ডুরান্ড কাপ আয়োজন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচির কাঁকে রোডে অবস্থিত মুখ্যমন্ত্রীর আবাসিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মেজর জেনারেল সজ্জন সিং মান (জিওসি, ২৩ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন) এবং ডুরান্ড কাপের নোডাল অফিসার কর্নেল হেমচন্দ্র। সাক্ষাৎকালে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান যে, এই প্রথমবার ঝাড়খণ্ডে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগিতা ডুরান্ড কাপ আয়োজিত হতে চলেছে। আগামী ২৬ জুলাই থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেনা কর্মকর্তারা টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নেওয়া প্রস্তুতি, অবকাঠামোগত ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এ সময় রাজ্যের পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী সুদিব্য কুমারও উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেন, ডুরান্ড কাপ দেশের একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবময় ফুটবল প্রতিযোগিতা। এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাওয়া ঝাড়খণ্ডের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি জানান, রাজ্য ইতিমধ্যেই ক্রীড়াক্ষেত্রে নিজের পরিচিতি শক্তিশালী করেছে এবং এমন আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা তরুণ খেলোয়াড়দের নতুন সুযোগ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। মুখ্যমন্ত্রী টুর্নামেন্টের সমস্ত প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন এবং অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়, কর্মকর্তাসহ ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য সর্বোত্তম সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মাদকাসক্তি বিরোধী সচেতনতায় রাঁচিতে ম্যারাথন দৌড়, তরুণদের শপথ ঝাড়খণ্ডকে নেশামুক্ত গড়ার
সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হেমন্ত সোরেনের নির্দেশে ঝাড়খণ্ডজুড়ে মাদকাসক্তি বিরোধী সচেতনতা অভিযান শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাঁচিতে পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক বিভাগের উদ্যোগে একটি ম্যারাথন দৌড়ের আয়োজন করা হয়। মোরহাবাদী ময়দানের বাপু বাটিকা থেকে আলবার্ট এক্কা চক পর্যন্ত আয়োজিত এই ম্যারাথনে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী, খেলোয়াড়, সরকারি কর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাজ্যের পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী সুদিব্য কুমার। তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডকে মাদকমুক্ত করা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের দৃঢ় সংকল্প এবং সেই লক্ষ্য পূরণে রাজ্যের তরুণ সমাজ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তাঁর মতে, ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি তরুণের পদক্ষেপ ঝাড়খণ্ডকে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার থেকে রক্ষার প্রতীক। মন্ত্রী উপস্থিত সকলকে নেশামুক্ত জীবনযাপনের শপথ করান এবং তরুণদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সুস্থ, সবল ও সচেতন যুবসমাজই ঝাড়খণ্ডকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত করতে পারে। অনুষ্ঠানের শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। পুরুষ বিভাগে শরদ আহির প্রথম, সুভাস ওঁরাও দ্বিতীয় এবং গুলশন ডুংডুং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। মহিলা বিভাগে পূজা সিং প্রথম, নিশা কুমারী দ্বিতীয় এবং মঞ্জু কুমারী তৃতীয় হন। এদিকে, অনুষ্ঠানস্থলে তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক প্রদর্শনীও উপস্থিত মানুষের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে নতুন নজির! বিজয়ী অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলতে পারেন ট্রাম্প
