রাম মন্দিরে অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে সরব কেজরিওয়াল, রিপোর্ট জমা দিল এসআইটি

সকাল সকাল ডেস্ক।

নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান এবং মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একই দিনে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেজরিওয়াল দাবি করেন, রাম মন্দির থেকে বিপুল পরিমাণ অনুদানের অর্থ এবং মূল্যবান সামগ্রী নিখোঁজ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে যে প্রায় ২০০ কোটি টাকার নগদ অর্থের পাশাপাশি গয়না ভর্তি একাধিক বাক্সও উধাও হয়েছে। এই ঘটনায় দেশের কোটি কোটি রামভক্ত গভীরভাবে ব্যথিত এবং উদ্বিগ্ন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কেজরিওয়াল বলেন, “এই ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে। আমি বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, সকলেই জানতে চাইছেন আসলে কী ঘটেছে এবং এর জন্য দায়ী কারা।”

রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আপ প্রধান। তাঁর অভিযোগ, মন্দিরের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব চম্পত রায়ের হাতেই রয়েছে। এত বড় অভিযোগ সামনে আসার পরেও তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি।

কেজরিওয়ালের প্রশ্ন, “তাঁকে কি প্রমাণ নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে? সাক্ষীদের প্রভাবিত করার সময় দেওয়া হচ্ছে? তাঁকে আড়াল করছে কারা? দেশের মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়।”

অন্যদিকে, এই অভিযোগের তদন্তে উত্তর প্রদেশ সরকার যে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছিল, তারা মঙ্গলবার তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এসআইটির রিপোর্ট উত্তর প্রদেশের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বরাষ্ট্র) সঞ্জয় প্রসাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

যদিও রিপোর্টের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবে প্রশাসনিক সূত্রের খবর, তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে প্রাথমিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট পর্যালোচনার পর রাজ্য সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগ এবং তদন্তের অগ্রগতি এখন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Read More News

Read More