূপরেখা তৈরি করেন। HEC, দুর্গাপুর, রাউরকেলা, ভিলাই-এর মতো শিল্পনগরীগুলো তাঁর মস্তিষ্কেরই ফসল ছিল। প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী হিসেবে তিনি উল্লেখযোগ্য কাজ করেন। কিন্তু যখনই তিনি অনুভব করেন যে কিছু নীতি জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের নিরাপত্তার অনুকূল নয়, তখন তিনি ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে পদত্যাগ করেন। এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তাঁর কাছে পদ নয়, নীতিই ছিল সর্বাগ্রে। কংগ্রেসের ত্রুটিগুলো সময়মতো বুঝেছিলেন ড. মুখার্জি ড. মুখার্জি বিশ্বাস করতেন যে ভারতের এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োজন যা জাতীয় স্বার্থ, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনকল্যাণকে তার কেন্দ্রে রাখবে। এই সংকল্প নিয়েই তিনি ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি কেবল একটি দলের জন্ম ছিল না, বরং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ছিল। জনসংঘের মাধ্যমে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক দেশ, এক নিশান, এক বিধান আজ ভারতীয় জনতা পার্টি যে বিশাল রূপে দেশ-দুনিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তার আদর্শিক ভিত্তি ড. মুখার্জিই স্থাপন করেছিলেন। “রাষ্ট্র প্রথম, সংগঠন সর্বোপরে” যে মন্ত্র আজ বিজেপির পরিচয়, তার মূলে তাঁরই চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান। তাঁর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংগ্রাম ছিল জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ একীকরণ নিয়ে। স্বাধীনতার পর সেখানে যে বিশেষ ব্যবস্থা চালু ছিল, তা তিনি কখনোই মেনে নেননি। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা ছিল যে ভারত একটি রাষ্ট্র, এবং একটি রাষ্ট্রে দুটি সংবিধান, দুটি প্রধান এবং দুটি নিশান চলতে পারে না। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি দেশব্যাপী জনজাগরণ করেন এবং নিজে জম্মু-কাশ্মীর যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৫৩ সালের ১১ মে সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর এই আত্মত্যাগ জাতির অখণ্ডতার জন্য দেওয়া সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মধ্যে গণ্য হয়। তিনি তাঁর জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে জাতীয় স্বার্থের জন্য সংগ্রামকারী ব্যক্তি পরাজিত হয় না, — সে ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। ড. মুখার্জির স্বপ্ন ছিল যে জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হবে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয় যে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালে ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বাতিল করে তাঁর এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেছে। এটি কেবল একটি সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাঞ্জলিও ছিল। সমাজের বঞ্চিত শ্রেণীকে মূল স্রোতে আনার স্বপ্ন ড.”””মুখার্জি সামাজিক সমরসতা এবং বঞ্চিতদের উন্নতির প্রবল সমর্থক ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভারতের উন্নয়ন তখনই সার্থক যখন তার সুবিধা সমাজের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছায়। আজ “অন্ত্যোদয়” এবং “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস অর সবকা প্রয়াস” মন্ত্রে তারই আদর্শ এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তার রাজনীতি ক্ষমতা দখলের ছিল না, ছিল জাতি গঠনের রাজনীতি। তিনি ভারতকে কেবল একটি ভৌগোলিক সত্তা হিসেবে নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক জাতি হিসেবে দেখতেন – যার আত্মা তার সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে নিহিত। এই কারণেই তিনি ভারতীয়ত্ব রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্যকে তার জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানিয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস তার জীবন তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক অক্ষয় উৎস। তার সংগ্রাম শেখায় যে জাতির প্রতি উৎসর্গ, নীতির প্রতি নিষ্ঠা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অবিচল থাকার সাহসই প্রকৃত নেতৃত্বের মাপকাঠি। আজ যখন ভারত একটি উন্নত জাতি হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তার ধারণাগুলি আগের চেয়েও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। রাজনীতিতে ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির মতো সুপুত্র বিরলই জন্মায়। তার আত্মত্যাগ নিরর্থক হয়নি। আজ যদিও তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার দ্বারা রোপিত জাতীয়তাবাদের বীজ আজ বটবৃক্ষ হয়ে দেশবাসীকে ছায়া দিচ্ছে। একজন প্রখর জাতীয়তাবাদী হিসেবে তিনি সর্বদা দেশের প্রথম সারিতে থাকবেন। তার জীবন ক্ষমতা নয় বরং নীতির প্রতি নিবেদিত ছিল। তার আত্মত্যাগ আমাদের মাতৃভূমির জন্য বাঁচার অনুপ্রেরণা সর্বদা দেবে এবং তিনি সর্বদা ভারতীয় ইতিহাসের সোনালী পাতায় অমর থাকবেন। আসুন, আমরা সবাই তার আত্মত্যাগ দিবসের এই উপলক্ষে সংকল্প করি যে ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা, সাংস্কৃতিক গৌরব এবং দরিদ্র কল্যাণের জন্য তার দেখানো পথে চলে উন্নত ভারত গঠনে আমাদের অবদান রাখব। দ্রষ্টব্য:- এই নিবন্ধটি বিজেপি রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জির আত্মত্যাগ দিবসে লিখেছেন