সকাল সকাল ডেস্ক জুরিখ বিশ্বকাপ জয়ের পর অধিনায়কের হাতে ট্রফি ওঠার মুহূর্ত ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন এবং স্মরণীয় দৃশ্য। বছরের পর বছর ধরে এই অনুষ্ঠান নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনেই অনুষ্ঠিত হয়ে এসেছে। তবে এবার সেই ঐতিহ্যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবর অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, ফাইনালের ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এবং ট্রাম্প একসঙ্গে উপস্থিত থাকবেন। শুধু উপস্থিতিই নয়, ট্রফি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদি তা হয়, তাহলে বিশ্বকাপের দীর্ঘদিনের প্রথায় একটি বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। এতদিন ফিফার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রফি প্রথমে একটি নির্দিষ্ট পাদানিতে রাখা হতো। এরপর ফিফার কর্মকর্তারা বা বিশেষ প্রতিনিধিরা সেটি বিজয়ী দলের অধিনায়কের কাছে পৌঁছে দিতেন। অধিনায়ক ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হতো উদযাপন। কিন্তু এবার ট্রাম্পের সরাসরি ট্রফি হস্তান্তরের সম্ভাবনা সেই পরিচিত চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্কের অন্যতম কারণ গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই ম্যাচের ট্রফি প্রদানের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং ট্রফি তোলার মুহূর্তেও সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকেন। চেলসি অধিনায়ক রিস জেমস ট্রফি তুললেও ক্যামেরার ফোকাসের বড় অংশ জুড়ে ছিলেন ট্রাম্প। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, খেলোয়াড়দের সাফল্যের মুহূর্তে অন্য কোনও ব্যক্তিত্বের এতটা কেন্দ্রীয় উপস্থিতি বিতর্ক তৈরি করতে পারে। এবারের বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। টিকিটের মূল্য, স্টেডিয়ামের পরিষেবা, ৪৮ দলের সম্প্রসারিত ফরম্যাট এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা হয়েছে। সেই তালিকায় এবার যোগ হতে পারে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানও। যদিও ফিফা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ঘোষণা করেনি, তবুও ফুটবলমহলে আলোচনা তুঙ্গে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্তে যদি সত্যিই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রফি তুলে দেন, তবে তা নিঃসন্দেহে ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে এই পরিবর্তনকে সমর্থন করা হবে নাকি সমালোচনা, তার উত্তর মিলবে ফাইনালের মঞ্চেই।
ভিনিসিউসের জোড়া গোল, স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নকআউটে ব্রাজিল
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২৫ জুন : বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল ব্রাজিল। ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে কার্লো আনচেলত্তির দল গ্রুপ সেরা হিসেবে শেষ ষোলোয় উঠেছে। ম্যাচের নায়ক ছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র, যিনি জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। অপর গোলটি করেন মাতেউস কুইয়া। এই বিশ্বকাপে ভিনিসিউসের গোলসংখ্যা দাঁড়াল চারটিতে। আক্রমণভাগে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই গ্রুপে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে মরক্কোও ৭ পয়েন্ট অর্জন করেছে। তবে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় তারা দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে। অন্যদিকে, ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডেরও সেরা আট দলের একটি হিসেবে পরের পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। তিন ম্যাচেই পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে হাইতি। ম্যাচে ব্রাজিলের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তারা ৫৪ শতাংশ বল দখলে রেখে ২১টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে স্কটল্যান্ড ১৪টি শট নিলেও মাত্র ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে ৭৬ মিনিটে। মাতেউস কুইয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। দর্শকদের করতালির মধ্য দিয়ে তার প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
