হ্যারি কেনের ছন্দে বিশ্বকাপ স্বপ্নে ভাসছে ইংল্যান্ড

সকাল সকাল ডেস্ক

লস এঞ্জেলস

হ্যারি কেনকে এমন দুর্দান্ত ছন্দে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ কবে দেখা গিয়েছে, তা মনে করতে খুব বেশি পিছিয়ে যেতে হবে না। সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলিতে তিনি গোল পেলেও নিজের সেরাটা তুলে ধরতে পারেননি। ২০২৪ ইউরোয় পিঠের চোট নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন। স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়তে হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে মাত্র দু’টি গোল করেছিলেন, আর ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিসের স্মৃতি এখনও তাজা।

কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে যেন এক নতুন হ্যারি কেনকে দেখা যাচ্ছে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বলা হয়। শুধু গোল করাই নয়, পুরো ইংল্যান্ড আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি। আর এই রূপান্তরের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তাঁর ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের পরিকল্পনা ও যত্নশীল ব্যবস্থাপনার।

দুই বছর আগে ইউরো শুরুর আগে চোটে ভুগছিলেন কেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যথা নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন, ফলে টুর্নামেন্টে পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে নামা সম্ভব হয়নি। এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোটা মরসুমে বড় কোনও চোট তাঁকে ভোগায়নি। ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর তিন বছরে মাত্র আটটি ম্যাচ মিস করেছেন তিনি। ফলে শারীরিকভাবে অনেক বেশি সতেজ অবস্থায় বিশ্বকাপে এসেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

তাঁর খেলার ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন তিনি শুধুই বক্সের ভেতরে অপেক্ষা করা একজন স্ট্রাইকার নন। মাঝমাঠে নেমে খেলা গড়ে তোলা, বল বিতরণ করা এবং আক্রমণের ছন্দ তৈরি করাও তাঁর দায়িত্বের অংশ হয়ে উঠেছে। বায়ার্নে এই ভূমিকায় নিয়মিত খেলার ফলে ইংল্যান্ড দলের কৌশলেও তিনি সহজেই মানিয়ে নিয়েছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে বারবার দেখা গিয়েছে, কখনও ডিফেন্ডারদের কাছ থেকে বল নিচ্ছেন, কখনও মিডফিল্ডে নেমে আক্রমণ সাজাচ্ছেন।

কেনের ফিটনেসের আরেকটি বড় কারণ ম্যাচের চাপ কমে যাওয়া। প্রিমিয়ার লিগে ৩৮ ম্যাচের দীর্ঘ মৌসুমের তুলনায় বুন্দেসলিগায় ম্যাচ সংখ্যা কম। পাশাপাশি শীতকালীন বিরতি ও মৌসুমের শেষ দিকে বিশ্রাম পাওয়ায় তাঁর শরীর আরও সতেজ থেকেছে। বায়ার্ন এপ্রিলেই লিগ নিশ্চিত করে ফেলায় কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি শেষ কয়েকটি ম্যাচে কেনকে সীমিত সময় খেলিয়েছেন, যা বিশ্বকাপের আগে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

৩৩ বছরে পা দিতে চলেছেন হ্যারি কেন। সম্ভবত এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন এখনও অটুট। পার্থক্য শুধু একটাই—এবার তাঁর পাশে রয়েছে ফিট শরীর, দুর্দান্ত ছন্দ এবং সঠিক প্রস্তুতি। তাই প্রশ্ন উঠছেই, হ্যারি কেনের হাত ধরে কি সত্যিই ফুটবল আবার ‘ঘরে ফিরতে’ চলেছে?

গাভাইয়ের উত্তরসূরি সূর্য কান্ত, শপথ নিলেন সুপ্রিম কোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি

নয়াদিল্লি : সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিদায়ী প্রধান...

November 24, 2025

Read More News

ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাবে না, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে. রবি কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড়...

Read More