পেলে-মেসির কাতারে ইয়ামাল, ১৮ বছরেই বিশ্বকাপে গড়লেন নতুন ইতিহাস
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে হতাশাজনক গোলশূন্য ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিল লামিন ইয়ামাল। আর মাঠে নেমেই কোচের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা। আটলান্টায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে স্পেন। সেই জয়ের নায়ক ১৮ বছরের ইয়ামাল। ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল করে তিনি স্পেনকে এগিয়ে দেন এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। ডান প্রান্ত থেকে আসা নিচু ক্রসে পিছনের পোস্টে দৌড়ে এসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বিশ্বকাপে এটাই তাঁর প্রথম গোল। ইয়ামালের গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন। পরে আরও তিনটি গোল করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে হারানো আত্মবিশ্বাসও ফিরে পায় লা রোহা। তবে শুধু গোলের জন্য নয়, ইতিহাস গড়ার কারণেও আলোচনায় উঠে এসেছেন ইয়ামাল। ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অষ্টম কনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে গেলেন। একই সঙ্গে ছাপিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে। মেসি ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে। অর্থাৎ মেসির চেয়ে ১৪ দিন কম বয়সে বিশ্বকাপের গোলের খাতা খুললেন স্প্যানিশ তারকা। পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার কম বয়সে বিশ্বকাপে নিজের দেশের হয়ে ম্যাচের প্রথম গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি। এর আগে এই নজির ছিল শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সে ওয়েলসের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন পেলে। চোটের কারণে বার্সেলোনার মরসুমের শেষভাগে মাঠের বাইরে থাকতে হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ইয়ামাল। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠছেন তিনি। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাঁর গোল শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক সুপারস্টারের আগমনের বার্তাও দিয়ে গেল।
হ্যারি কেনের ছন্দে বিশ্বকাপ স্বপ্নে ভাসছে ইংল্যান্ড
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস হ্যারি কেনকে এমন দুর্দান্ত ছন্দে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ কবে দেখা গিয়েছে, তা মনে করতে খুব বেশি পিছিয়ে যেতে হবে না। সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলিতে তিনি গোল পেলেও নিজের সেরাটা তুলে ধরতে পারেননি। ২০২৪ ইউরোয় পিঠের চোট নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন। স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়তে হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে মাত্র দু’টি গোল করেছিলেন, আর ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিসের স্মৃতি এখনও তাজা। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে যেন এক নতুন হ্যারি কেনকে দেখা যাচ্ছে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বলা হয়। শুধু গোল করাই নয়, পুরো ইংল্যান্ড আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি। আর এই রূপান্তরের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তাঁর ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের পরিকল্পনা ও যত্নশীল ব্যবস্থাপনার। দুই বছর আগে ইউরো শুরুর আগে চোটে ভুগছিলেন কেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যথা নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন, ফলে টুর্নামেন্টে পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে নামা সম্ভব হয়নি। এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোটা মরসুমে বড় কোনও চোট তাঁকে ভোগায়নি। ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর তিন বছরে মাত্র আটটি ম্যাচ মিস করেছেন তিনি। ফলে শারীরিকভাবে অনেক বেশি সতেজ অবস্থায় বিশ্বকাপে এসেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর খেলার ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন তিনি শুধুই বক্সের ভেতরে অপেক্ষা করা একজন স্ট্রাইকার নন। মাঝমাঠে নেমে খেলা গড়ে তোলা, বল বিতরণ করা এবং আক্রমণের ছন্দ তৈরি করাও তাঁর দায়িত্বের অংশ হয়ে উঠেছে। বায়ার্নে এই ভূমিকায় নিয়মিত খেলার ফলে ইংল্যান্ড দলের কৌশলেও তিনি সহজেই মানিয়ে নিয়েছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে বারবার দেখা গিয়েছে, কখনও ডিফেন্ডারদের কাছ থেকে বল নিচ্ছেন, কখনও মিডফিল্ডে নেমে আক্রমণ সাজাচ্ছেন। কেনের ফিটনেসের আরেকটি বড় কারণ ম্যাচের চাপ কমে যাওয়া। প্রিমিয়ার লিগে ৩৮ ম্যাচের দীর্ঘ মৌসুমের তুলনায় বুন্দেসলিগায় ম্যাচ সংখ্যা কম। পাশাপাশি শীতকালীন বিরতি ও মৌসুমের শেষ দিকে বিশ্রাম পাওয়ায় তাঁর শরীর আরও সতেজ থেকেছে। বায়ার্ন এপ্রিলেই লিগ নিশ্চিত করে ফেলায় কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি শেষ কয়েকটি ম্যাচে কেনকে সীমিত সময় খেলিয়েছেন, যা বিশ্বকাপের আগে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। ৩৩ বছরে পা দিতে চলেছেন হ্যারি কেন। সম্ভবত এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন এখনও অটুট। পার্থক্য শুধু একটাই—এবার তাঁর পাশে রয়েছে ফিট শরীর, দুর্দান্ত ছন্দ এবং সঠিক প্রস্তুতি। তাই প্রশ্ন উঠছেই, হ্যারি কেনের হাত ধরে কি সত্যিই ফুটবল আবার ‘ঘরে ফিরতে’ চলেছে?
স্পেনকে রুখে, উরুগুয়েকে আটকে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে কেপ ভার্দে
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস বিশ্বকাপ শুরুর আগে গ্রুপ ‘এইচ’-এর ছবি ছিল একেবারে পরিষ্কার। ফুটবলবিশ্বের ধারণা ছিল, স্পেন এবং উরুগুয়ে সহজেই নকআউট পর্বে পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় আর সম্মান রক্ষার মধ্যে। কিন্তু মাত্র দুই ম্যাচের মধ্যেই সেই সমস্ত হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া দলটি প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয়। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়েও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ২–২ সমতা আদায় করে সবাইকে চমকে দেয়। মাত্র ছ’লক্ষ জনসংখ্যার দেশটি এখন নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে, আর সেই স্বপ্ন আর কল্পনা নয়—বাস্তব সম্ভাবনা। দুই ম্যাচ শেষে স্পেন চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে এবং কার্যত শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে। কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ের পয়েন্ট সমান, দু’টি করে। তবে গোলসংখ্যা ও টাইব্রেকারের নিরিখে কেপ ভার্দে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সৌদি আরবের ঝুলিতে রয়েছে এক পয়েন্ট। এবার সব নজর ২৬ জুনের ম্যাচে। হিউস্টনে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। সমীকরণ খুবই সহজ—জিতলেই নিশ্চিত নকআউট। ড্র করলেও সম্ভাবনা থাকবে, তবে তখন স্পেন বনাম উরুগুয়ে ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। যদি উরুগুয়ে জয় না পায়, তাহলে কেপ ভার্দে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখে পরের পর্বে পৌঁছে যাবে। তবে হারলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। তখন গোলপার্থক্য, অন্যান্য গ্রুপের ফল এবং সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির তালিকার ওপর নির্ভর করতে হবে। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাটে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও শেষ বত্রিশে সুযোগ পায়। সবচেয়ে বেশি চাপ এখন উরুগুয়ের ওপর। তাদের শেষ ম্যাচ খেলতে হবে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল স্পেনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের সামনে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। তাই ইতিহাস গড়ার সুযোগ এখন পুরোপুরি তাদের হাতেই। প্রথম বিশ্বকাপেই যদি কেপ ভার্দে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে, তবে তা হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন এবং অনুপ্রেরণার গল্প।
কোহলির প্রত্যাবর্তন, বাদ বরুণ! ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে দলে একাধিক চমক বিসিসিআইয়ের
ইংল্যান্ড সফরের জন্য ভারতের ওয়ানডে দল ঘোষণা করল বিসিসিআই। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পরই আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত দলে সবচেয়ে বড় খবর বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারেননি ভারতের তারকা ব্যাটার। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁকে দলে রাখা হয়েছে। তবে কোহলির অন্তর্ভুক্তি সম্পূর্ণভাবে তাঁর ফিটনেসের ওপর নির্ভর করছে। আইপিএল শেষ হওয়ার পর থেকেই তিনি লন্ডনে রয়েছেন এবং সেখানেই ব্যক্তিগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিসিসিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে ফিরে তাঁকে সেন্টার অব এক্সেলেন্সে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে। মেডিক্যাল টিমের ছাড়পত্র পেলেই তিনি মাঠে নামতে পারবেন। দলে ফিরেছেন তারকা পেসার যশপ্রীত বুমরাও। আফগানিস্তান সিরিজে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে চোটের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। পায়ের সমস্যার জন্য তিনি শুধু ইংল্যান্ড নয়, আয়ারল্যান্ড সফর থেকেও ছিটকে গিয়েছেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন তরুণ অলরাউন্ডার গুরনুর ব্রার। তাঁকে ইংল্যান্ড সফরের দলেও রাখা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেও সুযোগ পাননি যশস্বী জয়সওয়াল। তাঁর বাদ পড়া নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগেই জানা গিয়েছিল, এই সিরিজে খেলবেন না হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর জায়গায় স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নীতিশ রেড্ডি। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই অবদান রাখার ক্ষমতার জন্য নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে ভারত-ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যা চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। এরপর ১৪, ১৬ এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ফলে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের মূল আকর্ষণ এখন বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর ফিটনেস পরিস্থিতি। ভারতের ওয়ানডে দল: শুভমন গিল (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আইয়ার (সহ-অধিনায়ক), কে এল রাহুল, ঈশান কিষান, ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর প্যাটেল, নীতিশ রেড্ডি, কুলদীপ যাদব, হর্ষিত রানা, অর্শদীপ সিং, যশপ্রীত বুমরা, গুরনুর ব্রার এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ।
মাঠে ড্র, ড্রেসিংরুমে বার্তা! লস অ্যাঞ্জেলেসে ভাইরাল ইরানের ‘শান্তির নোট’
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, কখনও কখনও তা হয়ে ওঠে আবেগ, পরিচয় এবং মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মঞ্চও। চলতি বিশ্বকাপে ঠিক তেমনই এক নজির গড়ল ইরান। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানি ফুটবলারদের রেখে যাওয়া একটি হাতে লেখা নোট। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া সেই বার্তা এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করে একটি সাদা কাগজে নিজেদের অনুভূতি লিখে যান ইরানের ফুটবলাররা। সেখানে লেখা ছিল, “হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের আধুনিক ইরান—ইরানের আত্মা এখনও অটুট। আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম, সম্মানের সঙ্গে খেলেছি এবং মর্যাদা নিয়েই ফিরছি।” শুধু নিজেদের গর্বের কথাই নয়, সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দল। নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, “যাঁরা ১৮০ মিনিট ধরে নিজেদের হৃদয়, কণ্ঠস্বর ও আত্মা উজাড় করে ইরানকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ।” তবে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে শেষের বার্তাটি—“সমস্ত দেশের মধ্যে শান্তি, পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব বিরাজ করুক।” এই শান্তির আহ্বানের মধ্যেই ছিল এক নীরব প্রতিবাদও। নোটে ব্যবহৃত দুটি হ্যাশট্যাগ—#168 এবং #Minab—নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। জানা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে বোমা হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণ করতেই এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। কোনও সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না রেখেও ইরানি ফুটবলাররা বিশ্বমঞ্চে মানবিক এক বার্তা তুলে ধরেছেন। চলতি বিশ্বকাপে মাঠের বাইরেও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে ইরান। মার্কিন অভিবাসন নীতির কারণে দলকে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের পরিকল্পিত বেস ক্যাম্প সরিয়ে নিতে হয় মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। সেখান থেকে নিয়মিত বিমানযাত্রা করে ম্যাচ খেলতে আসতে হচ্ছে ফুটবলারদের। ভিসা জটিলতার কারণে কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফও দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। বেলজিয়াম ম্যাচের পর ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই বলেন, অন্য অনেক দলের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলতে হচ্ছে তাঁদের। এমনকি তিনি ইরানকে “এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বঞ্চিত দল” বলেও উল্লেখ করেন। তবে মাঠে সেই প্রতিকূলতার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি ইরানের ফুটবলাররা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র এবং বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ০-০ ফল করে তারা এখনও নকআউটের লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। এবার সামনে মিশর। সেই ম্যাচে জয় পেলে ইতিহাস গড়ে পরের পর্বে পৌঁছতে পারে ইরান। ফল যাই হোক, সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া একটি ছোট্ট নোট ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছে—ফুটবল কখনও কখনও শুধু খেলা নয়, মানবতারও ভাষা।
