স্পেনকে রুখে, উরুগুয়েকে আটকে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে কেপ ভার্দে
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস বিশ্বকাপ শুরুর আগে গ্রুপ ‘এইচ’-এর ছবি ছিল একেবারে পরিষ্কার। ফুটবলবিশ্বের ধারণা ছিল, স্পেন এবং উরুগুয়ে সহজেই নকআউট পর্বে পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় আর সম্মান রক্ষার মধ্যে। কিন্তু মাত্র দুই ম্যাচের মধ্যেই সেই সমস্ত হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া দলটি প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয়। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়েও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ২–২ সমতা আদায় করে সবাইকে চমকে দেয়। মাত্র ছ’লক্ষ জনসংখ্যার দেশটি এখন নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে, আর সেই স্বপ্ন আর কল্পনা নয়—বাস্তব সম্ভাবনা। দুই ম্যাচ শেষে স্পেন চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে এবং কার্যত শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে। কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ের পয়েন্ট সমান, দু’টি করে। তবে গোলসংখ্যা ও টাইব্রেকারের নিরিখে কেপ ভার্দে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সৌদি আরবের ঝুলিতে রয়েছে এক পয়েন্ট। এবার সব নজর ২৬ জুনের ম্যাচে। হিউস্টনে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। সমীকরণ খুবই সহজ—জিতলেই নিশ্চিত নকআউট। ড্র করলেও সম্ভাবনা থাকবে, তবে তখন স্পেন বনাম উরুগুয়ে ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। যদি উরুগুয়ে জয় না পায়, তাহলে কেপ ভার্দে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখে পরের পর্বে পৌঁছে যাবে। তবে হারলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। তখন গোলপার্থক্য, অন্যান্য গ্রুপের ফল এবং সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির তালিকার ওপর নির্ভর করতে হবে। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাটে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও শেষ বত্রিশে সুযোগ পায়। সবচেয়ে বেশি চাপ এখন উরুগুয়ের ওপর। তাদের শেষ ম্যাচ খেলতে হবে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল স্পেনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের সামনে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। তাই ইতিহাস গড়ার সুযোগ এখন পুরোপুরি তাদের হাতেই। প্রথম বিশ্বকাপেই যদি কেপ ভার্দে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে, তবে তা হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন এবং অনুপ্রেরণার গল্প।
কোহলির প্রত্যাবর্তন, বাদ বরুণ! ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে দলে একাধিক চমক বিসিসিআইয়ের
ইংল্যান্ড সফরের জন্য ভারতের ওয়ানডে দল ঘোষণা করল বিসিসিআই। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পরই আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত দলে সবচেয়ে বড় খবর বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারেননি ভারতের তারকা ব্যাটার। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁকে দলে রাখা হয়েছে। তবে কোহলির অন্তর্ভুক্তি সম্পূর্ণভাবে তাঁর ফিটনেসের ওপর নির্ভর করছে। আইপিএল শেষ হওয়ার পর থেকেই তিনি লন্ডনে রয়েছেন এবং সেখানেই ব্যক্তিগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিসিসিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে ফিরে তাঁকে সেন্টার অব এক্সেলেন্সে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে। মেডিক্যাল টিমের ছাড়পত্র পেলেই তিনি মাঠে নামতে পারবেন। দলে ফিরেছেন তারকা পেসার যশপ্রীত বুমরাও। আফগানিস্তান সিরিজে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে চোটের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। পায়ের সমস্যার জন্য তিনি শুধু ইংল্যান্ড নয়, আয়ারল্যান্ড সফর থেকেও ছিটকে গিয়েছেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন তরুণ অলরাউন্ডার গুরনুর ব্রার। তাঁকে ইংল্যান্ড সফরের দলেও রাখা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেও সুযোগ পাননি যশস্বী জয়সওয়াল। তাঁর বাদ পড়া নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগেই জানা গিয়েছিল, এই সিরিজে খেলবেন না হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর জায়গায় স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নীতিশ রেড্ডি। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই অবদান রাখার ক্ষমতার জন্য নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে ভারত-ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যা চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। এরপর ১৪, ১৬ এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ফলে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের মূল আকর্ষণ এখন বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর ফিটনেস পরিস্থিতি। ভারতের ওয়ানডে দল: শুভমন গিল (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আইয়ার (সহ-অধিনায়ক), কে এল রাহুল, ঈশান কিষান, ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর প্যাটেল, নীতিশ রেড্ডি, কুলদীপ যাদব, হর্ষিত রানা, অর্শদীপ সিং, যশপ্রীত বুমরা, গুরনুর ব্রার এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ।
মাঠে ড্র, ড্রেসিংরুমে বার্তা! লস অ্যাঞ্জেলেসে ভাইরাল ইরানের ‘শান্তির নোট’
