লেকটাউন থেকে পাটাগোনিয়া, মেসির মূর্তিতে নতুন বিশ্বরেকর্ড! ৮৫ ফুট উচ্চতায় নজির আর্জেন্তিনার
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতার লেকটাউনে স্থাপিত ৭০ ফুট উচ্চতার লিওনেল মেসির মূর্তি একসময় ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সম্প্রতি সেই মূর্তিটি ক্রেনের সাহায্যে নামিয়ে ফেলা হয়। এতে অনেক মেসিভক্তের মন খারাপ হলেও সেই হতাশা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ, কলকাতার মূর্তি নামার অল্প সময়ের মধ্যেই আর্জেন্তিনার পাটাগোনিয়া অঞ্চলে উন্মোচিত হয়েছে আরও বৃহৎ এক মেসি-মূর্তি, যার উচ্চতা ৮৫ ফুট। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মেসি-মূর্তির স্বীকৃতি এখন আর্জেন্তিনার দখলে। পাটাগোনিয়ার তেলসমৃদ্ধ শহর কুত্রাল কো-তে ১৬ জুন এই বিশাল ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়। আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ অভিযানের সূচনাদিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয় মূর্তিটি। প্রায় ৭০ টন ইস্পাত দিয়ে তৈরি এই শিল্পকর্মের উচ্চতা সাড়ে ২৫ মিটার বা প্রায় ৮৫ ফুট। ভাস্কর ৬১ বছর বয়সি আলদো বেরোইসা স্বীকার করেছেন, মূর্তিটি হয়তো শতভাগ মেসির মুখাবয়বের সঙ্গে মেলে না, তবে আকারের দিক থেকে এটিই এখন বিশ্বের বৃহত্তম মেসি-মূর্তি। এই ভাস্কর্যের বিশেষত্ব শুধু উচ্চতায় নয়, এর ভঙ্গিমাতেও। এখানে মেসিকে দাঁড়িয়ে নয়, হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্তিনার জয়ের পর লুসাইল স্টেডিয়ামে মেসির সেই আবেগঘন মুহূর্তকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এক হাতে জার্সি আঁকড়ে ধরা এবং অন্য হাতের তর্জনী আকাশের দিকে তোলা—যা ছিল তাঁর প্রয়াত দিদিমার প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। ভাস্কর আলদো বেরোইসা জানান, এই মূর্তি নির্মাণে তাঁর প্রায় ১৮ মাস সময় লেগেছে। তাঁর মতে, মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আর্জেন্তিনার পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। তাই এই কাজ তাঁর কাছে শিল্পচর্চার পাশাপাশি জাতীয় গর্বের বিষয়ও। এদিকে কলকাতার লেকটাউনের মূর্তিটি ধ্বংস করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেটিকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে। যদিও উচ্চতার বিশ্বরেকর্ড আর কলকাতার দখলে নেই, তবু ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে সেই মূর্তির গুরুত্ব অটুট রয়েছে। মেসিকে ঘিরে উন্মাদনা বিশ্বজুড়েই অব্যাহত। মাঠে তাঁর সাফল্য যেমন আলোচনায়, তেমনই মূর্তি, ম্যুরাল ও স্মারকের মাধ্যমে ভক্তদের হৃদয়ে তিনি ক্রমেই আরও বড় হয়ে উঠছেন।
আইপিএলে মেগা ট্রেড! দিল্লিতে ফিরলেন পন্থ, লখনৌয়ে যোগ দিলেন কুলদীপ
সকাল সকাল ডেস্ক মুম্বাই আইপিএলের অন্যতম বড় ট্রেড ডিলের সাক্ষী থাকল ক্রিকেটবিশ্ব। বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, আর মঙ্গলবার সেই জল্পনাই বাস্তবে পরিণত হলো। ভারতের তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পন্থ লখনৌ সুপার জায়ান্টস ছেড়ে ফিরে গেলেন তাঁর পুরোনো দল দিল্লি ক্যাপিটালসে। অন্যদিকে দিল্লির অন্যতম সেরা স্পিনার কুলদীপ যাদব যোগ দিলেন লখনৌ সুপার জায়ান্টসে। ২০১৬ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সিতেই আইপিএলে অভিষেক হয়েছিল ঋষভ পন্থের। দীর্ঘ নয় বছর দলের হয়ে খেলেছেন তিনি এবং ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্বও সামলেছেন। তবে নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে ২০২৫ মরশুমের আগে দিল্লি ছেড়ে লখনৌ সুপার জায়ান্টসে যোগ দেন। ২৭ কোটি টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু লখনৌ অধ্যায়টা প্রত্যাশামতো সফল হয়নি। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা ছিল না, বিভিন্ন ব্যাটিং পজিশনে সুযোগ পেলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। অধিনায়ক হিসেবেও দলকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিতে পারেননি। ফলে মাত্র দুই মরশুমের মধ্যেই ফের পুরোনো ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন পন্থ। তবে এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে রয়েছে বড় আর্থিক পরিবর্তনও। লখনৌয়ে যেখানে তিনি বছরে ২৭ কোটি টাকা পেতেন, সেখানে দিল্লি ক্যাপিটালসে ফিরে তাঁর পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি টাকার বেতন কমিয়ে পুরোনো দলে ফিরেছেন ভারতীয় তারকা। অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে গত কয়েক বছরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন কুলদীপ যাদব। ২০২২ সালে দলে যোগ দেওয়ার পর ৬৫ ম্যাচে ৭২ উইকেট তুলে নিজেকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দলেরও অন্যতম ভরসার নাম তিনি। এবার নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে লখনৌ সুপার জায়ান্টসে যোগ দিচ্ছেন কুলদীপ। দিল্লিতে তিনি বছরে ১৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। নতুন দলে সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।এই ট্রেডের ফলে দুই দলই নিজেদের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনল। দিল্লি ফিরে পেল তাদের প্রাক্তন অধিনায়ক ও তারকা ব্যাটারকে, আর লখনৌ শক্তিশালী করল তাদের স্পিন আক্রমণ। এখন দেখার, নতুন পরিবেশে কুলদীপ কতটা সফল হন এবং পুরোনো দলে ফিরে ঋষভ পন্থ আবার তাঁর সেরা ছন্দ খুঁজে পান কি না।
হালান্ডের জোড়া গোলের ঝড়! সেনেগালকে হারিয়ে শেষ বত্রিশে নরওয়ে
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার খেলতে নেমেই গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন আর্লিং হালান্ড। দুই ম্যাচে চার গোল, টানা দুইবার ম্যাচসেরা এবং দলের নকআউট নিশ্চিতকরণ—সব মিলিয়ে নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত নাম। তাঁর জোড়া গোলের সৌজন্যে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের স্কোরলাইন যতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে হয়, বাস্তবে নরওয়ের আধিপত্য ছিল অনেক বেশি। সেনেগাল দু’বার ব্যবধান কমালেও ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নিয়ন্ত্রণ ছিল স্টালে সোলবাক্কেনের দলের হাতেই। প্রথমার্ধে খেলা ছিল কিছুটা এলোমেলো। তবে ৪৩ মিনিটে সেনেগাল অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির ভুল থেকে এগিয়ে যায় নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ডের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল জায়গায় বল পৌঁছে দেন তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন মার্কাস পেডারসেন। বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেই গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এই ডিফেন্ডার। বিরতির পর মাঠে নেমেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে শুরু করেন হালান্ড। ৪৮ মিনিটে ওডেগার্ডের দুর্দান্ত থ্রু-পাস ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এই গোলের সুবাদে নরওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের নামে করে নেন ২৫ বছর বয়সি তারকা। ৫৩ মিনিটে ইসমাইলা সার গোল করে সেনেগালকে কিছুটা আশা দেখান। কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। মাত্র পাঁচ মিনিট পর প্যাট্রিক বার্গের পাস থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হালান্ড। বল ক্রসবারে লেগে জালে জড়িয়ে পড়ে, আর কার্যত সেখানেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। হালান্ডের ধারাবাহিকতা এখন অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। টানা ১২টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই জোড়া গোল করে তিনি গত পাঁচ দশকের অন্যতম বিরল কীর্তির মালিক হয়েছেন। ম্যাচের শেষদিকে সেনেগাল অবশ্য লড়াই চালিয়ে যায়। সংযোজিত সময়ে সার নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর সুযোগও এসেছিল তাঁর সামনে, কিন্তু হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আফ্রিকান দলটি।দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে নরওয়ে এখন শেষ বত্রিশে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। সেই ম্যাচে মুখোমুখি হবেন বিশ্বকাপের দুই দুর্ধর্ষ গোলদাতা—আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য যা হতে চলেছে এক মহারণ।
গিনেস রেকর্ডে মেসির ঝড়! এক ম্যাচেই চার বিশ্বরেকর্ড, ইতিহাস নতুন করে লিখছেন লিও
