সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা
নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতায় অনুষ্ঠিত আন্দোলন ঘিরে ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় পুলিশের তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। সোমবার সকালে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ধৃতদের একজনকে গার্ডেনরিচ এবং অন্যজনকে পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে এদিন ধৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিংয়ে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁদের খালি পায়ে ঘটনাস্থলে ঘুরিয়ে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ যাচাই করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ভাঙচুর, হামলা এবং অশান্তির সময় প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা নির্ধারণ করতেই এই পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পার্ক সার্কাসের কড়েয়া এলাকা থেকে ৩৫ বছর বয়সি ওয়াকার আজম এবং গার্ডেনরিচ সংলগ্ন নাদিয়াল এলাকার ৩২ বছর বয়সি জাভেদ আখতারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, গত শুক্রবারের বিক্ষোভ চলাকালীন অশান্তি ও ভাঙচুরে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে মহম্মদ আফরোজও ছিলেন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন, আফরোজ তাঁদের অন্যতম। তাঁর সঙ্গে আরও চারজনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তদন্তকারীরা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ধর্মতলার মিছিলে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুলিশ অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁরা ছাত্র নন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সদস্যও নন। নিট আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলেও প্রশাসনের দাবি। বিধানসভায় তিনি পাঁচজন অভিযুক্তের নাম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, যাঁদের পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই মামলায় সম্প্রতি কার্যকর হওয়া গুন্ডাদমন আইনও প্রয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে দুষ্কৃতীরা দীর্ঘদিন তার প্রভাব মনে রাখে।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এসএফআই-সহ বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন কলকাতায় মিছিলের ডাক দেয়। পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও পৃথক কর্মসূচি পালন করে। সেই কর্মসূচির মধ্যেই ভাঙচুর, সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, জুতো ও বোতল নিক্ষেপ এবং পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলির ভিত্তিতেই ধারাবাহিকভাবে তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।
No Comment! Be the first one.