১–০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে এশিয়ান দলটির বিপক্ষে তারা জিতেছে ১–০ গোলে। এই জয়ে ‘এ’ গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩ ম্যাচে দলটির মোট পয়েন্ট ৪। ৩ ম্যাচের সব কটিতে জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মেক্সিকো। নিয়মানুযায়ী গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল পরের পর্বে জায়গা করে। ৬২ মিনিটে গোল পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গোলটি করেছেন থাপেলো মাসেকো। এই মুহূর্তে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া তিনে। এশিয়ার দলটি পরের দুই ম্যাচেই হেরে গেল একই ব্যবধানে। তাদের সব আশা অবশ্য শেষ হয়নি। তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর একটি হিসেবে পরবর্তী পর্বে খেলার সুযোগ আসতে পারে এখনও।
ডঃ হেডগেওয়ার, ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি এবং বাংলা : ঐতিহাসিক সংযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক ডঃ পঙ্কজ জগন্নাথ জয়সওয়াল সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলার বিধানসভা নির্বাচন কেবল বিজেপির আরেকটি জয় ছিল না, বরং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিরোধীদের জন্য একটি বড় পরাজয়ও ছিল। এই নির্বাচন কেবল পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলার মানুষ, বিশেষ করে হিন্দুরা, সেই রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যের জন্য প্রশংসার দাবিদার যারা রাজ্যের অখণ্ডতার সাথে আপস করেছে। এই পরিবর্তন জনসংঘের সময় থেকেই রা.স্ব. সংঘ এবং বিজেপির প্রচেষ্টার ফল। কয়েক দশক ধরে করা বড় কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। পশ্চিমবঙ্গ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে সম্পর্ক আজকের রাজনৈতিক পরিবেশে সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্ক সরাসরি সংঘের গঠন এবং জনসংঘের ভিত্তি স্থাপনের আগের সময় থেকে জড়িত। ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের বৈचारिक চিন্তাভাবনা এবং পরবর্তীতে ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির রাজনৈতিক ভূমিকা, উভয়ই পশ্চিমবঙ্গের সাথে যুক্ত ছিল। ১৯১০ সালে যখন তরুণ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার চিকিৎসার পড়াশোনার জন্য কলকাতা (এখন কলকাতা) যান, তখন বাংলা ভারতে বিপ্লবী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল। ডঃ হেডগেওয়ার দেশপ্রেমের চেতনায় ভরপুর ছিলেন, তাই কলকাতা যাওয়ার পর তিনি সেখানকার বিখ্যাত বিপ্লবী সংগঠন ‘অনুশীলন সমিতি’-র সরাসরি সংস্পর্শে আসেন। কলকাতা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময়, তিনি কেবল চিকিৎসার পড়াশোনাই করেননি, বরং সেই সময়ের প্রধান বিপ্লবীদের সাথে দেশ সেবার কাজেও জড়িত ছিলেন। তিনি বিপিন চন্দ্র পাল, পুলিন বিহারী দাস এবং রাস বিহারী বোস-এর মতো নেতাদের विचारों দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। সেই সময়, তিনি বিপ্লবের অনেক গোপন কার্যকলাপে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন। কলকাতার মাটি থেকে ডঃ হেডগেওয়ারের প্রাপ্ত সাংগঠনিক অনুপ্রেরণা এবং ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি দ্বারা রোপিত জনসংঘের বীজ এই ইতিহাসের প্রথম অংশ। তবে, পরবর্তী সময়ে এই ধারণাগুলি বাংলার মাটিতে কীভাবে তাদের দখল মজবুত করেছিল এবং বাম-তৃণমূলের কঠিন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিজেপি সেখানে যে রাজনৈতিক জয় অর্জন করেছিল, তা আধুনিক ভারতের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। কংগ্রেসের তুষ্টিকরণের রাজনীতি: খিলাফত আন্দোলনের সময় কংগ্রেসের ভূমিকা এবং মুসলিম তুষ্টিকরণের সূচনা ডঃ হেডগেওয়ারকে বিচলিত করেছিল। তিনি মনে করতেন যে সমাজের অভ্যন্তরীণ ত্রুটিগুলি, যেমন জাতি-বৈষম্য এবং দুর্বলতা দূর না করে জাতি মজবুতভাবে দাঁড়াতে পারে না। সংঘের প্রতিষ্ঠা (১৯২৫): এই ভেবে যে “স্বাধীনতা পাওয়া যতটা জরুরি, তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সমাজে শৃঙ্খলা, চরিত্র এবং সংগঠনও ততটাই জরুরি,” তিনি বিপ্লবী পথ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে এগিয়ে যান এবং ১৯২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর (বিজয়া দশমী) নাগপুরে ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বাংলায় প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা এবং বৈचारिक মন্থনের ফল ছিল। সংঘ গঠনের কয়েক দশক পর, বাংলা আবারও এই মতাদর্শের সাথে মজবুতভাবে যুক্ত হয় এবং সেই নামটি ছিল ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে তরুণ উপাচার্য