ধর্মতলা কাণ্ডে আরও গ্রেফতার, অভিযুক্তদের নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে আয়োজিত মিছিল ঘিরে সংঘর্ষ, পুলিশের উপর হামলা এবং সাংবাদিকদের নিগ্রহের ঘটনায় তদন্তে গতি এনেছে কলকাতা পুলিশ। রবিবার আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ছাত্র নন, বরং তাঁদের একাংশ ‘জামাতি’ ও ‘মৌলবাদী’। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও বার্তা দিয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মতলার বিক্ষোভ চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী পুলিশের দিকে জলের বোতল, জুতো এবং অন্যান্য বস্তু ছুড়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। সেই সময় কর্তব্যরত সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকদের উপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় একাধিক সাংবাদিক আহত হন। পরে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি-সহ মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সবকটি মামলায় গুন্ডাদমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন কড়েয়ার শাহবাজ খান, রাজাবাগানের শেখ মহম্মদ সলমান হোসেন এবং ভাঙড়ের মহম্মদ জহিরউদ্দিন মোল্লা। এর আগে মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, তাঁরা ভিনরাজ্যে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় ধৃতদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যেমন খারিজি মাদ্রাসা সংক্রান্ত তদন্ত, ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা, পশু আইন ও সাউন্ড পলিসি বাস্তবায়নের ফলে ক্ষুব্ধ কিছু গোষ্ঠী অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মতলা কাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর সংগঠিত চক্র বা পরিকল্পিত উস্কানির যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখলেন অমিত শাহ, সীমান্ত সুরক্ষায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি : কেন্দ্রে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন অমিত শাহ। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাতেই সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেন তিনি। শনিবার সকালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। সীমান্তে কর্তব্যরত জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জুমাগাছ সীমান্ত চৌকিসহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসও করেন। পরে উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগকারী শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার ওপর। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। সরকারি সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ রোধ করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের তথ্যভাণ্ডারকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল রূপ দেওয়া, জাল ভোটার পরিচয়পত্র এবং ভুয়ো নথির মাধ্যমে পরিচয় তৈরির প্রবণতা রুখতেও বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং জাল নথির মাধ্যমে পরিচয় তৈরির মতো কর্মকাণ্ড রুখতে কেন্দ্র সরকার নতুন কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সমগ্র দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা, ২১ জুন: দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের শেষ দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি গার্ডেনরিচে পৌঁছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক নৌযান—আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক—আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর. এন. রবি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা। নৌসেনার তরফে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনটি জাহাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসাররাও তাঁদের অভিমত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, আইএনএস অগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধক শুধু তিনটি নতুন জাহাজ নয়, এগুলি আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক। তাঁর কথায়, “ভারত আজ নিজের শক্তিকে চিনতে শিখেছে এবং নিজের সক্ষমতার উপর ভরসা করতে শিখেছে। এই জাহাজগুলি সেই নতুন ভারতের প্রতিচ্ছবি, যে দেশ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক শক্তিতে দ্রুত এগিয়ে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারত নতুন উদ্যম, গতি ও সংকল্প নিয়ে বিশ্বের সামনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পশ্চিমবঙ্গও এই অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি নৌযান ভারতীয় নৌবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা, নজরদারি এবং সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। আইএনএস দুনাগিরি: আধুনিক যুদ্ধজাহাজের নতুন সংযোজন প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে নির্মিত আইএনএস দুনাগিরি এই শ্রেণির পঞ্চম ফ্রিগেট এবং জিআরএসই-তে তৈরি দ্বিতীয় জাহাজ। ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত এই জাহাজ নৌবাহিনীর সম্মুখসারির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নত সিওডিওজি প্রোপালশন ব্যবস্থা এবং ইন্টিগ্রেটেড প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিও এতে সংযুক্ত রয়েছে। আইএনএস অগ্রয়: উপকূলীয় নিরাপত্তায় নতুন ভরসা আর্নালা-শ্রেণির অগভীর জলে ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ কর্মসূচির অধীনে নির্মিত আইএনএস অগ্রয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সাবমেরিন শনাক্ত ও প্রতিরোধে বিশেষভাবে সক্ষম। জাহাজটিতে রয়েছে হালকা টর্পেডো, দেশীয় প্রযুক্তির অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইএনএস সংশোধক: সমুদ্র জরিপে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সন্ধান-শ্রেণির জরিপ জাহাজ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত আইএনএস সংশোধক এই সিরিজের চতুর্থ ও শেষ জাহাজ। প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩,৩০০ টন ওজনের এই জাহাজে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান (এইউভি ), দূরনিয়ন্ত্রিত যান (আরওভি ) এবং উন্নত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সরঞ্জাম। সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, নৌপথ নির্ধারণ এবং সামুদ্রিক নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একসঙ্গে তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌযান নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংযোজন ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর করে তুলবে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজনৈতিক বার্তা, শ্যামাপ্রসাদ স্মরণে মোদী–শাহ, তোপ শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা আজ ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে দিনভর নানা বার্তা ও প্রতিক্রিয়ায় সরগরম হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তায় উঠে