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, কখনও কখনও তা হয়ে ওঠে আবেগ, পরিচয় এবং মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মঞ্চও। চলতি বিশ্বকাপে ঠিক তেমনই এক নজির গড়ল ইরান। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানি ফুটবলারদের রেখে যাওয়া একটি হাতে লেখা নোট। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া সেই বার্তা এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করে একটি সাদা কাগজে নিজেদের অনুভূতি লিখে যান ইরানের ফুটবলাররা। সেখানে লেখা ছিল, “হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের আধুনিক ইরান—ইরানের আত্মা এখনও অটুট। আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম, সম্মানের সঙ্গে খেলেছি এবং মর্যাদা নিয়েই ফিরছি।” শুধু নিজেদের গর্বের কথাই নয়, সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দল। নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, “যাঁরা ১৮০ মিনিট ধরে নিজেদের হৃদয়, কণ্ঠস্বর ও আত্মা উজাড় করে ইরানকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ।” তবে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে শেষের বার্তাটি—“সমস্ত দেশের মধ্যে শান্তি, পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব বিরাজ করুক।” এই শান্তির আহ্বানের মধ্যেই ছিল এক নীরব প্রতিবাদও। নোটে ব্যবহৃত দুটি হ্যাশট্যাগ—#168 এবং #Minab—নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। জানা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে বোমা হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণ করতেই এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। কোনও সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না রেখেও ইরানি ফুটবলাররা বিশ্বমঞ্চে মানবিক এক বার্তা তুলে ধরেছেন। চলতি বিশ্বকাপে মাঠের বাইরেও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে ইরান। মার্কিন অভিবাসন নীতির কারণে দলকে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের পরিকল্পিত বেস ক্যাম্প সরিয়ে নিতে হয় মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। সেখান থেকে নিয়মিত বিমানযাত্রা করে ম্যাচ খেলতে আসতে হচ্ছে ফুটবলারদের। ভিসা জটিলতার কারণে কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফও দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। বেলজিয়াম ম্যাচের পর ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই বলেন, অন্য অনেক দলের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলতে হচ্ছে তাঁদের। এমনকি তিনি ইরানকে “এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বঞ্চিত দল” বলেও উল্লেখ করেন। তবে মাঠে সেই প্রতিকূলতার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি ইরানের ফুটবলাররা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র এবং বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ০-০ ফল করে তারা এখনও নকআউটের লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। এবার সামনে মিশর। সেই ম্যাচে জয় পেলে ইতিহাস গড়ে পরের পর্বে পৌঁছতে পারে ইরান। ফল যাই হোক, সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া একটি ছোট্ট নোট ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছে—ফুটবল কখনও কখনও শুধু খেলা নয়, মানবতারও ভাষা।
অভিষেকের পাশে থেকেও তৃণমূলে কোণঠাসা কল্যাণ? আইনজীবী নিয়োগ ঘিরে নতুন জল্পনা
কলকাতা, ২১ জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব কি ক্রমশ বাড়ছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘিরে জোরাল জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মামলা, এমনকি সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতি ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি তৃণমূলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন। ফলে দলের ‘আইনজীবী মুখ’ হিসেবে তাঁর ভূমিকা এতদিন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। তবে গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা বদলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মামলার দায়িত্ব থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে অভিষেকের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেন তিনি এবং তাঁকে ‘পুত্রসম’ বলেও অভিহিত করেন। তবুও সূত্রের খবর, দলের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে আবারও অসন্তোষের সুর শোনা যায় কল্যাণের গলায়। সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর পাশাপাশি বা তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীর নামও এই আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গেছে। মানেকা গুরুস্বামী অতীতে রাজ্য সরকারের হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করেছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নেতৃত্ব আগ্রহী বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে এই প্রস্তাব ঘিরে আপত্তি জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, দীর্ঘদিনের ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব হ্রাসের ইঙ্গিত তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তাৎপর্যপূর্ণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁর অবস্থান থাকলেও দলের ভিতরে ক্রমশ তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে জল্পনা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দলের অভ্যন্তরে আইনজীবী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন ঘিরে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা অব্যাহত।
বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় নতুন মোড়, শোভনদেবকে জেরার পর উদ্ধার তৃণমূলের ‘রেজোলিউশন বুক’
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত বহুচর্চিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ চালানোর পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রেজোলিউশন বুক’-এর একটি কপি উদ্ধার করেছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ নথির সন্ধান মেলে। শনিবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান সিআইডি আধিকারিকরা। সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যও নথিবদ্ধ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই রেজোলিউশন বুকের কপি তাঁদের হাতে আসে। এখন ওই নথিতে থাকা বিধায়কদের স্বাক্ষর খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশনে থাকা কিছু স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। তদন্তকারীদের মতে, মামলার সত্যতা নির্ধারণে এই নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং পরিষদীয় দলের অন্যান্য পদাধিকারীদের নাম অনুমোদনের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক রেজোলিউশন পাশ করা হয়। সেই রেজোলিউশনের একটি কপি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা থাকে এবং অন্য একটি কপি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সংরক্ষণে থাকে। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে ওই নথি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি হরিশ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটে থাকার কথা। তদন্তের স্বার্থে এর আগে ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হলেও রেজোলিউশন বুকের হদিস মেলেনি। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের খবর। এরপর তদন্তের দিশা বদলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম অনুমোদনের জন্য যে রেজোলিউশন জমা পড়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগ, ওই নথিতে যাঁদের স্বাক্ষর রয়েছে, তাঁদের অনেকেই সই করার সময় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রেজোলিউশন বুক উদ্ধারের ফলে এবার সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পথে তদন্ত অনেকটাই এগোল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের শেষ দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি গার্ডেনরিচে পৌঁছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক নৌযান—আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক—আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা। নৌসেনার তরফে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনটি জাহাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসাররাও তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, আইএনএস অগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধক শুধু তিনটি নতুন জাহাজ নয়, এগুলি আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক। তাঁর কথায়, “ভারত আজ নিজের শক্তিকে চিনতে শিখেছে এবং নিজের সক্ষমতার উপর ভরসা করতে শিখেছে। এই জাহাজগুলি সেই নতুন ভারতের প্রতিচ্ছবি, যে দেশ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক শক্তিতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারত নতুন উদ্যম, গতি ও সংকল্প নিয়ে বিশ্বের সামনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পশ্চিমবঙ্গও এই অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি নৌযান ভারতীয় নৌবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা, নজরদারি এবং সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। আইএনএস দুনাগিরি: আধুনিক যুদ্ধজাহাজের নতুন সংযোজন প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে নির্মিত আইএনএস দুনাগিরি এই শ্রেণির পঞ্চম ফ্রিগেট এবং জিআরএসই-তে তৈরি দ্বিতীয় জাহাজ। ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত এই জাহাজ নৌবাহিনীর সম্মুখসারির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নত সিওডিওজি প্রোপালশন ব্যবস্থা এবং ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিও এতে সংযুক্ত রয়েছে। আইএনএস অগ্রয়: উপকূলীয় নিরাপত্তায় নতুন ভরসা আর্নালা-শ্রেণির অগভীর জলে ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ কর্মসূচির অধীনে নির্মিত আইএনএস অগ্রয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সাবমেরিন শনাক্ত ও প্রতিরোধে বিশেষভাবে সক্ষম। জাহাজটিতে রয়েছে হালকা টর্পেডো, দেশীয় প্রযুক্তির অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইএনএস সংশোধক: সমুদ্র জরিপে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সন্ধান-শ্রেণির জরিপ জাহাজ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আইএনএস সংশোধক এই সিরিজের চতুর্থ ও শেষ জাহাজ। প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩,৩০০ টন ওজনের এই জাহাজে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (এইউভি ), দূরনিয়ন্ত্রিত যান (আরওভি ) এবং উন্নত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সরঞ্জাম। সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, নৌপথ নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একসঙ্গে তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌযান নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংযোজন ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর করে তুলবে।
সংখ্যালঘু সেলের সভাপতির পদে ইস্তফা মোশারফের, ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হল। এবার দলের সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। রবিবার সকালে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান। ইটাহারের জয়হাট চেকপোস্ট এলাকায় নিজের বাড়িতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মোশারফ হোসেন বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক কারণই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সম্প্রতি হজ পালন শেষে দেশে ফেরার পর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে পরিবারের পাশে বেশি সময় দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয় বলেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেও অনুপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন। সেই অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সেই জল্পনার আংশিক অবসান ঘটান। তবে রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তাঁর আরও একটি মন্তব্য। মোশারফ স্বীকার করেন যে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের স্বার্থে কাজ করার জন্য তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং তাঁর নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলছেন। এছাড়াও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে মোশারফ বলেন, অতীতে উত্তর দিনাজপুর জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। এলাকার উন্নয়নই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি সব ধরনের ইতিবাচক সহযোগিতা চান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলার অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়ক ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে মোশারফ হোসেনের এই অবস্থান উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।