এবং কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা ডঃ মুখার্জি বাংলার বিভাজনের সময় হিন্দুদের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি নেহরুর প্রথম মন্ত্রিসভায় শিল্পমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নেহরু-লিয়াকত চুক্তি এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ (যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল) এর বিরোধিতায় তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। সেই সময়, তার একটি রাজনৈতিক বিকল্পের প্রয়োজন ছিল যা সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের পক্ষে কথা বলবে। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের তৎকালীন সরসংঘচালক শ্রী গুরুজি (মাধব সদাশিব গোলওয়ালকর) এর সাথে কথা বলেন। সংঘ ডঃ মুখার্জিকে সাহায্য করার জন্য তার কিছু প্রধান স্বয়ংসেবক, যাদের মধ্যে অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদবানি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাদের পাঠান। কাশ্মীরের সম্পূর্ণ বিলয়ের জন্য ডঃ মুখার্জির এই ঘোষণা ‘এক দেশে দুই প্রধান, দুই বিধান এবং দুই নিশান হবে না’ ভারতীয় রাজনীতিকে একটি নতুন দিক দিয়েছিল। কাশ্মীরে আন্দোলনের সময় তার রহস্যময় মৃত্যু সারা দেশে জাতীয়তাবাদের একটি जबरदस्त ঢেউ তৈরি করে। ১৯৪৭ সালের বিভাজনের পর, পূর্ব পাকিস্তান (এখন বাংলাদেশ) থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু শরণার্থী পশ্চিমবঙ্গে আসে। সেই অত্যন্ত কঠিন সময়ে, RSS স্বয়ংসেবকরা সীমান্তে এবং কলকাতার ক্যাম্পগুলিতে ত্রাণ শিবির শুরু করে। সাংস্কৃতিক সংযোগ: যদিও বামপন্থার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে বাংলায় খোলাখুলি কাজ করা কঠিন ছিল,”””তবুও সংঘ শিক্ষা ও সেবার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সংঘ শান্তিপূর্ণভাবে বাংলাকে ‘বস্তু পূজক’ থেকে ‘ভারত মাতা পূজক’-এ পরিণত করার কাজ চালিয়ে গেছে। বাংলায় পূজিত ‘শক্তি’ (দুর্গাপূজা) এবং সংঘের ‘রাষ্ট্র শক্তি’-এর মধ্যে সম্পর্ক মানুষের মনে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। 21 অক্টোবর 1951-এ ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ‘ভারতীয় জনসংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজকের ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’-এর পূর্বসূরি সংগঠন। জনসংঘের প্রথম জাতীয় সভাপতি একজন বাঙালি ব্যক্তি ছিলেন; এই ইতিহাস ভোলা যায় না। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির আত্মত্যাগের পরেও বাংলায় জনসংঘের অস্তিত্ব বজায় ছিল। হরিভাউ গোডবোলে এবং অধ্যাপক হরিপদ ভারতীর মতো নেতারা কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁদের আদর্শ ধরে রেখেছিলেন। যদিও, 1977 সালের পর বাংলায় 34 বছর ধরে বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। এই সময়ে সংঘ এবং বিজেপি কর্মীদের অত্যন্ত হিংসাত্মক রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। অনেক কর্মী তাঁদের জীবন হারিয়েছেন কিন্তু তাঁরা তাঁদের আদর্শ ত্যাগ করেননি। 2011 সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বামপন্থীদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। তবে, এর পরে বাংলায় শুরু হওয়া ‘তোষণ নীতি’ এবং বিজেপি-সংঘের সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে (যেমন রামনবমী মিছিল) আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি বাংলার মূল ‘ভদ্রলোক’ (শিক্ষিত মধ্যবিত্ত) এবং গ্রামীণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করতে শুরু করে। যে বাংলা ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন-গণ-মন’ দিয়েছে, সেখানে এই অনুভূতি গেঁথে গিয়েছিল যে জাতীয় পরিচয় দুর্বল করা হচ্ছে। এই ভিত্তিতে বিজেপি বাংলার জনগণকে দেশজুড়ে এবং এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতে তাদের আদর্শিক কাঠামো এবং উন্নয়নমূলক কাজ দেখিয়ে নিজেদেরকে শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 2014 সালের পর, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তৎকালীন সভাপতি অমিত শাহ – বাংলার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন। তাঁরা গর্বের সাথে বাংলার পরিচয় অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির ঐতিহ্যকে পুনরাবৃত্তি করেন। আজ যখন আমরা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এবং সংঘ পরিবারের বিস্তার দেখি, তখন এটি কেবল একটি অস্থায়ী রাজনৈতিক লাভ নয় বরং এর পেছনে একটি শক্তিশালী ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গই সেই ভূমি যেখানে যৌবনে ড. হেডগেওয়ারের আদর্শিক চিন্তাভাবনা বিকশিত হয়েছিল এবং এখান থেকেই ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির রূপে জনসংঘের জন্ম হয়েছিল। তাই, সংঘ এবং বিজেপির ইতিহাসের সুতো বাংলার মাটির সাথে চিরকালের জন্য জড়িয়ে আছে। (লেখক, স্বাধীন মন্তব্যকারী।)
