বার্নহামের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্বে আসা ঠেকাতে সক্রিয় লেবারের জ্যেষ্ঠ নেতারা

সকাল সকাল ডেস্ক

লন্ডন: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ ঘোষণার পর শাসক লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নহাম যেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতৃত্বে না আসতে পারেন, সে জন্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস জানিয়েছেন, তিনি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন কি না, তা এখনও চূড়ান্ত করেননি। একই সঙ্গে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ড্যারেন জোনসও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাই সাধারণত প্রধানমন্ত্রী হন। ফলে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দলীয় সূত্রের দাবি, অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অ্যান্ডি বার্নহাম সহজেই নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে যেতে পারেন। সেই সম্ভাবনা এড়াতেই বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর আলোচনা চলছে।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আল কার্নস বলেন, তিনি এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই। তবে তিনি এমন রাজনীতির পক্ষে, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তব ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেয়।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কিয়ার স্টারমার দলীয় পরিচালনা পর্ষদকে দ্রুত নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তা শেষ করতে হবে। প্রার্থী হতে হলে অন্তত ৮১ জন লেবার সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে দলের সাফল্যের পর অ্যান্ডি বার্নহাম নেতৃত্বের দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যেই নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকে প্রথমদিকে বার্নহামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হলেও তিনি পরে বার্নহামের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে বার্নহামের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে দলের একটি অংশ মনে করছে, নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের আগে সম্ভাব্য নেতাদের যোগ্যতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত।

এদিকে বিরোধী দলগুলোও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব থেকে লেবারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অ্যান্ডি বার্নহাম শেষ পর্যন্ত এককভাবে এগিয়ে যান, নাকি তাঁকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়।

Read More News

ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাবে না, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে. রবি কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড়...

Read More