মহুয়ার ‘৪০ কোটি’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বিদ্রোহী সাংসদরা, মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ এবার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে করা মহুয়ার একাধিক মন্তব্য তাঁদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলত্যাগী সাংসদদের একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়–সহ এনসিপিআই–তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। কাকলির দাবি, মহুয়ার ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ করার বিষয়ে সাংসদরা একমত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাই না।” বিতর্কের সূত্রপাত মহুয়ার একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ভাঙন প্রসঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের কটাক্ষ করেন। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি দাবি করেন, দলত্যাগী সাংসদরা নাকি মাথাপিছু ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁর পোস্টে উল্লেখ ছিল, “আমাদের সাংসদেরা চার কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন, বাকি ৩৬ মাসে এক কোটি টাকা করে পাবেন।” এই মন্তব্যকেই মানহানিকর বলে দাবি করছে বিদ্রোহী শিবির। তাঁদের মতে, কোনও প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তাই বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমশ বেড়েছে। বিধানসভায় ভাঙনের পর লোকসভাতেও তার প্রভাব পড়ে। এরপর তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনডিএ–সমর্থিত এনসিপিআই–তে যোগ দেন। তবে মহুয়া মৈত্র দলবদল না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা বজায় রেখেছেন।
পূর্ব রেলে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন : সমগ্র দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পূর্ব রেলও অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে। এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ” (Yoga for Healthy Ageing)। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ শুধুমাত্র একটি শারীরিক ব্যায়াম নয়, বরং এটি শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের বার্তা দেন। এই অনুষ্ঠানে পূর্ব রেলের মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করও উপস্থিত ছিলেন। মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করের নির্দেশনায় পূর্ব রেলের সদর দফতর বেলভেডিয়ার রেলওয়ে ক্লাবে বিশেষ যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপ্রবন্ধক শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং, প্রধান মুখ্য কর্মী আধিকারিক ড. মহুয়া বর্মা-সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন। ‘আর্ট অফ লিভিং’ মেডিটেশন সেন্টারের একজন প্রশিক্ষক সাধারণ যোগ প্রোটোকল অনুযায়ী উপস্থিতদের যোগাভ্যাস পরিচালনা করেন। পূর্ব রেলের চারটি বিভাগ এবং তিনটি ওয়ার্কশপেও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিবস পালিত হয়। রেলের বিভিন্ন ইউনিটে আয়োজিত কর্মসূচিতে ২০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং ওয়ার্কশপগুলির চিফ ওয়ার্কশপ ম্যানেজাররা অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও পূর্ব রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেও যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। পূর্ব রেলের অধীনস্থ হাই স্কুলগুলিতে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়ে যোগাভ্যাসের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করে। বি. আর. সিং হাসপাতাল, হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালেও বিশেষ যোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-এর সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরাও সক্রিয়ভাবে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের মতে, যোগ মানসিক চাপ কমানো, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মদক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত রেলকর্মীদের মতো ২৪ ঘণ্টা সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য যোগাভ্যাস অত্যন্ত উপকারী। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রেলের নতুন কড়া আইন : টিকিট ছাড়া যাত্রা থেকে ধূমপান, বাড়ল জরিমানা
সকাল সকাল ডেস্ক নিউ দিল্লী রেলযাত্রাকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও যাত্রীবান্ধব করতে ‘জন বিশ্বাস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভারতীয় রেল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর রেল মন্ত্রক সংশোধিত জরিমানা ও নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, টিকিট ছাড়া বা অবৈধ টিকিটে ভ্রমণ করলে ন্যূনতম ৫০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। অন্যের নামে ইস্যু করা টিকিট ব্যবহার করলেও টিকিট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। স্টেশন বা ট্রেনে অনুমোদনহীন হকারি ও ভিক্ষাবৃত্তির জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, থুতু ফেলা বা অশালীন আচরণের জন্য ১ হাজার টাকা জরিমানা হবে। একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে। যাত্রী এলাকায় অনধিকার প্রবেশের জন্য ৫০০ টাকা এবং রেল প্রাঙ্গণ বা ট্রেনে ধূমপানের জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মহিলা কোচ বা সংরক্ষিত আসনে অনধিকার প্রবেশকারী পুরুষ যাত্রীকে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সবচেয়ে কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে আপত্তিকর বা বিপজ্জনক সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে, যেখানে ন্যূনতম জরিমানা ১০ হাজার টাকা। রেল মন্ত্রকের মতে, এই সংশোধিত আইন যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়াবে এবং ট্রেন ও স্টেশনের পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন করে তুলবে।