অভিষেকের পাশে থেকেও তৃণমূলে কোণঠাসা কল্যাণ? আইনজীবী নিয়োগ ঘিরে নতুন জল্পনা
কলকাতা, ২১ জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব কি ক্রমশ বাড়ছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘিরে জোরাল জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মামলা, এমনকি সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতি ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি তৃণমূলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন। ফলে দলের ‘আইনজীবী মুখ’ হিসেবে তাঁর ভূমিকা এতদিন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। তবে গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা বদলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মামলার দায়িত্ব থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে অভিষেকের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেন তিনি এবং তাঁকে ‘পুত্রসম’ বলেও অভিহিত করেন। তবুও সূত্রের খবর, দলের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে আবারও অসন্তোষের সুর শোনা যায় কল্যাণের গলায়। সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর পাশাপাশি বা তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীর নামও এই আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গেছে। মানেকা গুরুস্বামী অতীতে রাজ্য সরকারের হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করেছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নেতৃত্ব আগ্রহী বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে এই প্রস্তাব ঘিরে আপত্তি জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, দীর্ঘদিনের ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব হ্রাসের ইঙ্গিত তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তাৎপর্যপূর্ণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁর অবস্থান থাকলেও দলের ভিতরে ক্রমশ তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে জল্পনা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দলের অভ্যন্তরে আইনজীবী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন ঘিরে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা অব্যাহত।
বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় নতুন মোড়, শোভনদেবকে জেরার পর উদ্ধার তৃণমূলের ‘রেজোলিউশন বুক’
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত বহুচর্চিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ চালানোর পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রেজোলিউশন বুক’-এর একটি কপি উদ্ধার করেছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ নথির সন্ধান মেলে। শনিবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান সিআইডি আধিকারিকরা। সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যও নথিবদ্ধ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই রেজোলিউশন বুকের কপি তাঁদের হাতে আসে। এখন ওই নথিতে থাকা বিধায়কদের স্বাক্ষর খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশনে থাকা কিছু স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। তদন্তকারীদের মতে, মামলার সত্যতা নির্ধারণে এই নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং পরিষদীয় দলের অন্যান্য পদাধিকারীদের নাম অনুমোদনের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক রেজোলিউশন পাশ করা হয়। সেই রেজোলিউশনের একটি কপি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা থাকে এবং অন্য একটি কপি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সংরক্ষণে থাকে। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে ওই নথি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি হরিশ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটে থাকার কথা। তদন্তের স্বার্থে এর আগে ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হলেও রেজোলিউশন বুকের হদিস মেলেনি। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের খবর। এরপর তদন্তের দিশা বদলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম অনুমোদনের জন্য যে রেজোলিউশন জমা পড়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগ, ওই নথিতে যাঁদের স্বাক্ষর রয়েছে, তাঁদের অনেকেই সই করার সময় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রেজোলিউশন বুক উদ্ধারের ফলে এবার সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পথে তদন্ত অনেকটাই এগোল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।