আসে ইতিহাস, মতাদর্শ এবং পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও সমাজ সংস্কারের নানা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০ জুনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিনেই নিশ্চিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকবে। তিনি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে স্মরণ করে জানান, তাঁর দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরে তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়নের বার্তা দিয়ে তিনি রাজ্যের অগ্রগতির জন্য শুভকামনা জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় পশ্চিমবঙ্গকে আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও নবজাগরণের পীঠস্থান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভক্তি আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রাজ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে তার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। তিনি মা দুর্গার কাছে রাজ্যের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পথ সুগম করেছিল এবং তাঁর অবদান স্মরণীয়। সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় পর প্রথমবার একটি “রাষ্ট্রবাদী সরকার” পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনাক্রমকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল এবং ২০ জুনের তাৎপর্যকে আড়াল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, সেই সময় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি ও তোষণের সংস্কৃতি ইতিহাসের সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শুভেন্দু আরও বলেন, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হত না। তিনি ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ দৃঢ় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি আরও স্মরণ করেন স্বামী প্রণবানন্দ এবং তৎকালীন আইনসভার সদস্যদের অবদান, যাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজ্যটি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাঁর দাবি, এই ইতিহাস ভুলে যাওয়া মানে বাঙালির আত্মপরিচয়কে অস্বীকার করা। সবশেষে শুভেন্দু রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানান, শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ অনুসরণ করে একটি নতুন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার জন্য একত্রিত হতে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন শুভেচ্ছা ও ঐতিহ্য স্মরণের বার্তা উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই রাজনৈতিক ইতিহাস ও মতাদর্শ নিয়ে নতুন করে বিতর্কও তীব্র হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
দমদম বিমানবন্দর-কাণ্ডে অভিষেকের বিস্ফোরক অভিযোগ, চরমে রাজনৈতিক উত্তেজনা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা দিল্লি সফর শেষে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছাতেই বিক্ষোভ ও হাতাহাতির পরিস্থিতির মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদম বিমানবন্দর কাণ্ড ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনার পর শনিবার তিনি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং এর মাধ্যমে তাঁর কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এর পেছনে বিজেপি নেতৃত্বের যোগসাজশ রয়েছে এবং তাঁকে লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত উস্কানি তৈরি করা হয়েছে। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, সেখানে হলুদ পোশাক পরা এক যুবকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। ওই ব্যক্তির নাম উত্তম দাস বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং দাবি করেন, তিনি দমদম এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিজেপি নেতা। অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই যুবকের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতার আরও কিছু প্রমাণও তার কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি কাঁথির শান্তিকুঞ্জের সামনে শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানাতে ওই ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতের দিক থেকে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেরার সময় বিমানবন্দরে জমায়েত করেন একদল বিজেপি সমর্থক, যাদের হাতে ‘ডিম’ ছিল বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা অভিষেককে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পাল্টা তৃণমূল কর্মীরাও সেখানে জড়ো হন এবং দ্রুতই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বিমানবন্দর চত্বরে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরে এনএসসিবিআই থানার পুলিশ মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৫ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন, যিনি রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ এবং ব্রাত্য বসুর ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে শাসকদল দাবি করছে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত উস্কানি। ঘটনাটি ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা আরও কড়াকড়ি করা হবে এবং যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পুলিশ ও রাজনৈতিক মহল ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সুরুচি সংঘকে জমি খালি করার নোটিস, চাপে বিশ্বাস ব্রাদার্স
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা কলকাতার অন্যতম পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো আয়োজক নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘকে ঘিরে এবার সামনে এল জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসি দাবি করেছে, তাদের মালিকানাধীন জমি বেআইনিভাবে দখল করে ক্লাবঘর এবং পুজোর বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট জমি আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়ে ক্লাবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। শনিবার এলআইসি-র প্রতিনিধিরা সুরুচি সংঘের ক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিস টাঙিয়ে দেন। সংস্থার আইনজীবীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমি খালি না করা হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিউ আলিপুরের অত্যন্ত মূল্যবান ৪৯৮, ৪৯৯, ৫০০ এবং ৫০১ নম্বর চারটি বাণিজ্যিক প্লট দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা হয়েছে। এই জমিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণকাজও হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের তির এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের দিকে। সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন ওই জমি ব্যবহার করা হয়েছে। এলআইসি সূত্রে দাবি, জমি দখল নিয়ে এর আগেও একাধিকবার আপত্তি জানানো হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে সংস্থাটি নিজেদের মালিকানাধীন জমি পুনরুদ্ধারে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ফলে ১৮ জুলাইয়ের সময়সীমাকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এদিকে স্বরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, মেসিকে কলকাতায় আনার উদ্যোগকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অরূপ বিশ্বাসও তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে সুরুচি সংঘকে জমি খালি করার নোটিস বিশ্বাস পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট মহলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। এখন নজর ১৮ জুলাইয়ের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি খালি করা হয় কি না এবং এলআইসি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