সকাল সকাল ডেস্ক বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়া লিওনেল মেসির কাছে নতুন কিছু নয়। তবে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ২-০ জয়ের ম্যাচটি তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। কারণ এই এক ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের চারটি বড় রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সেই কীর্তির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন মেসি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেন এই মহাতারকা। এর আগে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুটি গোল করে সেই রেকর্ড পেরিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে পৌঁছে দেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনও ফুটবলারের এত গোল নেই। শুধু গোলের রেকর্ড নয়, আরও তিনটি বিভাগেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৮টি জয়ের মালিকও এখন মেসি। মাঠে কাটানো সময়ের হিসেবেও তিনি সবার উপরে। বিশ্বকাপে মোট ২,৪৮৯ মিনিট খেলে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃত চারটি নতুন রেকর্ড:• বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল – ১৮• বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ – ২৮• বিশ্বকাপে সর্বাধিক জয় – ১৮• বিশ্বকাপে সর্বাধিক মিনিট মাঠে থাকা – ২,৪৮৯ তবে ম্যাচের শুরুটা মেসির জন্য সুখকর ছিল না। নবম মিনিটে ভিএআরের সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি মিস করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় পেনাল্টি ব্যর্থতা। কিন্তু সেই হতাশা দ্রুত কাটিয়ে উঠে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “এই জয় আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন ম্যাচ ছিল, তবে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে ওঠা স্বস্তিদায়ক।” সতীর্থ হুলিয়ান আলভারেসও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন অধিনায়ককে। তাঁর মতে, “লিও শুধু এই সময়ের নয়, ইতিহাসেরও সেরা ফুটবলার।” ৩৯ বছর বয়সেও মেসি যেন থামার নাম নিচ্ছেন না। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাস নতুন করে লিখে চলেছেন।
মেসি-এমবাপে-হালান্ডের ত্রিমুখী লড়াই! বিশ্বকাপে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের মহারণ
সকাল সকাল ডেস্ক নিউ ইয়র্ক ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মাত্র দুই রাউন্ড শেষ হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। শুধু জমে ওঠাই নয়, পরিসংখ্যান বলছে, এবারের প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোলস্কোরিং দ্বৈরথে পরিণত হতে পারে। কারণ শীর্ষে থাকা তিন তারকার পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছেন। তাঁর ঠিক পিছনেই রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। দু’জনেরই ঝুলিতে রয়েছে চারটি করে গোল। ফলে বিশ্বসেরাদের এই লড়াই এখন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে তিনজন ফুটবলারের চার বা তার বেশি গোল করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগে এমন নজির দেখা গিয়েছিল ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। দীর্ঘ ৭২ বছর পর আবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। আর তার কেন্দ্রে রয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের তিন মহাতারকা। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচে দলের করা পাঁচটি গোলই এসেছে তাঁর পা থেকে। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ১৮, যা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন এমবাপে। নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা ১৬-তে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। এতে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান ফরাসি অধিনায়ক। তাঁর মতে, মেসির সঙ্গে তুলনা নয়, বরং দলের জন্য অবদান রাখাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। হালান্ডও পিছিয়ে নেই। সেনেগালের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নরওয়েকে শেষ বত্রিশে তুলেছেন তিনি। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই দুটি করে গোল করেছেন এই গোলমেশিন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর পরিসংখ্যান আরও চমকপ্রদ—৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তাঁকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনও রয়েছেন এই দৌড়ে। বর্তমানে তাঁর গোলসংখ্যা দুই। ঘানার বিরুদ্ধে গোল পেলে তিনিও শীর্ষ লড়াইয়ে আরও শক্তভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বাধিক ১৩ গোল করার রেকর্ড রয়েছে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেনের। ১৯৫৮ সালে গড়া সেই রেকর্ড এখনও অক্ষত। তবে মেসি, এমবাপে এবং হালান্ড যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে বহু দশকের সেই রেকর্ডও এবার হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলের এই মহারণ এখন ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
বিশ্বকাপে মাতোয়ারা আমেরিকা, কিন্তু মাঠে নেই ট্রাম্প! বাড়ছে জল্পনা
সকাল সকাল ডেস্ক নিউ ইয়র্ক ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তিনি টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচে উপস্থিত থাকতে চান। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্স গঠনের সময় তিনি বলেছিলেন, “এটি বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসর, আমি অবশ্যই এর অংশ হতে চাই।” কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর পর ১১ দিনেরও বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও ম্যাচের গ্যালারিতে দেখা যায়নি ট্রাম্পকে। আর সেই কারণেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিশ্বকাপের আগে ফুটবল নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ ছিল প্রকাশ্য। কখনও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ভিসা নীতি নিয়ে মন্তব্য, কখনও ফিফার বিভিন্ন সিদ্ধান্তে মতামত—সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল তিনি এই টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চলেছেন। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠক হয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের মঞ্চেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ফলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, মার্কিন দলের ম্যাচে নিয়মিত উপস্থিত থাকবেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন ছবি। লস অ্যাঞ্জেলসে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচেও যাননি ট্রাম্প। যদিও ম্যাচের আগে জাতীয় দলের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো এবং অধিনায়ক টিম রিমকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তিনি দলের সাফল্য সম্পর্কে আশাবাদও ব্যক্ত করেছিলেন। ট্রাম্পের এই অনুপস্থিতির কোনও সরকারি ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, ১৪ জুন হোয়াইট হাউসে আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি ও একটি ইউএফসি ইভেন্টের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো তাঁর ব্যস্ত সূচিতে জায়গা পায়নি। যদিও ট্রাম্প মাঠে নেই, তাঁর প্রশাসন কিন্তু বিশ্বকাপ নিয়ে যথেষ্ট সক্রিয়। প্যারাগুয়েকে হারানোর পর হোয়াইট হাউসের সরকারি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়, “আমেরিকা! আমেরিকা! আমেরিকা!”। পরে আরেকটি পোস্টে লেখা হয়, “ফুটবল!!!”। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও মার্কিন দলের সাফল্য উদযাপন করে একাধিক পোস্ট করে। যদিও কিছু পোস্ট বিতর্কের মুখে পড়ে পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়েকে ৪-১ এবং অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে পচেত্তিনোর দল। প্রথম ম্যাচের টেলিভিশন সম্প্রচারই প্রায় ২ কোটি ৭৫ লক্ষ দর্শক টেনেছে, যা ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত। তাহলে ট্রাম্প কবে মাঠে দেখা দেবেন? হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি অবশ্য এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বকাপ যত এগোবে, ততই প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাড়বে। তবে ট্রাম্প নিজে কোন ম্যাচে হাজির হবেন, তা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে। আপাতত বিশ্বকাপের মাঠে নজর কেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল। আর মাঠের বাইরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—যিনি এখনও অনুপস্থিত থেকেও বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত চরিত্র।
