গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের শেষ দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি গার্ডেনরিচে পৌঁছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক নৌযান—আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক—আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা। নৌসেনার তরফে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনটি জাহাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসাররাও তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, আইএনএস অগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধক শুধু তিনটি নতুন জাহাজ নয়, এগুলি আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক। তাঁর কথায়, “ভারত আজ নিজের শক্তিকে চিনতে শিখেছে এবং নিজের সক্ষমতার উপর ভরসা করতে শিখেছে। এই জাহাজগুলি সেই নতুন ভারতের প্রতিচ্ছবি, যে দেশ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক শক্তিতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারত নতুন উদ্যম, গতি ও সংকল্প নিয়ে বিশ্বের সামনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পশ্চিমবঙ্গও এই অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি নৌযান ভারতীয় নৌবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা, নজরদারি এবং সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। আইএনএস দুনাগিরি: আধুনিক যুদ্ধজাহাজের নতুন সংযোজন প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে নির্মিত আইএনএস দুনাগিরি এই শ্রেণির পঞ্চম ফ্রিগেট এবং জিআরএসই-তে তৈরি দ্বিতীয় জাহাজ। ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত এই জাহাজ নৌবাহিনীর সম্মুখসারির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নত সিওডিওজি প্রোপালশন ব্যবস্থা এবং ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিও এতে সংযুক্ত রয়েছে। আইএনএস অগ্রয়: উপকূলীয় নিরাপত্তায় নতুন ভরসা আর্নালা-শ্রেণির অগভীর জলে ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ কর্মসূচির অধীনে নির্মিত আইএনএস অগ্রয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সাবমেরিন শনাক্ত ও প্রতিরোধে বিশেষভাবে সক্ষম। জাহাজটিতে রয়েছে হালকা টর্পেডো, দেশীয় প্রযুক্তির অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইএনএস সংশোধক: সমুদ্র জরিপে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সন্ধান-শ্রেণির জরিপ জাহাজ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আইএনএস সংশোধক এই সিরিজের চতুর্থ ও শেষ জাহাজ। প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩,৩০০ টন ওজনের এই জাহাজে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (এইউভি ), দূরনিয়ন্ত্রিত যান (আরওভি ) এবং উন্নত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সরঞ্জাম। সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, নৌপথ নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একসঙ্গে তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌযান নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংযোজন ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর করে তুলবে।
সংখ্যালঘু সেলের সভাপতির পদে ইস্তফা মোশারফের, ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হল। এবার দলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। রবিবার সকালে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান। ইটাহারের জয়হাট চেকপোস্ট এলাকায় নিজের বাড়িতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মোশারফ হোসেন বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক কারণই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সম্প্রতি হজ পালন শেষে দেশে ফেরার পর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে পরিবারের পাশে বেশি সময় দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয় বলেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেও অনুপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন। সেই অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সেই জল্পনার আংশিক অবসান ঘটান। তবে রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তাঁর আরও একটি মন্তব্য। মোশারফ স্বীকার করেন যে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের স্বার্থে কাজ করার জন্য তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং তাঁর নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলছেন। এছাড়াও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে মোশারফ বলেন, অতীতে উত্তর দিনাজপুর জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। এলাকার উন্নয়নই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি সব ধরনের ইতিবাচক সহযোগিতা চান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলার অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়ক ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে মোশারফ হোসেনের এই অবস্থান উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।
মহুয়ার ‘৪০ কোটি’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বিদ্রোহী সাংসদরা, মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ এবার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে করা মহুয়ার একাধিক মন্তব্য তাঁদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলত্যাগী সাংসদদের একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়–সহ এনসিপিআই–তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। কাকলির দাবি, মহুয়ার ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ করার বিষয়ে সাংসদরা একমত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাই না।” বিতর্কের সূত্রপাত মহুয়ার একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ভাঙন প্রসঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের কটাক্ষ করেন। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি দাবি করেন, দলত্যাগী সাংসদরা নাকি মাথাপিছু ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁর পোস্টে উল্লেখ ছিল, “আমাদের সাংসদেরা চার কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন, বাকি ৩৬ মাসে এক কোটি টাকা করে পাবেন।” এই মন্তব্যকেই মানহানিকর বলে দাবি করছে বিদ্রোহী শিবির। তাঁদের মতে, কোনও প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তাই বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমশ বেড়েছে। বিধানসভায় ভাঙনের পর লোকসভাতেও তার প্রভাব পড়ে। এরপর তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনডিএ–সমর্থিত এনসিপিআই–তে যোগ দেন। তবে মহুয়া মৈত্র দলবদল না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা বজায় রেখেছেন।