লুকোচুরি শেষ, পুলিশের জালে ধরা পড়লো জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা
সকাল সকাল ডেস্কফলতা, ২০ জুন : লুকোচুরি শেষ, এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লো জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিও। গত কয়েক দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অভিযোগ, স্বামীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার চক্রান্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই থানা ঘেরাও করা হয়েছিল। থানায় হামলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। শনিবার সকালে ফলতা থানার পুলিশ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। থানা ঘেরাওয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেজিনা বিবি ছিলেন পলাতক, অবশেষে তাঁকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, ফলতার ত্রাস হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা আসনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গির। এই ফলতায় পুনর্নির্বাচনও হয়েছিল। পুনর্নির্বাচনের আগে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির।
সরকারি জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণ, অযোধ্যা পাহাড়ের রিসোর্টের সামনে চলল বনদপ্তরের বুলডোজার
সকাল সকাল ডেস্ক সংবাদদাতা রাজ্যজুড়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার যে কড়া অভিযান চলছে, তার বড়সড় প্রভাব পড়ল এবার অযোধ্যা পাহাড়ে। বনদপ্তরের জায়গা বেআইনিভাবে দখল করে রিসোর্টে ঢোকার রাস্তা তৈরি করার অপরাধে, শনিবার বুলডোজার দিয়ে সেই রাস্তা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। ঘটনাটি ঘটেছে বাগমুন্ডি থানার অযোধ্যা পাহাড় এলাকার ‘গ্রিনভিলা’ নামক একটি রিসোর্টের সামনে। বনদপ্তর ও পুলিশ যৌথভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই রিসোর্টে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা ছিল না। কোনো রকম সরকারি অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বনদপ্তরের জমি দখল করে রাস্তাটি বানিয়েছিল রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। জেলাজুড়ে চলা অবৈধ দখলদারি রুখতে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে এদিন চরম সমস্যায় পড়তে হয় রিসোর্ট মালিকদের। অন্য দিকে, রাস্তা ভেঙে দেওয়ার ফলে ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু পর্যটকরাই নন, চরম বিপাকে পড়েছেন সেখানে কর্মরত স্থানীয় শ্রমিকরা। রিসোর্টটি যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বহু মানুষের রুটি-রুজিতে টান পড়বে। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে এই ধরণের বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে আগামীদিনেও নজরদারি ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া জারি থাকবে।
মমতার বাড়ির সামনে থেকে উঠল গার্ডরেল
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : রাজ্যে ভোটপর্ব মিটেছে। বিপুল ক্ষমতা নিয়ে বাংলার ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। নিজের গড় ভবানীপুর থেকে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাতে এই ফলাফলের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই কালীঘাটে পরিবর্তনর হাওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সুরক্ষার জন্য রাখা গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হল। সেই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে আর বাধা নেই। বাইক, গাড়ি অনায়াসে যাতায়াত করছে। তবে মমতার বাড়ির ঠিক সামনে এখনও পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। উল্লেখ্য, সরকার বদলের পর বিধি মেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে ধাপে ধাপে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সেই নিয়ম মেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে গার্ডরেল খোলার কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তিনি এখন ন্যূনতম নিরাপত্তা পাবেন। অর্থাৎ জনাকয়েক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকবে তাঁর বাড়ির সামনে।
দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ও বেঙ্গল সাফারিতে নতুন অতিথির আগমনের প্রস্তুতি, উত্তরবঙ্গে খুশির হাওয়া
সকাল সকাল ডেস্ক শিলিগুড়ি : পর্যটন মরসুমের মাঝেই পাহাড় ও তরাই অঞ্চল থেকে এক বড় সুখবর সামনে এসেছে। পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক এবং বেঙ্গল সাফারিতে বেশ কিছু বিরল বন্যপ্রাণী শীঘ্রই জন্ম নিতে চলেছে, যা নিয়ে বন্যপ্রাণ প্রেমীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ দেখা দিয়েছে। দার্জিলিং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এখানে সিলভার ফিজেন্ট এবং অত্যন্ত বিরল প্রজাতির মিশমি টাকিন অন্তঃসত্ত্বা। বিশেষত, মিশমি টাকিনের মতো বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির সফল প্রজননকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দিশায় এক বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই চিড়িয়াখানায় ৭টি মিশমি টাকিন এবং ২৩টি সিলভার ফিজেন্ট রয়েছে। এই প্রাণীদের জন্য বিশেষ ডায়েট চার্ট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তাদের ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হচ্ছে। চিড়িয়াখানা প্রশাসন অন্তঃসত্ত্বা প্রাণীদের জন্য অত্যন্ত শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তাদের প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কোনো প্রকার সমস্যা এড়াতে পশুচিকিৎসকরা প্রতিদিন তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতেও ভালো খবর পাওয়া গেছে। এখানকার একটি স্ত্রী হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার বা কালো ভাল্লুক অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সাফারির অধিকর্তার মতে, ভাল্লুকের গর্ভাবস্থা সাধারণত আট থেকে নয় মাস হয়, তবে জন্ম না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, যদি এই প্রজনন সফল হয় তবে এটি কেবল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেই বড় সাফল্য হবে না, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটনকেও এক নতুন গতি প্রদান করবে।