সকাল সকাল ডেস্ক
আর্লিংটন
ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির জাদু নতুন কিছু নয়। তবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ম্যাচে আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য, যা আরও একবার প্রমাণ করল—মেসির জনপ্রিয়তা বয়সের কোনও সীমারেখা মানে না।
একদিকে মায়ের কোলে বসা একরত্তি শিশু, যার বয়স এখনও এক বছরও পূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে গ্যালারিতে উপস্থিত ১০০ বছরের এক বৃদ্ধা। দু’জনের জীবনের দূরত্ব প্রায় এক শতাব্দী, কিন্তু তাঁদের উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু একজনই—লিওনেল মেসি।
ম্যাচ চলাকালীন সম্প্রচারকারী সংস্থার ক্যামেরা বারবার ঘুরে যায় দর্শকাসনের দিকে। সেখানে ধরা পড়ে এই দুই বিশেষ সমর্থকের ছবি। মুহূর্তের মধ্যে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ‘মেসি-ম্যানিয়া’র এই অনন্য রূপ।
শতবর্ষী সমর্থক পলিন কানা, যিনি সামাজিক মাধ্যমে ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে পরিচিত, ছিলেন গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণ। ১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া পলিন নাতি রস স্মিথের সঙ্গে কৌতুকধর্মী ভিডিও তৈরি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নাম তুলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন মেসির একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবেও। ইন্টার মায়ামি থেকে আর্জেন্টিনা—মেসির প্রতিটি ম্যাচই নিয়মিত অনুসরণ করেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও নীল-সাদা জার্সি পরে হাজির ছিলেন স্টেডিয়ামে।
অন্যদিকে, গ্যালারির আরেক প্রান্তে দেখা যায় মায়ের কোলে বসা এক শিশু সমর্থককে। স্টেডিয়ামের প্রচণ্ড শব্দ থেকে রক্ষা করতে তার কানে পরানো হয়েছিল বড় হেডফোন। তবুও মাঠের দিকে ছিল তার কৌতূহলী দৃষ্টি।
তবে দর্শকাসনের এই আবেগঘন ছবিগুলোকেও ছাপিয়ে ম্যাচের নায়ক ছিলেন মেসিই। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ জয়ে দুটি গোল করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। প্রথম গোলটি আসে ৩৮ মিনিটে, ফাকুন্দো মেদিনার পাস থেকে। যোগ করা সময়ে করেন দ্বিতীয় গোল। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও ছন্দ হারাননি তিনি।
এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেন মেসি। তাঁর মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৮-তে। পেছনে পড়ে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজে। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই ১৮ গোলের মধ্যে ১১টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়স পার করার পর।এক শতবর্ষী বৃদ্ধা থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু—প্রজন্ম বদলায়, সময় বদলায়, কিন্তু মেসির প্রতি ভালোবাসা যেন একই থাকে।
No Comment! Be the first one.