সকাল সকাল ডেস্ক
হুল দিবসের মঞ্চ থেকে জনজাতি সমাজের আত্মত্যাগ, ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, উন্নয়ন ও ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাঁকুড়া: Hul Diwas 2026 উপলক্ষে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে আয়োজিত রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে জনজাতি সমাজের আত্মত্যাগ, অধিকার আন্দোলন এবং ক্ষমতায়নের বার্তা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বাঁকুড়া সফরে এসে তিনি সিধু-কানু, চাঁদ-ভৈরব, ভগবান বিরসা মুন্ডা-সহ হুল বিদ্রোহের অমর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘গড় জোহাড়’ জানিয়ে জনজাতি সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানান তিনি। Hul Diwas 2026-এর এই অনুষ্ঠানে জনজাতি সমাজের ইতিহাস, ভাষা ও উন্নয়ন ছিল মূল আলোচ্য বিষয়।
হুল বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হুল বিদ্রোহ শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক আন্দোলন নয়, বরং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর মতে, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের যে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত আরও শক্তিশালী করেছিল।
তিনি বলেন, জল, জঙ্গল ও জমির অধিকার রক্ষার যে সংগ্রাম থেকে হুল বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল, সেই চেতনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়েও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও জনজাতিদের সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে এই ইতিহাস নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগায়।
জনজাতি কৃতীদের হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হল
Hul Diwas 2026-এর অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা জনজাতি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। লোকশিল্পী, শিক্ষক, চিকিৎসক, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের হাতে সম্মান তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সমাজের মূল স্রোতে জনজাতি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সাঁওতালি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতিতে অটলবিহারী বাজপেয়ীকে স্মরণ
ভাষণে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর প্রবর্তিত অলচিকি লিপিতে লেখা সাঁওতালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করেছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার।
একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের জনজাতি আন্দোলনের দাবিকে সম্মান জানিয়ে ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের সিদ্ধান্তও তাঁর সরকারের সময় বাস্তবায়িত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই দুটি সিদ্ধান্ত দেশের জনজাতি সমাজের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

জনজাতি নেতৃত্বের উত্থান তুলে ধরলেন শুভেন্দু
বর্তমান সময়ে জনজাতি সমাজের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আজ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনজাতি কন্যা দ্রৌপদী মুর্মু। পাশাপাশি ছত্তীসগড়ে বিষ্ণু দেব সাই এবং ওড়িশায় মোহনচরণ মাঝির মতো জনজাতি নেতাদের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঘটনাও দেশের গণতন্ত্রের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভাতেও খুদিরাম টুডু, জুয়েল মুর্মু ও বিশাল লামার মতো জনজাতি প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা জনজাতি সমাজের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করেছে।
২০৪৭ সালের বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে আহ্বান
ভাষণের শেষ পর্যায়ে Hul Diwas 2026-এর মঞ্চ থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে জনজাতি সমাজকে উন্নয়নের মূল ধারায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, উন্নয়নের পথে কোনও সম্প্রদায়কে পিছনে রেখে নয়, বরং সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করেই এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ভাষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনজাতি সমাজ দেশের উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী খুদিরাম টুডু, দিবাকর ঘরামি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাত-সহ বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার একাধিক জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তাঁদের উপস্থিতিতে Hul Diwas 2026 উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি জনজাতি সমাজের ঐতিহ্য, অধিকার ও উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
No Comment! Be the first one.