হার্দিককে অধিনায়ক করতে মরিয়া কেকেআর! রাহানের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা আইপিএল ২০২৬ মরশুম শেষ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। তবে পরবর্তী সংস্করণকে সামনে রেখে এখন থেকেই দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি। এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আর সেই দৌড়ে এবার জোরালোভাবে উঠে এসেছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের নাম। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী মরশুমের জন্য হার্দিককে দলে টানতে আগ্রহী কেকেআর। শুধু দলে নেওয়াই নয়, তাঁকে অধিনায়কের দায়িত্বও দিতে চায় নাইট শিবির। গত দুই মরশুমে অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় নেতৃত্বে পরিবর্তনের ভাবনা শুরু করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিএল শেষ হওয়ার পর থেকেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে কেকেআর। দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। যদিও বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। নাইট শিবিরের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের দাবি, অজিঙ্ক রাহানেকে দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়ক হিসেবে ভাবা হয়নি। তিনি মূলত অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। সেই কারণেই নতুন মরশুমের আগে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হার্দিকের মতো অভিজ্ঞ ও সফল অধিনায়ককে সামনে রেখে ভবিষ্যতের দল গড়ার চিন্তাভাবনা করছে কেকেআর। এছাড়াও জানা গেছে, হার্দিককে দলে নেওয়ার জন্য অল-ক্যাশ ট্রেডের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে কলকাতা। তবে শুধুমাত্র নগদ অর্থের বিনিময়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এই ট্রেডে রাজি হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সূত্রের খবর, মুম্বইয়ের নজরে রয়েছে কেকেআরের কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারও। বিশেষ করে অঙ্গকৃষ রঘুবংশী এবং রামনদীপ সিংয়ের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। তবু হার্দিক পান্ডিয়াকে ঘিরে যে আগামী ট্রান্সফার উইন্ডোতে বড়সড় লড়াই হতে চলেছে, তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে কোনও সন্দেহ নেই। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মুম্বই ইন্ডিয়ান্স হার্দিককে ছাড়তে রাজি হয় কি না এবং কেকেআর তাঁদের অন্যতম বড় লক্ষ্য পূরণ করতে পারে কি না। আগামী আইপিএলের আগে এই ট্রেড-গাথাই যে ক্রিকেটপ্রেমীদের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।
ঘানার রক্ষণে আটকে গেল ইংল্যান্ড, গোলশূন্য ড্রয়ে বাড়ল সমীকরণের জট
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে চার গোলের দুরন্ত জয় তুলে নিয়ে নিজেদের অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে এসে সেই ছন্দের দেখা মিলল না। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ঘানার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখেও গোলের দেখা পেল না টমাস টুখেলের দল। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইংলিশদের। এই ড্রয়ের ফলে দুই ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড ও ঘানা উভয়েরই সংগ্রহ চার পয়েন্ট। নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনও উজ্জ্বল থাকলেও গ্রুপের শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াই আরও জমে উঠেছে। বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে যে আক্রমণাত্মক ও ধারালো ফুটবল ইংল্যান্ড উপহার দিয়েছিল, ঘানার বিপক্ষে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ম্যাচের পরিসংখ্যান অবশ্য ইংল্যান্ডের পক্ষেই কথা বলছে। পুরো ম্যাচে তারা ১৯টি শট নিয়েছে, যেখানে ঘানার শট ছিল মাত্র দুটি। তবে সংখ্যার আধিপত্য গোল এনে দেয়নি। ঘানার সুশৃঙ্খল ও ঘন রক্ষণভাগ ইংল্যান্ডের অধিকাংশ আক্রমণ ভেস্তে দেয়। বক্সের আশপাশে পৌঁছেও কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে হতাশ হতে হয় হ্যারি কেনদের। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে ঘানার ডিফেন্স। ফলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১০-এই আটকে থাকে। ডান প্রান্তে ননি মাদুয়েকে এবং বাঁদিকে অ্যান্টনি গর্ডনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে বুকায়ো সাকা ও অন্যান্য পরিবর্ত খেলোয়াড়দের নামানো হলেও ম্যাচের গতিপথ বদলায়নি। ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারের পারফরম্যান্সও ছিল প্রশংসনীয়। প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগি চোট পাওয়ায় সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। যদিও ইংল্যান্ড তাঁকে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারেনি। ডেকলান রাইসের একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। পরে গর্ডনের শট এবং সাকার নিচু প্রচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন আসারে। ম্যাচের সেরা সুযোগটি আসে নিকো ও’রাইলির হেড থেকে, কিন্তু বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধে বিতর্কও তৈরি হয়। ঘানার প্রিন্স আদুর সঙ্গে ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের সংঘর্ষ নিয়ে পেনাল্টির দাবি ওঠে। রিপ্লেতে দেখা গেলেও রেফারি ঘানার আবেদন নাকচ করে উল্টো ইংল্যান্ডের পক্ষে ফ্রি-কিক দেন। পরে আদু আরও একবার ইংল্যান্ড রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ালেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এই ফল ঘানার জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের। নতুন কোচ কার্লোস কুইরোজের অধীনে তারা টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ইতিবাচক ফল পেল। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সামনে রয়ে গেল কিছু প্রশ্ন। বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু বলের দখল নয়, গোল করার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে শেষ ম্যাচের আগে এখনও সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছে ইংল্যান্ড।
কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ বত্রিশে কলম্বিয়া, গ্রুপ শীর্ষে উঠে বাড়াল পর্তুগালের চাপ
সকাল সকাল ডেস্ক খেলার পরিসংখ্যান একরকম গল্প বলছে, স্কোরলাইন বলছে আরেক গল্প। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল কলম্বিয়ার। তবু কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৭৬ মিনিট পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত ড্যানিয়েল মুনোজের একটি ডিফ্লেক্টেড শটই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ডিআর কঙ্গোকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘কে’-র শীর্ষে উঠে এসেছে নেস্তর লরেঞ্জোর দল। ফলে শেষ ম্যাচে পর্তুগালের বিরুদ্ধে একটি ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পৌঁছে যাবে তারা। অন্যদিকে, গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করতে হলে এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে জিততেই হবে। ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল না এলেও মাঠে কলম্বিয়ার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বলের দখল থেকে শুরু করে পাসিং এবং আকাশপথের লড়াই—সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। প্রথম ৪৫ মিনিটে তারা ১৪টি শট নেয়, যেখানে ডিআর কঙ্গোর শট ছিল মাত্র দুটি। কিন্তু গোলের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। ম্যাচের শুরুতেই একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে কলম্বিয়াকে হতাশ করেন তিনি। প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই পাঁচটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দেন এমপাসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৯৮ সালের পর কোনও গোলরক্ষকের ম্যাচের শুরুতে এত দ্রুত পাঁচটি সেভ করার নজির খুব কমই দেখা গেছে। তবে এমপাসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতাও চোখে পড়ার মতো ছিল। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ড্যানিয়েল মুনোজ সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন। ফাঁকা পোস্ট সামনে পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। মাঝমাঠে হামেস রদ্রিগেস বারবার আক্রমণ সাজালেও শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা মিলছিল না। অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গোও লড়াই ছেড়ে দেয়নি। পাঁচজনের রক্ষণভাগ এবং সংগঠিত মিডফিল্ড নিয়ে তারা দীর্ঘ সময় কলম্বিয়ার আক্রমণ সামাল দেয়। যদিও জয়ের মতো বড় সুযোগ খুব একটা তৈরি করতে পারেনি, তবু ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রেখেছিল আফ্রিকার দলটি। ৭৬ মিনিটে অবশেষে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। জন কর্দোবার প্রচেষ্টার পর বল গড়িয়ে আসে মুনোজের সামনে। তাঁর নেওয়া শট ডিফেন্ডার স্টিভ কাপুয়াদির পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক এমপাসিও ভুল দিকে ঝাঁপ দেওয়ায় আর রক্ষা করতে পারেননি। শেষদিকে লুইস দিয়াস দু’বার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে দুটি গোলই বাতিল হয়। অতিরিক্ত সময়ে কঙ্গোর নাথানায়েল এমবুকুর জোরালো শটও রুখে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া। নকআউট নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রুপের শীর্ষস্থানও ধরে রাখে তারা। ফলে শেষ ম্যাচের আগে এখন চাপটা পুরোপুরি পর্তুগালের কাঁধে।
পেনাল্টি শুটআউটের আগে বড় বদলের ভাবনা ফিফার, কয়েন টসে আসতে পারে নতুন নিয়ম
সকাল সকাল ডেস্ক জুরিখ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার আগেই পেনাল্টি শুটআউটের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে ফিফা। টাইব্রেকারের আগে বর্তমানে যে দু’বার কয়েন টস করা হয়, তা কমিয়ে একবারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম নির্ধারণকারী সংস্থা আইএফএবি-র অনুমোদন প্রয়োজন। ফিফার আশা, নকআউট পর্ব শুরুর আগেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পেনাল্টি শুটআউটের আগে রেফারিকে দু’বার কয়েন টস করতে হয়। প্রথম টসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় কোন দল আগে শট নেবে। দ্বিতীয় টসে ঠিক হয় মাঠের কোন প্রান্তে শুটআউট অনুষ্ঠিত হবে। বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই নিয়মই অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে ফিফার নতুন প্রস্তাবে পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও দ্রুত করার কথা বলা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কয়েন টসে জয়ী দল দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারবে। তারা হয় আগে বা পরে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, অথবা কোন প্রান্তে শুটআউট হবে তা নির্ধারণ করবে। বাকি সিদ্ধান্তটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিপক্ষ দলের হাতে চলে যাবে। এর ফলে আর দ্বিতীয়বার কয়েন টসের প্রয়োজন হবে না। ফিফার মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সময় বাঁচবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে কোনও দল একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাবে না। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছিল, যেখানে একটি দল দুই টসেই জয়ী হয়ে আগে শট নেওয়া এবং পছন্দের প্রান্ত বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ফিফার মতে, নতুন নিয়ম চালু হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে। তবে প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত নয়। আইএফএবি অনুমোদন দিলে তবেই নিয়ম পরিবর্তন কার্যকর হবে। এছাড়া নতুন নীতি শুধু বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও ক্লাব প্রতিযোগিতাতেও বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়েও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এখন ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে আইএফএবি-র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য। অনুমোদন মিললে পেনাল্টি শুটআউটের আগে কয়েন টসের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।