এক থেকে একশো, সবার হৃদয়ে মেসি! আর্লিংটনে ধরা পড়ল ‘মেসি-ম্যানিয়া’র অনন্য ছবি
সকাল সকাল ডেস্ক আর্লিংটন ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির জাদু নতুন কিছু নয়। তবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ম্যাচে আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য, যা আরও একবার প্রমাণ করল—মেসির জনপ্রিয়তা বয়সের কোনও সীমারেখা মানে না। একদিকে মায়ের কোলে বসা একরত্তি শিশু, যার বয়স এখনও এক বছরও পূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে গ্যালারিতে উপস্থিত ১০০ বছরের এক বৃদ্ধা। দু’জনের জীবনের দূরত্ব প্রায় এক শতাব্দী, কিন্তু তাঁদের উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু একজনই—লিওনেল মেসি। ম্যাচ চলাকালীন সম্প্রচারকারী সংস্থার ক্যামেরা বারবার ঘুরে যায় দর্শকাসনের দিকে। সেখানে ধরা পড়ে এই দুই বিশেষ সমর্থকের ছবি। মুহূর্তের মধ্যে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ‘মেসি-ম্যানিয়া’র এই অনন্য রূপ। শতবর্ষী সমর্থক পলিন কানা, যিনি সামাজিক মাধ্যমে ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে পরিচিত, ছিলেন গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণ। ১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া পলিন নাতি রস স্মিথের সঙ্গে কৌতুকধর্মী ভিডিও তৈরি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নাম তুলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন মেসির একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবেও। ইন্টার মায়ামি থেকে আর্জেন্টিনা—মেসির প্রতিটি ম্যাচই নিয়মিত অনুসরণ করেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও নীল-সাদা জার্সি পরে হাজির ছিলেন স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে, গ্যালারির আরেক প্রান্তে দেখা যায় মায়ের কোলে বসা এক শিশু সমর্থককে। স্টেডিয়ামের প্রচণ্ড শব্দ থেকে রক্ষা করতে তার কানে পরানো হয়েছিল বড় হেডফোন। তবুও মাঠের দিকে ছিল তার কৌতূহলী দৃষ্টি। তবে দর্শকাসনের এই আবেগঘন ছবিগুলোকেও ছাপিয়ে ম্যাচের নায়ক ছিলেন মেসিই। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ জয়ে দুটি গোল করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। প্রথম গোলটি আসে ৩৮ মিনিটে, ফাকুন্দো মেদিনার পাস থেকে। যোগ করা সময়ে করেন দ্বিতীয় গোল। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও ছন্দ হারাননি তিনি। এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেন মেসি। তাঁর মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৮-তে। পেছনে পড়ে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজে। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই ১৮ গোলের মধ্যে ১১টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়স পার করার পর।এক শতবর্ষী বৃদ্ধা থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু—প্রজন্ম বদলায়, সময় বদলায়, কিন্তু মেসির প্রতি ভালোবাসা যেন একই থাকে।
জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেমের মহানায়ক ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি
যেখানে মুখার্জি বলিদান হয়েছিলেন, সেই কাশ্মীর আমাদের। সকাল সকাল ডেস্ক ইতিহাসের পাতায় কিছু নাম এমনভাবে খোদাই করা থাকে যা কোনো একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি ধারণা, একটি সংকল্প এবং একটি সমগ্র যুগের গল্প বলে। ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি এমনই একজন যুগপুরুষ ছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ দিবস কেবল একজন মহান নেতার স্মরণ নয়, বরং ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের সেই লক্ষ্যকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়, যার জন্য তিনি নিজের সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন। ড. মুখার্জির জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তাঁর পিতা স্যার আশুতোষ মুখার্জি দেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞ ছিলেন। শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বের ঝলক দেখা গিয়েছিল। শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক কীর্তি স্থাপন করে তিনি মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হন — যা আজও ভারতীয় শিক্ষা জগতে অতুলনীয় বলে বিবেচিত হয়। ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির দৃষ্টিতে রাজনীতি ক্ষমতার নয়, সেবার মাধ্যম ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির জীবন কেবল বৌদ্ধিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি জাতির চ্যালেঞ্জগুলো কাছ থেকে দেখেছিলেন এবং রাজনীতিকে ক্ষমতার নয়, সেবার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। যখন দেশ বিভাজনের ট্র্যাজেডির শিকার হচ্ছিল, তখন তিনি বাংলার লক্ষ লক্ষ হিন্দুর স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জন্য নির্ণায়ক সংগ্রাম করেছিলেন। যদি সেই সময়ে ড. মুখার্জি এই দৃঢ়তা না দেখাতেন, তাহলে আজ পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় অংশ ভারতের অঙ্গ থাকত না। পাঞ্জাবের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোকে ভারতে ধরে রাখতেও তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয় ছিল। দেশের শিল্পের ভিত্তি স্থাপনকারী প্রথম শিল্পমন্ত্রী ডাক্তার মুখার্জি স্বাধীনতা লাভের পরপরই দেশের শিল্পের রূপরেখা তৈরি করেন। HEC, দুর্গাপুর, রাউরকেলা, ভিলাই-এর মতো শিল্পনগরীগুলো তাঁর মস্তিষ্কেরই ফসল ছিল। প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী হিসেবে তিনি উল্লেখযোগ্য কাজ করেন। কিন্তু যখনই তিনি অনুভব করেন যে কিছু নীতি জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের নিরাপত্তার অনুকূল নয়, তখন তিনি ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে পদত্যাগ করেন। এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তাঁর কাছে পদ নয়, নীতিই ছিল সর্বাগ্রে। কংগ্রেসের ত্রুটিগুলো সময়মতো বুঝেছিলেন ড. মুখার্জি ড. মুখার্জি বিশ্বাস করতেন যে ভারতের এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োজন যা জাতীয় স্বার্থ, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনকল্যাণকে তার কেন্দ্রে রাখবে। এই সংকল্প নিয়েই তিনি ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি কেবল একটি দলের জন্ম ছিল না, বরং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ছিল। জনসংঘের মাধ্যমে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক দেশ, এক নিশান, এক বিধান আজ ভারতীয় জনতা পার্টি যে বিশাল রূপে দেশ-দুনিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তার আদর্শিক ভিত্তি ড. মুখার্জিই স্থাপন করেছিলেন। “রাষ্ট্র প্রথম, সংগঠন সর্বোপরে” যে মন্ত্র আজ বিজেপির পরিচয়, তার মূলে তাঁরই চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান। তাঁর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংগ্রাম ছিল জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ একীকরণ নিয়ে। স্বাধীনতার পর সেখানে যে বিশেষ ব্যবস্থা চালু ছিল, তা তিনি কখনোই মেনে নেননি। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা ছিল যে ভারত একটি রাষ্ট্র, এবং একটি রাষ্ট্রে দুটি সংবিধান, দুটি প্রধান এবং দুটি নিশান চলতে পারে না। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি দেশব্যাপী জনজাগরণ করেন এবং নিজে জম্মু-কাশ্মীর যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৫৩ সালের ১১ মে সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর এই আত্মত্যাগ জাতির অখণ্ডতার জন্য দেওয়া সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মধ্যে গণ্য হয়। তিনি তাঁর জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে জাতীয় স্বার্থের জন্য সংগ্রামকারী ব্যক্তি পরাজিত হয় না, — সে ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। ড. মুখার্জির স্বপ্ন ছিল যে জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হবে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয় যে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালে ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বাতিল করে তাঁর এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেছে। এটি কেবল একটি সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাঞ্জলিও ছিল। সমাজের বঞ্চিত শ্রেণীকে মূল স্রোতে আনার স্বপ্ন ড.”””