পূর্ব রেলে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন : সমগ্র দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পূর্ব রেলও অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে। এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ” (Yoga for Healthy Ageing)। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ শুধুমাত্র একটি শারীরিক ব্যায়াম নয়, বরং এটি শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের বার্তা দেন। এই অনুষ্ঠানে পূর্ব রেলের মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করও উপস্থিত ছিলেন। মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করের নির্দেশনায় পূর্ব রেলের সদর দফতর বেলভেডিয়ার রেলওয়ে ক্লাবে বিশেষ যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপ্রবন্ধক শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং, প্রধান মুখ্য কর্মী আধিকারিক ড. মহুয়া বর্মা-সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন। ‘আর্ট অফ লিভিং’ মেডিটেশন সেন্টারের একজন প্রশিক্ষক সাধারণ যোগ প্রোটোকল অনুযায়ী উপস্থিতদের যোগাভ্যাস পরিচালনা করেন। পূর্ব রেলের চারটি বিভাগ এবং তিনটি ওয়ার্কশপেও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিবস পালিত হয়। রেলের বিভিন্ন ইউনিটে আয়োজিত কর্মসূচিতে ২০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং ওয়ার্কশপগুলির চিফ ওয়ার্কশপ ম্যানেজাররা অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও পূর্ব রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেও যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। পূর্ব রেলের অধীনস্থ হাই স্কুলগুলিতে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়ে যোগাভ্যাসের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করে। বি. আর. সিং হাসপাতাল, হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালেও বিশেষ যোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-এর সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরাও সক্রিয়ভাবে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের মতে, যোগ মানসিক চাপ কমানো, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মদক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত রেলকর্মীদের মতো ২৪ ঘণ্টা সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য যোগাভ্যাস অত্যন্ত উপকারী। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রেলের নতুন কড়া আইন : টিকিট ছাড়া যাত্রা থেকে ধূমপান, বাড়ল জরিমানা
সকাল সকাল ডেস্ক নিউ দিল্লী রেলযাত্রাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও যাত্রীবান্ধব করতে ‘জন বিশ্বাস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় রেল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর রেল মন্ত্রক সংশোধিত জরিমানা ও নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, টিকিট ছাড়া বা অবৈধ টিকিটে ভ্রমণ করলে ন্যূনতম ৫০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। অন্যের নামে ইস্যু করা টিকিট ব্যবহার করলেও টিকিট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। স্টেশন বা ট্রেনে অনুমোদনহীন হকারি ও ভিক্ষাবৃত্তির জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, থুতু ফেলা বা অশালীন আচরণের জন্য ১ হাজার টাকা জরিমানা হবে। একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। যাত্রী এলাকায় অনধিকার প্রবেশের জন্য ৫০০ টাকা এবং রেল প্রাঙ্গণ বা ট্রেনে ধূমপানের জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মহিলা কোচ বা সংরক্ষিত আসনে অনধিকার প্রবেশকারী পুরুষ যাত্রীকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সবচেয়ে কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে আপত্তিকর বা বিপজ্জনক সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে, যেখানে ন্যূনতম জরিমানা ১০ হাজার টাকা। রেল মন্ত্রকের মতে, এই সংশোধিত আইন যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়াবে এবং ট্রেন ও স্টেশনের পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন করে তুলবে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজনৈতিক বার্তা, শ্যামাপ্রসাদ স্মরণে মোদী–শাহ, তোপ শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা আজ ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে দিনভর নানা বার্তা ও প্রতিক্রিয়ায় সরগরম হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তায় উঠে আসে ইতিহাস, মতাদর্শ এবং পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও সমাজ সংস্কারের নানা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০ জুনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিনেই নিশ্চিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবে। তিনি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে স্মরণ করে জানান, তাঁর দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরে তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়নের বার্তা দিয়ে তিনি রাজ্যের অগ্রগতির জন্য শুভকামনা জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও নবজাগরণের পীঠস্থান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভক্তি আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রাজ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে তার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। তিনি মা দুর্গার কাছে রাজ্যের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পথ সুগম করেছিল এবং তাঁর অবদান স্মরণীয়। সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় পর প্রথমবার একটি “রাষ্ট্রবাদী সরকার” পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনাক্রমকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল এবং ২০ জুনের তাৎপর্যকে আড়াল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, সেই সময় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি ও তোষণের সংস্কৃতি ইতিহাসের সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শুভেন্দু আরও বলেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হত না। তিনি ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ দৃঢ় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি আরও স্মরণ করেন স্বামী প্রণবানন্দ এবং তৎকালীন আইনসভার সদস্যদের অবদান, যাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজ্যটি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাঁর দাবি, এই ইতিহাস ভুলে যাওয়া মানে বাঙালির আত্মপরিচয়কে অস্বীকার করা। সবশেষে শুভেন্দু রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানান, শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ অনুসরণ করে একটি নতুন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার জন্য একত্রিত হতে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন শুভেচ্ছা ও ঐতিহ্য স্মরণের বার্তা উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই রাজনৈতিক ইতিহাস ও মতাদর্শ নিয়ে নতুন করে বিতর্কও তীব্র হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
দমদম বিমানবন্দর-কাণ্ডে অভিষেকের বিস্ফোরক অভিযোগ, চরমে রাজনৈতিক উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা দিল্লি সফর শেষে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছাতেই বিক্ষোভ ও হাতাহাতির পরিস্থিতির মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদম বিমানবন্দর কাণ্ড ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনার পর শনিবার তিনি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং এর মাধ্যমে তাঁর কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এর পেছনে বিজেপি নেতৃত্বের যোগসাজশ রয়েছে এবং তাঁকে লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত উস্কানি তৈরি করা হয়েছে। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, সেখানে হলুদ পোশাক পরা এক যুবকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। ওই ব্যক্তির নাম উত্তম দাস বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং দাবি করেন, তিনি দমদম এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিজেপি নেতা। অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই যুবকের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতার আরও কিছু প্রমাণও তার কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি কাঁথির শান্তিকুঞ্জের সামনে শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানাতে ওই ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতের দিক থেকে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেরার সময় বিমানবন্দরে জমায়েত করেন একদল বিজেপি সমর্থক, যাদের হাতে ‘ডিম’ ছিল বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা অভিষেককে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পাল্টা তৃণমূল কর্মীরাও সেখানে জড়ো হন এবং দ্রুতই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বিমানবন্দর চত্বরে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরে এনএসসিবিআই থানার পুলিশ মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৫ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন, যিনি রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ এবং ব্রাত্য বসুর ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে শাসকদল দাবি করছে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত উস্কানি। ঘটনাটি ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা আরও কড়াকড়ি করা হবে এবং যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পুলিশ ও রাজনৈতিক মহল ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সুরুচি সংঘকে জমি খালি করার নোটিস, চাপে বিশ্বাস ব্রাদার্স
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতার অন্যতম পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো আয়োজক নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘকে ঘিরে এবার সামনে এল জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসি দাবি করেছে, তাদের মালিকানাধীন জমি বেআইনিভাবে দখল করে ক্লাবঘর এবং পুজোর বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট জমি আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়ে ক্লাবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। শনিবার এলআইসি-র প্রতিনিধিরা সুরুচি সংঘের ক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিস টাঙিয়ে দেন। সংস্থার আইনজীবীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমি খালি না করা হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিউ আলিপুরের অত্যন্ত মূল্যবান ৪৯৮, ৪৯৯, ৫০০ এবং ৫০১ নম্বর চারটি বাণিজ্যিক প্লট দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা হয়েছে। এই জমিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণকাজও হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের তির এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের দিকে। সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন ওই জমি ব্যবহার করা হয়েছে। এলআইসি সূত্রে দাবি, জমি দখল নিয়ে এর আগেও একাধিকবার আপত্তি জানানো হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে সংস্থাটি নিজেদের মালিকানাধীন জমি পুনরুদ্ধারে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ফলে ১৮ জুলাইয়ের সময়সীমাকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এদিকে স্বরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, মেসিকে কলকাতায় আনার উদ্যোগকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অরূপ বিশ্বাসও তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে সুরুচি সংঘকে জমি খালি করার নোটিস বিশ্বাস পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট মহলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। এখন নজর ১৮ জুলাইয়ের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি খালি করা হয় কি না এবং এলআইসি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিধানসভায় স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলা, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২০ জুন : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে এবার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের বাসভবনে গেল রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার সকালে তদন্তকারীদের একটি দল বালিগঞ্জের বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে আধিকারিকরা তাঁকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তারপর সেখান থেকে রওনা দেন। তদন্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে এর পাশাপাশি তিনি দাবি তোলেন, যাঁরা স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তিনি বলেন, প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষরের সময় সংশ্লিষ্ট সকলেই উপস্থিত ছিলেন, তাই অভিযোগকারীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার। উল্লেখ্য, বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পক্ষ থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোসের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়, যেখানে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে শোভনদেবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল বলে জানানো হয়। তবে বিধানসভার অধ্যক্ষ সেই চিঠি গ্রহণ করেননি এবং ওই স্বাক্ষরে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা অধ্যক্ষের কাছে স্বাক্ষর জালিয়াতির এই লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস এই দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করে। এই ঘটনার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করে অধ্যক্ষকে চিঠি দেন এবং তাঁকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়। অধ্যক্ষের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ এই সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে। এরপর শোভনদেব ডিভিশন বেঞ্চে আপিল দায়ের করেন, যার শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকার এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে সঁপেছে। তদন্তকারী সংস্থাটি এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে ডেকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এছাড়াও সিআইডি তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে। ইতিমধ্যে বহু বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছেন আধিকারিকরা, আবার অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশও পাঠানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সিআইডি আধিকারিকরা তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিশ দিতে গিয়েছিলেন। সে সময় তিনি দিল্লিতে থাকায় তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য নোটিশ নিতে রাজি হননি। সূত্র মারফত জানা গেছে, সিআইডি দল শনিবার আবারও তাঁর আবাসে যেতে পারে।
লুকোচুরি শেষ, পুলিশের জালে ধরা পড়লো জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা
সকাল সকাল ডেস্কফলতা, ২০ জুন : লুকোচুরি শেষ, এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লো জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিও। গত কয়েক দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অভিযোগ, স্বামীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার চক্রান্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই থানা ঘেরাও করা হয়েছিল। থানায় হামলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। শনিবার সকালে ফলতা থানার পুলিশ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। থানা ঘেরাওয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেজিনা বিবি ছিলেন পলাতক, অবশেষে তাঁকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, ফলতার ত্রাস হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা আসনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গির। এই ফলতায় পুনর্নির্বাচনও হয়েছিল। পুনর্নির্বাচনের আগে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির।