সকাল সকাল ডেস্ক
Trinamool Congress-এ নেতৃত্ব ও প্রতীক নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে নিজেদের দাবির পক্ষে সওয়াল করবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়। Trinamool Congress Crisis আরও তীব্র হয়ে উঠেছে নেতৃত্ব এবং দলীয় স্বীকৃতি ঘিরে। ‘আসল তৃণমূল’ কারা— সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার বিষয়টি পৌঁছতে চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে যাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ফলে Trinamool Congress Crisis এখন রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে ঋতব্রত শিবির
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী প্রতিনিধিরা। বৈঠকে তাঁরা দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দলের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি এবং সংগঠনের বড় অংশ তাঁদের পাশে রয়েছে। তাই তাঁরাই প্রকৃত Trinamool Congress-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
কীভাবে শুরু হল Trinamool Congress Crisis?
কয়েক দিন আগে নিউটাউনের একটি বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাধিক নেতা দলীয় সাংগঠনিক পরিবর্তনের ঘোষণা করেন। সেই বৈঠকে দলীয় সভাপতির পদে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত কার্যত দলের অভ্যন্তরে বড় রাজনৈতিক সংঘাতের সূচনা করে। এরপরই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রাজ্যের নির্বাচন দফতরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি জমা দেন এবং পরে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।
নির্বাচন কমিশনের কাছে কী দাবি?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, নতুন কমিটির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোই তাঁদের উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, “আমরাই আসল তৃণমূল। আলাদা করে প্রতীক দাবি করার প্রশ্নই নেই।”
বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। সেই কারণেই সংগঠনের বৈধ প্রতিনিধিত্ব তাঁদের হাতেই রয়েছে বলে তাঁরা কমিশনের সামনে দাবি জানাতে চলেছেন।

মমতা শিবিরের পাল্টা পদক্ষেপ
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘোষণার পরপরই নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সেই তালিকায় দলীয় চেয়ারপার্সন হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। ফলে একই রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক সাংগঠনিক তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছেছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় আইনি প্রশ্ন
একই দলের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক দাবি জমা পড়ায় নির্বাচন কমিশনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কমিশনকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন পক্ষকে দলীয় বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার কার হাতে থাকবে।
নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধ অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে দেখা গিয়েছে। সেই ধরনের মামলায় সাধারণত সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন, সাংগঠনিক নথি, দলীয় সংবিধান এবং আইনগত প্রমাণ বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, Trinamool Congress Crisis আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও জটিল আকার নিতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে দলীয় সংগঠনের ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত প্রশ্ন।
যদি কোনও পক্ষ কমিশনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়, তাহলে বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে এই বিরোধ শুধু দলীয় রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রভাব ভবিষ্যতের নির্বাচন, দলীয় সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের উপর পড়তে পারে। রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের বিরোধ কীভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, এই ঘটনাও তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর বৃহস্পতিবারের দিল্লি বৈঠকের দিকে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে দুই পক্ষের দাবি-দাওয়া এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই বহুল আলোচিত Trinamool Congress Crisis-এর পরবর্তী অধ্যায়।
No Comment! Be the first one.