মুখার্জি সামাজিক সমরসতা এবং বঞ্চিতদের উন্নতির প্রবল সমর্থক ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভারতের উন্নয়ন তখনই সার্থক যখন তার সুবিধা সমাজের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছায়। আজ “অন্ত্যোদয়” এবং “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস অর সবকা প্রয়াস” মন্ত্রে তারই আদর্শ এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তার রাজনীতি ক্ষমতা দখলের ছিল না, ছিল জাতি গঠনের রাজনীতি। তিনি ভারতকে কেবল একটি ভৌগোলিক সত্তা হিসেবে নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক জাতি হিসেবে দেখতেন – যার আত্মা তার সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে নিহিত। এই কারণেই তিনি ভারতীয়ত্ব রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্যকে তার জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানিয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস তার জীবন তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক অক্ষয় উৎস। তার সংগ্রাম শেখায় যে জাতির প্রতি উৎসর্গ, নীতির প্রতি নিষ্ঠা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অবিচল থাকার সাহসই প্রকৃত নেতৃত্বের মাপকাঠি। আজ যখন ভারত একটি উন্নত জাতি হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তার ধারণাগুলি আগের চেয়েও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। রাজনীতিতে ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির মতো সুপুত্র বিরলই জন্মায়। তার আত্মত্যাগ নিরর্থক হয়নি। আজ যদিও তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার দ্বারা রোপিত জাতীয়তাবাদের বীজ আজ বটবৃক্ষ হয়ে দেশবাসীকে ছায়া দিচ্ছে। একজন প্রখর জাতীয়তাবাদী হিসেবে তিনি সর্বদা দেশের প্রথম সারিতে থাকবেন। তার জীবন ক্ষমতা নয় বরং নীতির প্রতি নিবেদিত ছিল। তার আত্মত্যাগ আমাদের মাতৃভূমির জন্য বাঁচার অনুপ্রেরণা সর্বদা দেবে এবং তিনি সর্বদা ভারতীয় ইতিহাসের সোনালী পাতায় অমর থাকবেন। আসুন, আমরা সবাই তার আত্মত্যাগ দিবসের এই উপলক্ষে সংকল্প করি যে ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা, সাংস্কৃতিক গৌরব এবং দরিদ্র কল্যাণের জন্য তার দেখানো পথে চলে উন্নত ভারত গঠনে আমাদের অবদান রাখব। দ্রষ্টব্য:- এই নিবন্ধটি বিজেপি রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জির আত্মত্যাগ দিবসে লিখেছেন
পেলে-মেসির কাতারে ইয়ামাল, ১৮ বছরেই বিশ্বকাপে গড়লেন নতুন ইতিহাস
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে হতাশাজনক গোলশূন্য ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিল লামিন ইয়ামাল। আর মাঠে নেমেই কোচের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা। আটলান্টায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে স্পেন। সেই জয়ের নায়ক ১৮ বছরের ইয়ামাল। ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল করে তিনি স্পেনকে এগিয়ে দেন এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। ডান প্রান্ত থেকে আসা নিচু ক্রসে পিছনের পোস্টে দৌড়ে এসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বিশ্বকাপে এটাই তাঁর প্রথম গোল। ইয়ামালের গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন। পরে আরও তিনটি গোল করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে হারানো আত্মবিশ্বাসও ফিরে পায় লা রোহা। তবে শুধু গোলের জন্য নয়, ইতিহাস গড়ার কারণেও আলোচনায় উঠে এসেছেন ইয়ামাল। ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অষ্টম কনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে গেলেন। একই সঙ্গে ছাপিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে। মেসি ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে। অর্থাৎ মেসির চেয়ে ১৪ দিন কম বয়সে বিশ্বকাপের গোলের খাতা খুললেন স্প্যানিশ তারকা। পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার কম বয়সে বিশ্বকাপে নিজের দেশের হয়ে ম্যাচের প্রথম গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি। এর আগে এই নজির ছিল শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সে ওয়েলসের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন পেলে। চোটের কারণে বার্সেলোনার মরসুমের শেষভাগে মাঠের বাইরে থাকতে হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ইয়ামাল। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠছেন তিনি। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাঁর গোল শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক সুপারস্টারের আগমনের বার্তাও দিয়ে গেল।
হ্যারি কেনের ছন্দে বিশ্বকাপ স্বপ্নে ভাসছে ইংল্যান্ড
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস হ্যারি কেনকে এমন দুর্দান্ত ছন্দে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ কবে দেখা গিয়েছে, তা মনে করতে খুব বেশি পিছিয়ে যেতে হবে না। সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলিতে তিনি গোল পেলেও নিজের সেরাটা তুলে ধরতে পারেননি। ২০২৪ ইউরোয় পিঠের চোট নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন। স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়তে হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে মাত্র দু’টি গোল করেছিলেন, আর ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিসের স্মৃতি এখনও তাজা। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে যেন এক নতুন হ্যারি কেনকে দেখা যাচ্ছে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বলা হয়। শুধু গোল করাই নয়, পুরো ইংল্যান্ড আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি। আর এই রূপান্তরের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তাঁর ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের পরিকল্পনা ও যত্নশীল ব্যবস্থাপনার। দুই বছর আগে ইউরো শুরুর আগে চোটে ভুগছিলেন কেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যথা নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন, ফলে টুর্নামেন্টে পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে নামা সম্ভব হয়নি। এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোটা মরসুমে বড় কোনও চোট তাঁকে ভোগায়নি। ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর তিন বছরে মাত্র আটটি ম্যাচ মিস করেছেন তিনি। ফলে শারীরিকভাবে অনেক বেশি সতেজ অবস্থায় বিশ্বকাপে এসেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর খেলার ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন তিনি শুধুই বক্সের ভেতরে অপেক্ষা করা একজন স্ট্রাইকার নন। মাঝমাঠে নেমে খেলা গড়ে তোলা, বল বিতরণ করা এবং আক্রমণের ছন্দ তৈরি করাও তাঁর দায়িত্বের অংশ হয়ে উঠেছে। বায়ার্নে এই ভূমিকায় নিয়মিত খেলার ফলে ইংল্যান্ড দলের কৌশলেও তিনি সহজেই মানিয়ে নিয়েছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে বারবার দেখা গিয়েছে, কখনও ডিফেন্ডারদের কাছ থেকে বল নিচ্ছেন, কখনও মিডফিল্ডে নেমে আক্রমণ সাজাচ্ছেন। কেনের ফিটনেসের আরেকটি বড় কারণ ম্যাচের চাপ কমে যাওয়া। প্রিমিয়ার লিগে ৩৮ ম্যাচের দীর্ঘ মৌসুমের তুলনায় বুন্দেসলিগায় ম্যাচ সংখ্যা কম। পাশাপাশি শীতকালীন বিরতি ও মৌসুমের শেষ দিকে বিশ্রাম পাওয়ায় তাঁর শরীর আরও সতেজ থেকেছে। বায়ার্ন এপ্রিলেই লিগ নিশ্চিত করে ফেলায় কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি শেষ কয়েকটি ম্যাচে কেনকে সীমিত সময় খেলিয়েছেন, যা বিশ্বকাপের আগে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। ৩৩ বছরে পা দিতে চলেছেন হ্যারি কেন। সম্ভবত এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন এখনও অটুট। পার্থক্য শুধু একটাই—এবার তাঁর পাশে রয়েছে ফিট শরীর, দুর্দান্ত ছন্দ এবং সঠিক প্রস্তুতি। তাই প্রশ্ন উঠছেই, হ্যারি কেনের হাত ধরে কি সত্যিই ফুটবল আবার ‘ঘরে ফিরতে’ চলেছে?